২০১৬ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি – এমনিতে মনে রাখার মত কোনো দিন নয়। সেভাবে মনেও নেই অধিকাংশ মানুষের। না, দুনিয়া পাল্টে দেবার মত কিছু ঘটেনি। স্রেফ একটি ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলে একটি এক ঘন্টার অনুষ্ঠান হয়েছিল। অনুষ্ঠান বলছি, কারণ খবরের প্রথাগত সংজ্ঞায় একে ঠিক খবর বলা যাবে না। ‘ওপিনিয়ন পিস’ বা মতামত বলা চলে, তবে সেদিক থেকে দেখলে গত দশকে প্রথাগত খবর খুব কমই দেখা গেছে মূলধারার সংবাদ চ্যানেলে, বিশেষ করে প্রাইম টাইমে। সবই ওই ওপিনিয়ন পিস। অর্থাৎ একজন সঞ্চালক বা অ্যাঙ্কর, বিভিন্ন সংবাদ শিরোনামযোগ্য বিষয়ে তাঁর মতামত দেন। কিছু অতিথি থাকেন, কিন্তু তাদের আলোচনায় বিশেষ ফল হয় না। যা-ই হোক, সেদিনের অনুষ্ঠানে ফিরে যাই। সেদিন এনডিটিভির প্রাইম টাইমে সাংবাদিক রবীশ কুমার কয়েক মিনিটের জন্যে দেখা দিলেন, শুরু করলেন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ, “নমস্কার, ম্যায় রবীশ কুমার…” দিয়ে। কিন্তু তারপর যা ঘটল তা ভারতীয় টেলিভিশনে ইতিহাস, ভারতের বাইরেও খুব বেশি উদাহরণ পাওয়া যাবে না। গোটা এক ঘন্টার অনুষ্ঠানে কালো স্ক্রিন সাজানো ছিল শুধু শব্দ দিয়ে। কখনো কিছু লেখা ফুটে উঠছিল, বাকি সময় জুড়ে শুধু শোনা গেছিল নানা চ্যানেলে হওয়া কিছু ‘সংবাদ’, ‘বিতর্ক’ বা অন্যান্য সাউন্ড বাইট। রবীশ বলছিলেন “আমাদের টিভি অসুস্থ, তাই তার দেখানোর কিছু নেই। এই সংক্রমণ থেকে যদি বাঁচতে চান তাহলে টিভি দেখা বন্ধ করে দিন।” টিভি নিউজে কাজ করার আমার সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে জানি, টিভি মাধ্যমটায় যদি কোনোকিছুকে একেবারে আদিম অপরাধ বলে মনে করা হয়, তা হল এই কালো স্ক্রিন। অথচ সেটাকেই সেদিন রবীশ ব্যবহার করেছিলেন টিভিতে আমরা কী বলি আর কী শুনি তার দিকে একবারের জন্য আমাদের মনোযোগ টেনে আনতে। কিছু বিখ্যাত মানুষের শেষ যাত্রা, দুনিয়া কাঁপানো সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ বা কোনো রাজনৈতিক নেতার সাক্ষাৎকার ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া সংবাদ বা নন-ফিকশনধর্মী অনুষ্ঠান কেউ মনে রাখেন না। এই এক ঘন্টার পর্বটি সেদিক থেকে ব্যতিক্রম। সে ব্যতিক্রম সম্ভবত এই পর্বের পিছনে যে মানুষটির মাথা এবং সামনে যাঁর অনস্বীকার্য উপস্থিতি, তাঁর জন্যেই – সাংবাদিক রবীশ কুমার।

এই দীর্ঘ গৌরচন্দ্রিকার উপলক্ষ্য বিনয় শুক্লা নির্মিত একটি তথ্যচিত্র – হোয়াইল উই ওয়াচড – যেটি নানা অনামী ইউটিউব চ্যানেলের দৌলতে অনেকেই দেখে ফেলেছেন। কেন এইভাবে তথ্যচিত্রটি জনসমক্ষে এল সেই জল্পনায় পরে আসব। আপাতত তথ্যচিত্রটিতে মনোনিবেশ করা যাক। গত এক দশকে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স, অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতার যে সূচক, তাতে ভারতের অবস্থান গড়গড় করে ১৪০ থেকে ১৬১-তে নেমে এসেছে – ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬১তম। আমাদের ভৌগোলিক প্রতিবেশী প্রায় সমস্ত দেশ এই সূচকে অনেক উপরে। এই তালিকায় ভারতের প্রতিবেশী সেইসব দেশ, যাদের দীর্ঘ ইতিহাস স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার। কাজেই ভারতে সাংবাদিকতা কোনদিকে যাচ্ছে তা অনুমান করতে খুব অসুবিধে হয় না। এছাড়াও সাংবাদিকদের জীবনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এমন ৩১টি দেশের তালিকাতেও ভারত আছে। এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক রবীশকে কেন্দ্র করে এই ছবি। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের কিছু আগে থেকে রবীশের ম্যাগসাসে পুরস্কার পাওয়া পর্যন্ত ছবিটির সময়কাল। ছবিটি জুড়ে রয়েছে এই সময়কালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ক্রমাগত অবক্ষয়, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথ ছেড়ে দ্রুত সরকারের মুখপত্র হয়ে ওঠার বিরুদ্ধে রবীশ ও তাঁর কতিপয় সহকর্মীর অসম লড়াই। এইখানে একটু বুঝে নেওয়া দরকার এই অবক্ষয়ের চরিত্র, কীভাবে তা সংগঠিত হয়েছে এবং আপামর জনসাধারণের উপর তার প্রভাব।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

যে কোনো গণতন্ত্রে সাংবাদিকতার প্রথম এবং অবশ্যপালনীয় কর্তব্য সত্যনিষ্ঠ তথ্যসংগ্রহ ও পরিবেশন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্ন তোলা। সে প্রশ্ন প্রায়শই অপ্রীতিকর, বিশেষত যাঁরা ক্ষমতাসীন তাঁদের জন্য। সাংবাদিকরা দেশের জনতার প্রতিভূ, কারণ সাধারণ মানুষ ক্ষমতার কাছে তাঁদের সমস্যার কথা সচরাচর তুলে ধরতে পারেন না। সাংবাদিকতাকে তাই গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। আইনপ্রণেতা, আমলা এবং বিচারবিভাগের পরেই তার স্থান। ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যম এই ভূমিকা থেকে ক্রমশ সরে আসছে। বর্তমানে ভারতে এক লাখেরও বেশি সংবাদমাধ্যম রয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ হাজার সাপ্তাহিক এবং ৩৮০টি টিভি নিউজ চ্যানেল আছে। এর বাইরে রয়েছে অসংখ্য ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল। টিভি চ্যানেলের মধ্যে সরকারি দূরদর্শন প্রথম খবর পরিবেশন শুরু করে এবং শুরুর দিকে তার একটি ভূমিকা ছিল সদ্যস্বাধীন একটি দেশের মানুষকে নানা বিষয়ে শিক্ষিত করে তোলা। কিন্তু এসব ইতিহাসের কথা। বর্তমানে অধিকাংশ সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেল বেসরকারি মালিকানাধীন। দেশের অধিকাংশ মানুষ আজও মনে করেন সংবাদমাধ্যম তাঁদের শিক্ষিত করবে, তাঁদের কথা সরকারের কাছে তুলে ধরবে। এই ভাবনায় আজ আর খুব বেশি সত্যতা নেই, বিশেষত মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে। তাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মুনাফা। মানুষ যত উত্তেজিত হবে, ভয় পাবে, তথ্যের বদলে আবেগে ভরসা রাখবে, তত চ্যানেল দেখবে, মুনাফাও ততই বাড়বে। সংবাদপত্র বা চ্যানেলের মুনাফা মূলত আসে বিজ্ঞাপন থেকে। এখানে অঙ্কটা আপাতভাবে খুব সোজাসাপটা। যে চ্যানেল যত বেশি মানুষ দেখবে, বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের তত বেশি বিজ্ঞাপন দেবে, কারণ তাতে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে। আগে নানারকম ব্যবসায়িক সংস্থা বিজ্ঞাপন দিত, এখন সরকার প্রায় বৃহত্তম বিজ্ঞাপনদাতা হয়ে উঠেছে। ভুলে গেলে চলবে না, স্রেফ টাকা দিয়ে দোকান বাজারে যা কিনি সেটাই পণ্য নয়, একটি বিশেষ ভাবনা বা ভাবধারাও পণ্য হতে পারে। রাজনৈতিক দল বা সরকার যদি মনে করে তারা যা করতে চায় সেই ভাবনায় অনেক মানুষের প্রশ্নাতীত সমর্থন দরকার, তাহলে এমন বিজ্ঞাপনের ভূমিকা অপরিসীম। পৃথিবী জুড়ে নানা নির্বাচনে এমন বিজ্ঞাপনের ধাক্কায় সরকার পাল্টে যাবার উদাহরণ এখন নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই দর্শক কী দেখছেন আর তার প্রভাবে জনপ্রতিনিধি হিসাবে কাকে বেছে নিচ্ছেন – দুয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে। এখন এই বিজ্ঞাপন যদি আলাদা করে না এসে সংবাদের মোড়কে আসে, তাহলে সাধারণ দর্শকের কাছে সত্য আর বিজ্ঞাপনী কল্পকাহিনির বিভেদ গুলিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।

গোটা ছবি জুড়ে আমরা দেখি, কীভাবে নানা স্তরে এই গুলিয়ে দেওয়া চলছে। রবীশ কুমার ও এনডিটিভি যদি এই ছবির নায়ক হন, তবে প্রতিপক্ষ অনেকগুলো স্তরে। প্রথম প্রতিপক্ষ অন্য সংবাদমাধ্যম, যাদের মালিকানা সরকার সমর্থক পুঁজিপতি, কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের হাতে। সেখানে ক্রমাগত সরকারকে প্রশ্ন করার স্বাধীনতাকেই দেশদ্রোহিতা বলে দাগিয়ে দেওয়া চলে। যে কোনো বিরোধী স্বরকে অসভ্য চিৎকারে চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। আর দর্শককে ক্রমাগত বোঝানো হতে থাকে প্রতিবেশী দেশ আপনার শত্রু, অন্য ধর্মের মানুষ আপনার শত্রু, ভিন্ন খাদ্যাভ্যাস, ভিন্ন পরিধান, ভিন্নমতের মানুষ আপনার শত্রু। যা কিছু আমাদের মহান নেতার মহানতাকে প্রশ্ন করে সব্বাই একাধারে আপনার শত্রু। আপনি হয় আমাদের দলে, অথবা আমাদের শত্রু। ভুলিয়ে দেওয়া হয়, সরকারকে প্রশ্ন করার স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। আজ যারা সরকারে, তারাও বিগত সরকারকে প্রশ্ন করেই ক্ষমতায় এসেছে। এই আমরা-ওরার বিভাজন যখন সমস্বরে অনেক চ্যানেল করতে থাকে আর অন্যদিকে একটি চ্যানেল বলে এটা ঠিক নয়; এটা আসলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগারের মত জরুরি বিষয়, যা সরকারের আসল কাজ এবং সেখানে যে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি ও অবিচার চলছে তার থেকে আপনার নজর ঘুরিয়ে দেবার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা – তখন তাদের কথা ক্রমশ আরও কম মানুষের মনঃপূত হয়।

দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ভাড়া করা ট্রোল আর্মি ও জনসাধারণ। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সোশাল মিডিয়ার উন্নতির এক অন্ধকার দিক এই ট্রোল আর্মি। কখনো পোস্ট পিছু অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে, কখনো রীতিমত প্রযুক্তিদক্ষ আইটি সেল এবং কল সেন্টার খুলে বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলতে থাকে। গুলিয়ে দেওয়া হতে থাকে কোনটা সত্য আর কোনটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কল্পকাহিনি। ছবির সময়কালের মধ্যেই যার অনেকগুলো মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। আপনার সোশাল মিডিয়া নিউজ ফিড জুড়ে আসতে থাকে এই সব অপপ্রচার, আপনার ঘরের ভিতর আপনার মুঠোফোনে ক্রমাগত আসতে থাকে নানারকম ফরোয়ার্ড, যার একমাত্র উদ্দেশ্য আপনাকে বিভিন্ন কল্পিত শত্রুর ভয় দেখানো, যাতে আপনার যে প্রশ্নগুলো করা উচিত ছিল সেগুলো আপনি ভুলে যান। যে আপনার মতকে প্রশ্ন করে তাকে সোজা আপনার শত্রু মনে হয়। পারিবারিক হোয়াটস্যাপ গ্রুপে, রাতের খাবারের টেবিলে আপনাকে ক্রমাগত বোঝানো হয় প্রশ্ন করবেন না, ভিড়ের অংশ হয়ে যান, নাহলে আপনি শত্রু। স্বভাবত, অপেক্ষাকৃত বয়স্ক মানুষ, বা অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মানুষ, যাঁদের সোশাল মিডিয়ার সত্যি-মিথ্যে চেনার ক্ষমতা কম, তাঁরা এর কবলে পড়েন সহজেই। ক্রমাগত এই প্রচারে শিক্ষিত মানুষও বিরোধী অবস্থান নিতে ভুলে যান একলা হয়ে যাবার, শত্রুর তকমা গায়ে সেঁটে যাবার ভয়ে। হুজুরের তরফে জমে উঠতে থাকে বিপজ্জনক প্রশ্নহীন ভিড়, যারা মানুষ খুনেও পিছপা হয় না, বরং গর্ব করে ক্যামেরার সামনে বলে সে কথা।

সাধারণ মানুষ যত এই ভিড়ের অংশ হয়ে ওঠে তত ভুলে যায় তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া, তাদের কর্মসংস্থান নেই, শিক্ষার অধিকার পেতে হলে তাদের অনেক দাম দিতে হবে। সে কেবল শত্রু খুঁজতে থাকে তার দুর্দশার জন্যে, ভুলে যায় এই অবস্থা ক্ষমতাসীন প্রভুদের দান। জনগণ যত তাদের অধিকারের কথা ভুলে থাকে, ততই ক্ষমতাসীনের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হয়। যে তার হয়ে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে তার কথা বলে, তাকেই সে শত্রু মনে করে। গোটা ছবিতে রবীশ বারবার প্রাণনাশের হুমকি পেতে থাকেন, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, তাঁর গাড়ি ধাওয়া করে রাষ্ট্রবাদের ধ্বজাধারী অজানা বাইক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যের মাঝে অসভ্য চিৎকারে তাঁর স্বর দাবিয়ে দেয় ট্রোল আর্মি।

তৃতীয় স্তরে দেখি পুঁজি ও লোকবল। গোটা ছবি জুড়ে বারবার ফিরে আসতে থাকে এনডিটিভির নানা স্তরে ছাঁটাই এবং বিদায়ী সহকর্মীদের কেক কাটার দৃশ্য। দৃশ্যগুলো যত শেষের দিকে যেতে থাকে, ততই একলা হয়ে যেতে থাকেন রবীশ কুমার। তাঁর যে স্বভাবসিদ্ধ উষ্ণতা ও হাসি, তা কমে গিয়ে একাকিত্ব ও হতাশা যেন গ্রাস করে নিতে থাকে তাঁকে। এই সময়টায় এনডিটিভি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাদের টিআরপি, অর্থাৎ দর্শকসংখ্যার যে সূচক তা হু হু করে পড়ছে। ক্রমহ্রাসমান দর্শকসংখ্যা এবং রাজনৈতিক চাপের সাঁড়াশি আক্রমণে সংস্থার পক্ষে আর কর্মীদের ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একের পর এক বিভাগ কর্মী সংকটে ভুগছে, কোনো কোনো বিভাগ বন্ধই হয়ে যাচ্ছে। যে বিভাগগুলো খোলা রয়েছে, সেখানে দক্ষ কর্মীর অভাব। দক্ষ সাংবাদিক, প্রযোজক, কলাকুশলীরাও অনেকেই ভরসা রাখতে পারছেন না এনডিটিভির উপর। তাঁদেরও অর্থনৈতিক সুরক্ষার চিন্তা গ্রাস করছে, অনেকেই পারছেন না এই অনিশ্চয়তা আর ভয়ের বিরুদ্ধে লড়তে। কেউ কেউ রবীশের ভাবধারাতেই আস্থা রাখতে পারছেন না। লোক নেই, পুঁজি নেই, আস্থা রাখার মত সহযোদ্ধা নেই, এমনকি যে জনতার কষ্টের কথা তিনি রোজ তুলে ধরছেন, যার মূল্য তাঁকে চোকাতে হচ্ছে এই সংকটে, তারাও তাঁর সঙ্গে নেই জেনেও একা কুম্ভের মত লড়ছেন রবীশ। এইখানে একটি অত্যন্ত প্রতীকী দৃশ্য আছে। এনডিটিভির অফিসের একটি গোটা তলা ভেঙে ফেলা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের মাঝে একা টর্চ জ্বেলে দাঁড়িয়ে আছেন রবীশ – একটা ক্রমশ ভেঙে পড়া গণতন্ত্রের বিবেকের মত।

রবীশ এবং এনডিটিভির অন্তিম ও মূল প্রতিপক্ষ হয়ে দেখা দেয় সরকারি প্রভাব ও চাপ। ছবিতে দেখতে পাই, যেসব পর্বে রবীশ এই দেশজোড়া ষড়যন্ত্রের মুখোশ খুলে দেন, সেইসময় নানা জায়গায় রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এনডিটিভির সম্প্রসারণ। চ্যানেলের অর্থনৈতিক সমর্থকরা হাত গুটিয়ে নিতে থাকেন, কমে আসে বিজ্ঞাপন। রাস্তাঘাটে হেনস্থা ও বাধার মুখে পড়তে থাকেন চ্যানেলের সাংবাদিকরা। মানুষ যদি চ্যানেল দেখতেই না পান, টিআরপি আসবে কোথা থেকে? এতেও যখন তাঁদের থামানো যাচ্ছে না, তখন আসে সরাসরি সরকারি ভীতি প্রদর্শন। এনডিটিভির প্রতিষ্ঠাতা এবং মালিক বর্ষীয়ান সাংবাদিক প্রণয় রায় ও তাঁর স্ত্রী রাধিকা রায়ের বিরুদ্ধে আসে অর্থনৈতিক কারচুপির আইনি অভিযোগ। সে অভিযোগ আজও বিচারাধীন, কিন্তু সেই অজুহাতে একটি চ্যানেল যা কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়ে থাকে সরকারের কাছ থেকে, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ছবিতে যা নেই কিন্তু যার সলতে পাকানো হচ্ছিলো তখনই, তা আমরা জেনেছি আরও কয়েক বছর পরে। নানা ভুয়ো শেল কোম্পানি খুলে অর্থনৈতিক সংকটে পড়া এনডিটিভির শেয়ার কিনে নেওয়ার কাজ চলে গোপনে। পরে জানা যাবে, সেই সব শেয়ার আদতে কিনে নিয়েছেন সরকারের স্নেহধন্য পুঁজিপতি গৌতম আদানি। ফলে একের পর এক নামী সাংবাদিক এনডিটিভি ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন, যাঁদের মধ্যে উজ্জ্বলতম রবীশ।

ছবিটি থ্রিলার না ট্র্যাজেডি, নাকি এক যুদ্ধের বিবরণ? ঠিক করতে পারা মুশকিল। আসলে ছবিটির নান্দনিক বা রাজনৈতিক অবস্থানের থেকে বড় হয়ে যা দেখা দেয় তা হল মানুষ রবীশের আদর্শগত দৃঢ়তা আর মানবিক বিপন্নতা। ছয়ের দশকে তথ্যচিত্রের জগতে সিনেমা ভেরিতে বনাম ডিরেক্ট সিনেমা ধারার একটা তর্ক চলেছিল, কীভাবে সত্যের আরও কাছাকাছি পৌছনো যায় সেই প্রশ্নে। এই ছবিটি দ্বিতীয় ধারার বেশি কাছাকাছি, যেখানে ক্যামেরা সবার অলক্ষ্যে প্রায় দেওয়ালে বসা মাছির মত চরিত্রদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের প্রতিটি উত্তেজনা, ভয়, বিপন্নতা সব অপলকে রেকর্ড করতে থাকে। ডিরেক্ট সিনেমা ধারার নির্মাতারা মনে করেন এই অপলক তাকিয়ে থাকার মধ্যেই সত্যকে পাওয়া যায়। ক্যামেরার সামনের মানুষগুলোর কাছে যখন ক্যামেরার উপস্থিতি গা সওয়া হয়ে যায়, তখন তাদের প্রকৃত চরিত্র আমাদের কাছে ধরা পড়ে। তবে টিভি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে সে কথা কতটা খাটে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তাঁদের রুজি রুটি। অতএব সেসব বাধা পেরিয়ে যুযুধান একলা রবীশকে বার করে আনা প্রশংসার কাজ বই কি। তবে ডিরেক্ট সিনেমার একটি জরুরি উপাদান চরিত্রদের দিকে লম্বা সময়ের শটে অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে থাকা, ক্রমাগত নানা ইনসার্ট ইত্যাদি ব্যবহার না করা। তাতে মানুষগুলোর শরীরী ভাষা ধরা পড়ে, যা তাদের আরও ভালো করে চিনতে সাহায্য করে। তেমনটা এ ছবিতে প্রায় নেই বললেই চলে।

ছবিটি প্রাথমিক দর্শনে প্রায় রবীশ-বন্দনার মতো লাগতে পারে। হোয়াইল উই ওয়াচড সে দোষ থেকে একেবারে মুক্ত, সে কথা বলা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদের এই বাড়বাড়ন্তের বিরুদ্ধে লড়াইতে রবীশ একলা নন। যদিও ছবিতে তাঁর একাধিক ক্লোজ আপ, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তিনি কী ভূমিকা নিচ্ছেন তার উপর পরিচালকের নজর অপেক্ষেকৃত বেশি থাকায় ঘটনার প্রেক্ষাপটের চেয়ে তাঁর চরিত্র বড় হয়ে ওঠে। রবীশের এই লড়াইতে তাঁর সহকর্মীদের কী মত, বা তাঁর পরিবারই বা কী ভাবছে সেটা খুব স্পষ্ট হয় না। তাঁদের মাঝে মাঝে দেখা যায়, তবে খানিক অনুষঙ্গের মত। তাঁদের উপস্থিতি রবীশকে কেন্দ্র করেই, আলাদা করে তাঁদের কথা খুব একটা শোনা যায় না। কোনো একটি খবরের বিশ্লেষণ রবীশ কীভাবে করেন বা কীভাবে সাজানো হয় একেকটি পর্ব – সে বিষয়েও বিশেষ আলোকপাত নেই। চব্বিশ ঘন্টার সংবাদ চ্যানেলের সর্বক্ষণ ব্রেকিং নিউজ দেবার একটা ইঁদুর দৌড় থাকেই, এনডিটিভিও তার ব্যতিক্রম নয়, তবে সে দায় তথ্যচিত্রটির থাকা কাম্য ছিল না। কিন্তু যদি তলিয়ে ভাবা যায়, তাহলে এ ছবি শুধু এক সাংবাদিকের চরিত্র অধ্যয়ন নয়।

আরো পড়ুন এনডিটিভি বিসর্জন: শোক নিষ্প্রয়োজন, উল্লাস অন্যায়

রবীশ একটা সময়ের লক্ষণ বা চিহ্ন। ফ্যাসিবাদ যদি একটি সামাজিক ব্যাধি হয়, তাহলে তার লক্ষণ বা উপসর্গ যেমন গোটা সমাজের গায়ে ফুটে বেরোয়, তেমনই তার বিরুদ্ধে যে প্রগতিশীল বোধের লড়াই, তারও কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যাওয়া উচিত – ঠিক যেমন রোগ প্রতিরোধের টিকা নিলে আমাদের জ্বর আসে। এইখানে ছবিটি ছাড়িয়ে আরেকটু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের কথা বলা দরকার। গত কয়েক বছরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একের পর এক প্রতিবাদ দেখা গেছে। তার অধিকাংশই কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের তকমাহীন, যার প্রায় প্রতীটিকেই দেশদ্রোহী, সন্ত্রাসবাদী বলে দাগিয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও তার ধামাধরা মিডিয়া। আন্দোলনগুলোর অংশ হিসাবে ছবি করিয়েরাও থেমে নেই। অনেক ছবির মধ্যে পুনের ফিল্ম ইন্সটিটিউট, দিল্লিতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পায়েল কাপাডিয়ার এ নাইট অফ নোয়িং নাথিং, এনআরসি-সিএএ বিরোধী শাহীনবাগ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নওশীন খানের ল্যান্ড অফ মাই ড্রিমস, শাহীনবাগ ও দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রিয়া সেনের নো স্ট্রেঞ্জার অ্যাট অল, কৃষকস্বার্থবিরোধী তিনটি কৃষি বিলের বিরুদ্ধে এক বছর ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রতীক শেখরের চারদি কলা ও বরুণ সুখরাজের টু মাচ ডেমোক্রেসি বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে মানুষের প্রতিরোধ আজও সম্ভব, লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। প্রগতিশীল চিন্তা ও বহুত্ববাদের পক্ষে এখনো বহু স্বর। তুলনা করা উদ্দেশ্য নয়, তবে এই সবকটি ছবি রবীশের মতই একটি সময়ের প্রতিরোধের চিহ্ন। এই চিহ্নগুলো আমাদের মনে রাখা দরকার আর সেই প্রেক্ষাপটেই এই ছবিটি আমাদের দেখা উচিত।

প্রশ্ন হল, ছবি দেখা যাবে কীভাবে? আমাদের দেশে তথ্যচিত্র সিনেমা হলে দেখা, দেখানো হয় না। কারণটা খানিক ব্যবসায়িক। খেটে খাওয়া মানুষ, যাঁরা এ দেশে সিনেমার দর্শক, তাঁরা কষ্টার্জিত টাকায় দামি টিকিট কেটে দুঃখকষ্টের কথা, তাঁদের জীবনের দৈনন্দিন লড়াইয়ের কথা দেখতে আগ্রহী নন। টিকিট বিক্রি হয় না বলে হলমালিকরাও দেখাতে আগ্রহী নন। টিভি চ্যানেল কেন এ জাতীয় ছবি দেখাবে না তা তো বলাই বাহুল্য। রইল বাকি দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র উৎসব। সেরকম অনেকগুলো নামি উৎসবে ছবিটি দেখানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে আজকাল মূলত যান সমাজের শহুরে শিক্ষিত এলিট শ্রেণি এবং বিদেশি দর্শক। তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা সীমিত। মুশকিল হল, ছবি বানানো খরচসাপেক্ষ কাজ। যাঁরা বছরের পর বছর ধরে তথ্যনিষ্ঠ একটি ছবি তৈরি করেন, তাঁদের রুজি রুটি জোটানোও শক্ত হয়ে পড়ে। কোনো কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতলে কিছু অর্থপ্রাপ্তি হয়ত হয়, কিন্তু তাতে অধিকাংশ সময়েই ছবি তৈরির টাকাও ওঠে না। শেষ ভরসা ওটিটি, অর্থাৎ আধুনিক অ্যাপনির্ভর সিনেমা দেখার প্ল্যাটফর্মগুলো। তাঁরা কিছু তথ্যচিত্র কেনেন বা কিছুদিন ছবিটি তাঁদের প্ল্যাটফর্মে দেখানো বাবদ লাইসেন্স ফি দেন। তবে তার প্রাথমিক শর্ত হল চলচ্চিত্র উৎসব আর ঘরোয়া প্রদর্শন ছাড়া ছবিটি আর কোথাও পূর্বপ্রদর্শিত হওয়া চলবে না। এখানেই আসছে ছবিটি ইউটিউবে চলে আসার প্রশ্ন। কে বা কারা ছবিটি ইউটিউবে ছেড়েছে তা জানা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু তা যে আইনি পথে হয়নি তা স্পষ্ট। হয়ত কোনো গুণমুগ্ধ দর্শক রেকর্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছেন এই আশায় যে আরও বেশি মানুষের কাছে এই ছবির বক্তব্য পৌঁছবে। হঠকারী কাজ, কিন্তু হয়ত উদ্দেশ্য ক্ষতিকর ছিল না।

তবে এই আবহে আরেকটি সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই কাজটি করে থাকতে পারেন বিরোধী মনোভাবাপন্ন কেউ। যেভাবে এনডিটিভির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে তার কণ্ঠরোধ করা হল, সেভাবেই ভেঙে দেওয়া যায় এই জাতীয় ছবির নির্মাতাদের মনোবল। কারণ এর পর আর কোনো ওটিটি ছবিটি পয়সা দিয়ে কিনতে রাজি হবে না। এটা একান্তই জল্পনা, কিন্তু এমন ঘটা অসম্ভব নয়। যদি তা সত্যি হয়, তবে বৃহত্তর ইতিহাসের অঙ্গ হিসাবেই ছবিটি এভাবে জনসমক্ষে আসার ঘটনাকেও দেখতে হবে। ছবি জুড়ে বারবার রবীশ মনে করিয়ে দিয়েছেন, পৃথিবীজোড়া ফ্যাসিবাদী পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে যুক্তি, প্রগতিশীল ভাবনা আর মানবিক বোধগুলোর অতন্দ্র প্রহরাই সুরক্ষিত করতে পারে সাধারণ মানুষের স্বার্থ।

ছবির শেষে দেখি, ২০১৯ সালে ক্ষমতাসীন দল তার সমস্ত শক্তি নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে। তার বহু আগে থেকেই সমস্ত বিরোধী স্বরকে স্তব্ধ করার প্রকল্প চলছে। প্রকল্প চলছে ধর্মের নামে, খাদ্যের নামে, পোশাকের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ বাড়িয়ে তুলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের মত জরুরি বিষয়গুলো ভুলিয়ে দেবার। শেষ তড়কা দেওয়া হয় কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ৪০ জন জওয়ানের সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যু এবং তা নিয়ে দেশপ্রেমের উচ্চকিত প্রচারে বাকি সব ভুলিয়ে দিয়ে। বিজেপি দ্বিতীয়বার জন্যে সরকারে আসে, এবার আরও বেশি শক্তি নিয়ে। এই সম্ভাবনার কথা রবীশ সমানে বলেছেন গোটা ছবিতে প্রায় ভবিষ্যদ্বাণীর মত। ছবিটি শেষ হয় খানিক আশা নিয়ে। এই কঠিন সময়েও রবীশের এক তরুণ সহকর্মী প্রত্যাখ্যান করেন অন্য চ্যানেলে আরও বেশি টাকার চাকরির প্রস্তাব। এর কিছুদিন বাদেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের স্বর টিকিয়ে রাখা নির্ভীক সাংবাদিকতার জন্যে ম্যাগসাসে পুরস্কার পাবেন রবীশ। পুরস্কারের মঞ্চে তাঁর অমোঘ উক্তি ছিল, “প্রতিরোধ কোনো বিকল্প নয়। কিছু লড়াইয়ের লক্ষ্য জিত হয় না, লড়তে হয় শুধু দুনিয়াকে এটুকু জানাতে যে লড়াইয়ের ময়দানে প্রতিপক্ষে কেউ ছিল।” স্রেফ এই যুক্তিতেই বিনয় শুক্লার তথ্যচিত্রটি এক অসহনীয় সময়ে সর্বশক্তিমান সরকার, পুঁজিপতি প্রভু আর সাংবাদিকবেশী চাটুকার ভিড়ের বিরুদ্ধে এক নির্ভীক, একগুঁয়ে, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকের অসম লড়াইয়ের দলিল হয়ে থেকে যাবে।

– মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.