কিছুদিন আগে এক বন্ধু অদ্ভুত একটা চ্যালেঞ্জ করল। পুলিসের মুখ না দেখে নাকি একটা গোটা দিন কাটানো যাবে না। যেদিকে তাকাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পুলিসের চিহ্ন তোমার চোখে পড়বেই! মনে মনে ভাবলাম, বন্ধুটি চ্যালেঞ্জ করার সময় একটা বড় ভুল করে ফেলেছে। বাড়ি থেকে বেরোতেই হবে – এমনটা বলেনি। নিজেকে একেবারে মোল্লা নাসিরুদ্দিনের মত তুখোড় মনে হল। বাড়িতে বসে প্রায় গোটা দিন কাটিয়ে দিলাম। পুলিস, অপুলিস কেউ কোত্থাও নেই। চ্যালেঞ্জ জিতে গেছি ভেবে সন্ধের দিকে একটু ওয়েব সিরিজ দেখব বলে নেটফ্লিক্স খুলে বসলাম। একটা নর্ডিক নয়্যারে ডুবে গেলাম। অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত থ্রিলার সিরিজ। হঠাৎ খটকা লাগল। এ তো পুলিস প্রসিডিওরাল ড্রামা দেখছি। মানে সেই পুলিসের মুখ দেখেই ফেললাম!
বন্ধু চ্যালেঞ্জটা জিতেই গেল। পুলিস সর্বত্র বিরাজমান। বাস্তবে কোনোভাবে এড়িয়ে চললেও ফিকশনের মধ্যে দিয়ে আমাদের মাথায় জায়গা করে নেবে। আর ওয়েব সিরিজে তো পুলিসি আর আইনি ড্রামা বেশ জনপ্রিয় ধারা। হাল আমলের হিন্দি সিরিজগুলোর দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট। যদিও পশ্চিমী টিভি দুনিয়ায় প্রসিডিওরাল ড্রামা নতুন কিছু নয়। এগুলোকে ক্রাইম ফিকশনের উপধারা ধরা হয়ে থাকে, যার মধ্যে লিগাল প্রসিডিওরাল এবং পুলিস প্রসিডিওরাল – দুটোই আছে। আমেরিকায় পাঁচের দশক থেকেই এ বিষয় নিয়ে সাহিত্যে ও সিনেমায় কাজ শুরু হয়েছে। আইন তথা আইনের রক্ষক পুলিস এবং তারও উপরে আদালত – এই যে রাষ্ট্র কাঠামোর দুই স্তম্ভ, তাদের কার্যকলাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ হদিস দেওয়া হয় এইসব সিরিজে। তাতে ব্যবস্থার ভৃত্য কর্মচারীদের ব্যক্তিগত জীবনচর্যা আর পুলিসি কাজকর্ম – দুটোই উঠে আসে। কানুনি প্রসিডিওরাল নিয়ে ক্রিমিনাল জাস্টিস, গিলটি মাইন্ডস, ইয়োর অনার, দ্য ভারডিক্ট ইত্যাদি বেশকিছু ভাল কাজ হিন্দিতে হয়েছে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

তবে কিনা আইন বা বিচারবিভাগ অতি সূক্ষ্ম বিষয়। চুলচেরা বিচারে অনেক কিছুই এদিক থেকে ওদিক করে নেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আইনের দেবীর অন্ধত্বকে সম্বল করে রূঢ় নিরপেক্ষতার নামে মানবিক নীতিবোধ সহজেই জলাঞ্জলি দেওয়া যায়। আবার ঠিক উল্টোটাও করা যায়। মানবদরদী আইনজীবী আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে চাইলে স্বাভাবিক ন্যায়ের জন্য লড়ে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি জিতুন বা হারুন, ব্যবস্থার গলদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
কিন্তু পুলিসের পক্ষে সেই রাস্তায় হাঁটা বেশি কঠিন। পুলিসের কাজ অপরাধীকে ধরা। তার অভিধানে অপরাধী কে? দণ্ডবিধি (আমাদের ক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধি) অনুযায়ী যে বা যারা আইন বহির্ভূত কাজ করেছে বলে পুলিসের সন্দেহ হবে, তাকে বা তাদের ধরে আগে জেলে পোরাই পুলিসের কাজ। অভিযুক্ত সত্যিই অপরাধ করেছে কি করেনি তার বিচার করবে আদালত। এক্ষেত্রে পুলিসের পেশার একমুখিনতা একজন পুলিসকর্মীকে আচ্ছন্ন রাখতে বাধ্য। পুলিস স্বয়ং এই ব্যবস্থার মধ্যে অসহায় বোধ করতে পারে, তার সিনিয়রের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করতে পারে। কিন্তু চাকরিজীবনে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেতে পারে না। যথার্থ বিরোধিতা করতে হলে তাকে চাকরি ছাড়তে হবে। কিন্তু তেমন হলে তো সে আর পুলিস থাকছে না, বিক্ষুব্ধ পুলিস হয়ে যাচ্ছে এবং শেষপর্যন্ত সে পুলিসি ব্যবস্থা তথা রাষ্ট্রের বিরোধিতা করছে। এরকম পুলিস আমরা গোবিন্দ নিহালনির অর্ধসত্য ছবিতে দেখেছি। তবে সেটা প্রসিডিওরাল ফিকশন নয়, এক পুলিসের আখ্যান যা পুলিসি চর্যার বয়ানের পথে হেঁটেছে। এখানে আমরা পুলিস প্রসিডিওর, অর্থাৎ তদন্ত পদ্ধতির কাহিনিগুলো নিয়ে আলোচনা করব। কারণ ওই যে একটু আগেই বললাম – আইনের দেওয়ালে তবু ফাটল আছে। সেখান দিয়ে অল্প হলেও আলো হাওয়া ঢোকে। পুলিসের সেটুকু দম ফেলার উপায়ও নেই। তাই সে যখন রোজ সকালে কর্তব্যস্নাত হয়ে খাকি ইউনিফর্ম পরছে, তখন তাকে জনগণের সমবেদনা নিজের দিকে টানতে এক জটিল বয়ান তৈরি করতে হচ্ছে। এখানে সেই বয়ানের নিরিখে কয়েকটা জনপ্রিয় সিরিজ নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করব। গত কয়েক বছরে পুলিস প্রসিডিওর নিয়ে বেশ কয়েকটা ভাল মানের হিন্দি সিরিজ হয়েছে। কোহরা, দহাড়, কালকূট আর একটু পুরনো ডেলহি ক্রাইম কিংবা পাতাললোক এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সঙ্গে বাংলার ছোটলোক সিরিজটার কথাও না বললেই নয়।
সবকটাই রীতিমত নিপুণভাবে বানানো। এগুলোর মধ্যে প্রথমেই নাম করতে হয় পাতাললোকের। মনে আছে, প্রথম লকডাউনের সময়ে বাড়িতে বসে দেখেছিলাম। একজন নামজাদা সাংবাদিককে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করেছে চারজন আততায়ী। তাদের ধরতে পুলিস হাতিরামের জীবন উলটপালট হয়ে যায়। আক্ষরিক অর্থেই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে পাতাললোক থেকে কেউটে বেরিয়ে পড়ে।
এরপরেই কোহরা – আমার মতে সবচেয়ে চমকপ্রদ কাজগুলোর অন্যতম। দেখলাম এবছরই। পাঞ্জাবের গ্রামে শীতের কুয়াশা, অর্থাৎ হিন্দিতে কোহরা। কখনো দুর্ভেদ্য আবার কখনো মনে হচ্ছে যেন দেখা যাচ্ছে, এহেন রহস্য। একটি মাত্র খুন, তাকে তাড়া করে চলে দুজন পুলিস অফিসার, বয়স্ক বলবীর আর যুবক গারুন্ডি। পাঞ্জাবের ছোট শহরের পিতৃতন্ত্রের সামনে অসহায় দুই পুরুষ। পিছিয়ে থাকা সমাজের সকল চিহ্ন নিয়ে খুনির হদিস খুঁজতে গিয়ে কত কী বের করে ফেললো তারা – ব্যক্তি থেকে পরিবার থেকে সমাজ।

এখানে রহস্য উন্মোচন করা উদ্দেশ্য নয়, তাই পরের সিরিজে যাওয়া যাক। দহাড় এক দলিত মহিলা পুলিসের আখ্যান। অঞ্জলি ভাটি সবসময় পুরুষদের সঙ্গে টক্কর দিতে প্রস্তুত। সে ক্যারাটে জানে, স্কুটি চালিয়ে পুরুষ সহকর্মীকে লিফট দেয়, তদন্তের স্বার্থে রাতের পর রাত বাড়ি ফেরে না, নিজের প্রয়োজন মত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় আবার খুশি মনে সম্পর্ক থেকে বেরিয়েও আসে। তবে তার চেয়েও বড় কথা হল, বেশ পুরুষালি কায়দায় কর্মক্ষেত্রে মেজাজ হারিয়ে ফেলে নিজের ঊর্ধ্বতন অফিসারদের উপরেও চোটপাট করে। অতএব অঞ্জলির ভূমিকায় লাস্যময়ী সোনাক্ষী সিনহার এইসব হাবভাব দেখে দর্শকের মনে নিশ্চিন্দি আসবে, যে এ মেয়ে পুলিস হতে পারবে।

ঠিক যেমন হবে তিন-চার বছরের পুরনো ডেলহি ক্রাইমের বর্তিকা চতুর্বেদীকে দেখে। তিনি আরও উচ্চপদস্থ – এসিপি ক্রাইম, দিল্লি। একদিকে মা, আরেকদিকে পুরুষ পুলিসদের বস।
আরো পড়ুন দহাড়: চিৎকার কর মেয়ে, দেখ কতদূর গলা যায়
অঞ্জলি ভাটি আর বর্তিকা চতুর্বেদীর মত উত্তর ভারতীয় হিন্দিভাষীদের মাঝখানে নিজ মহিমায় জায়গা করে নিতে পারে আমাদের পাশের পাড়ার সাবিত্রী মন্ডল। সদ্য দেখেছি বাংলা ওয়েব সিরিজ ছোটলোক। সেখানে সাব ইন্সপেক্টর সাবিত্রী দুই সন্তানের মা। নিতান্ত মধ্যবিত্ত পরিবার, স্বামী ওষুধের দোকান চালায়। চাইলে ফিশারিজের চাকরি করে নির্বিঘ্নে সংসার জীবন চালাতে পারত। কিন্তু পুলিসের ইউনিফর্মে থাকলে অসভ্য, বেঁড়ে পাকা, নচ্ছার পুরুষ অপরাধীদের নির্দ্বিধায় ‘ক্যালানো যায়’, তাই…। তাছাড়া আমলাতন্ত্রের এত গোলমালের মধ্যেও সাবিত্রী তার মধ্যবিত্তসুলভ মূল্যবোধের তাড়নায় এখনো ঠিক-বেঠিক গুলিয়ে ফেলেনি। অঞ্জলি, বর্তিকা কিংবা সাবিত্রীদের দেখতে দেখতে এদের প্রতি ভাল লাগা তৈরি হবে। আর তখনই নিজেদের অজান্তে পুলিসি রাষ্ট্র ও তার একনিষ্ঠতার প্রতিও আনুগত্য তৈরি হতে থাকবে মাথার ভিতরে।

না হলে চলবে কেন? একবছরের মধ্যে এতগুলো পুলিসি তদন্তের সিরিজ এসেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোয়। ছোটলোক সিরিজের পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীকে প্রশ্ন করেছিলাম, নিজের প্রথম ওয়েব সিরিজ হিসাবে পুলিস প্রসিডিওরাল ধারা বেছে নিলেন কেন? উনি কিছু বাস্তব সুবিধা-অসুবিধার কথা জানালেন। এক তো ওয়েব সিরিজের দর্শক অত্যন্ত থ্রিলারপ্রেমী। দুই, আধুনিক জটিল তদন্ত বাস্তবসম্মতভাবে দেখাতে গেলে তার গল্প পুলিস বা রাষ্ট্রের ব্যবস্থাগত সুবিধাগুলো ছাড়া এগোতে পারে না। চট করে ফোন ট্যাপ করা, মোবাইল সিগনাল অনুসরণ করে অপরাধীকে খুঁজে বের করা, হুট করে একটা শপিং মলের সিসিটিভি ফুটেজ হাতের নাগালে পাওয়া – এসব একজন প্রাইভেট গোয়েন্দার দ্বারা করা সম্ভব নয়। ভেবে দেখলাম, একদম ঠিক। সর্বশক্তিমান পুলিস যা পারে, তা বাঙালির সাধের ফেলুদা-ব্যোমকেশের পক্ষে সত্যিই সম্ভব নয়।
যা-ই হোক, এই আলোচনায় আমি শেষ উল্লেখ করব কালকূট নামের সিরিজটির কথা। এর শুরুতেই কেন্দ্রীয় চরিত্র চিঠি পাঠাচ্ছে তার বসকে, যে এই পুলিসের চাকরি তার পোষাচ্ছে না। প্রতিদিন অফিস যাবার আগে তার বিরক্তির শেষ নেই। বেচারি ইউপিএসসির পরীক্ষার ফলে নিরুপায় হয়ে পুলিস হয়েছে। এই একটিমাত্র চাকরিই তার জুটেছে। তার ডিএনএতে পুলিসের আদবকায়দা একেবারেই নেই।
কিন্তু ওই চিঠি লেখার পর একটা অ্যাসিড আক্রমণের কেস আসছে। তার অপরাধী খুঁজতে গিয়ে সে নিজেকে প্রায় হারিয়ে ফেলছে। হয়ে উঠছে কর্তব্যপরায়ণ পুলিস অফিসার। শুধু তাই নয়, তার অধস্তন ও ঊর্ধ্বতন অফিসারদের ভিতরের কঠিন পুরুষতন্ত্রকে প্রশ্ন করে নিজের মধ্যে সেই ভুলগুলো সংশোধনের রাস্তাও খুঁজছে। একটা মেয়ের উপর অ্যাসিড ছোড়ার পিছনে থাকে পুরুষের অধিকারবোধ, আগ্রাসন আর হিংসা। তার বিরুদ্ধে আরেকজন পুরুষ নিজের ভিতরের সুপ্ত আগ্রাসনকে প্রশ্ন করতে করতে লড়াই করছে এবং অপরাধীকে ধরে ফেলছে।
ভাল কথা। এই যে ছটা সিরিজের উল্লেখ করলাম, এগুলো কিন্তু সবদিক থেকেই ভারতীয় সমাজের স্টিরিওটাইপকে প্রশ্ন করে। অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সমাজের বহুস্তরীয় বিভাজনগুলোকে তুলে ধরে। জাত, লিঙ্গ, জাতিসত্তার পরিচিতি, পিতৃতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র, এমনকি শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্যও নানা ছোটখাটো ঘটনা ও গল্পের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে আসে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়ত বিরক্ত লাগে, কারণ মনে হয় সব খোপে টিক দেওয়ার চেষ্টা করছে বা অযথা রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকার জন্য মরিয়া। কিন্তু বহুবছর ধরে না বলা কথাগুলো, যেভাবেই হোক, বলা তো দরকার। এইসব সিরিজ আখ্যানের মোড়কে তা করছে। আরও একটা দিক হল, এই ছটা সিরিজের মধ্যে দহাড় আর কালকূট বাদ দিলে বাকিগুলোর পরিণতিতে যারা অপরাধী হিসাবে ধরা পড়ছে তাদের আমরা স্রেফ আঙুল তুলে দোষী বলে দাগিয়ে দিতে পারব না। এই ফিকশনগুলোতে ঘটনাপ্রবাহ এমন সব বাস্তবের মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করাতে পেরেছে, যে অপরাধীদের দিকে তাকালে নিজেদেরই দোষী মনে হবে। তাই এই সিরিজগুলোর অবশ্যই সাধুবাদ প্রাপ্য। আর তাই পুলিসি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা এদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এরা এক অর্থে গণতন্ত্রের পরিধিকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার উপায় বাতলাচ্ছে। সেজন্য রাষ্ট্রের ভাল দিকটায় আলো ফেলে উত্তর-আধুনিক পরবর্তী (বলা যায় মেটা-আধুনিক) এক বয়ান তৈরি করতে হবে, যা ব্যষ্টি ও সমষ্টির মাঝে দোদুল্যমান। আর তাই এহেন পেন্ডুলাম বয়ান তৈরি করতে গিয়ে তারা রাষ্ট্রের কাছে বাধ্য থাকছে, নিয়মনিষ্ঠ থাকছে। মেরুদণ্ড সোজা রাখতে গিয়ে একরকম ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। তারপর আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছে।
এসব দেখে বেশ কয়েকবছর আগের কলকাতা মনে পড়ে যায়। ২০১৬ সালের ভরা ভাদর। লেট মিলেনিয়ালদের প্রজন্মে কলকাতার সবচেয়ে জমজমাট ছাত্র বিক্ষোভ – হোক কলরব। সেই আন্দোলনে স্লোগান উঠেছিল, “পুলিস তুমি দুষ্টু লোক/তোমার মাথায় উকুন হোক।” কলকাতা পুলিস সেবছর থিমপুজোর অসুর হবার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছিল বলা যায়। নেহাত পুজো কমিটিগুলো তৃণমূলের ন্যাওটা, তাই…। এছাড়া তুষার রায়ের সেই বিখ্যাত লাইন তো এখনো পুলিসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গেলে বাঙালি জনতার মুখে মুখে ফেরে “পুলিস, ওরে পুলিস/কবির সামনে আসার আগে টুপিটা তোর খুলিস।” ফলে বোঝাই যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ আঁতেল শিরদাঁড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন বাঙালি, পুলিস নামক রাষ্ট্রের হাতিয়ারকে মোটেই ভাল চোখে দেখে না। তবে আরও একটু পিছিয়ে গিয়ে পিয়ের পাওলো পাসোলিনি আর রোমের ছাত্র আন্দোলনের ঘটনাও মাথায় রাখা দরকার। সেখানে বারবার পুলিস দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়া সত্ত্বেও রোমের ভ্যালে জিউলিয়াতে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনে পাসোলিনি উচ্চারণ করেছিলেন “When yesterday at Valle Giulia you fought/with policemen,/I sympathized with the policemen!/Because policemen are the children of the poor”। পুলিস নামক প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিরোধিতা সত্ত্বেও পুলিসকর্মীর শ্রেণি অবস্থানের অসহায়তার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এই বিচিত্র ভারতভূমে এইসব জটিল অধিগমনের দিকে তাকিয়ে নিজেরা কোন অবস্থানে থিতু হব তা গভীরে গিয়ে ভাবা দরকার।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








