সম্প্রতি ইবোলা ভাইরাসের দাপটে খাবি খাচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের কঙ্গো এবং উগান্ডা। আপাতত অন্যান্য অঞ্চলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও, উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জুনের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন এই মহামারীর শুরুর দিকের তুলনায় কিছুটা আশাবাদী।
ইবোলা কী, কোথায়, কেন?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
ইবোলা হল Orthoebola ভাইরাস ঘটিত একটি সংক্রামক জটিল ব্যাধি যা মানুষ এবং তার স্তন্যপায়ী আত্মীয়দের (primate) মধ্যে দেখা যায়। শুরুতে অন্যান্য primate, ফলাহারী বাদুড়, সজারু ইত্যাদি থেকে এই রোগ মানুষের মধ্যে আসে। তারপর সংক্রমিত মানুষ (জীবিত অথবা মৃত) থেকে অন্য মানুষে এই অসুখ ছড়িয়ে পড়ে রক্ত, অন্যান্য দেহজ তরল, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং সংক্রমিত স্থান ও বস্তুর (যেমন বিছানা, জামাকাপড়) সরাসরি সান্নিধ্যে। ত্বক অথবা শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির কোনো কাটাছেঁড়া থাকলে এই সম্ভাবনা বেশি। বিরল ক্ষেত্রে যৌনতার মাধ্যমেও সংক্রমিত হতে দেখা গেছে। রোগীর শুশ্রূষা এবং রোগীর মৃতদেহের সৎকার থেকেও এই রোগের সংক্রমণ সম্ভব। রোগের লক্ষণ বলতে জ্বর, অতি দুর্বলতা, পেশীতে ব্যথা, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, বমি, উদরাময় (diarrhea), শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি। রোগের লক্ষণ প্রকট হওয়ার পর থেকে যতদিন রক্তে ভাইরাস উপস্থিত, ততদিন সংক্রমণ সম্ভব। গড়পড়তা মৃত্যুর হার ৪০%, তবে ২৫-৯০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যু হতে পারে। অর্থাৎ ২/৩ জন ইবোলা রোগীর মধ্যে একজন মারা যান। বলা বাহুল্য, এই হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এই প্রসঙ্গে খেয়াল রাখা ভালো যে কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে কিন্তু মৃত্যুহার ১%। দু-একটা Monoclonal Antibody ইবোলার চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত হলেও, প্রধান ভরসা সহায়ক চিকিৎসা (supportive treatment)।
অনেক অসুখই ভাইরাসজনিত, কিন্তু ইবোলা কেন এত মারাত্মক? উত্তর দিতে হলে ইবোলা শরীরে প্রবেশ করার পরবর্তী প্রক্রিয়া একটু আলোচনা করা সমীচীন। শরীরে প্রবেশ করার পর ইবোলা সরাসরি আক্রমণ করে আমাদের রোগপ্রতিরোধকারী কোষগুলোকে (immune cells) এবং তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বিকল করে দেয়। কাজেই এই ভাইরাস অনায়াসে জাঁকিয়ে বসার সুযোগ পেয়ে যায়। প্রথমে লসিকা গ্রন্থি, তারপর প্লীহা, যকৃৎ ও বৃক্কে ভাইরাসের সংখ্যা বাড়ে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি হয়। কিন্তু এখানেই গণ্ডগোলের শেষ নয়, ক্রমশ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা টের পায় যে কিছু একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার চলছে। তার প্রতিক্রিয়ায় অত্যন্ত শক্তিশালী প্রত্যুত্তর দেবার কাজে সচেষ্ট হয়। কিন্তু এই বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া কাজের থেকে বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলে। শরীরে শুরু হয় রোগ প্রতিরোধের পদক্ষেপের নামে তাণ্ডব, যাকে বলা যায় ‘cytokine ঝড়’। Cytokine হল রোগের বিরুদ্ধে প্রদাহকারী (inflammatory) প্রোটিন যা রোগের জীবাণুর মোকাবিলার অস্ত্র, কিন্তু তার সৃষ্ট প্রদাহ শরীরেরই প্রভূত ক্ষতি করতে পারে। একে ইবোলা মোকাবিলার ‘collateral damage’ বলা যেতে পারে। শত্রুর মোকাবিলায় নির্বিচার বোমাবর্ষণ যেমন সাধারণ মানুষ মারে, খানিকটা সেরকম। শরীরের ক্ষেত্রে এই ধ্বংসযজ্ঞের পরিণাম একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া। বমি এবং পাতলা পায়খানার দাপটে প্রচুর, তরল বেরিয়ে যায় (প্রতিদিন ২.৫ গ্যালনের বেশি)। ইবোলা থেকে যত মৃত্যু হয়, তার একটা বড় কারণ এই তরল বেরিয়ে যাওয়া। তবে উপযুক্ত সহায়ক চিকিৎসাব্যবস্থা মজুত থাকলে এই মৃত্যু অনিবার্য নয়। নির্গত তরলকে প্রতিস্থাপিত করা, রক্তচাপ বজায় রাখা এবং অন্যান্য সংক্রমণের চিকিৎসা করলে রোগীকে ততদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব, যতদিন না তার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে এবং ইবোলা দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছে।
দুঃখের বিষয়, এই সহায়ক চিকিৎসা বহু ক্ষেত্রে পাওয়া দুষ্কর। চিকিৎসাব্যবস্থার অসাম্য এখানে অভাবনীয় পরিণামের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্রেগ স্পেন্সার একজন মার্কিন চিকিৎসক, যিনি অতীতে গিনির মহামারীর সময়ে সেখানে কাজ করেছেন, নিজেও ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, গিনিতে তিনি একসঙ্গে ৩০-৪০ জন রোগীর চিকিৎসা করছিলেন। এদিকে নিউ ইয়র্কের বেলে ভিউতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর ওঁর নিজের উপর নজর রাখার জন্য, ৩০-৪০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাওয়া যেত। সেই চিকিৎসকরা শীততাপনিয়ন্ত্রিত কামরায় কাজ করার ফলে সুরক্ষা পোশাক পরে দরদর করে ঘামতেন না। সর্বাধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও প্রযুক্তি তাঁদের নাগালে ছিল। স্পেন্সার নিজে চিকিৎসক, ফলে বলা যেতেই পারে যে সাধারণ আমেরিকান এত সেবা পাবেন না। সেকথা ঠিক। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করতে গিয়ে বিপন্ন হলে যদি উপযুক্ত মানের চিকিৎসা পান, তাহলে রোগীর দেখাশোনায় মনোযোগ দেওয়া যে সহজ হয় তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া ধনী দেশের বহু সাধারণ মানুষও আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষের থেকে উন্নত চিকিৎসা লাভ করবেন। স্পেন্সারের মতে, এক দশক আগের অবস্থার থেকে আজ সেখানকার চিকিৎসাব্যবস্থার মান উন্নততর হওয়া উচিত। কিন্তু হয়েছে কি?
তিন প্রজাতির Orthoebola ভাইরাস এই রোগের কারণ হতে পারে: ইবোলা ভাইরাস, সুদান ভাইরাস এবং বুন্ডিবুগিও (Bundibugyo) ভাইরাস। এদের মধ্যে একমাত্র ইবোলা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে, বাকি দুই প্রজাতির আপাতত কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। যতদূর জানা যায়, ইবোলা অসুখটা প্রথম মানুষের নজরে ১৯৭৬ সালে, যখন সুদান ভাইরাসঘটিত ইবোলা দেখা যায় অধুনা দক্ষিণ সুদানের এনজারাতে। ইবোলা ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ প্রথম দেখা যায় অধুনা কঙ্গোর ইয়াম্বুকুতে, ইবোলা নামক নদীর পার্শ্ববর্তী গ্রামে। সেই থেকেই এই নামকরণ। যদিও ইবোলার আক্রমণ উদ্বেগজনক, সময়মত সহযোগী চিকিৎসা, যেমন শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জলের অভাব পূরণ করলে মৃত্যুর হার অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ইবোলা ভাইরাসই তিন প্রজাতির মধ্যে সবথেকে মারাত্মক বলে মনে করা হয়। এতে ঠিকঠাক চিকিৎসা না হলে মৃত্যুর হার ৯০% অবধি হতে পারে। পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪-১৬ সালের মহামারী, যা ইবোলা অসুখে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ছিল, এবং ২০১৮-২০ সালের কঙ্গোর (উগান্ডাতেও কিছুটা ছড়িয়েছিল) মহামারীর জন্য দায়ী এই ইবোলা প্রজাতি। অন্যদিকে সুদান ভাইরাস, যা প্রতি দুজন আক্রান্তের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, বেশ কিছু মহামারী ঘটিয়েছে উগান্ডায় এবং দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গোর মাঝের সীমান্তে। বুন্ডিবুগিও ভাইরাস সবশেষে আবিষ্কৃত, এবং শতকরা ৩০ জনের জীবনহানি ঘটাতে সক্ষম। এখন যে মহামারী চলছে, তার কারণ এই প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসই। এর মোকাবিলার জন্য সম্ভাবনাময় কিছু টিকা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চললেও এখনো ক্লিনিকাল ট্রায়াল হয়নি।
আরো পড়ুন আমেরিকা: করোনা ইন্ধন পেয়েছে ভ্যাকসিনবিরোধিতায়
যদিও গত মাসে এই মহামারী চিহ্নিত হয়েছে, আশঙ্কা করা হচ্ছে যে এর সূত্রপাত হয়েছে অনেক আগে। প্রধানত কঙ্গোকে পর্যুদস্ত করার সঙ্গে সঙ্গে এর কিছুটা প্রকোপ উগান্ডাতেও পড়ছে। ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই মহামারীকে আন্তর্জাতিক স্তরে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা বলে ঘোষণা করে। এই জরুরি অবস্থার সংজ্ঞা হল ‘এমন একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা যা অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে এবং যাকে দমনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আবশ্যিক।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলে যে এই মহামারী এখনও অতিমারীর পর্যায়ে পৌঁছয়নি।
ইবোলা রোগীর সংখ্যা সঠিক জানা দুষ্কর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে যে সম্ভাব্য ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা আগে যা বলা হচ্ছিল তার থেকে হয়ত অনেকটাই কম। তার কারণ এটা নিশ্চিত করা গেছে যে যাঁদের ইবোলা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তাঁরা অনেকেই ইবোলায় আক্রান্ত নন। অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন যে প্রকৃত সংখ্যার থেকে অনেক কম সরকারিভাবে ধরা পড়ছে, কারণ অনেকেই চিকিৎসা করাতে অক্ষম অথবা অনিচ্ছুক। এও সম্ভব যে এই সংক্রমণ নজরে আসার বেশ কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস, আগে থেকেই চলছিল। এই রোগের বেশকিছু লক্ষণ ওই অঞ্চলে প্রায়ই হয় এমন রোগ, অর্থাৎ ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডের মত। ফলে অনেক চিকিৎসক প্রথমেই ইবোলা বলে সন্দেহ করবেন না। পাশাপাশি রোগনির্ণয় ব্যবস্থার অপ্রতুলতাও অন্যতম সমস্যা। ৪ জুনের খবর অনুযায়ী, কঙ্গোয় এই মহামারীতে ৩৪৪ জন ইবোলা আক্রান্ত এবং ৬০ জন মৃত। পার্শ্ববর্তী উগান্ডায় নজন ইবোলায় আক্রান্ত এবং একজন মৃত।
এই মহামারীর কেন্দ্রবিন্দু হল কঙ্গোর পূর্বদিকের ইতুরি প্রদেশের দারিদ্র্যক্লিষ্ট শহর মংবোয়ালু। ওই এলাকার অর্থনীতি সোনার খনির উপর নির্ভরশীল এবং সেখানে প্রচুর প্রবাসী শ্রমিক। সেখানকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললে কম বলা হয়। ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্সের ক্রান্তীয় রোগ বিশেষজ্ঞ এস্থার স্টার্ক জানাচ্ছেন যে সংক্রমণ মোয়াংবুলুর সর্বত্র। হাসপাতালে আগত রোগী সম্ভবত মোট রোগীর তুলনায় খুবই কম। কর্তৃপক্ষের প্রতি জনগণের তীব্র অবিশ্বাস অবস্থাকে যারপরনাই জটিল করে তুলেছে এবং মহামারী মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। বিশেষত জনবসতির মধ্যে গিয়ে রোগনির্ণয়, সংস্পর্শ শনাক্তকরণ (contact tracing) প্রভৃতি আবশ্যিক কাজকর্ম জনসংযোগের উপর নির্ভরশীল। ক্ষুব্ধ জনতা মংবোয়ালুর একমাত্র হাসপাতাল আক্রমণ করে ভাঙচুর করেছে, একটা বিচ্ছিন্ন রাখার তাঁবু (isolation tent) পুড়িয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃতদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব এর অন্যতম কারণ। হাসপাতালের অধিকর্তা ডক্টর রিচার্ড লোকুডি জানিয়েছেন, অনেকেই বিশ্বাস করতে নারাজ যে ইবোলা রোগ সত্যিই হয়, এটা গুজব নয়। মানলেও মনে করে, একে অলৌকিক প্রক্রিয়ায় দূর করা সম্ভব। অনেকে আশাবাদী যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিশ্বাস কিছুটা দুর্বল হবে।
খেয়াল রাখতে হবে, এই মহামারী হাজির হয়েছে এমন একটা জায়গায়, যা তীব্র দারিদ্র্য এবং দশকের পর দশক ধরে চলা হিংসাত্মক সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহের কারণে নাভিশ্বাস ফেলছে। যাতায়াতের বিধিনিষেধ সতর্কতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে মহামারী নিরসনের পরিপন্থীও। ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতে সম্ভবত শত শত ইবোলা রোগী রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা স্বল্প পরিসরে চলছে, প্রয়োজনের তুলনায় যা নিতান্ত অল্প। অনেকেই মনে করছেন, এখনকার মার্কিন সরকারের ‘শুধু আমেরিকা’ মনোভাব এবং পরিকল্পিতভাবে USAID-কে শেষ করা এরকম মারণ রোগ মোকাবিলার ক্ষতি করছে। মনে হতেই পারে, আমেরিকা কি ত্রাতা? আর কেউ নেই? সে প্রসঙ্গে পরে আসব। ৪ জুনের খবর অনুযায়ী, কঙ্গোর ইবোলা কবলিত কিছু অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী হামলায় গত কয়েকদিনে ৩০ জন মৃত, যা ইবোলা মোকাবিলাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পরবর্তী অংশ আগামীকাল
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








