জয়দীপ সরকার

একজন চিকিৎসককে তাঁর কর্মস্থলেই ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনার পর আমরা সবাই ন্যায়বিচার চাইছি। কিন্তু কার বা কাদের কাছে চাইছি তা ভাবতে হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথা, কাজকর্ম এবং অপরাধীদের পাশে নিয়ে চলার রাজনীতির জন্য আমাদের আস্থা হারিয়েছেন। গোটা রাজ্যে নৈরাজ্য কায়েম হওয়ার ফলে মহিলারা শুধু নন, সাধারণ মানুষও সুরক্ষিত নয়। এই অসহায় অবস্থায় অত্যাচারী শাষকের বিরুদ্ধে গণ আদালত বসবে রাজ্যের নানা প্রান্তে, সেখানে মানুষ বিচার করবে অপরাধের নির্যাতনের।

কলকাতায় শুক্রবার গভীর রাত থেকে গণ আদালত শুরু হল। সেখানে বিচার না পাওয়া নির্যাতন, ধর্ষণের মামলার অভিযোগকারী, সাজানো মামলার অভিযুক্ত – সকলে যোগ দিয়েছিলেন। সেভ ডেমোক্রেসি সংগঠনের অম্বিকেশ মহাপাত্র, অভিনেতা চন্দন সেন, দেবদূত ঘোষ, ধর্ষণের বিরোধিতা করায় খুন হওয়া শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমিলা রায়, কামদুনি আন্দোলনের টুম্পা কয়াল সহ অসংখ্য প্রতিবাদী মুখ।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

টুম্পা বলেন ‘কামদুনিতে গনধর্ষণ করে খুন করার পর মৃতার দেহ চিরে দু টুকরো করেছিল দুষ্কৃতীরা। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামীরা এখন আদালত থেকে নিজেদের মুক্ত করে প্রকাশ্যে ঘুরছে, আন্দোলনকারীদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলে মাওবাদী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। যে গুন্ডারাজ পশ্চিমবাংলায় কায়েম করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাতে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য ভয় পাচ্ছি। কামদুনির গণধর্ষন, হত্যার ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পুলিস অফিসার এই বিনীত গোয়েল। আর সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের আইনজীবী ছিলেন এই কপিল সিব্বাল, ফলে আর জি করের ঘটনাতেও ন্যায়বিচার পাওয়া বড় কঠিন।একটা রাজনৈতিক চক্র সব চাপা দিতে মরিয়া। আজকেও কামদুনির মৃতার ভাই এই গণ আদালতে যখন আসছিল, পুলিস তাকে আটক করে রাখে।’

আরো পড়ুন মোগাদিসু থেকে মণিপুর: নারীর শরীর যখন যুদ্ধক্ষেত্র

অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র বলেন ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি, আমার পছন্দের রাজনৈতিক মতবাদে বিশ্বাস করি। এটা কি অপরাধ? আমাকে ২০১১ এবং ২০১৫ সালে দুটো সাজানো মামলায় সরকার কখনো জেলে রেখেছে, কখনো নানাভাবে হেনস্থা করেছে। কিন্তু আমি হারব না। রাজ্যের আক্রান্ত মানুষদের নিয়েই জোট গড়ে এই রাজনৈতিক অপরাধের বিরোধিতা করে যাব।’

ক্রমাগত নারী নির্যাতন, ধর্ষণ চলছিল সুটিয়া এলাকায়। সেখানে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোয় খুন হতে হয় শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে। তাঁর দিদি গণ আদালতে বললেন, ‘অপরাধীরা এখনো ভয় দেখাচ্ছে। খুন করবে বলছে। কিন্তু কতবার খুন হব? একবারের বেশি তো নয়। আইনজীবীদের ভরসায় লড়ে চলেছি এখনো। আর জি করের ঘটনা রাজ্যের শাসক দলের মুখোশ খুলে দিয়েছে।’

গণ আদালত চলতে চলতে নাটকের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া এবং একের পর এক ফ্ল্যাশ মব করে মানুষের প্রতিবাদকে একত্র করার চেষ্টা করে গেলেন পড়ুয়া, শিল্পী, কলাকুশলীরা। ঘোষণা করলেন, গোটা রাজ্যে গণ আদালত হবে। আক্রান্ত, অত্যাচারিত, সাজানো মামলায় ফাঁসানো সব মানুষই থাকবেন সেখানে।

এদিন শিক্ষকতার চাকরি বেচার প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিস যাঁর হাতে কামড়ে দিয়েছিল, সেই মহিলা চাকরিপ্রার্থী বলেন ‘পশ্চিমবাংলায় যে কোনো সভ্য সরকার চলছে না, এটা বাইরের মানুষ কল্পনা করতে পারবেন না। তাই প্রতিবাদ চালাতেই হবে। যখন সরকার গড়িমসি করে, অপরাধীদের সাজা দিতে তখন মানুষকেই পথে নামতে হবে।’

এই প্রতিবেদন দ্য ওয়্যার ওয়েবসাইটের সহযোগিতায় প্রকাশিত। প্রতিবেদক স্বাধীন সাংবাদিক।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.