লেখক, সমাজকর্মী অরুন্ধতী রায়ের ক্যাপিটালিজম: এ ঘোস্ট স্টোরি বইটির প্রথম অধ্যায় শুরু হয়েছিল এক প্রাসাদোপম বাড়ির বর্ণনা দিয়ে। সাতাশ তলা সেই প্রাসাদ যেন সব পেয়েছির আসর। নাম তার – অ্যান্টিলা। মালিক মুকেশ আম্বানি। অরুন্ধতী মুম্বাইয়ের সেই প্রাসাদের বর্ণনা দিয়ে বুঝিয়েছিলেন, উন্নয়ন যে উপর থেকে চুঁইয়ে নিচে পড়ছে না, ওই প্রাসাদই তার প্রমাণ। একশো কুড়ি কোটি লোকের দেশে ১০০ জন ধনীর সম্পদ জিডিপির এক চতুর্থাংশ হওয়ার কারণ এই নীতি। লেখাটি বেশ কয়েকবছর আগের। এখন দেশের জনসংখ্যা এবং বৈষম্য, সম্পদের কেন্দ্রীভবন আরও বেড়েছে। মুকেশের ছেলের বিয়ে উপলক্ষে বৈভবের প্রদর্শনী সেই সত্যকেই আবার সামনে আনল। গণতন্ত্রের দেশে বড় বড় কোম্পানির মালিকরাই আসল রাজা। চলচ্চিত্র, ক্রীড়া থেকে রাজনীতি জগতের বিখ্যাতরা তাঁদেরই আমন্ত্রণ পেয়ে ধন্য।
প্রাক-বৈবাহিক থেকে বৈবাহিক – তিন দফার অনুষ্ঠানে নাকি খরচ হয়েছে ৫,০০০ কোটি টাকার বেশি। বিদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রনেতা, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ বহু রাজনীতিবিদ, দেশবিদেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, শিল্পীরা কোনো না কোনো দফার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কাজের চাপে খুব কম সময় ঘুমোতে পারা দেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে ছিলেন প্রায় দু ঘন্টা। প্রাক-বৈবাহিক ও বৈবাহিক অনুষ্ঠান মিলিয়ে মোট পাঁচদিন মুম্বাই মহানগরীর বিভিন্ন রাস্তায় যাতায়াতে নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ফলে ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানীর বহু অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিযোগ। ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদারদেরও রুজিরুটির ক্ষতি করে অনুষ্ঠিত হল রাজপুত্রের বিয়ে। কয়েকমাস আগে গুজরাটে আম্বানিদের দেশের বাড়ি জামনগরে হয়েছিল প্রাক-বৈবাহিক অনুষ্ঠান। বিদেশি অতিথিদের বিমান অবতরণের জন্য রাতারাতি সেখানকার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
কয়েকমাস ধরেই এই বিয়ে নিয়ে প্রচারের অন্ত নেই। মাঝে ভোটের জন্য সেই প্রচার কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও, সরকার গঠনের পর নবোদ্যমে তা শুরু হয়। কারা নিমন্ত্রিত, কারা আসবেন, শেষ পর্যন্ত কারা এলেন, কী বললেন, কী গাইলেন বা কেমন নাচলেন – মূলধারার সংবাদমাধ্যম থেকে সোশাল মিডিয়া জুড়ে চলেছে তার প্রচার। আমন্ত্রণ পেয়ে ধন্য রাজনৈতিক নেতারা কেউ প্রশ্ন তোলেননি যে ক্ষুধা, দারিদ্র্যে ধুঁকতে থাকা এই দেশে এমন আড়ম্বর কেন? বিজেপি এই প্রশ্ন তুলবে না সেটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা তো বিকশিত ভারতেরই প্রচার চায়। যেমন এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথে অবস্থিত বস্তি তারা পাঁচিল তুলে ঢেকে দিয়েছিল। আর আম্বানি যে তাদের অতি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের একজন, সে তো সবার জানা। কিন্তু যে বিরোধীরা সেই ঘনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে এত প্রচার করেছে, তারাও নীরব। ব্যতিক্রম অবশ্যই বামেরা এবং রাহুল গান্ধী। একেবারে ১০ নং জনপথে এসে নিমন্ত্রণ করে যাওয়ার পরেও রাহুল বা তাঁর পরিবারের কেউ যাননি। বরং এত বিলাসিতা নিয়ে রাহুল প্রশ্নও তুলেছেন, যদিও কংগ্রেসের একাধিক নেতা গিয়েছিলেন।
অর্থাৎ কংগ্রেস বামেদের মত দলগতভাবে প্রশ্ন তুলছে না, ভারসাম্য রক্ষা করছে মাত্র। ক্ষমতায় থাকার সময়ে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে আম্বানি গোষ্ঠীর বিশেষ ঘনিষ্ঠতার কথা কারোর অজানা নয়।
অনেকে বলছেন, আম্বানি তাঁর ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করছেন। অতএব এই বিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। কিন্তু মহারাষ্ট্র প্রশাসন যখন জনগণের অনুষ্ঠান (‘পাবলিক ইভেন্ট’) বলে মুম্বাই মহানগরীতে নানা বিধিনিষেধ জারি করে, অতিথিদের নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকে, বিমানবন্দর সংস্কার হয়, তখন আর বিষয়টি ব্যক্তিগত থাকে না। ভারতের যে কোনো সাধারণ নাগরিক কি তাঁদের পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য এই সুযোগ পান? আর্থিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক বলে বলীয়ান সামান্য কিছু মানুষই এইসব সুযোগ পেয়ে থাকেন। অথচ সংবিধানের চোখে আমরা সবাই নাকি সমান। বাস্তবে জনস্বার্থের নামে মানুষকে উচ্ছেদ করে শিল্পপতিদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দেওয়া হয়। শ্রমিকের শ্রমে সৃষ্ট বাড়তি মূল্য মালিককে আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত করে নেওয়ার সুযোগ দিতে রাষ্ট্রশক্তি সদা তৎপর থাকে। আর সেই রাষ্ট্রশক্তির কাজের খরচ জোগাই আমরা আমজনতা, নানারকম কর দিয়ে। পাবলিক ইভেন্টে অতিথিদের নিরাপত্তা দিতে কত টাকা বাড়তি খরচ হল তার হিসাব আগামীদিনে পাওয়া যাবে কিনা জানা নেই। কিন্তু তা নিয়ে প্রশ্ন করার নৈতিক ও সংবিধান প্রদত্ত অধিকার আমাদের সকলের আছে। সংবিধান যতই ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দিক, দেশের আর্থিক অসাম্য যে কুৎসিত পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে অনন্ত আম্বানির বিয়ে নিয়ে এই অনন্ত মোচ্ছব সম্পর্কে চুপ করে থাকাই অন্যায়।
দেশবিদেশের নানা সংস্থা এবং অর্থনীতিবিদরা এই অসাম্যের কথা বলছেন, পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন। গতবছর প্রকাশিত অক্সফ্যামের সার্ভাইভাল অফ দ্য রিচেস্ট শীর্ষক রিপোর্ট জানিয়েছিল, দেশের একেবারে উপরে থাকা ১০% ধনীর হাতে রয়েছে দেশের মোট সম্পদের ৭২%, আর দেশের সম্পদের ৬২ শতাংশের মালিক মাত্র ১% ধনকুবের। অন্যদিকে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা দেশের অর্ধেক মানুষের হাতে রয়েছে জাতীয় সম্পদের মাত্র ৩%। এই অর্ধেক মানুষের মধ্যে রয়েছেন ভদ্রস্থ বেতন পাওয়া বা অন্য কোনো উপায়ে রোজগার করা মধ্যবিত্ত। তাহলে একেবারে নিচুতলায় থাকা নিম্নবিত্ত, গরিব মানুষের সম্পদের পরিমাণ সহজেই বোঝা যায়। এবছর ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের গবেষণা জানাচ্ছে, দেশের ১% ধনকুবেরের হাতে রয়েছে দেশের মোট সম্পদের ৪০% আর জাতীয় আয়ের প্রায় ২৩%। ব্রিটিশ আমলের থেকে এখন ভারতে আর্থিক অসাম্য বেশি। গবেষণা সংস্থাটি বলছে, দেশে ধনকুবেরদের রাজত্ব চলছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিগত শতকের আটের দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত অসাম্য কমছিল। তারপরেই বাড়তে থাকে। নতুন সহস্রাব্দ থেকে এই অসাম্য ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
২০০০ সালে ভারতে বিলিয়নেয়ার (সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার বা তার বেশি) ছিল মাত্র নজন। এই সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অতিমারির দুবছরে এই সংখ্যা বাড়তে বাড়তে দাঁড়ায় ১৬২। অসাম্যের চিত্র আরও প্রকট হয় অতিমারির সময়ে। ২০২০-২১ সালে দেশের ৮৪% মানুষের প্রকৃত আয় কমেছিল। অথচ কর্পোরেটগুলির মুনাফা বেড়েছিল ৭০%। ২০২১ সালে প্রকাশিত অক্সফ্যামের দি ইনইকুয়ালিটি ভাইরাস নামের রিপোর্ট জানিয়েছিল, অতিমারির সময়ে মুকেশ আম্বানি গোষ্ঠী প্রতি ঘন্টায় আয় করেছে ৯০ কোটি টাকা। এই সময়ে মুকেশ যত আয় করেছিলেন, তা দিয়ে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কাজ হারানো বা নিদারুণ সংকটে থাকা দেশের ৪০ কোটি শ্রমিকের অন্ততপক্ষে পাঁচ মাস চলে যেত। অতিমারির আগে মুকেশের মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের দেনা ছিল ১,৬১,০০০ কোটি টাকার বেশি। লকডাউনের প্রথম দুমাসেই শেয়ার বেচে কোম্পানি আয় করে ১,৬৮,৮১৮ কোটি টাকা। যখন দেশের বহু মানুষ রুজি হারিয়ে দেনায় ডুবছিলেন, তখন মুকেশের কোম্পানি ঋণমুক্ত হয়েছিল।
বিকশিত ভারতের সুফল যে উপর থেকে নিচে চুঁইয়ে পড়ছে না তার আরেকটি বড় প্রমাণ ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। অক্সফ্যাম রিপোর্ট অনুসারে দেশের ৭০% মানুষ পেটভরা পুষ্টিকর খাবার পান না। গত বছরের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১২৫ দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ১১১। আমাদের প্রতিবেশী পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালের অবস্থা এই বিচারে আমাদের থেকে ভাল। দেশের প্রায় ১৯% শিশুর দেহের ওজন উচ্চতা অনুসারে কম, সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। দেশের ৩৫% শিশুর ওজন বয়সের তুলনায় কম। এই বিচারে আমাদের চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছে বিশ্বের মাত্র ১৪টি দেশ। এর কারণ পুষ্টির অভাব। দেশের ১৫-২৪ বছর বয়সের অর্ধেকের বেশি মহিলা রক্তাল্পতায় ভুগছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এই রিপোর্ট মানেনি। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য উল্লেখ করে অক্সফ্যাম গত বছরের রিপোর্টে জানিয়েছিল, ভারতের আর্থিকভাবে নিচুতলায় থাকা ২৫% মানুষের খাবার জোটাতেই আয়ের ৫৩% চলে যায়। অথচ খাবারের পিছনে ২৫% ধনীর খরচ হয় আয়ের ১২ শতাংশেরও কম। বর্তমানে খাদ্যদ্রব্যের অগ্নিমূল্যে এই চিত্র আরও করুণ হয়েছে।
আর্থিক অসাম্য কমাতে কর কাঠামোর পরিবর্তনের কথা অনেকেই বলছেন। শুধু ভারত নয়, অসাম্য বাড়ছে সারা বিশ্বে। তাই এখন সম্পদের উপর কর, প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধির দাবি অনেকের মুখেই শোনা যাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাব বলছে, দেশের ১৬৭ জন বিলিয়নেয়ারের (সংখ্যাটা এই মুহূর্তে আরও বেশি হবে) থেকে বাড়তি ২% কর নিলে যে পরিমাণ অর্থ আসবে তা জাতীয় আয়ের ০.৫%। অক্সফ্যামের হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় বিলিয়নেয়ারদের সম্পদের উপর ৩% কর নিলেই জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আগামী পাঁচ বছরের খরচ উঠে আসবে। তাদের থেকে ২% কর নিলে সরকারের ৪২,০০০ কোটি টাকার বেশি আয় হবে, যা দিয়ে দেশের অপুষ্টিতে ভোগা মানুষকে তিনবছর পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যাবে। দেশের ধনীতম দশজনের থেকে ৪% সম্পদ কর নিলে শিক্ষায় প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করা যাবে। ধনকুবেরদের থেকে সম্পদ কর নিয়ে পরোক্ষ কর কমানোর মাধ্যমে আর্থিক অসাম্য কমানো যাবে বলে অক্সফ্যামের মত।
কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য চলছে উল্টো পথে। ২০১৯ সালেই কর্পোরেট করের হার কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ের ১৮% আসে জিএসটি থেকে, আর ১৭% আসে কোম্পানি কর থেকে। অতি গরিব মানুষকেও পরোক্ষভাবে জিএসটি দিতেই হয়। জিএসটি বাবদ যত আয় সরকারের হয় তার ৬৪% দেন নিচুতলায় থাকা অর্ধেক মানুষ (যাঁরা দেশের মোট সম্পদের মাত্র তিন শতাংশের মালিক)। মাত্র কয়েকদিন আগে প্রকাশিত প্রত্যক্ষ কর পর্ষদের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, এবছরের ১ এপ্রিল-১১ জুলাই পর্যন্ত আয়কর বাবদ সরকারের আদায় হয়েছে ৩,৪৬,০৩৬ কোটি টাকা। কর্পোরেট কর আদায় হয়েছে ২,১০,২৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মধ্যবিত্তদের থেকেও কম কর দিয়েছে বড় বড় কোম্পানিগুলি। দেশের কর কাঠামো অসাম্য কমানোর বদলে বাড়িয়ে তুলছে।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের এক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেনা ছিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের – পরিমাণ ৩,১৩,০০০ কোটি টাকা। কোম্পানিগুলির মুনাফা ও দেনা দুটোই বাড়ে। এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশের কোম্পানির দেনা সবচেয়ে বেশি। তার দায় বহন করে ব্যাঙ্কগুলি। গত বছরের ডিসেম্বরে লোকসভায় পেশ করা সরকারের তথ্য অনুসারে, বিগত পাঁচ বছরে দেশের ব্যাঙ্কগুলি বড় বড় কোম্পানির ৫০০,০০০ কোটি টাকারও বেশি ধার হিসাবের খাতা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। কার্যত ঋণ মকুব করা হয়েছে। অথচ দেশের সাধারণ মানুষ দেনার দায়ে ডুবছেন। অনেকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যাঙ্কের এই অর্থ কিন্তু আসে সাধারণ মানুষের আমানত থেকে। আম জনতার টাকায় ধার নিয়ে বড় বড় কোম্পানি সেই অর্থ পরিশোধ করে না, তাদের ঋণ মকুব হয়ে যায়। এভাবেই সম্পদের পাহাড় বাড়ে কোম্পানির মালিকদের।
“ভূস্বামির ভবনে বিবাহ, আদ্যকৃত্য, দেবোৎসব বা প্রকারান্তর পুণ্য-ক্রিয়া ও উৎসব ব্যাপার উপস্থিত হইলে প্রজাদের অনর্থপাত উপস্থিত; তাহারদিগকেই ইহার সমুদায় বা অধিকাংশ ব্যয় সম্পন্ন করিতে হয়।”
একথা লিখেছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত, ‘পল্লীগ্রামস্থ প্রজাদের দুরবস্থা বর্ণন’ প্রবন্ধে ১৮৫০ সালে, বিষয় ছিল প্রজাদের উপর জমিদারদের অত্যাচার। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় এই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে প্রায় ১৭৫ বছর। এখন প্রজাতন্ত্র, অর্থাৎ এ যুগে শিল্পপতিরাই আসল রাজা। তাঁদের অর্জিত বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত সম্পদ আসলে দেশের সম্পদ, কৃষক-শ্রমিকের শ্রম, আমাদের দেওয়া করের ও ব্যাঙ্কের গচ্ছিত অর্থ ইত্যাদি নিয়ে গড়ে ওঠে। এসব খালি চোখে ধরা পড়ে না। গণতান্ত্রিক পথে নির্বাচিত সরকার এদের স্বার্থেই কাজ করে। তাই এঁদের পারিবারিক অনুষ্ঠানে বৈভবের কুৎসিত প্রদর্শনকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। সংবিধান প্রদত্ত সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার অর্জন সহজে হয় না। রাজকীয় উৎসবের আড়ম্বর নিয়ে বিনোদনে না মেতে সেই অধিকারের লড়াই আমজনতাকেই লড়তে হবে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








