দু দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ চলছে। শুরু থেকেই এই মেশিনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কেউ না কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। সাম্প্রতিক অতীতে বিশেষত বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বারবার নানারকম অভিযোগ করেছে। রাজনৈতিক নেতার বাড়ি থেকে ইভিএম উদ্ধার হওয়া বা ইভিএমের হিসাব না মেলার মত ঘটনা সন্দেহ আরো বাড়িয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কাছে এসে পড়লে দলগুলো যতখানি উৎসাহ নিয়ে ইভিএমের দোষ ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করে, ভোটপর্ব মিটে গেলে আর সে উৎসাহ থাকে না, বিশেষত যদি ফলাফল বিজেপির বিপক্ষে যায়। তাহলে ইভিএম নিয়ে আপত্তি কি স্রেফ রাজনৈতিক স্টান্ট, নাকি সত্যিই আপত্তি করার মত কিছু আছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নাগরিক ডট নেট কথা বলল প্রবীণ আই এ এস জহর সরকারের সঙ্গে।

১৯৯৯ সালে যখন প্রথমবার ইভিএম ব্যবহার করা হয়, তখন তিনি পশ্চিমবঙ্গের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার ছিলেন। বর্তমানে জহরবাবু দ্য সিটিজেন্স কমিশন অন ইলেকশনস (CCE) নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, যার সদস্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সরকারি আমলা, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ এবং গবেষকরা। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ইভিএম কারচুপি নিয়ে এ বছরের শুরুতে একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয় এবং নির্বাচন কমিশন, রাষ্ট্রপতি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

আপনারা জানুয়ারি মাসে একটা সাংবাদিক সম্মেলন করেন, তাতে বলেন যে ইভিএমে কারচুপি করা যায় না এমন কোন প্রমাণ নেই। তাই একমাত্র সমাধান হল যত বেশি সম্ভব ভিভিপ্যাট গণনা করা। এই নিয়ে আপনারা যে রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন এবং বিভিন্ন মহলে পাঠিয়েছিলেন, তাতে কোন প্রতিক্রিয়া হয়েছে কি?

নাগরিকরা জবাব দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন কোন জবাব দেয়নি, সরকারও কোন জবাব দেয়নি।

২০১৮ সালের ইকনমিক টাইমসের একটা প্রতিবেদন দেখছিলাম। বৎসোয়ানায় আমাদের এখান থেকে ইভিএম রপ্তানি করা হয়েছিল এবং সেখানকার বিরোধী দল অভিযোগ করে যে ওগুলো এমনভাবে তৈরি যাতে ভোটে ক্ষমতাসীন দল জেতে। আপনারাও বলছেন কারচুপি সম্ভব। তাহলে কি বলছেন একেবারে মেশিন বানানোর স্তরেই এই ধরনের কারচুপি সম্ভব?

না, ওটা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রে অতটা কারচুপি করা যায় না, কারণ সমস্ত প্রক্রিয়াটা একটা প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়। ভারতে আমি প্রথম যখন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার শুরু করেছিলাম ১৯৯৯-তে, তখন যন্ত্রটার উপর যথেষ্ট ভরসা ছিল। আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত ছিলাম, কারণ তখন হ্যাকিং কী জিনিস সেটা বিশেষ কেউ জানত না, প্রযুক্তি তখনো অনেক পিছিয়ে। কিন্তু ১৫-২০ বছর পরে প্রযুক্তি এমন জায়গায় চলে এসেছে, যে স্কোপ অফ ইন্টারভেনশন থাকলেই কারচুপি করা সম্ভব।

তাহলে আপনি কী ধরনের কারচুপির কথা বলছেন যদি একটু বুঝিয়ে বলেন।

ইভিএমে তিনবার স্কোপ অফ ইন্টারভেনশন আছে। প্রথম সুযোগ যখন পরীক্ষা করার জন্যে ইভিএম বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। বাইরের আউটসোর্সড এজেন্টরা ভারত ইলেকট্রনিক্স (BEL) বা অন্য সরকারি ম্যানুফ্যাকচারারদের হয়ে টেস্টিং-এ নিয়ে যায়। সেখানে একটা বড় ঘরে বসে তারা টেস্টিং করে, দেখার কেউ থাকে না। আমরা জানতাম যে BEL নিজেই কাজটা করে। স্বভাবতই সরকারি সংস্থা কাজটা করলে সন্দেহ কম থাকে, কারণ সরকারি কর্মচারীদের চাকরি বা পেনশনের ব্যাপার আছে। তারা চট করে গন্ডগোল করতে সাহস পাবে না। কিন্তু পরে জানা গেল এই কাজটা আউটসোর্স করে দেওয়া হয় বিভিন্ন এজেন্সিকে। এই আউটসোর্সিং একটা দুর্বলতার জায়গা।

দ্বিতীয় সুযোগ যখন সেট বার করে রিটার্নিং অফিসারের অফিসে নিয়ে আসা হয়। প্রার্থী ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর মেশিনগুলোকে রিসেট করতে হয়। সেটটা একটা কোড দিয়ে রিসেট করা হয়। প্রত্যেকটা নির্বাচন কেন্দ্রে এই কাজটা করা হয়, কারণ আগে থেকে তো আর জানা থাকে না কোন বোতামে কোন প্রার্থী থাকবে। প্রার্থীদের নাম ঠিক হলে তবেই এই কাজটা করা সম্ভব। এই রিসেটের সময়ে কারচুপির সুযোগ থাকে। কারণ রিসেটও যে সরকারি আধিকারিক বসে করেন তা নয়। এই কাজটাও আউটসোর্সড লোককে দিয়ে করানো হয়। তাদের দুরভিসন্ধি থাকলে ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব। ব্যাপারটা অনেকটা বাড়ির টিভি সারানোর মত। যার টিভি সারানো হচ্ছে সে তো আর বুঝতে পারে না যে সারাচ্ছে সে কী করছে। ঐ সময়টায় কোন সফটওয়্যার নিয়ে এসে এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব যাতে বেশ কয়েকটা ভোট, যাকেই দেওয়া হোক, একজন প্রার্থীর কাছেই যাবে।

তৃতীয় সুযোগ যখন মেশিনটাকে পোলিং বুথে নিয়ে গিয়ে আবার খোলা হয়। তবে এই সময়টায় কারচুপির সম্ভাবনা কম, কারণ তখন সব দলের পোলিং এজেন্ট ভোট দিয়ে মেশিন পরীক্ষা করেন। যে যেমন ইচ্ছা ভোট দেন এবং কাগজে লিখে নেন কে কটা ভোট দিলেন। তারপর ফলাফল দেখাতে বলেন। সেই ফলাফল মিললে বোঝা যায় সব ঠিক আছে। একে আমরা বলি মক রান। এরপর যখন মেশিন সেট করা হয় তখন কারচুপির সুযোগ থাকে। কিন্তু এবারে ব্যাপারটা লক্ষ্য করার লোক থাকে বলেই বলছি সম্ভাবনা কম।

কিন্তু বুঝতেই পারছেন যে তিনবার মেশিন খোলা হয়, তার মধ্যে দুবার গোপনে খোলা হয় এবং প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন এই সময়গুলোতে কারচুপি করা সম্ভব। ভারত এবং আরো ষাটটা দেশের প্রযুক্তিবিদরা বলেছেন যখন কারচুপি সম্ভব, তখন আমরা ইভিএম ব্যবহার করব না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটা রাজ্য এখনো ইভিএম ব্যবহার করে, কিন্তু সাথে ব্যালট পেপারও রাখে। আর লাতিন আমেরিকার দুটো দেশ ইভিএম ব্যবহার করে। পৃথিবীর ১৮০টা গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে আর কেউ এই যন্ত্র ব্যবহার করে না।

এত উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এতগুলো দেশ ব্যবহার করে না কেন? এটা ঠিকই যে কিছু দেশ করে না পুরনো সংস্কারবশত। কিন্তু জার্মানি বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্য উন্নত দেশগুলোতে এই নিয়ে প্রচুর বিচার বিশ্লেষণ হয়েছে। ই ইউ-এর জাজ বলে দিয়েছেন এই মেশিন আমরা ব্যবহার করতে দেব না, এক শতাংশ সন্দেহ থাকলেও নয়। তাই গোটা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে কোথাও ইভিএম ব্যবহার হয় না। ব্রিটেনেও হয় না। তাহলে এতগুলো উন্নত দেশ কি নেহাত বোকা, যে উন্নত প্রযুক্তি থাকতেও ব্যবহার করছে না?

অনেক ভোটকর্মীর সাথে কথা বলে দেখেছি, তাঁরা খুব জোর দিয়ে বলেন যে কারচুপি অসম্ভব এবং নিজের কথা প্রমাণ করার জন্যে ইভিএম হাতে পাওয়া থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র থেকে ফিরে মেশিন জমা দেওয়া পর্যন্ত যে লম্বা প্রক্রিয়া, সেটার ফিরিস্তি দিয়ে বলেন এর মধ্যে কোনরকম কারচুপি করার সুযোগই নেই। এই ধারণাটা ভোটকর্মীদের মধ্যে কেন তৈরি হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?

আসলে ভোটকর্মীরা গোটা প্রক্রিয়ার মাঝের একটা ছোট অংশ দেখতে পান। আমি বৃহত্তর ছবিটা বললাম। ওঁদের বক্তব্য একদম সঠিক। অর্থাৎ বুথে যাওয়া আর বুথ থেকে ফেরত আসা — এর মধ্যে ট্যাম্পারিং অসম্ভব। কারণ ভোটকর্মীদের যে পার্টি তৈরি করা হয় সেটা কম্পিউটারে র‍্যান্ডম সিলেকশনের মাধ্যমে হয়, যাতে কেউ কারোর পরিচিত না হয়। প্রথম দিকে এটা কেরানিদের উপর ছেড়ে দেওয়া হত। তখন প্রায়ই চার বন্ধু বলত, আমাদের একসাথে দিয়ে দিন। কোন বদ মতলব আছে বলে নয়, চেনা জানা লোক হলে সুবিধা হবে ভেবে। আবার পার্টির লোকেরাও দাবি করত প্রতি পোলিং পার্টিতে তাদের একজনকে রাখতে হবে। কিন্তু এখন পুরো ব্যাপারটাই কম্পিউটারের মর্জিতে চলে। ফলে একই পোলিং পার্টির সবার সবাইকে চেনার সম্ভাবনা দশ লাখে এক। অতএব পাঁচজন অচেনা লোক, যারা একে অপরের রাজনীতি জানে না, তারা তো আর দলবদ্ধভাবে কারচুপি করতে পারে না। সুতরাং ভোটকর্মীদের স্তরে কারচুপির সম্ভাবনা শূন্য।

আচ্ছা অনেক ভোটেই যে একটা অভিযোগ ওঠে, পশ্চিমবঙ্গে এবারের ভোটেও উঠেছিল, যে ভোটার বলছেন আমি এক দলের বোতাম টিপলাম, অন্য দলের বোতামের পাশে আলো জ্বলল। এটা কি সম্ভব?

না, এটা একেবারেই সম্ভব নয়। এই ধন্দ এড়াতেই তো ভিভিপ্যাট (ভোটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেল)-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আমাদের যে অভিযোগ সেটা হল এত কোটি টাকা দিয়ে ভিভিপ্যাট মেশিনগুলো কেনা হয়েছে, অথচ ওঁরা স্লিপগুলো গুনতে রাজি নন। আমরা যারা সমস্ত ভিভিপ্যাট গোনার দাবি করেছি, তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ছিলাম। আমরা বলছি ওঁরা যে বলছেন ভিভিপ্যাট গুনতে পাঁচদিন লাগবে, এটা একেবারে বাজে কথা। ভিভিপ্যাটের স্লিপগুলো তাসের মত গুছিয়ে নিতে হবে। একজন ব্যাঙ্ককর্মী রাখতে হবে, যিনি নোট গোনার মত ওগুলো গুনে যাবেন আর আলাদা আলাদা বাক্সে ফেলবেন। তারপর রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের বলবেন, নিজের নিজের বাক্স তুলে দেখে নিন আপনাদের প্রাপ্ত ভোটের সাথে মিলল কিনা। এতে কতক্ষণ লাগে? এইটুকু করতে না চেয়ে নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা যে আচরণ করেছেন তা থেকে সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক যে ভিভিপ্যাটের সাথে ইভিএম না-ও মিলতে পারে। আমরা যদি এটার প্রমাণ পাই, তখন দুটো মেশিনের কেন সমন্বয় হচ্ছে না সেটা নিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে। সেটা পরের পদক্ষেপ।

অনেকদিন আগে আপনার একটা বক্তৃতায় শুনেছিলাম, তাতে আপনি বলেছিলেন একটা যন্ত্র হয়, যাতে বিভিন্ন বুথ থেকে আসা ইভিএমগুলোর ভোট মিশিয়ে ফেলা যায়। সেই যন্ত্র কিনতে কেন্দ্রীয় সরকার আপত্তি করেছিল। তাহলে কি ধরে নিতে পারি যে শুধু কারচুপি করা যায় তা-ই নয়, ইভিএমে আমার ভোটের গোপনতাও সুরক্ষিত নয়?

যন্ত্রটার নাম টোটালাইজার। ওটা অবশ্যই ব্যবহার করা উচিৎ, কিন্তু কোন রাজনৈতিক দলই টোটালাইজার চায় না। কারণ তারা বুথভিত্তিক ফলাফল চায়, নিজেদের এলাকাভিত্তিক সাফল্য বা ব্যর্থতা বোঝার জন্যে। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার হিসাবে আমি মনে করি বুথভিত্তিক ফলাফল অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এই ফল জেনে নিয়ে কোন দল যারা তাদের ভোট দেয়নি, তাদের উপর চড়াও হতে পারে। টোটালাইজার যেটা করে সেটা হল পাঁচটা ইভিএমকে একসাথে যুক্ত করে দেয়, তারপর মোট ভোটটা পাওয়া যায়। এই মোট ভোট থেকে আর ধরা যায় না কোন পাড়ার লোক কোথায় ভোট দিয়েছে।

ইভিএমের পক্ষে যাঁরা সওয়াল করেন, তাঁদের বক্তব্য যখন ব্যালটে ভোট হত তখন গণনায় তো বেশি সময় লাগতই, তার চেয়েও বড় কথা ভোট লুঠ করা বা ছাপ্পা ভোট দেওয়া অনেক সহজ ছিল। এটা কি আপনি মানবেন?

শেষের দিকে ছাপ্পা ভোটকে নিয়ন্ত্রণ করারও নানা কৃৎকৌশল বার করা হয়েছিল। এমন উপায় বার করা হয়েছিল যে গণনার সময়েও ছাপ্পা ভোট আমরা ধরে ফেলতাম। তাছাড়া সেইভাবে তো ইভিএম-ও দখল করা যায়। সেই ভয়ে ইভিএম ব্যবহার করার কোন যুক্তি নেই। তবে ইভিএম যে সুবিধাজনক তাতে ভুল নেই। কিন্তু প্রক্রিয়াটা সম্বন্ধে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। আমি ব্যালটেই ফেরত যেতে বলছি তা নয়। আমার বক্তব্য হল ইভিএমের সাথে ভিভিপ্যাটও গুনে নেওয়া হোক। কিন্তু সুনীল অরোরা গোঁ ধরে বসে রইলেন, গুনব না। তাতেই সন্দেহ আরো বেড়ে গেল।

মনে রাখতে হবে টি এন শেষনের পর থেকে কোনদিন নির্বাচন কমিশনকে আমরা এত নীচু চোখে দেখিনি। সব নির্বাচন কমিশনারই কম বেশি সমালোচিত হয়েছেন, কিন্তু এস ওয়াই কুরেশি, ওমপ্রকাশ রাওয়াত বা এন গোপালস্বামীকে তো আমরা কোনদিন সন্দেহ করিনি। শেষন একটা মানদণ্ড তৈরি করে গিয়েছিলেন। তারপর এই প্রথম একজন নির্বাচন কমিশনার হলেন, যাঁর পক্ষপাতিত্ব সম্বন্ধে গোটা ভারতবর্ষ একমত। সেটাই সমস্যা বাড়িয়েছে।

4 মন্তব্য

  1. নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলাম ইভিএম নয় টাচ প্যাড ব্যবহার করা হোক। এছারা, টিপছাপ নয় আঙুলের চাপে ফুটে উঠুল আধার কার্ড লিংকড ভোটার কার্ড। টাচ প্যাডেও তার আভুলের ছাপ মিলতে হবে। পোস্টাল ব্যালট নয়। অনলাইন ভোট হোক।

  2. ইভিএম কারচুপির ওপর আলোচনা বহুদিনের। এই লেখাটি থেকে জানতে পারলাম লেখকরা ইভিএম কারচুপি বিষয়ে যথেষ্ট অনুসন্ধান করেছেন এবং উচ্চ পর্যায়ে একটি রিপোর্টও তৈরি করেছিলেন। উনি বলেছেন ইভিএম কারচুপির সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না এবং উনি কারচুপি করার সম্ভাব্য জায়গা গুলি খতিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। উনি কারচুপি করার তিনটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তার মধ্যে ইভিএম তৈরি করার সময় কোনো রকম কারচুপি সম্ভব নয় একথা পরিস্কার বলেছেন। তিনটি সম্ভাবনার মধ্যে প্রথম দুটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদরাই থাকেন। এর মধ্যে একটি হল টেস্টিং এবং অন্যটি হল প্রার্থী ঘোষণার পরে ইভিএম রিসেট করা। এর পরের ধাপ হল বিভিন্ন দলের এজেন্টদের সামনে মক টেস্ট। উনি বলেছেন প্রথম দুটি ক্ষেত্রেই কারচুপির সম্ভাবনা বেশি। তৃতীয় ক্ষেত্রে কিছু কম। কিন্তু যেটা বুঝতে পারলাম না, সেটা হল প্রথম দুই ক্ষেত্রে যদি ভুল থাকে তৃতীয় ক্ষেত্রে মক টেস্টের সময় তা তো অবশ্যই ধরা পড়বে। নয় কি? সেটা যদি না হয়, তাহলে প্রথম দুই ধাপে ভুল হয়েছে বলবো কি করে? লেখাটির মধ্যে এখানে যুক্তির একটু অভাব আছে মনে হল। আমার মনে হয়, ইভিএম তৈরী করার সময়েই কিছু গোলমাল থাকে, যেটা ধরা যায় না। লেখাটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লেখাটির জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ জানালাম।

  3. ইভিএম কারচুপির ওপর আলোচনা বহুদিনের। এই লেখাটি থেকে জানতে পারলাম লেখকরা ইভিএম কারচুপি বিষয়ে যথেষ্ট অনুসন্ধান করেছেন এবং উচ্চ পর্যায়ে একটি রিপোর্টও তৈরি করেছিলেন। উনি বলেছেন ইভিএম কারচুপির সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না এবং উনি কারচুপি করার সম্ভাব্য জায়গা গুলি খতিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। উনি কারচুপি করার তিনটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তার মধ্যে ইভিএম তৈরি করার সময় কোনো রকম কারচুপি সম্ভব নয় একথা পরিস্কার বলেছেন। তিনটি সম্ভাবনার মধ্যে প্রথম দুটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদরাই থাকেন। এর মধ্যে একটি হল টেস্টিং এবং অন্যটি হল প্রার্থী ঘোষণার পরে ইভিএম রিসেট করা। এর পরের ধাপ হল বিভিন্ন দলের এজেন্টদের সামনে মক টেস্ট। উনি বলেছেন প্রথম দুটি ক্ষেত্রেই কারচুপির সম্ভাবনা বেশি। তৃতীয় ক্ষেত্রে কিছু কম। কিন্তু যেটা বুঝতে পারলাম না, সেটা হল প্রথম দুই ক্ষেত্রে যদি ভুল থাকে তৃতীয় ক্ষেত্রে মক টেস্টের সময় তা তো অবশ্যই ধরা পড়বে। নয় কি? সেটা যদি না হয়, তাহলে প্রথম দুই ধাপে ভুল হয়েছে বলবো কি করে? লেখাটির মধ্যে এখানে যুক্তির একটু অভাব আছে মনে হল। আমার মনে হয়, ইভিএম তৈরী করার সময়েই কিছু গোলমাল থাকে, যেটা ধরা যায় না। লেখাটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লেখাটির জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

  4. এবারের নির্বাচনে যে অভিযোগ উঠে এসেছে সেটি হলও , ১০/১১ ঘণ্টা ভোট হবার পরেও কি ভাবে ইভিএম এর ব্যাটারি চার্জ ৯৮ % থাকতে পারে যা গণনার সময় মেসিন স্টার্ট করার সময় দেখাচ্ছে। এই ব্যাপারে খানিক আলোকপাত করুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.