~ সৈয়দ হাসমত জালাল ~

বিগত সত্তর-আশির দশকে, আমার প্রথম তারুণ্যের দিনগুলোতে, বিমল কর হয়ে উঠেছিলেন আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন কথাকার। খুব সহজ সরল ভঙ্গিতে, সাদামাটা কথোপকথনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া তাঁর গল্প বা উপন্যাসের মধ্যে কাহিনি বা ঘটনার তেমন প্রাবল্য কখনো দেখিনি। অথচ কী এক আশ্চর্য চোরাটানে তিনি টেনে নিয়ে যেতেন আপাত-গল্পহীন এক গভীর জীবনের উপলব্ধিতে। তাঁর লেখার গভীরে কখনো মৃত্যুর নিঃশব্দ শিহরণ, কখনো পাপ বা অনৈতিকতার খাদের কিনার থেকে ফিরে আসা মানুষ, কখনো-বা সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের ক্ষয় বা ভাঙনের নির্মোহ চিত্রনির্মাণের মুখোমুখি তিনি দাঁড় করিয়ে দেন পাঠককে।

তাঁর বেশ কিছু অনালোচিত গল্প বা উপন্যাস আছে, যার মুগ্ধতা আজও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এরকমই একটি উপন্যাস স্বপ্নে, একটি পত্রিকার শারদ সংখ্যায় পড়েছিলাম। বাংলার বাইরে পশ্চিমের এক নির্জন রেলস্টেশনের কাছে একটি ছোট্ট কোয়ার্টারে দু-দিনের জন্যে এক নারীর অতিথি হিসেবে ঠাঁই হয় এক যুবকের। সে ওই স্টেশন থেকে কিছুদূরে এক কুষ্ঠাশ্রমে দেখা করতে এসেছিল তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে। সেখানে কর্মরত এক সেবিকা যুবকটিকে তার কোয়ার্টারেই থাকতে দেয়, যেহেতু ওইরকম প্রায়-জনশূন্য এলাকায় যুবকটির থাকার মতো কোনো জায়গা ছিল না।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

মাত্র দিন দুয়েকের ব্যাপার এবং এই গল্পে প্রেম বা যৌনতা কিছুই নেই। অথচ এক আশ্চর্য মানবিক সম্পর্কের চোরাটান ও জীবন সম্পর্কে এক নতুন উপলব্ধি পাঠককে উপন্যাসটি পড়ে ফেলতে বাধ্য করে।

তাঁর অধিকাংশ গল্প-উপন্যাসের পটভূমি বিহার, বিশেষ করে, বাংলা-বিহার সংলগ্ন রুক্ষ নির্জন এলাকা। সেসব এলাকার বর্ণনা অত্যন্ত সরল শব্দাবলীর মধ্যে দিয়ে তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা এখনো আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

আসলে বিমল করের শৈশব, কৈশোর কেটেছিল বিহারের বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষত, ধানবাদ, হাজারিবাগ এবং পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, বরাকর, কুলটি ইত্যাদি কয়লাখনি অঞ্চলে। তাঁর বাবা, কাকাদের রেল ও কোলিয়ারির চাকরিসূত্রে এসব জায়গায় তিনি থেকেছেন এবং পড়াশোনা করেছেন।

তবে তাঁর কলকাতায় আসা ডাক্তারি পড়তে। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার চেয়ে সাহিত্য পাঠ ও চর্চার মধ্যে বেশি সময় কাটতে লাগল তাঁর। বন্ধু কবি অরুণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বের করলেন সাহিত্যপত্রিকা পূর্বমেঘ। ১৯৪২ সালে এই পত্রিকাতেই বেরলো তাঁর গল্প ‘গিনিপিগ, এস্রাজ ও রাত্রি’। গল্পটি ভিন্নধর্মী হলেও পত্রিকার অল্প পাঠক সংখ্যা বা যে-কোনো কারণেই হোক, গল্পটি তেমন সাড়া জাগাতে পারল না।

এদিকে ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিয়ে বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে বিএ পাশ করলেন। তখন তাঁর সেজকাকা তাঁকে রেলের অ্যাকাউন্টস্ বিভাগের চাকরি দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন বেনারসে। পরে বিমল কর লিখেছিলেন, ডাক্তারি পড়া ছেড়ে সাহিত্য করার জন্যেই তাঁর সেজকাকা তাঁকে বেনারসে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আবার কলকাতায় চলে এলেন তিনি। এরপর একে-একে কাজ নিলেন পরাগপশ্চিমবঙ্গ ও সত্যযুগ পত্রিকায়।

সেসময় ১৯৪৪ সালে প্রবর্তক পত্রিকায় লিখলেন গল্প ‘অম্বিকানাথের মৃত্যু’ এবং ‘সৈনিক’, ‘পিয়ারীলাল বার্জ’-এর মতো নতুন ধারার ছোটগল্প। ‘পিয়ারীলাল বার্জ’ প্রকাশিত হয়েছিল দ্বন্দ্ব নামে একটি ছোট পত্রিকায়। সেটি ভালো লেগে যায় দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের। পরে উত্তরসূরী পত্রিকায় তাঁর একটি গল্প ‘ইঁদুর’ পড়ে বেশ চমকে ওঠেন। গল্পটি বিমল করের বন্ধু গৌরকিশোর ঘোষ পড়তে দিয়েছিলেন সাগরময় ঘোষকে। এবার সাগরময় দেশ-এর জন্যে গল্প লিখতে বলেন বিমল করকে। বিমল কর দেশ-এ লিখলেন ‘বরফ সাহেবের মেয়ে’। সেটা ১৯৫২ সাল।

১৯৫৪-তে দেশ পত্রিকায় চাকরি শুরু করলেন তিনি। এবার যেন কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা থিতু হলেন তিনি। ইতিমধ্যে বিয়েও করে ফেলেছেন প্রায় আকস্মিকই এবং তা গৌরকিশোর ঘোষের মধ্যস্থতায়।

দেশি-বিদেশি সাহিত্যের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। অথচ তাঁর লেখার ভাষা ছিল একেবারেই সহজ-সরল এবং দেশজ। যদিও ভাষা এবং প্রকরণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তিনি যথেষ্ট করেছেন। সুবোধ ঘোষ ছিলেন তাঁর প্রিয় গল্পকার। তাঁকে হয়ত কিছুটা অনুসরণও করেছেন তিনি।

তাঁর বন্ধু লেখক-সাংবাদিক সন্তোষকুমার ঘোষ মনে করতেন সুবোধ ঘোষ ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যবর্তী অবস্থান বিমল করের।

তাঁর গল্প সম্পর্কে সাগরময় ঘোষ লিখেছিলেন, “তাঁর গল্পের বিষয় ও ভাবনা নিপুণ চিত্রশিল্পীর চিন্তা ও রঙের মতন, সমানভাবে মিলে এক আশ্চর্য সৃষ্টি হয়ে ওঠে। মানুষের মনের মধ্যে ডুব দিয়ে তন্ন তন্ন অনুসন্ধান করে তিনি যে দর্পণটি তুলে ধরেন, তাতে আমরা সকলেই নিজেদের দেখতে পাই। সব রহস্য ও জটিলতা সত্ত্বেও তাঁর গল্পে এমন একটা প্রশান্ত রস থাকে– যাতে সব ক্ষোভ দূর হয়ে যায়।” ‘সুধাময়’ থেকে শুরু করে ‘আত্মজা’, ‘জননী’, ‘আমরা তিন প্রেমিক ও ভুবন’, ‘সহচরী’, ‘নিষাদ’ ইত্যাদি গল্পে আমরা এর যথার্থতা উপলব্ধি করতে পারি।

মৃত্যুর কথা বারবার এসেছে তাঁর বহু গল্পে ও উপন্যাসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও বিষণ্ণতা বা নৈরাশ্য নয়, জীবনের মধ্যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক দুর্দম আশা, এক গভীর হৃদয়সঞ্চারী আলো। খুব কম বয়সেই তাঁর ছোটবোনের মৃত্যু, প্রিয় ঠাকুমার মৃত্যু এবং বাবার মৃত্যু তিনি দেখেছিলেন। তাঁর ছোটবোনের মৃত্যুর পর তিনি তাঁর মাকে দেখেছেন “আড়ালে এস্রাজের ছেঁড়া তারে ছড় টানার মতো অদ্ভুত সুরে তিনি কাঁদতেন”। তাঁর আত্মজীবনী উড়ো খই-এ তিনি লিখেছেন, “মৃত্যুর এই যে নিষ্ঠুর চেহারা, অর্থহীন আবির্ভাব, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিবিড় আত্মস্যাৎবৃত্তি — এটি আমি কোনোদিনই ভুলতে পারিনি পরে। আমার লেখায় তাই হয়তো ঘুরে ঘুরে দেখা দেয় মৃত্যুর কথা।”

জননী গল্পে মায়ের মৃত্যুর পর পাঁচ ভাইবোন মাকে স্মরণ করে। পরলোকের পথযাত্রী মায়ের উত্তরণের জন্যে তারা বলে কে কী দিতে চায় মাকে। এখানে গল্পটি থেকে একটু উদ্ধৃতি দিই:

“মায়ের হাতে কী দেব — এই প্রশ্ন আচমকা বড়দি আমাদের সামনে যবনিকার মতো নিক্ষেপ করল।… মনে হচ্ছে, এই প্রশ্নে আমরা সম্মিলিত বোধ থেকে পৃথক হয়ে গেছি। যেন কোনো ভয়ংকর পর্বতচূড়ায় এনে কেউ আমাদের পরস্পরের দেহের সঙ্গে বাঁধা দড়ি কেটে দিয়েছে, আমরা সবাই চূড়ার অন্তিম প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।”

ঠিক তারপরই এক আশ্চর্য বর্ণনা পাই:

“স্তব্ধ নিঃসাড় হয়ে আমরা বসে থাকলাম। চাঁদের আলো কদমগাছের ছায়াটিকে বেদির সামনে শুইয়ে রেখেছে। করবী ঝোপে বাতাস যেন ডুব দিয়ে সাঁতার কেটে কেটে যাচ্ছিল, শব্দ হচ্ছিল পাতার। আমরা আমাদের ছায়ার নকশা থেকে চোখ তুলে কখন যে শূন্যে দৃষ্টি রেখেছি, কেউ জানি না।”

যদিও এ গল্পে শেষ পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই, সন্তানদের চেতনায় মাতৃত্ববোধের এক অমোঘ উত্তরণ।

‘আত্মজা’ গল্পেও এসেছে মৃত্যুর কথা। এখানে একজন পিতা হিমাংশুর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। কিশোরী-কন্যা পুতুলের প্রতি হিমাংশুর আদর, ভালোবাসাকে তার অসুস্থ স্ত্রী সন্দেহ করতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে নিয়ে যূথিকার কাছ থেকে তীব্র অপমানিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় হিমাংশু। একই সঙ্গে হিমাংশু ও যূথিকার জন্যে পাঠকদের মনে কোথাও তৈরি হয় বেদনা ও সহানুভূতি।

দেশ পত্রিকায় এই গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। শনিবারের চিঠি লিখেছিল, ‘তুমি নির্মল করো বিমল করে মলিন মর্ম মুছায়ে।’ যদিও সেসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেননি লেখক বিমল কর এবং সম্পাদক সাগরময় ঘোষ। শোনা যায়, কেউ কেউ সাগরময় ঘোষকে জিজ্ঞেস পর্যন্ত করেছিলেন, “এ লেখা কীভাবে ছাপলেন!” উত্তরে সাগরময় বলেছিলেন, “আমার ভালো লেগেছে, তাই ছেপেছি। বেশ করেছি।“

‘নিষাদ’ গল্পে অভিমানী, জেদী বালক জলকু-র ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়ার সঙ্গে মিশে থাকে তার প্রিয় ছাগলছানা মানিক ও তার দিদির প্রেমের অনুষঙ্গ। রেললাইনের উপর রাগে জলকু প্রতিদিন পাথর ছুঁড়তে থাকে লাইন লক্ষ্য করে। এই গল্পের কথক গল্পের মধ্যেই তিনবার বলে, “ছেলেটা মরবে, লাইনে কাটা পড়ে মরবে। হয়তো আজ কিংবা কাল।“ যেন নিয়তির মতো এক অমোঘ মৃত্যুর চোরাটান বয়ে যেতে থাকে গল্পের অন্তর্গহনে।

‘আমরা তিন প্রেমিক ও ভুবন’ গল্পটি শুরুই হয় মৃত্যু দিয়ে। লেখক একেবারে প্রথমেই বলেন, “নদীর চড়ায় শিবানীর চিতা জ্বলছিল।” শিবানীর তিন প্রেমিকের স্বীকারোক্তির মধ্যে দিয়ে উঠে আসে প্রকৃত ভালোবাসার প্রকাশ ও সেই ভালোবাসার সত্যে উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প এটি।

একদিকে দেশ পত্রিকায় চাকরি করছেন তিনি, এই গোষ্ঠীর পত্রিকাতেই মূলত তিনি তখন গল্প-উপন্যাস লিখছেন। পাশাপাশি ‘ছোটগল্প: নতুন রীতি’র প্রবর্তনা করেছেন তিনি। কিছুটা নিয়ম-ভাঙা সেই রীতি। পঞ্চাশ দশকে লিখতে আসা তরুণ লেখকরা এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। এই ধারার গল্প নিয়ে সংকলনও করেছেন তিনি।

বিমল করের উপন্যাসের কথাও বিশেষভাবে বলতে হয়। তবে এখানে তাঁর বিখ্যাত দুটি মাত্র উপন্যাসের কথা বলব। প্রথমটি দেওয়াল ও দ্বিতীয়টি অসময়

দেওয়াল বিমল করের একেবারে তরুণ বয়সের লেখা। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫, এই ছ’বছর সময়কালে বিধৃত উপন্যাসের ঘটনাবলী। ‘ছোট ঘর’, ‘ছোট মন’ ও ‘খোলা জানলা’– এই তিনটি পর্বে বিভক্ত উপন্যাসটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার কলকাতা, যুদ্ধের আতঙ্ক, ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন, বাংলার মন্বন্তর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব — এসবের মধ্যে উঠে এসেছে কলকাতার নিম্নবিত্ত মানুষের এলাকা ও সংসারের কথা। এরকম একটি সংসারের দায়িত্ব বহন করতে হয় একুশ বছরের তরুণী সুধাকে। সুধার ভাই বাসু নিজের ভালো-মন্দ নিয়েই মগ্ন। সে সংসারের কোনো দায়িত্ব পালন করে না। এরকম ছোট ছোট ঘরে সংসারের বোঝা টানতে টানতে মানুষের মনও কেমন সংকীর্ণ হয়ে যায়। তবু সুধার বান্ধবী অমলা, স্বপ্নময় যুবক সুচারুর মতো চরিত্রের দেখা পাই। বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয়ের মধ্যেও মানবিকতাকে আশ্রয় করে এরা অতিক্রম করতে চেয়েছে সমস্ত সংকট। মানবিক মূল্যবোধের ভাঙন ও অবক্ষয়িত সময়ের দলিল এই উপন্যাস।

অসময় উপন্যাসটি ১৯৭৫ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিল। এই উপন্যাসের প্রধান ছ’টি চরিত্র উত্তম পুরুষে তাদের কথা বলে গেছে। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ, স্বাধীনতা বা মৃত্যুর মতো কিছু মৌলিক প্রশ্ন। জ্যাঠামশাইকে নিয়ে থাকে মোহিনী, তার বোন আয়না। তার ভাই সুহাস চাকরি করে কলকাতায়। আয়নার বন্ধু তপু আর আছে সুহাসের বন্ধু অবিন। এই অবিন মোহিনীর একাকী জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সুহাসকে টেনে আনতে চায় বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে, আয়নাকে তার ভালোবাসার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়। আর যে শচীপতিকে একসময় বিয়ের কথা ভেবেছিল মোহিনী, সেই অসুস্থ শচীপতিকে তার অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়তে প্রাণিত করে অবিন। নানান বৈপরীত্য ও অমিল থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি চরিত্রের কারোর মতামতকেই অগ্রাহ্য করা যায় না। আপাত-সরল ভঙ্গিতে লেখা উপন্যাসটির মধ্যে যে সংকট, যে সম্পর্কের জটিলতা উঠে আসে, তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পাঠক যেন তার চারপাশের মানুষদেরই দেখতে পায়, উপলব্ধি করে জীবন ও মৃত্যুর, প্রেম ও বিচ্ছেদের টানাপোড়েনে জীবন হয়ে ওঠে কেমন আশ্চর্য মায়াময়।

একধরনের নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বারবার মৃত্যুকে অতিক্রম করে যেতে যেতে এক বিভাবিত জীবনের কথাই লিখে গেছেন বিমল কর।

লেখক বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.