ডাঃ শর্মিষ্ঠা রায়
হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায় মেলবন্ধন আয়োজিত শিক্ষা সম্পর্কিত সেমিনারে প্রদত্ত বক্তৃতার পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত রূপ। আজ দ্বিতীয় পর্ব
১৯৩০ সালে বিশ্বজুড়ে এক বিরাট মন্দা দেখা দিয়েছিল। এর সূত্রপাত ১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর। সেদিন ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার বাজারে ধস নেমেছিল। ১৯৩২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রায় ১৫% হ্রাস পায়। ব্যক্তিগত আয়, কর, মুনাফা ও মূল্যমানের ব্যাপক পতন ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ৫০% কমে গিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ২৫% বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও তা বেড়ে ৩৩% হয়ে যায়। এই মন্দার প্রভাব ছিল ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত। সারা পৃথিবী জুড়েই এর বিরাট প্রভাব পড়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালেই। তার দুই দশক আগে, ১৯১৮ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। তার ক্ষত তখনো শুকোয়নি। পৃথিবীতে তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন নামে একটা সমাজতান্ত্রিক দেশ আত্মপ্রকাশ করেছে। সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবী জুড়ে। এর মধ্যে আর একটা বিশ্বযুদ্ধ কার স্বার্থে তৈরি করা হল?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
আমেরিকা এমন একটা দেশ, যারা নিজেদের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পৃথিবীতে যুদ্ধের বিভীষিকা নামিয়ে এনেছে বারবার। ভারত স্বাধীনতা পাওয়ার পরও পৃথিবী জুড়ে বেশ কয়েকবার মন্দা হয়েছে। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করে দেখবেন, ভারতে কিন্তু এই মন্দার প্রভাব বিদেশের মত পড়েনি। তার কারণ ভারতের শাসকদের কিছুটা হলেও সমাজতান্ত্রিক অবস্থান। ভারতের সংবিধানে ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দটা যোগ করা হয়েছিল। ভারতে ব্যাংক ও বিমার জাতীয়করণ করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ফলে এদেশে স্টেট ব্যাংকের মত একটা ব্যাংক আছে। ইন্দিরার আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের কারণে আমেরিকার মত বেসরকারি পুঁজির দেশে মন্দার প্রভাব যতখানি, ভারতে ততখানি নয়। যদি আমাদের দেশের অর্থনীতি ওদেশের মত বেসরকারি উদ্যোগের উপরেই ভর দিয়ে থাকত, তাহলে আমেরিকার চেয়েও মন্দার প্রভাব বেশি পড়ত। কারণ আমাদের সম্পদ কম, কিন্তু লোক বেশি। আর তাই এদেশের অর্থনীতির সমাজতান্ত্রিক চিহ্নগুলো মুছে দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে আমেরিকা।
এবার একটা নতুন শব্দবন্ধ বলব – ‘নিও লিবারালিজম’ বা নয়া উদারনীতিবাদ। সেটা কী? শুনলে মনে হবে, বেশ ভালো ব্যাপারই তো। উদারনীতি তো নিশ্চয়ই ভালো জিনিস, আর নয়া উদারনীতিবাদ নিশ্চয়ই তারই কোনো উন্নততর রূপ? কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মুক্ত বাজার, পুঁজিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটিয়েছিল। এটা আসলে রক্ষণশীল ও দক্ষিণপন্থীদের তৈরি এক অর্থনৈতিক নীতি। যার উদ্দেশ্য ছিল সমাজে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক বেসরকারিকরণ, সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমাতে কমাতে শূন্যে পৌঁছে দেওয়া, বিশ্বায়ন ও মুক্ত বাণিজ্যের প্রসার এবং সমস্ত রকম সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে সরকারি ব্যয় হ্রাস। সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক জুজু তখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে আমেরিকাকে। সারা পৃথিবীকে এই নয়া উদারনীতির পাকে পাকে বেঁধে ফেলতে চাইল তারা।
নয়া উদারনীতির উদ্দেশ্য ও প্রভাব একটু বিস্তারিত জানা দরকার।
১) ১৯৫০ সালের আশেপাশে যেসব দেশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছে, তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে এতটাই কমজোর করে দিতে হবে, যাতে সেদেশের পুঁজি, প্রত্যেকটা জিনিসপত্র, মানে আজকাল যাকে ‘লজিস্টিক্স’ বলা হয়, এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সবটুকু বৈশ্বিক পুঁজির প্রয়োজনে বেলাগাম আদানপ্রদান করা যায়। পুঁজির এই ব্যবহার কেউ যেন নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে।
২) আমাদের সমস্ত নির্বাচিত প্রতিনিধি, অর্থাৎ পঞ্চায়েত থেকে সংসদ, সমগ্র বিচারবিভাগ এবং সমস্ত এক্সিকিউটিভ, মানে সব স্তরের অফিসারকে এই নতুন পরিবর্তিত ব্যবস্থার অংশে পরিণত করতে হবে। যাতে গণতন্ত্রের সবকটা স্তম্ভই পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায়।
৩) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল, ভারতের সমস্ত বুদ্ধিজীবীকে এই নয়া উদারবাদী ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া। বিশ্বব্যাংক ১৯৯০ সালে ভারতের শিক্ষায় প্রথম হস্তক্ষেপ করে শিক্ষার উদারীকরণ ও বাজারীকরণ করেছিল। অর্থাৎ সেইসময় তারা শিক্ষার অধিকার দেবার নাম করে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার অধিকার ছিনিয়ে নেবার ব্যবস্থা করেছিল। সেই অনুযায়ী পয়সাওয়ালা বা সমাজের উঁচু শ্রেণির জন্য একরকম আর নিচু শ্রেণির শিক্ষার জন্য আলাদা রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ কাজের পিছনে গূঢ় উদ্দেশ্য ছিল। তারা চেয়েছিল শিক্ষার এই পরিবর্তনের প্রভাব যেন সংবিধান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেইসময় তারা যে দস্তাবেজ তৈরি করেছিল, তাতে তারা লিখেছিল, অন্য দেশের সঙ্গে ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের পার্থক্য আছে। এদের নিজেদের মত করে নেওয়া খুব কঠিন। ভবিষ্যতে শিক্ষাকে বিক্রয়যোগ্য পণ্য করে তোলা থেকে শুরু করে ভারতীয় পুঁজি, প্রাকৃতিক সম্পদ, বহুজাতিক পুঁজির প্রয়োজনে ব্যবহার করার ভাবনা রূপায়ণে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ভারতীয় বুদ্ধিজীবীরাই। এখানকার বুদ্ধিজীবীরা যেমন বিদ্বান, তেমন চিন্তাশীল এবং তারা অত্যন্ত গভীর চিন্তাভাবনা করতে অভ্যস্ত। এরা বহুজাতিক পুঁজির জন্য আগামীদিনে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত করতে গেলে এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণিকে দলে টানতেই হবে। এদের বশে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এদের বলতে দিতে হবে। জার্নালে এদের লেখা ছাপাতে হবে, এদের গবেষণার বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং তার জন্য টাকা জোগাতে হবে, যাতে আস্তে আস্তে ওরা পুঁজিবাদীদের কথা শোনে এবং তাদের ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দেয়।
শ্রোতাদের মধ্যে যাঁরা অধ্যাপক, গবেষক, তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন আমি যা বলছি তা ঠিক কিনা। আজ দেখা যাচ্ছে, যাঁরা প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারেন তাঁদের বিভিন্ন কমিটির সদস্য বানিয়ে, প্রচুর টাকা দিয়ে পুঁজিপতিদের পক্ষে সুবিধাজনক কোনো প্রকল্পের মাথায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কোনো ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে না পারেন। এইভাবে প্রকৃত বিদ্বান, চিন্তাশীল, সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখা মানুষের একাংশকে বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করে ফেলে বিশ্বব্যাংক। (ডটস এর উদাহরণ)
৪) সরকার – সে কেন্দ্রই হোক আর রাজ্যই হোক – শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মত জনকল্যাণমূলক যে কাজগুলো করে, তাতে এত সমস্যা তৈরি করতে হবে যাতে সেগুলোর উপর সাধারণ মানুষ তিতিবিরক্ত হয়ে ওঠে। আপনারা সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার বর্তমান হাল এবং ধারাবাহিক অবনমন খেয়াল করে দেখুন। সংবিধান অনুযায়ী যে অধিকার ও পরিষেবা মানুষকে সরকারের দেওয়ার কথা, তা থেকে সরকার যেন পিছু হটতে বাধ্য হয়। সেই জায়গা অধিকার করে বাজার।
৫) যত সরকারি সম্পত্তি আছে, সব বিক্রি করা শুরু করো। তার গালভরা নাম ডিসইনভেস্টমেন্ট বা বিলগ্নীকরণ। এইভাবে সার্বজনীন পুঁজির বাজারীকরণ করা হল। এটা বেশ পুরনো কথা। এরপর যা করা হল, তা হল সার্বজনীন পুঁজির কর্পোরেটায়ন। সবার আগে বিক্রি হল স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। আর এখন তো দেখা যাচ্ছে, স্কুলবাড়িগুলোও বিক্রি করার জন্য দাম ধার্য করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ সমস্ত রাজ্যে স্কুলগুলো বিক্রি হবার জন্য এই হাটে অপেক্ষা করছে। শুধু তাই নয়, রেল, বন্দর সহ সমস্ত সরকারি ক্ষেত্র বিক্রি হবার অপেক্ষায়।
৬) সমস্ত সর্বজনীন নাগরিক অধিকার, সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার, যা দেশের মানুষ এতকাল পেয়ে এসেছে, সবকিছুর উপর দামের লেবেল লাগাও। কিছুই আর মুফতে পাওয়া যাবে না। এই যুক্তিতে স্বাস্থ্য বা শিক্ষা – কোনোটাই বিনা পয়সায় পাওয়া যাবে না। ভারতের সংবিধান কিন্তু প্রত্যেক শিশুকে ৬-১৪ বছর বয়স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার অধিকার দিয়েছিল। কিন্তু নয়া উদারবাদী ব্যবস্থা জানাল, কোনো পরিষেবাই আর অবৈতনিক থাকবে না। থাকবে না কোনো স্কলারশিপ, অর্থাৎ মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি।
আজ শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা এই নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালিত হতে দেখছি। শিক্ষা এখন মহার্ঘ বস্তু। যাদের পয়সা নেই, তারা জমিজায়গা বেচে লেখাপড়া করবে। যাদের তাও নেই, তাদের লেখাপড়া শেখার সুযোগ আর থাকবে না। ২০০৩ সালে শিক্ষা সনদ বানানোর জন্য দেশের বেশ কিছু বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদকে ডাকা হয়েছিল। তাঁরা মিটিংয়ে ঢুকে জানতে পারেন, এক কম্পিউটার কোম্পানি একখানা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেখাবে আর তাঁদের দেখতে হবে। কেউ কেউ বিষয় না জেনে দেখতে অস্বীকার করেন। পরে জানা যায়, ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলাদা আলাদা ঘরে শিক্ষা দেওয়া হয়। কীভাবে একই ঘরে অনেকগুলো ক্লাসকে একসঙ্গে পড়ানো যাবে, তারই মডিউল ওই কম্পিউটার কোম্পানি সনদ তৈরি করার আগে শিক্ষাবিদদের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে চায়। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নয়, সরাসরি ১০ জনপথ থেকে, রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, যে রাজনৈতিক দল শিক্ষা সনদ বানাতে আসা দেশের বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদদের কম্পিউটার কোম্পানির ভাষণ শুনিয়ে প্রভাবিত করতে চাইছিল, তারাই ১৯০৬ সালে প্রস্তাব এনেছিল, স্বাধীন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, শিক্ষিত আত্মনির্ভর জাতি কীভাবে দেশ গঠন করবে। কিন্তু এই শতাব্দীতে সরকার দেশের নাগরিকদের আর নাগরিক হিসাবে দেখে না, দেখে উপভোক্তা হিসাবে। ভারত সরকার ব্যবসায়ী, আর নাগরিক উপভোক্তা। এদের সম্পর্ক প্রোডিউসার ও কনজিউমারের। এদের সম্পর্ক আর জনাদেশ প্রাপ্ত সরকারের সঙ্গে জনতার সম্পর্ক নয়। এরা শিক্ষার দলিলে লিখে দিয়েছে – বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এখন উৎপাদক ও উপভোক্তার সম্পর্ক। শিক্ষার্থীকে শিক্ষার দাম চুকিয়ে দিতে হবে। টাকা না থাকলে তুমি ঋণ নিয়ে পড়তে পারো, তবে তা কড়ায় গণ্ডায় শোধ করতে হবে তোমাকেই। তুমি শিক্ষার্থী হলে তোমার জন্য আছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, আর বিশ্ববিদ্যালয় হলে তোমার জন্য আছে হায়ার এডুকেশন ফাইন্যান্সিং এজেন্সি। দরিদ্র মেধাবী ছাত্রছাত্রীর জন্য রাষ্ট্রের দেওয়া সমস্ত সুযোগসুবিধা বন্ধ হয়ে গেল। সংবিধানে যে সমানাধিকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, এটা তারও গোড়ায় আঘাত করল।
ফলে কী দেখা গেল? আপনারা আজকাল একটা কথা খুব শুনবেন – সেটা হল merger। এই merger-এর তত্ত্ব রয়েছে আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-তে। স্কুলে ছাত্রছাত্রী ৩০ জনের কম তো কী হয়েছে? এরকম পাঁচটা স্কুল একসঙ্গে জুড়ে দাও। মনে করে দেখুন, এইসব স্কুল একদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর কলরোলে মুখর থাকত। আর আজ? তিরিশজন ছাত্রছাত্রী পায় না। এ চিত্র শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, সারা দেশের। কোন প্রক্রিয়ায় স্কুলগুলো এমন ফাঁকা হয়ে গেল? এখন যে গোটা পাঁচেক স্কুল জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, একদিন দেখা যাবে সেগুলোও ফাঁকা। সেদিন সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা বলে আর কিছু থাকবে না। এই যে স্কুলগুলোকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, তার সপক্ষে নতুন শিক্ষানীতিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে ‘they are economically suboptimal’। কতটা নির্লজ্জ হলে একথা বলা যায়, একবার ভেবে দেখুন। এখনো সংবিধান রয়েছে। সেখানে বলা আছে, শিক্ষা প্রত্যেকের জন্মগত অধিকার এবং রাষ্ট্র তার জন্য খরচ করবে। অথচ এখন রাষ্ট্রই ঠিক করে দিচ্ছে, আশেপাশে ব্যাঙের ছাতার মত রাতারাতি গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট স্কুলে যারা পয়সা ঢালতে পারবে, তারা সেখানে পড়বে। যারা পারবে না, তাদের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বানিয়েছে, তার সাহায্যে পড়বে।
পরবর্তী অংশ আগামীকাল
নিবন্ধকার দন্ত চিকিৎসক ও সমাজকর্মী। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








