স্মৃতিচারণা করছিলেন আরিয়াদানা ত্রাইকোভা – “ও ছিল খুব চুপচাপ ধরণের মেয়ে। আমরা যখন প্রেম করতে ব্যস্ত, ও ছেলেদের দিকে তাকাতও না, বই মুখে বসে থাকত। ওর প্রতিটা চালচলন, প্রত্যেকটা কথা হত ভেবে চিন্তে বলা। আরেকটা জিনিস ছিল ওর মধ্যে — জেদ, অদম্য জেদ। কোন জিনিস একবার মাথায় ঢুকলে, তার শেষ দেখে ছাড়ত ও।” যে সহপাঠী আর বন্ধুর স্মৃতিচারণা করছিলেন ত্রাইকোভা, তিনি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন নাদেজদা ক্রুপ্সকায়া নামে। ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে নাদেজদার জন্ম হয় উচ্চবিত্ত পরিবারেই। কিন্তু শৈশবেই পিতাকে হারানোয় অভাব অনটনের জীবন ছিল নাদেজদার নিত্য সঙ্গী, কিন্তু কখনও তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষকতাকে। শ্রমিকদের মধ্যেও তিনি সান্ধ্য শিক্ষাদান করতেন। সেই সূত্রেই তিনি ক্রমশ সমাজতন্ত্রের দিকে আকৃষ্ট হন। অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, অন্তর্মুখী কিন্তু ভয়ঙ্কর জেদি নাদেজদা প্রথম জীবনে টলস্টয়ের শিক্ষার আদর্শের দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিলেন। টলস্টয়ের শিক্ষাচিন্তা সারা জীবনের মত তাঁর ভাবনায় ছাপ ফেলেছিল। ক্রুপ্সকায়ার সঙ্গে লেনিনের আলাপ ১৮৯৪ সালে এক পাঠচক্রে। মজার বিষয় হল, ক্রুপ্সকায়ার নিজের কিন্তু প্রথম দর্শনে লেনিনকে বিশেষ পছন্দ হয়নি (“ভাল বলে, কিন্তু ব্যক্তিত্বের অভাব আছে”)। অক্টোবর ১৮৯৬ লেনিনকে যখন গ্রেপ্তার করা হল, ক্রুপ্সকায়াও গ্রেপ্তার হলেন। যাতে বাইরের সঙ্গে লেনিনের যোগাযোগ নষ্ট না হয়, ক্রুপ্সকায়া নিজেকে লেনিনের বাগদত্তা বলে পরিচয় দিলেন। জার সরকার ঘোষণা করল, যদি নির্বাসনে বিবাহ বন্ধনে তাঁরা আবদ্ধ হন, তাহলেই দুজনকে একসাথে সাইবেরিয়ায় পাঠানো হবে, নতুবা নয়। আসলে সরকারেরও এই নিয়ে সন্দেহ ছিল। কিন্তু ক্রুপ্সকায়ার কাছে আদর্শের থেকে বড় কিছু ছিল না। তিনি রাজী হয়ে গেলেন। বিবাহ করলেন যখন, লেনিনকে কমরেড হিসাবে চিনলেও, প্রেম দূরে থাক, মানুষ হিসাবেও তেমন চিনতেন না। কিন্তু মজা হল, এই নির্বাসনে দুজনের সম্পর্ক ক্রমশ বন্ধুত্ব আর অচিরেই প্রেমে পরিণত হল। ক্রুপ্সকায়ায় স্মৃতিচারণায় পাই, লেনিন বলে যেতেন আর তিনি অনুবাদ করতেন, এটাই ছিল তাঁদের প্রেমের প্রকাশ। বলশেভিক বিপ্লবের সময় পুরোভাগে ছিলেন নাদেজদা। এই সময় তাঁর দুই সুহৃদ এবং বলশেভিক বিপ্লবী আলেকজান্দ্রা কোলেনতাই আর ইনেসা আর্মান্দের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ’ঝিনোতদেল’, বলশেভিক পার্টির নারী সংগঠন। এছাড়া ইয়াং পায়োনিয়ার নামে খ্যাত কিশোর সংগঠন গড়ার পেছনেও নাদেজদার অসামান্য ভূমিকা ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের ডেপুটি পিপলস কমিসার অফ এডুকেশন রূপে শিক্ষা সংস্কারের ভূমিকার পাশাপাশি সোভিয়েত লাইব্রেরী ব্যবস্থার জননীও ছিলেন তিনি। ক্রুপ্সকায়া ছিলেন রাজনৈতিক ভাবে স্বাধীনচেতা। লেনিনের বহু মতের সমালোচনা শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে, ট্রটস্কিকে কটাক্ষ করে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, ‘মার্কসবাদী বিশ্লেষণে কমরেড ট্রটস্কি চিরকালই কাঁচা’। আবার স্তালিনের বহু নীতির বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার ছিলেন আজীবন।  অকুতোভয় বিপ্লবী, অসাধারণ প্রশাসক, অনবদ্য শিক্ষাবিদ, নারীমুক্তির কাণ্ডারি, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিবেক, নাদেজদা ক্রুপ্সকায়ার পরিচিতি দীর্ঘদিন নেহাতই ’লেনিনের বউ’-এর মধ্যেই বৃহত্তর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে, কিছুটা হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবেই। আজ ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, তাঁর প্রয়াণ দিবসে তাই তাঁর অজানা পরিচিতির একটা দিক তুলে ধরার প্রচেষ্টা করা যেতে পারে। লেনিনকে আলোচনার করতে গিয়ে প্রায়শই আমরা তাঁর বিভিন্ন প্যাম্ফলেটগুলোর বিশ্লেষণ করি। ‘What Is to Be Done’, ‘Two Tactics of Social-Democracy’, ‘One Step Forward, Two Steps Back’ – এর কথা জানেন না, এমন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী পাওয়া দুষ্কর। এই একইভাবে আমরা নাদেজদার লেখা প্রথম প্যাম্ফলেটটি বিশ্লেষণ করতে পারি – ‘The Woman Worker’।

নাদেজদা দ্য উওম্যান ওয়ার্কার রচনা করেছিলেন ১৮৯৯ সালে, সাইবেরিয়ায় লেনিনের সঙ্গে নির্বাসন কাটানোর সময়। তবে এটা প্রকাশিত হয় ১৯০১ সালে ন. সাবলিনা ছদ্মনামে। ন. সাবলিনা ছদ্মনামটি ক্রুপস্কায়া আরো অনেক লেখাতেই ব্যবহার করেছেন। বলা বাহুল্য, ১৯০৫-এর পর অল্প কিছুটা সময় ছাড়া লেখাটি জার সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ছিল। তবে গোপনে ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে মহিলা শ্রমিক সংগঠকদের মধ্যেও লেখাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। নাদেজদার দীর্ঘকাল মহিলা শ্রমিকদের মধ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা এই পুস্তিকাটিকে সমৃদ্ধ করেছিল। ক্রুপ্সকায়া প্রথমেই দেখাতে সচেষ্ট হয়েছেন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের মহিলাদের গ্রামাঞ্চলে ও শহরে কি অসম্ভব সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। কবি নেক্রাসভের কবিতা উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন – “Oh but a woman’s lot is hard, scarcely can one find a tougher lot than the woman’s.” গ্রামাঞ্চলে মহিলাদের সম্পত্তির থেকে অধিক কিছু বলে ভাবা হয় না। ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের বার বার বুঝিয়ে দেওয়া হয় তারা বাবা-মায়ের সম্পত্তি, কাজ করার একটা হাত মাত্র। অল্প বয়স থেকেই নানা ভাবে শ্রমসাধ্য কাজে তাদের লাগানো হয়। কিন্তু ছেলেদের এই কাজের পাশাপাশি জীবনে কিছু স্বাধীনতা থাকে, মেয়েদের তাও থাকে না। বাড়িতে মেয়েরা মদ্যপ বাবার হাতে মায়ের মার খাওয়া দেখে শেখে এটাই স্বাভাবিক, যখন তাদের বিবাহ হবে, তাদের স্বামীদেরও একই অধিকার থাকবে। ক্রুপ্সকায়া তাই লিখেছেন, রাশিয়ার গ্রামে একটা পরিবার নেই যেখানে গার্হস্থ্য হিংসা হয় না এবং একে খুব স্বাভাবিক বিষয় বলেই ধরে নেওয়া হয়। মহিলাদের অবস্থা এতই খারাপ, গ্রামাঞ্চলের সুদের কারবারিদের কাছে তাদের বন্ধক দিয়ে ঋণ পাওয়া যায়। এটাই অধিকাংশ মহিলা ভবিতব্য বলে ধরে নেয়, বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নেয়। আর যারা মেনে নেয় না ? যারা গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি দিতে চায় ? তাদের অবস্থা কোন দাসের চেয়ে কম খারাপ হয় না। জারের রাশিয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার নেই। স্বামীর অধিকার আছে পালিয়ে যাওয়া দাসের মতো স্ত্রীকে ধরতে পুলিশ কাছে যাওয়ার। আর বহু ক্ষেত্রেই তাই হয়। পলায়নরত মহিলাকে পুলিশ বেঁধে নিয়ে আসে স্বামীর কাছে। আবার দৈহিক মানসিক অত্যাচার, আবার দাসত্বের জীবন।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এই কারণেই ক্রুপস্কায়া লিখেছেন, মেয়েদের মধ্যে ক্রমে বিবাহের আগেই বা স্বামীর সঙ্গে শহরে চলে আসা ও সেখানে কিছু কাজ করার প্রবণতা বাড়ছে। সংসারের প্রবল অনটন মেটাতে শহরে তারা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রামের তুলনায় অবশ্য এখানে তাদের সামাজিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভাল। কিন্তু এখানে যে শব্দটার উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন, সেটা হল তুলনামূলক। শহরে দোকানের কর্মচারী, জামার দোকান, পরিচারিকার কাজ গ্রাম থেকে আগত মহিলাদের অপেক্ষাকৃত ভাল আয়ের রাস্তা। কিন্তু এর জন্য যে সাক্ষরতা দরকার তা অধিকাংশেরই নেই। বড়লোকের বাড়ির পরিচারিকা বা দামী কাপড়ের সেলাইয়ের দোকানের কাজ শেখার জন্য শিক্ষানবিশ হিসাবে কিছু প্রাথমিক টাকাপয়সা দিতে হয়, যা দেওয়ার ক্ষমতা অধিকাংশ মহিলারই নেই। সে ক্ষেত্রে তাদের কাজ, স্বামীর মতই মজুরি করা, অথবা দেহব্যবসা। রাশিয়ার শহরগুলোতে ক্রমবর্ধমান গণিকাবৃত্তির উত্থানে শহরবাসী উচ্চবিত্ত মহিলাদের ছি ছি করাকে নাদেজদা প্রবল তিরস্কার করেছেন। তিনি লিখেছেন – ‘One has only to listen to how the well fed bourgeois and his wife talk with contempt of the depraved factory women and girls, and with what hypocritical disgust these ladies who have never known poverty pronounce the word “prostitute”. Bourgeois professors shamelessly go into print to assert that prostitutes are not slaves but are people who have chosen to take that road!’ ক্রুপ্সকায়া নিজে এই মহিলাদের মধ্যে কাজ করেছেন, তাঁদের সুখ দুঃখের শরিক হয়েছেন, তাই তিনি জানতেন কোন অসহায়তা থেকে তারা এই রাস্তায় আসতে বাধ্য হয়। যে মহিলারা দেহব্যবসার পথে যায় না, তাদের অমানুষিক ১২-১৬ ঘন্টার শিফটে কাজ করতে হয় কারখানায়। মূলতঃ সুতোকলগুলোতে তারা কাজ করে। যেখানে যেখানে মহিলারা সংগঠিত, সেখানে একটু কম হলেও তারা পুরুষ সহকর্মীদের সমান বেতনের দাবি আদায় করে নিয়েছে, অপর দিকে যেখানে যেখানে মহিলারা সংগঠিত নয়, সেখানে তারা পুরুষ শ্রমিকদের থেকে অনেক কম বেতন পায়। এতক্ষণ কাজ করার ফলে অধিকাংশ মহিলাই নিজের শিশুদের দেখভাল করতে পারে না। গ্রামাঞ্চলে তাও বৃদ্ধাদের সহায়তা পাওয়া যায়, শহরে সেই সুযোগও কম। অনেক সময়ই এই শিশুদের ফাউন্ডলিং হসপিটাল বা শিশু দেখভালে পারদর্শী কোন মহিলার হাতে ছেড়ে আসতে হয়। আইন অনুযায়ী মালিকদেরই এর ব্যবস্থা করার কথা। তারা কানাকড়িও কোন সহায়তা করে না। এই অবস্থায় ‘এঞ্জেল ওয়ার্কস’ নামে কুখ্যাত ব্যবস্থার উত্থানের দিকে নাদেজদা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন বড় বড় শিল্প শহরগুলোতে এইরকম সংস্থা থাকে। কোন শ্রমিক মা শিশুকে খাওয়াতে পারছেন না বা তার দেখভাল একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না, এমন পরিস্থিতিতে এই সংস্থাগুলো হতভাগিনী মাকে বোঝায় সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে তারা তাঁর শিশুকে দেবদূত বানিয়ে দেবে, যাতে আর কোন কষ্ট তাকে সহ্য করতে হবে না। গ্রাম থেকে আগত ধর্মভীরু মহিলারা অনেকেই এতে বিশ্বাস করে। এরপর এই সংস্থাগুলো শিশুদের নিয়ে গিয়ে তাদের আফিম খাইয়ে হত্যা করে। নাদেজদা লিখেছেন এই নৃশংস ব্যবসার বিরুদ্ধে আদালত সরব, কিন্তু যে পরিস্থিতি থেকে এর উদ্ভব হচ্ছে, তার সমাধানে রুশ সরকারের বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই।

নাদেজদা মনে করেছেন এই অবস্থার অবসান ও নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়া পুরুষ ও মহিলা শ্রমিক পৃথক ভাবে করতে পারবে না। পুরুষ কমরেডদের মধ্যে অনেকেই মনে করে বাড়ির মেয়েদের রাজনৈতিক কাজকর্মে থাকা উচিৎ না। আবার অনেক মহিলাই মনে করে তাদের স্বামীরা সমাজতন্ত্রীদের পাল্লায় পড়ে উচ্ছন্নে যাচ্ছে। দুই মানসিকতারই অবসান ঘটতে পারে, যদি মহিলারা রাজনৈতিক কাজকর্মে আসে এবং তাদের মধ্যে রাজনৈতিক শিক্ষা বৃদ্ধি পায়। তিনি লিখেছেন – ‘Stopping women joining the struggle is the same as leaving half of the workers’ army unorganised.’। তিনি বলেছেন গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের অবস্থা শোচনীয়, কিন্তু সেখানে এখনই কিছু করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারখানায় কাজ করার সূত্রে যে সব মহিলা অর্থনৈতিকভাবে কিছু স্বাধীনতা অর্জন করছে এবং শ্রেণী চেতনা তৈরি হয়েছে, তাদেরই আগে সংগঠিত করতে হবে। এর পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলা শ্রমিকদের মধ্যে একতা তৈরি হবে। মহিলা শ্রমিকদের ক্যান্টিনে যখন জঘন্য খাবার দেওয়া হয়, পুরুষদের ক্যান্টিনে গিয়ে খেলে টিটকিরি ভেসে এলে চলবে না। পথ অত্যন্ত কঠিন স্বীকার করেও নাদেজদা উপসংহারে লিখেছিলেন, সংঘাতের মধ্যে দিয়েই মেয়েরা বুঝবে একতাই বল – ‘Little by little she begins to realise that the women and men workers alongside her are not only fellow workers but fellows in spirit and that she shares common interests and common feelings with them. They are her comrades because they are workers. The meaning of the words “All for one and one for all” become ever clearer to the woman worker. When there are confrontations with management she sees that her comrades are always ready to back her up and she is to support them. The same conflicts show her that while she is weak when alone she ceases to be weak when she acts together with her comrades. She comes more and more to appreciate that “Unity is strength”.’। কবি নেক্রাসভ লিখেছিলেন – “the keys to happiness for a woman, for the joyful happiness of freedom were forgotten and lost by god himself … Lost! Just think of it, a fish swallowed them … As to what fish it was that swallowed those precious keys and in what seas it wanders – god has forgotten!”। ক্রুপস্কায়া বলেছেন এই চাবি মহিলাদের খুঁজতে হবে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি আরো বলেছিলেন আজ হয়ত মহিলা শ্রমিকরা  অসংগঠিত ও পুরুষ কমরেডদের থেকে পিছিয়ে, কিন্তু এই কাঠামোকে ভেঙে ফেলার মত আঘাত দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদেরই আছে। তাঁর এই কথা ভবিষ্যদ্বাণীর মত সত্য হয়েছে। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ৮ই মার্চ প্রায় আড়াই লক্ষ মহিলা শ্রমিকের পেত্রোগ্রাদের মিছিলের মধ্যে দিয়েই রুশ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। নভেম্বর বিপ্লব নাদেজদার বহু স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনে। এমন এক রাশিয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, যেখানে  কোন মহিলা শ্রমিক নিজেদের সন্তানকে ‘দেবদূত’ বানাতে বাধ্য হবে না। যেখানে ক্রেশ বা কিন্টারগার্টেনে ছেলেমেয়েকে রেখে নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারবেন মহিলারা। যেখানে নারী পুরুষের সমানাধিকার থাকবে, যেখানে অত্যাচারী স্বামীকে ছেড়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার, বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার মেয়েদের থাকবে, পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে আসবে না। নভেম্বর বিপ্লব দেখিয়েছিল সেই স্বপ্ন মিথ্যা নয়। কিন্তু তারপরও রয়ে গেছে বহু সমস্যা, বহু ব্যর্থতা। যার অনেকগুলোই আজ নভেম্বর বিপ্লবের একশো বছর কেটে গেলেও পূর্ণ মাত্রায় বর্তমান। সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে গেলে যাঁরা এগুলো নিয়ে ভেবেছিলেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন – তাঁদের ভাবনার চর্চা একান্ত প্রয়োজন। শতবর্ষ পরেও ঠিক সেখানেই ’The Woman Worker’-এর প্রাসঙ্গিকতা।

নাদেজদা ক্রুপ্সকায়া, লেনিন ও রুশ বিপ্লব (ছবি ঋণ: Wikimedia)

আরো পড়ুন

রুশ বিপ্লবের একালের তাৎপর্য

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.