সন্তোষ সেন
হলিউড হিলসে অনেক তারকার বাড়িই আগুনের কবলে পড়েছে। ছাই হয়ে গেছে বেশকিছু বাড়ি। তবে যাদের সম্পত্তি এবং বাড়ি এখনো আগুনের রোষানলে পড়েনি, তারা সেসব বাঁচাতে বেসরকারি দমকল পরিষেবার দ্বারস্থ হচ্ছেন। নিজেদের সম্পত্তি আগুনের কবল থেকে বাঁচাতে প্রতি ঘন্টায় (হ্যাঁ, প্রতি ঘন্টায়) ভারতীয় মুদ্রায় ১,৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করছেন তাঁরা। ক্রিস ডান নামে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানির মালিক জানিয়েছেন “এ ধরনের দমকল পরিষেবার চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে।’ সরকারি দমকল কর্মীরা যেখানে জলের অভাবে আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলো নিজস্ব জলের ট্যাংক নিয়ে আসে আগুন নেভানোর জন্য।
অন্যদিকে অধিকাংশ অভিজাত ব্যক্তিরই বহুমূল্য বাড়ি অনেক টাকা দিয়ে বিমা করা থাকে। অনেক তারকাই প্রিমিয়াম বিমা পরিষেবা নেন আরও বহুগুণ বেশি টাকা খরচ করে। সেক্ষেত্রে বিমা কোম্পানিই বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে পলিসিধারীর সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করে। কেন করে? কারণ দাবানলে পলিসিধারীর ক্ষতি কম হলে তাদের কম টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সম্পত্তি বাঁচাতে ধনকুবেরদের এই পন্থা নিয়ে আমেরিকার অনেকেই সরব হচ্ছেন। এর উল্টো দিকের চিত্রটা আরও ভয়াবহ। সাধারণ মধ্যবিত্তদের অনেকেই কষ্টেসৃষ্টে বাড়ির বা সম্পত্তির বিমা করে রেখেছিলেন। তাঁদের বিমা কোম্পানিগুলো তলে তলে বাতিল করে দিয়েছে নানা ওজর আপত্তি তুলে। অর্থাৎ বাড়ি ধ্বংস হলে, পুড়ে ছাই হয়ে গেলে বড়লোকেরা নিজেদের টাকা উসুল করে নেবেন কোম্পানি থেকে। কিন্তু মধ্যবিত্ত বা গরিব মানুষের সে সুযোগ নেই। তাঁদের নিজের পকেট থেকেই খেসারত দিতে হবে। এই তীব্র বৈষম্য ছড়িয়ে আছে পুরো আমেরিকা জুড়ে, সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই। আসল আমেরিকাকে চিনতে হলে আমাদের এদিকে দৃষ্টিপাত করা দরকার।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এই ভয়াবহ দাবানলের কারণ
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল অপরিচিত কিছু নয়। শীত ও বসন্তে আমেরিকার এই প্রদেশে একাধিক দাবানলের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। কিন্তু লস এঞ্জেলসের এবারের দাবানল সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে মনে করছেন অনেকেই। আমেরিকার নামকরা গায়ক, খেলোয়াড় ও হলিউডের তাবড় তাবড় অভিনেতার বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার কারণে মিডিয়া নড়েচড়ে বসেছে, প্রশাসনও উদ্বিগ্ন। কিন্তু কেন এই তীব্র দাবানল ছড়িয়ে পড়ল বিস্তীর্ণ অঞ্চলে? তা নিয়ে প্রায় কোনো চর্চা হচ্ছে না কোনো মহলে।
নিউ ইয়র্কের অনেক পশ্চিমে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলস সংলগ্ন অঞ্চল কম বৃষ্টিপাতের জায়গা। শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল বলা চলে। তার মধ্যে গোটা ক্যালিফোর্নিয়ায় গত একবছর বৃষ্টি প্রায় হয়নি। এর ফলে ভীষণ শুকনো হয়ে রয়েছে জঙ্গল। একদিকে অবিশ্বাস্য শুকনো অবস্থায় থাকা জঙ্গল সহজদাহ্য। অন্যদিকে নেভাদা ও উটা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে বয়ে আসা শক্তিশালী হাওয়ার দাপটের জোড়া ফলায় বাড়তে থাকে একের পর এক বিধ্বংসী দাবানল।
এসবের সঙ্গে অবশ্যই যুক্ত হয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ন তথা জলবায়ু পরিবর্তন। বর্তমান যুগের বাজারনির্ভর লগ্নি পুঁজির নতুন নতুন বিনিয়োগের স্বার্থে নির্বিচারে একরের পর একর ঘন জঙ্গল কেটে সাফ করে দেওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ব্যাপক নগরায়ন, উন্নয়ন রথের অবাধ যাত্রা, নির্মাণশিল্পের রমরমা আর লক্ষ কোটি বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবহারে জীবাশ্ম জ্বালানির দহন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে দ্রুত। সবমিলিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে হু হু করে। শীতপ্রধান অঞ্চলগুলোতেও তাপমাত্রা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। শহরগুলো একেকটি ‘হিট ট্র্যাপ’ জোনে পরিণত হয়েছে। দিনেরবেলায় প্রচুর তাপ শুষে নিলেও তা রাতের বেলায় আর বিকিরিত হতে পারছে না। মহানগরগুলো মাত্রাতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে। সমুদ্র জলের উচ্চতা ও উষ্ণতা বাড়ছে তীব্র গতিতে, যা বয়ে আনছে দানবীয় সামুদ্রিক ঝড়ঝঞ্ঝা। খরা, অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, প্রবল বন্যা, দাবানল, শৈত্যপ্রবাহ – সবমিলিয়ে পৃথিবীর স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিস্থিতি একেবারে ঘেঁটে ঘ। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহেব দুষছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরকে। ট্রুথ সোশাল মিডিয়ায় তাঁর দাবি – ‘স্মেল্ট’ নামের একটি মামুলি মাছকে সংরক্ষণ করার জন্য উত্তরের বৃষ্টি ও বরফগলা জলকে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রবাহিত হতে দেন না গর্ভনর। তাই এই দাবানল এত বিধ্বংসী হতে পেরেছে। পৃথিবীর পয়লা নম্বরের ‘পরিবেশ দুষ্কৃতি’ ট্রাম্প সাহেব এসব ছেঁদো যুক্তি দেবেন ঠিকই, কিন্তু প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা এঁর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরিবেশ বিপর্যয়ের আসল কারণগুলোকে সামনে আনা এবং বিশ্লেষণ করা দরকার। মানুষকে তার পাপের ফল ভুগতেই হবে। প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন স্বার্থপর মনুষ্যজাতিকে এখন কঠিন শাস্তি দিচ্ছে স্বয়ং প্রকৃতি।
আমেরিকার আবহাওয়া
সাম্প্রতিককালে আমেরিকার আবহাওয়াও ভয়াবহ ছিল। শীতের জায়গার মানুষ গরমে জেরবার হয়ে ছুটেছেন এয়ার কুলার বা এয়ার কন্ডিশনার কিনতে। কয়েক বছর আগেও এই ছবি ছিল অকল্পনীয়। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্বাভাবিকভাবেই ২০২৩ সালের জুলাই মাসে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল লা পালমায়। ওদিকে কানাডায় ১,০০০ দাবানলের লেলিহান শিখায় জ্বলে গিয়েছে হাজার হাজার হেক্টর বনাঞ্চল। আমেরিকার হাওয়াই প্রদেশের ঐতিহাসিক লাহাইনা শহর দাউদাউ করে পুড়ে গেল। আশি শতাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া সেই শহরে জীবন্ত দগ্ধ হলেন শতাধিক মানুষ।
আগুনের লকলকে জিভ গ্রাস করছে এক জঙ্গল থেকে আরেক জঙ্গলের গাছপালা, লতাগুল্ম, মাটি, বন্যপ্রাণ, উপকারী অণুজীব – সবকিছুকে। তীব্র কালো ধোঁয়া আকাশ বাতাসকে বিষাক্ত করে সরাসরি সেঁধিয়ে যাচ্ছে মানুষের বুকে। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি সহ ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত মানুষের ভিড় জমছে হাসপাতাল চত্বরে। এরকম একটা সুন্দর পৃথিবীই তো আমাদের প্রাপ্য ছিল, তাই না? উষ্ণতম গ্রীষ্মকালের তকমা পাওয়া ২০২৩ সাল ছাড়িয়ে ২০২৪ হয়ে গেল সংগৃহীত তথ্যের বিচারে উষ্ণতম।
ভারতের জঙ্গলও জতুগৃহ
অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কেন্দ্রীয় বন দফতরের ‘স্টেট অফ ফরেস্ট রিপোর্ট’। এই রিপোর্টে ভারতবর্ষের জঙ্গলে আগুন লাগার যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে তা নিশ্চিতভাবে আমাদের আতঙ্কিত করবে। ২০২৩-২৪ সালে হিমাচল প্রদেশে দাবানলের সংখ্যা বেড়েছে ১,৩৩৯%। জম্মু ও কাশ্মীরের জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনা বেড়েছে ২,৮২২%। অন্যদিকে উত্তরাখণ্ডে বেড়েছে ২৯৩%। সরকারের রিপোর্ট বলছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশের মোট জঙ্গলের প্রায় ২৪,৩৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা কখনো না কখনো আগুনের কবলে পড়েছে। শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই ১৪৬টি দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় উত্তরাখণ্ডের বনভূমির। উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশকর্মী দেবাদিত্য সিনহা বলছেন ‘খুব অবাক করা বিষয় হল হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীর, অর্থাৎ তিনটে এমন রাজ্য যেখানে শীতে বরফ পড়ে, সেই জায়গাগুলোতেই দাবানলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। হিমাচল প্রদেশের নৈনিতাল, পাউরি, গাড়োয়াল এবং শিমলা – এই তিনটে জায়গা এখন দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক দাবানলপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।’
অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পরিবেশবিদ কীর্তিকা সম্পথ জানাচ্ছেন ‘নভেম্বর থেকে জুন, অর্থাৎ যে সময়ে জঙ্গল সবচেয়ে বেশি শুকনো থাকে, সেই সময়েই দাবানল হয় বেশি করে। অতীতে অনেক জায়গাতেই মার্চ-এপ্রিলে বৃষ্টি হত, ফলে জঙ্গল কিছুটা ভিজত। কিন্তু গত কয়েক বছরে জুলাইয়ের আগে সেভাবে বৃষ্টি হয় না। কাজেই দেশের উত্তরে হিমালয় সংলগ্ন এলাকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের অরণ্যও একেবারে জতুগৃহ হয়ে থাকে। সামান্যতম কারণেই জ্বলে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা।’ উপগ্রহ থেকে নজরদারি চালিয়ে ভারতের বেশকিছু বনাঞ্চলকে ‘হট স্পট’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এলাকা চিহ্নিত করা হলেও অগ্নিকাণ্ড আটকানো যায়নি। যেভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে ভারতের একের পর এক জঙ্গলে, আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে, তাতে আগামী দিনে পৃথিবীর মোট বনাঞ্চলের বড় অংশই দাবানলের প্রকোপে হারিয়ে যাবে চিরতরে।
উপসংহারের পরিবর্তে যা ভাবতে হবে
এমন দিন আসতে চলেছে যখন পর্যটক হিসাবে নয়, বরং প্রকৃতির রোষানলে নিজেদের ঘরবাড়ি, কৃষ্টি হারিয়ে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে, এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়বে লক্ষ কোটি পরিবেশ ধ্বংসের কারণে উদ্বাস্তু জনগণের স্রোত। একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা এই চিত্রই স্পষ্ট করে তুলছে।
সারা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন চরম হয়ে উঠছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি করে পড়ছে প্রান্তিক কৃষক, খেতমজুর, মৎস্যজীবী সহ নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাপনের উপর। ব্যাপক জঙ্গল ধ্বংস এবং অর্থকরী বিদেশি গাছের বনসৃজনের ফলে বনবাসী মানুষজনের জীবিকার্জন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁরা ভয়াবহ সংকটের মুখে। প্রান্তিক আদিবাসী নারী ও শিশুদের উপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি করে দেখা যায়। এই আবহে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করে চলা বামপন্থী দল ও সমস্ত প্রগতিশীল শক্তিগুলোর দায়িত্ব অনেক বেশি। প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশের বিপর্যয় এবং প্রকৃতি থেকে মানুষের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে গভীরে ভাবা দরকার এই মুহূর্তেই। মনে রাখতে হবে, এসব কাজ শুধুমাত্র বিজ্ঞান ও পরিবেশ সংগঠন বা কর্মীদের ব্যাপার নয়। তাই শুধু ইশতেহারে এসব কর্মসূচিকে জায়গা দেওয়া যথেষ্ট নয়। বাম দলগুলোর অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মানুষের মধ্যে এই নিয়ে ব্যাপক প্রচার আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। প্রকৃতি, পরিবেশ রক্ষা এবং মেরামতির দাবিতে মানুষকে সংগঠিত করা, নতুন করে নির্মাণ করার কথা ভাবতে হবে। ভাবতে হবে প্রকৃতি থেকে যত খুশি নিংড়ে নেওয়া নয়, প্রকৃতিকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও।
সংগঠিত জনগণকে নিয়ে পরিবেশ রক্ষা ও মেরামতির দাবিগুলো পঞ্চায়েত, পৌরসভায় জোরের সাথে তুলে ধরা আজকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এইসব কাজে সবচেয়ে বেশি করে দায়িত্ব নিতে হবে বাম ধারার ছাত্র ও মহিলা সংগঠনগুলোকে। প্রত্যেক নির্বাচনে প্রকৃতির বিপর্যয়, বিপন্নতা এবং তার ক্ষতিপূরণের ভাবনা জোরের সঙ্গে মানুষের কাছে হাজির করতে হবে। মানুষকে সংগঠিত করতে হবে। আমাদের স্পষ্ট করে বুঝে নিতে হবে, সুস্থ সুন্দর বাসযোগ্য পরিবেশ পাওয়া সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। পরিবেশ বিনষ্ট হলে মনুষ্যজাতির পক্ষে এই নীল গ্রহে টিকে থাকা অসম্ভব। আর মানুষই যদি না বাঁচে, তাহলে কাদের নিয়ে কিসের জন্যে আমাদের রাজনীতি?
এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত জোরের সঙ্গে ভাবনায় ও প্রচারে আনতে হবে। তা হল ব্যাংক পুঁজির প্রত্যক্ষ মদত এবং সরকারি আনুকূল্যে ফুলে ফেঁপে ওঠা লগ্নি পুঁজিকে বিনিয়োগের মাধ্যমে বস্তুতে পরিণত করা এবং সেখান থেকে মুনাফা বৃদ্ধির হারকে সচল রাখার মরিয়া প্রচেষ্টায় সব ভার গিয়ে পড়ছে প্রকৃতির ঘাড়ে। বিপন্ন হচ্ছে বহু মানুষের জীবনযাপন।
প্রকৃতির নিষ্পেষণ এবং মানুষের জীবনযাপনের বিপন্নতা মিলেমিশে গেছে চাহিদানির্ভর বাজার অর্থনীতির ঘূর্ণিতে। এই ঘূর্ণির সুইচ রয়েছে বড় বড় কর্পোরেট শক্তিগুলোর হাতে। তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করতে পারলে তবেই বাঁচবে মানুষ, মুক্ত হবে নারী, মুক্ত হবে প্রকৃতি। বাসযোগ্য একটিমাত্র পৃথিবীতে মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বাড়বে। ঐতিহাসিক দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সারা বিশ্বের বাম দলগুলোকে এই কাজে কোমর বেঁধে নামতে হবে। সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে আমেরিকা ইউরোপের মতো ধনী দেশগুলোকে, যারা প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে সবচেয়ে বেশি।
নিবন্ধকার বিজ্ঞান শিক্ষক, বিজ্ঞান ও পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।









যথেষ্ট সামগ্রিক উপস্থাপনা ও ব্যাখ্যা। মনে হয়, আমার কিছু যোগ করবার আছে। সুযোগের অপেক্ষায় রইলাম।
বামেরা কীভাবে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে? বামেদের উন্নয়ন সম্পর্কিত রূপরেখার সঙ্গে পুঁজি সমর্থিত উন্নয়নের কোনো তফাত নেই তো। বামেদের কি উন্নয়নের কোনো বিকল্প ভাবনা আছে? থেকে থাকলে তা তো দেখা যায় না, ধরা দেয় না। আমাদের নতুন পথে হাঁটতে হবে, নতুন সঙ্গী খুঁজতে হবে।