ভোটের ফলাফল নিয়ে আলোচনায় বিজয়ী পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্বের একটা স্বাভাবিক ঝোঁক থাকে। ভোটের আগে ওই পক্ষের বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলেন, তাঁরাও অনেকে ফলাফলের দ্বারা প্রভাবিত হন। বিজয়ীর সাফল্যের ও পরাজিতের ব্যর্থতার কারণ আলোচনা নির্মোহভাবে করার বিস্তর বিপদ। বিশ্লেষক বা বোদ্ধা হিসাবে দর কমে যাওয়া, অপ্রিয় হওয়া সহ নানা বিপদ ওঁত পেতে থাকে। নির্বাচনের বেনিয়ম নিয়ে যাঁরা সরব থাকেন, তাঁরাও ফল বেরনোর পর সেই পথ সচরাচর মাড়ান না। বরং ফলাফলের নিরিখে একটা সাধারণ ভাষ্য নির্মাণেই ব্যস্ত হয়ে যান। অপ্রিয় প্রশ্নগুলো অন্তত কিছুদিনের জন্য মুলতুবি রাখেন। আর সেই ভাষ্যের সপক্ষে নানা পরিসংখ্যান হাজির করা হয়। অথচ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যদি সত্যিই অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে ফলাফলে তার প্রভাব পড়াই স্বাভাবিক।

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পরেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এই ভোটে ভোটার তালিকায় কারচুপি, নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব, নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ যাঁরা ধারাবাহিকভাবে তুলে চলেছিলেন, তাঁদের একটা বড় অংশও ম্রিয়মাণ। যদিও ভোটার তালিকায় যে বড়সড় ধরনের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম রয়েছে তা অনেকটাই প্রমাণিত হয়ে গেছে। ভোটের ফল বেরিয়ে যাওয়ার পরেও কিন্তু এসব প্রশ্নের গুরুত্ব এতটুকুও কমে না। অভিযোগকারীরা হেরে গেলেও নয়।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

বিহারে জাতপাতের সমীকরণ, জোটের বিন্যাস ও সমবায় গুরুত্বপূর্ণ। আসন সংখ্যার বিচারে পর্যুদস্ত হলেও, মহাগঠবন্ধন যে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েনি, ভোট প্রাপ্তির পরিসংখ্যানই তা বলে দিচ্ছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে এনডিএ পেয়েছিল মোট ১,৫৭,০২,৬৫০ (৩৭.২৬%) ভোট। মহাগঠবন্ধন পেয়েছিল ১,৫৬,৯১,৫০০ (৩৭.২৩%) ভোট। ২০২৫ সালের নির্বাচনে এনডিএ পেয়েছে ২,৩৩,৮৩,২৯৮ ভোট (৪৬.৫৬%) এবং মহাগঠবন্ধন ১,৮৫,৮৯,৫৮৭ টি (৩৭.৯৪%) ভোট। অর্থাৎ ভোট পাওয়ার শতকরা হার বলে দিচ্ছে – মহাগঠবন্ধন অতি সামান্য হলেও ভোট বাড়িয়েছে। কিন্তু এনডিএ বাড়িয়েছে আরও অনেক বেশি। অথচ গতবারে আরজেডি, কংগ্রেস, সিপিআইএমএল(লিবারেশন), সিপিএম ও সিপি আই – এই পাঁচ দলের জোট হয়েছিল। এবার মহাগঠবন্ধনে ছিল আটটি দল। তবুও এনডিএ জোটের পারস্পরিক ঐক্য যে অনেক মজবুত ছিল তা বোঝা যাচ্ছে।

বামেদের মধ্যে লিবারেশন এবার দুটি আসনে জিতেছে, আগিয়াঁও কেন্দ্রে হেরেছে মাত্র ৯৫ ভোটে। সিপিএম জিতেছে একটি আসন। বামেদের আসন অনেক কমলেও, ভোটের হার কিন্তু শোচনীয়ভাবে কমেনি। লিবারেশন গতবার ১৯ আসনে লড়ে পেয়েছিল ৩.১৬% ভোট, সিপিএম চারটি আসনে লড়ে ০.৬৫% ভোট, সিপিআই ছটি আসনে লড়ে ০.৮৩% ভোট। এবারে লিবারেশন ২০ আসনে লড়ে পেয়েছে ২.৮৫% ভোট, সিপিএম চারটি আসনে লড়ে ০.৬১% এবং সিপিআই নটি আসনে লড়ে ০.৭৪% ভোট।

বিহারে অতি কম ব্যবধানে ফয়সালা হওয়া আসনের সংখ্যা এবার নেহাত কম নয়। পনেরোটি আসনে জেতা হারার ব্যবধান ২,০০০ ভোটেরও কম। তবে একতরফাভাবে কোনো পক্ষই এতে লাভবান হয়নি। এনডিএ আর মহাগঠবন্ধন, দুই পক্ষই সাতটি করে আসনে দুই হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে জিতেছে। বিএসপি একা লড়ে রামগড়ে জিতেছে মাত্র ৩০ ভোটের ব্যবধানে। আবার এনডিএর জেডিইউ সন্দেশ কেন্দ্রে জিতেছে মাত্র ২৭ ভোটে। পাঁচটি আসনে জেতা হারার ব্যবধান ছিল দুশোরও কম। অর্থাৎ অনেক আসনেই দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। আর এখানেই এসে যায় সঠিক ভোটার তালিকার প্রসঙ্গ।

এসআইআরের পরে ভোট হওয়ায় যা বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ১১ আসনে এসআইআরে যতজনের নাম বাদ গেছে, তার থেকে জয়ের ব্যবধান কম। যেমন, আগিয়াঁও কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে মাত্র ৯৫ ভোটে আর সেখানে বাদ গেছে ১,৩২২ জনের নাম। সন্দেশ কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ২৭ ভোট, বাদ গেছে ৯০৯ জনের নাম। রামগড়ে জয়ের ব্যবধান ৩০ ভোট, বাদ গেছে ১,১৯৭ জনের নাম। এই ১১ কেন্দ্রের মধ্যে এনডিএ এবং মহাগঠবন্ধন পাঁচটি করে আসন জিতেছে। তাতে কিন্তু এসআইআরের স্বচ্ছতা প্রমাণিত হয় না। বরং যোগ্য ভোটারকে বাদ দিয়ে কম ব্যবধানে জেতা হারার ফয়সালা করার অভিযোগের সত্যতাই প্রমাণিত হয়। এনডিএ আসন সংখ্যার বিচারে বিপুলভাবে জিতলেও তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। এগারোটি কেন, একটি কেন্দ্রেও যদি যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ায় ভোটের ফলাফলে তার প্রভাব পড়ে, তাহলে তা ন্যায়সঙ্গত নয়। যেমন, একজন যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নিলেও দায় নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে না। উপরন্তু, কেরালা কংগ্রেসের তো অভিযোগ, এসআইআরের ফলে হারজিতের ফয়সালা হয়েছে এনডিএ-র জেতা ২০২ আসনের মধ্যে মোট ১২৮ আসনে।

বিহারের ভোট এসআইআরের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছেও বড় পরীক্ষা ছিল। এনডিএ জিতে যাওয়ায় এমন প্রচার চলছে যেন এসআইআর সফল হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও সেই সুরে সুর মিলিয়ে আসলে নিজেদের নিরপেক্ষতাকেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলছে। তারা পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, এসআইআরে সবচেয়ে কম নাম বাদ যাওয়া পাঁচটি কেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে বিজেপি জিতেছে। আবার সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাওয়া পাঁচটি কেন্দ্রেরও চারটিতে এনডিএ জিতেছে। সুতরাং এসআইআর ভোটের ফলে কোনো অন্যায্য প্রভাব ফেলতে পারেনি।

আপাতদৃষ্টিতে এই দাবি ন্যায্য মনে হবে। কিন্তু বারবার অভিযোগ উঠছে, নির্বাচন কমিশন সার্বিকভাবে একটি রাজ্যের সব কেন্দ্রেই ভোটার তালিকায় কারচুপি করছে না। করছে কিছু কেন্দ্রকে নিশানা করে। আবার একটি কেন্দ্রের সব বুথকেও নয়, নিশানা করা হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু বুথকে। যেগুলিতে বিজেপি বা তার জোট শরিকের জেতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মহারাষ্ট্রে প্রায় এক লক্ষ বুথের মধ্যে মাত্র ১২,০০০-এর কাছাকাছি বুথে ভোটার সংখ্যা বিধানসভা ভোটের আগে অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই বুথগুলি এমন ৮৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ছড়িয়ে আছে, যেগুলিতে বিজেপি তার কয়েকমাস আগের লোকসভা নির্বাচনে হেরেছিল। আবার গত লোকসভা নির্বাচনে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল কেন্দ্রের মাত্র একটি বিধানসভা এলাকায় ১,০০,২৫০ ভুয়ো ভোটারের নাম তুলে কংগ্রেসকে অল্প ভোটের ব্যবধানে হারানোর অভিযোগও উঠেছে। সুনির্দিষ্ট এইসব অভিযোগকে নির্বাচন কমিশন আজ পর্যন্ত যুক্তি ও তথ্য দিয়ে খণ্ডন করতে পারেনি। ফলে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাওয়া পাঁচটি কেন্দ্রে যে স্বচ্ছ ভোটার তালিকায় এনডিএ জিতেছে – এমন প্রমাণ করা যায় না। পাশাপাশি সবচেয়ে কম নাম বাদ যাওয়া কেন্দ্রগুলিতে এনডিএ-র জেতা নিয়ে সংশয় ছিল না বলে নিশানা করা হয়নি – এমন সম্ভাবনা কি উড়িয়ে দেওয়া যায়?

যায় না, কারণ ভোটের পরেও নির্বাচন কমিশনের কাজে ও কথায় সন্দেহ বাড়ছে। যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মত ভুয়ো ভোটারের নাম তোলাও কারচুপির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নাম যোগ বিয়োগের খেলায় ভোটারের সংখ্যা নিট বাড়া বা কমা দিয়ে যা আপাতভাবে ধরা যায় না। বিহারে এসআইআরের খসড়া তালিকায় প্রায় ৬৫ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, যোগ বিয়োগের পর ২০২৫ সালের জুন মাসের (এসআইআরের আগে) ভোটার তালিকার তুলনায় মোট ভোটার সংখ্যা নিট প্রায় ৪৭ লক্ষ কমে গেছে। যোগ বিয়োগের খেলাটা খতিয়ে না দেখলে গণ্ডগোল বোঝা যাবে না। খসড়া তালিকায় নাম ছিল এমন ৩,৬৬,০০০ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ দেওয়া হয়। আবার নতুন করে ২১,৫৩,০০০-ভোটারের নাম তোলা হয়। তাই নিট ফল ৪৭ লক্ষের নাম বাদ যাওয়া। কিন্তু খসড়া তালিকায় থাকা সাড়ে তিন লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ গেল কেন – তা এখনো পরিষ্কার নয়। পরিসংখ্যানের মজাই এখানে। এর সাহায্যে রাতকে দিন করা যায়। সুপ্রিম কোর্টও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আবার যে সাড়ে ২১ লক্ষের বেশি নতুন নাম তোলা হল, তাঁরা সকলেই প্রকৃত ভোটার কিনা তা পরিষ্কার হওয়ার আগেই ভোটের দামামা বাজিয়ে দেওয়া হল। খেলা যে এখানেই শেষ হয়নি, তা বোঝা গেল ভোট শেষ হওয়ার ঠিক পরেই।

এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে, বিহারে ভোটার সংখ্যা ছিল সাত কোটি ৪২ লক্ষ। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ভোটদানের হারের সঙ্গে হিসাবে তা মিলল না। তড়িঘড়ি নির্বাচন কমিশন জানাল যে ভোটার তালিকায় ৭ কোটি ৪৫ লক্ষের নাম রয়েছে। তিন লক্ষ নাম চূড়ান্ত তালিকার পরে যুক্ত হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখের দশ দিন আগে পর্যন্ত এটা করা যায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, এই তথ্য রাজনৈতিক দলগুলিকে জানানো হয়নি কেন? এসআইআরে বাদ যাওয়া যে তিন লক্ষের নাম নতুন করে তোলা হল, তাঁরা কি এসআইআরের নিয়ম অনুযায়ী কাগজ দেখিয়েছেন? সবটাই রয়ে গেছে অন্ধকারে। ব্যাপারটা ৩,৬৬,০০০ হাজার নাম বাদ যাওয়ার মতই রহস্যময়।

আরো পড়ুন ‘নির্বাচন কমিশনের ভোট চুরি’ রাহুল গান্ধীর একার আন্দোলন নয়

ভোটের কয়েক মাস আগে তড়িঘড়ি করে এসআইআর করা হল। চূড়ান্ত তালিকাতেও নানা অসঙ্গতি রয়ে গেল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলার মাঝেই ভোটও হয়ে গেল। এসআইআরে বহু ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ ভোটের আগেই ছিল। এখন এমন একাধিক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে, যাঁরা অন্য রাজ্যের ভোট দেওয়ার পর বিহারেও ভোট দিয়েছেন। কী করে তাঁদের নাম বিহারের ভোটার তালিকায় রইল, বা নতুন করে তোলা হল – সে ব্যাপারে কমিশন এখনো সদুত্তর দেয়নি। যেনতেনপ্রকারেণ ভোটটা করিয়ে এসআইআরের সাফল্য প্রচারই যেন তাদের উদ্দেশ্য। অথচ সেটা যে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতে পারেনি, বরং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে – তা আড়াল করা হচ্ছে।

একইভাবে সরকারের নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনেও কমিশন নিষ্ক্রিয়। নির্বাচনের দোরগোড়ায় মহিলাদের আর্থিক সাহায্য প্রদানের প্রকল্প ঘোষণার পরে নির্বাচন বিধি বলবত থাকাকালীন মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া নিয়ে কমিশন কোনো উচ্চবাচ্যই করল না। বেশিরভাগ মূলধারার মিডিয়াও এ নিয়ে শোরগোল তুলল না। ৫ নভেম্বর হরিয়ানার ভোট চুরি নিয়ে রাহুল গান্ধীর সাংবাদিক সম্মেলন মিডিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেল না। কারণ মিডিয়া এখন লোকে কোন খবর পছন্দ করবে, তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তারা খবর তৈরি করে। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী খবর পরিবেশন নয়, মানুষকে খবর তৈরি করে গেলানোই আজ কর্পোরেট মালিকানাধীন মিডিয়ার কাজ। স্যাঙাত পুঁজিবাদে শাসকের সঙ্গে সখ্য গড়ে কর্পোরেটের হাতে যত পুঁজির পাহাড় জমে, তত মিডিয়ার মালিকানাও তাদের হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়। আর তার সঙ্গে সঙ্গে ভোট ব্যবস্থাতেও কর্পোরেটের সরাসরি প্রভাব বাড়তে থাকে।

বিহারে ভোট ঘোষণার সপ্তাহ তিনেক আগে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিহারের জন্য মোট ৪০,০০০ কোটি টাকা অর্থমূল্যের নানা উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করেন। সেই প্রকল্পগুলির অন্যতম হল, ২৫,০০০ কোটি টাকার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বরাত পেল আদানি গোষ্ঠীর আদানি পাওয়ার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দুদিন আগেই সমঝোতা পত্রে সই সারা হয়ে গিয়েছিল। বিহার স্টেট পাওয়ার জেনারেশন কর্পোরেশনের সঙ্গে আদানি পাওয়ারের চুক্তি অনুযায়ী ২,৪০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১,০৫০ একর জমি ২৫ বছরের জন্য আদানি গোষ্ঠী লিজে পাচ্ছে। লিজ বাবদ বছরে আদানি গোষ্ঠীকে দিতে হবে একর পিছু মাত্র এক টাকা। অথচ চাষিরা ঠিকমত ক্ষতিপূরণ পেলেন না। এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটা হাতে রাখতে গৌতম আদানি যে এনডিএ-র জয় চাইবেন সেকথা বলবার দরকার হয় না। বিকাশের নামে হাজার একরের বেশি জমি কার্যত আদানি গোষ্ঠীকে উপহার দেওয়ার বিনিময়ে বিজেপির কোটি কোটি টাকা অনুদান ও মিডিয়ার বদান্যতা পাওয়ার কার্য-কারণ সম্পর্ক বুঝতে অসুবিধা হয় না। স্যাঙ্গাত পুঁজিবাদের যুগে এটাই হল ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’। মিডিয়ায় মিথ্যা, বিকৃত প্রচার, আড়ম্বরপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারে সব গুলিয়ে দেওয়া হয়। মিডিয়া, নির্বাচন কমিশন, শাসক – সবাই চলে এক সুরে, এক লক্ষ্যে। তাদের আর আলাদা করা যায় না।

সন্দেহ নেই, বিহারে সাফল্যের পর রাষ্ট্রব্যবস্থার এই স্তম্ভগুলোর যৌথ আস্ফালন আরও বাড়বে। আরও বেপরোয়াভাবে অধিকার হরণের চেষ্টা চলবে। শ্রমিকের মজুরি, কাজের নিশ্চয়তা, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য, সকলের কাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য – এসব অধিকার ধীরে ধীরে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোট ব্যবস্থাকেও অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। এবার ছলে বলে কৌশলে ভোট দেওয়ার অধিকারটাকেও অনিশ্চিত করে দিতে পারলে, পুঁজির বিজয়রথ তরতরিয়ে এগোবে। তাই নিত্য নতুন নিয়ম করে, তা মানতে বাধ্য করিয়ে দেশের নাগরিকদের রাষ্ট্রবাদী করা দরকার। নাগরিকরা হবে রাষ্ট্রের অনুগত। আসলে, নাগরিকের জন্য রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্র হল শ্রেণি আধিপত্যের হাতিয়ার।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.