প্রখ্যাত শিল্পী মল্লিকা সারাভাইয়ের সঙ্গে শিল্প থেকে রাজনীতি, সব বিষয়ে কথা বললেন ঔষ্ণীক ঘোষ সোম। অবশ্য মল্লিকা শিল্প আর রাজনীতিকে আলাদা করে দেখেন না।
আপনি সেইসব বিরল শিল্পীদের মধ্যে একজন যিনি কেবল শিল্পের মধ্যে দিয়ে নয়, বরং রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সামাজিক অন্যায়ের মোকাবিলা করেন। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একজন শিল্পীর দায়িত্ব সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
আমি মনে করি আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমাদের উচিত প্রত্যেকটা মাধ্যমকেই ব্যবহার করা। যেমন ধরা যাক, শিল্প একটা ভাষা। আমি আমার মাতৃভাষায় কথা বলি। আবার যদি আমি হঠাৎ করে ফরাসি বা ইতালিয় কিংবা হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করি, সেটা হবে অন্য ভাষা। যদি মানুষকে একটা গল্প বলার মাধ্যমে আমি কোনোরকম পরিবর্তন আনতে পারি, সেটা হবে আরেকটা ভাষা। আমি কেবল সবরকমভাবে চেষ্টা করি যতটা সম্ভব একটা সুস্থ, সবল সমাজ দেখার, যেখানে ঘৃণার পরিমাণ কম। এমন নয় যে শিল্প অপর্যাপ্ত, কিন্তু আমি যদি ভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের জনতার কাছে পৌঁছতে চাই, তাহলে আমার বিকল্প রাস্তার প্রয়োজন হতেই পারে।
আপনাদের নৃত্য প্রতিষ্ঠানের নাম দর্পণা। খুবই অর্থবহ এবং প্রাসঙ্গিক নাম। আপনি কীভাবে আপনার শিল্পকে আপনার সমাজকল্যাণমূলক অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গে সংযুক্ত করবেন?
দর্পণা নামটা আমার মা [মৃণালিনী সারাভাই] দিয়েছিলেন, কারণ তিনি অনুভব করেছিলেন যে শিল্পকে সমাজের আয়নায় পরিনত করতে হবে এবং সমাজ যা দেখতে অস্বীকার করে তা দেখাতে হবে। তাই আমি এমন মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছি, যা বলে, শিল্প এমন সব দিকগুলোকে তুলে আনবে যা বেশিরভাগ মানুষ টেবিলের নিচে সত্বর লুকিয়ে ফেলতে চান। আমি যা-ই করি না কেন, কিংবা আমি যা-ই পরি না কেন, সবকিছুতেই একটা রাজনৈতিক বিবৃতি থাকবে। আমি হ্যান্ডলুমের কাপড় পরি, কিংবা কানে হীরের দুল বা প্ল্যাটিনামের দুল পরি না। এসবই একটা স্টেটমেন্টে পরিণত হয়েছে। আমি মনে করি আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বাস করি যেখানে সবকিছুই একটা স্টেটমেন্ট। সবকিছুই রাজনীতির অংশ এবং আমার মত একজন পাবলিক পার্সনের জন্য আরও বেশি করে। কারণ আমি অনেককিছুর দিকেই আঙুল তুলে থাকি। বলে থাকি ‘এটা ভুল’, ‘ওটা ভুল’। এবং যে ব্যক্তি এমন বলে থাকেন তাঁর ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ফটোগ্রাফ একটা বিবৃতি বা একটা অপরাধমূলক দলিল হয়ে উঠতে পারে। আমি যে বইটা লিখেছি তার মধ্যে আমার আত্মার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। আমি মনে করি এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক। আমি কেন কিছু গোপন রাখব? যাতে কেউ আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে পারে বা আমাকে হুমকি দিতে পারে? আমি বরং সেটা জনসমক্ষে প্রকাশ করব এবং জনগণ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে আমি এমন কিছু করেছি যার কারণে আমি আর তাদের মনোযোগের যোগ্য নই, তবে তাই হোক। তাই আমার শিল্প এবং আমার অ্যাক্টিভিজম আসলে দুটো আলাদা জিনিস নয়।
একরাশ ঘৃণা পেয়েছি। মুসলমানদের বেশ্যা বলা হয়েছে আমাকে, সব ধরনের কুৎসিত নামে ডাকা হয়েছে। যারা আমাকে আজীবন চিনতেন, তাঁরা আমার সঙ্গে কথা বলার সাহস পাননি।
আপনি অনেকদিন ধরে কলাম লিখছেন। আপনি কেন নতুন করে শব্দকে আপনার প্রকাশ মাধ্যম হিসাবে বেছে নিলেন?
আমি চিরকাল শব্দের জগৎ ভালবেসে এসেছি। আমার মা আমাকে শব্দের জগৎ ভালবাসতে শিখিয়েছেন। ভাষার প্রতি ভালবাসা, ভাষার সাঙ্গীতিক দিকের প্রতি ভালবাসা। তিনিও এই জগৎটাকে ভালোবাসতেন। আমি কখনো মনে করিনি যে আমি গল্প লিখতে পারি। তবে আমার মনে হয়েছে আমি রাজনৈতিক বা সামাজিক কমেন্ট্রি লিখতে পারি। আমি ১৯৮৫ সাল থেকে একজন প্রকাশক। আমার প্রাক্তন স্বামী এবং আমি একসাথে ম্যাপিন প্রকাশনা শুরু করি। আমি উৎপাদন এবং সম্পাদনার কাজগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকতাম। বহুবছর ম্যাপিনের সম্পাদক ছিলাম এবং অনেক বই সম্পাদনা করেছি। লেখালিখির পথে আমার যাত্রা শুরু হয় যখন আমি ১৯৭৯ সালে ইনসাইড আউটসাইড প্রকাশ করা শুরু করি। সেটা ছিল ভারতের প্রথম ডিজাইন ম্যাগাজিন এবং ওটাই আমাকে প্রকাশনার কাছাকাছি নিয়ে আসে। কিন্তু কলাম লেখা তখনই শুরু হয়েছিল যখন আমি খুব দৃঢ়ভাবে অনুভব করি যে আমার কিছু বিষয়ে কথা বলা দরকার এবং সেই বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন আছে।
আপনি ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। আপনার সেই সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে যদি কিছু বলেন। সেইসময় আপনি জনসাধারণের কাছ থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন?
একরাশ ঘৃণা পেয়েছি। মুসলমানদের বেশ্যা বলা হয়েছে আমাকে, সব ধরনের কুৎসিত নামে ডাকা হয়েছে। যারা আমাকে আজীবন চিনতেন, তাঁরা আমার সঙ্গে কথা বলার সাহস পাননি। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার জন্য আমাকে লড়াই করতে হয়েছিল। আমার পাসপোর্ট ছেড়ে দিতে হয়েছিল, দিনে দুবার থানায় হাজিরা দিতে হত। ওটা আমার কেরিয়ার নষ্ট করার চেষ্টা ছিল। আমাকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে। আমাকে অবৈধ অভিবাসনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় (যাকে চলতি ভাষায় কবুতরবাজি বলা হয়)। বলা হয় আমি নাকি কখনো বিদেশে নাচের অনুষ্ঠানের জন্য যাইনি, কেবল লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের অবৈধ অভিবাসনে সাহায্য করেছি এবং এভাবেই আমার পুরো কেরিয়ার চালিয়েছি! আমি এখনও সেই বয়কটের সম্মুখীন। বিজেপি আমাকে ক্ষমা করেনি। আমি তোমাকে শুধু একটা উদাহরণ দেব। কৈলাশ পাণ্ডিয়া নামের একজন, প্রখ্যাত গুজরাটি অভিনেতা এবং পরিচালক ছিলেন, যিনি কয়েক বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি গুজরাটের অন্যতম সেরা থিয়েটার অভিনেতা এবং পরিচালক ছিলেন। উনি বহুবছর দর্পণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাছাড়া আইপিটিএর অংশ ছিলেন, পৃথ্বীরাজ কাপুরের সাথে কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে তাঁর জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হয়। গুজরাটে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম এই বলে যে এটা শুধু দর্পণার বিষয় নয়, এটা গুজরাটের সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনেতার ব্যাপার। আমাদের অবশ্যই এটা উদযাপন করা উচিত। আমি একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পর্যন্ত পাইনি। এমনকি একসময় সরকারি সচিব আমার ফোন ধরাও বন্ধ করে দেন।
আপনি যখন কোনো সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং সংবাদমাধ্যম বা রাজনীতিবিদদের দ্বারা সমালোচিত হন, কীভাবে সেই সমালোচনা সামলান? কোন মানসিক প্রস্তুতি আপনাকে এই সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে?
কেউ হতাশ হয়ে পড়তেই পারে। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমার চারপাশে এমন অনেক লোক রয়েছে যারা আমাকে বিশ্বাস করে, যারা আমি যা-ই করি না কেন তাতে ভরসা রাখে এবং আমাকে তারা আমায় হাল ছাড়তে দেবে না। আমি মনে করি, আমি যা বলছি সে সম্পর্কে আমি যদি নিশ্চিত থাকি, যদি নিঃসংশয় হই যে আমি ন্যায় এবং সত্যের পক্ষে আছি, তাহলে দিন দিন আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে আসে। আমার বয়স যখন পাঁচ, একটা ছেলে আমাকে গাধা বলে ডেকেছিল। আমার খুব খারাপ লেগেছিল , কান্নাকাটি করেছিলাম এবং পাপাকে বলেছিলাম যে আমি স্কুলে আর যাব না। পাপা [বিক্রম সারাভাই] বলেছিলেন, তোমার সেই ছেলেটার জন্য দুঃখিত হওয়া উচিত যে একটা মেয়ে এবং একটা গাধার তফাত জানে না। কেন এটা তোমার উপর প্রভাব ফেলছে? ওটা ছিল প্রাথমিক পাঠ, যে তুমি যদি কাউকে আঘাত করতে দাও তবেই তুমি আঘাত পাবে, নয়ত নয়। তুমি যদি কাউকে অপমান করার অধিকার দাও তবেই তুমি তার দ্বারা অপমানিত হবে। কাউকে নিজেকে অপমান করার অধিকার দিও না। তুমি যদি জানো যে তুমি যা করছ তা ঠিক, ন্যায়সঙ্গত এবং একটা বৃহত্তর উদ্দেশ্যের জন্য, তাহলে একটু তো হবেই এসব। তবে সেটা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।
আমরা মধ্যবিত্তরা ভারতের একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ভারতের বৃহত্তর অংশ এখনো ক্ষুধার্ত, আতঙ্কিত এবং অন্যায় ও অসম্মানের শিকার।
আপনার বিস্তৃত সামাজিক কাজকর্ম এবং সেসব নিয়ে আপনার লেখালিখি আপনাকে দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের কাছাকাছি নিয়ে আসে – মহাশ্বেতা দেবী এবং গণেশ দেবী। তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে বহুবছর কাজ করেছি। আর গণেশের সঙ্গে আমি এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি আমরা একইরকম দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ এবং আমাদের বেছে নেওয়া ভিন্ন ভিন্ন কাজের পন্থাকে আমরা সম্মান করি। মহাশ্বেতা দেবীর ক্ষেত্রে, আমাদের একে অপরের প্রতি অঢেল শ্রদ্ধা ছিল। তিনি সবসময় মনে করতেন যে আমি জ্বালাময়ী এবং দ্রৌপদী চরিত্রে আমার অবশ্যই অভিনয় করা উচিত। আমার তাঁর গল্পটা ভাল লেগেছিল। গণেশের ক্ষেত্রে, নির্বাচনী প্রচারের সময়ে আমরা খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। গতবছর আমি আহমেদাবাদ ইউনিভার্সিটিতে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ছাত্রদের জন্য জনবাক (জনগণের কণ্ঠস্বর) নামের একটা কোর্স পড়িয়েছিলাম। এটা মূলত এই ধারণাকে আবার চালু করার জন্য, যে আমরা একটা বহুমাত্রিক সমাজ, মনোলিথ নয়। আর আমাদের ভারতে হাজার হাজার জিনিস রয়েছে যা ভারত নামক রামধনুকে আকার দেয়। সেখানে গণেশও একটা ক্লাস নিত। আমি মনে করি ওঁর অবস্থান খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আমি হর্ষ মান্দার এবং পি সাইনাথের মত ব্যক্তিদের সঙ্গেও কাজ করেছি। এঁদের সকলের প্রতিই আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং আমি এঁদের সঙ্গে একটা দুর্দান্ত কামারাডরি অনুভব করি।
গণেশ যখন ভাষা ইনস্টিটিউট পরিচালনা করেন, তখন মহাশ্বেতা দেবী সেখানে যুক্ত ছিলেন। আমি ছাররা সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছিলাম এবং তাদের অভিনয়ের ক্লাস করিয়েছিলাম। যার ফলস্বরূপ বুধন থিয়েটার গড়ে ওঠে। মহাশ্বেতা দেবী বুধনকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। দর্পণাতেই তারা প্রথম অভিনয় শুরু করে। সাহিত্য, বিশেষ করে নজরুলের লেখা আর গুরুদেবের গানের প্রতি আমাদের দুজনেরই ভালবাসা ছিল। আমার মধ্যে অনেকখানি বাঙালি রয়েছে, কারণ আম্মা সবসময় মনে করতেন যে শান্তিনিকেতনেই তিনি গড়ে উঠেছিলেন। গুরুদেবই ছিলেন তাঁর একমাত্র প্রকৃত গুরু। প্রথমদিকের কিছু গান যা শিখেছিলাম, সবই রবীন্দ্রসঙ্গীত। (গাইতে শুরু করলেন মধু গন্ধে ভরা…)
আরো পড়ুন নজরুলকে নিয়ে রহমানাতঙ্ক: বাঙালি সংস্কৃতি কারে কয়?
ছোটবেলায় শ্যামা আর অন্যান্য নাটকে অভিনয় করেছি। রবীন্দ্রনাথ আমার বেড়ে ওঠার একতা অংশ ছিলেন। মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে এই বিষয়ে অনেক কথা হত।

আপনি আদিবাসী সম্প্রদায়দের সঙ্গে অনেকটা সময় ধরে কাজ করছেন, যাদের এখনো ‘ক্রিমিনাল ট্রাইব’ হিসাবে দাগিয়ে দেওয়া হয়। যেমন আপনি ছাররাদের কথা উল্লেখ করলেন। আপনি কি মনে করেন গত কয়েক দশকে তাদের প্রতি অসম ব্যবহারে কোনো বদল ঘটেছে?
আমি ছাররাদের খুব কাছ থেকে চিনি। আমি মনে করি তাঁদের সম্পর্কে আমাদের পুরো ধারণা নির্মাণটাই ভুল। আমি শুনেছি যে এমনটা অন্যান্য শহরগুলোতেও ঘটে থাকে। তবে আমি নিজে জানি, আমেদাবাদে যদি কোনো অপরাধ ঘটে, তাহলে প্রথমে অভিযান চালানো হয় ছাররা নগরে। তবুও অনেক প্রতিভাবান আইনজীবী, চলচ্চিত্র নির্মাতা উঠে আসছেন তাঁদের মধ্যে থেকে। সম্ভবত কোভিডের ঠিক আগে, কোথাও একটা পুলিশের অভিযান হয়েছিল এবং কোথাও একটা চুরির ঘটনায়, পুলিশ এসে ছাররা নগরে আইনজীবীদের, বয়স্ক মহিলাদের মারধর করেছিল। গয়নাগাঁটি ছিনিয়ে নিয়েছিল। এসব ভিডিওতে ধরা আছে। সুতরাং খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
আপনি শিক্ষার প্রসারের জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আপনার কী মনে হয়? অতিমারীর সময়ে বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
সব স্কুলেরই ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কারণ যে পরিবারে শিশুরা প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া, তাদের পড়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মত কেউ নেই। আর প্রত্যেকটা সমীক্ষা আমাদের দেখিয়েছে যে কোনো কোনো দিক থেকে এটা সাহায্যও করেছে। কিছু জনহিতৈষী বুঝতে পেরেছিলেন যে শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য একটা অন্য ধরনের পদ্ধতি প্রয়োজন। তাই তাঁরা বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিলেন। বাচ্চাদের অন্যভাবে শেখানোর জন্য ট্যাবলেট বিতরণ করেছেন। তবে সামগ্রিকভাবে দেখলে ছবিটা খুবই নেতিবাচক।
সম্ভবত কোভিডের ঠিক আগে, কোথাও একটা পুলিশের অভিযান হয়েছিল এবং কোথাও একটা চুরির ঘটনায়, পুলিশ এসে ছাররা নগরে আইনজীবীদের, বয়স্ক মহিলাদের মারধর করেছিল। গয়নাগাঁটি ছিনিয়ে নিয়েছিল।
আমাদের দেশে মহিলাদের প্রতি হিংসার বিরুদ্ধে সমস্তরকম সক্রিয়তা এবং প্রতিবাদ সত্ত্বেও আমাদের সামনে হাথরাস কিংবা শবরীমালার মত উদাহরণ রয়েই যাচ্ছে। ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও সরকার হয় নীরব দর্শক, নয় সক্রিয়ভাবে মানুষের মুখ বন্ধ করছে। আমরা কোন দিকে চলেছি?
এটা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। আমাদের দেশ ঘৃণা, জিঘাংসা আর দারিদ্র্যে ভরে যাচ্ছে। এটা বলা খুব সহজ যে ভারতের বহু মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে যাচ্ছেন। কিন্তু তার পাঁচশো গুণ বেশি লোক পুলিসের হাতে রোজ মার খাচ্ছে। তাদের সারাক্ষণ ঘুষ দিতে হয়, তারা জানে না দিনের খাবারটুকু জোটাতে পারবে কিনা। তারা জানে না, তাদের সন্তানরা কোথাও যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসবে কিনা। তাদের খেয়াল না করে থাকা আমাদের পক্ষে খুব সহজ। কিন্তু মনে রাখবে, আমরা মধ্যবিত্তরা ভারতের একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ভারতের বৃহত্তর অংশ এখনো ক্ষুধার্ত, আতঙ্কিত এবং এই ধরনের অন্যায় ও অসম্মানের শিকার।
ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
এটা তো সবারই জানা (হাসলেন)। আমি মনে করি এটা বামপন্থী বা দক্ষিণপন্থী বা মধ্যপন্থীর প্রশ্ন নয়। আমার কাছে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতা শ্রেয়। চারদিকে একটা সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি একটা গলা কাটা পুঁজিবাদের চেয়ে শ্রেয়। যে সরকার আমাদের সংবিধানের আত্মার বিরুদ্ধে যায় আর আমাদের যে কোনো জিনিসের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে চায়, আমি সেই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবই।
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







