অমৃতকুম্ভ শেষ পর্যন্ত বিষকুম্ভে পর্যবসিত হল। প্রাণ হারালেন আক্ষরিক অর্থেই অগুনতি মানুষ। সরকারের তরফ থেকে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা ধামাচাপা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। সংখ্যাটা ৩০ বলা হলেও বিরোধীদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা কয়েক হাজার। এমনকি নিউজলন্ড্রি ওয়েবসাইট এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে মাত্র দুটো হাসপাতাল আর পুলিসি নথি ঘেঁটে যে সংখ্যা হাজির করেছে সেটাই ৭৯। যেভাবে মৃতদেহ গায়েব করা হচ্ছে তাতে বোধহয় হতাহতের আসল সংখ্যা মানুষ কোনোদিনই জানতে পারবে না। এসব চলছে কোথায়? না, ‘স্বাধীন’ ভারতে। কিছুদিন আগেই প্রধান সংঘচালক মোহন ভাগবত পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতা ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট আসেনি। এসেছে ২০২৪ সালে, যেদিন অযোধ্যায় যেখানে বাবরি মসজিদ ছিল তা ভেঙে ফেলে রামমন্দির বানানোর কাজ শেষ হল। মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হল।

মনে রাখতে হবে, বিজেপি ভারতকে নতুনভাবে গড়তে চাইছে এবং নিশ্চিত গতিতে সেদিকে এগোচ্ছে। এই নতুন ভারতের আত্মা হচ্ছে রাজনৈতিক হিন্দুত্ব। সুতরাং যে স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু মহাসভা বা আরএসএসের যোগদান ছিল না, তাকে অস্বীকার করেই তাকে চলতে হবে। ইংরেজদের তারা কোনোদিনই শত্রু ভাবে না। রাজনৈতিক হিন্দুত্বের বুনিয়াদই তৈরি হয়েছে মুসলমানদের শত্রু হিসাবে ভাবা। একমাত্র তাতেই এই তত্ত্বের ভিত্তি তৈরি হওয়া সম্ভব ছিল। সুতরাং ওদের মতে ভারতে মুসলমান আগমনই হল ভারতের প্রকৃত পরাধীনতার শুরু। সুলতানি সাম্রাজ্য বা মোগল সাম্রাজ্য আসলে ঔপনিবেশিক ভারতের চিহ্ন।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

আরএসএস কখনোই ইংরেজদের শত্রু বলে মনে করেনি, করেছে মুসলমানদের – একথা সাধারণত বিজেপিবিরোধীরা সকলেই বলে থাকেন। কথাটা ঐতিহাসিক ঘটনা পরম্পরায় প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমত, ইংরেজের জেল থেকে মুক্তিলাভের জন্যে বিনায়ক দামোদর সাভারকরের মুচলেকা প্রদান এবং সেই মুচলেকার ভাষা। প্রথম যৌবনে সাভারকর তাঁর ভাইদের মতই ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র কার্যকলাপে জড়িয়ে ছিলেন। লন্ডনে গ্রেপ্তার হন এবং বিচারের জন্যে ভারতে প্রেরিত হন। আন্দামানের সেলুলার জেল থেকে সাভারকর ব্রিটিশ সরকারের কাছে মোট পাঁচবার ক্ষমা প্রার্থনা করে মুচলেকা দিয়েছিলেন – যথাক্রমে ১৯১১, ১৯১৩, ১৯১৪, ১৯১৮ এবং ১৯২০ সালে। এর সবকটা সহজলভ্য নয়। এই মুচলেকাগুলোর একটায় তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন, মুক্তি পেলে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায় ‘I am ready to serve the Government in any capacity they like, for as my conversion is conscientious so I hope my future conduct will be’। অর্থাৎ ‘আমি সরকারের সঙ্গে যে কোনো সহযোগিতা, তাঁরা যেমন চাইবেন, করতে রাজি আছি। যেহেতু আমার এই পরিবর্তন সম্পূর্ণ বিবেকতাড়িত তাই আমি আশা করি যে, আমার ভবিষ্যৎ আচরণও অনুরূপ হবে।’

এই ধরণের মুচলেকা দেওয়া ব্যক্তি যখন কোনো রাজনৈতিক প্রবণতার জন্ম ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তখন খুব স্বাভাবিকভাবে এই ধারণাই হয় যে উক্ত রাজনৈতিক ধারা বা প্রবণতা ব্রিটিশকে শত্রু বলে মনে করতে পারে না। সেটা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, আরএসএস বা হিন্দু মহাসভা কেউই সংগঠন হিসাবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিল না।

তৃতীয়ত, স্বাধীনতা যুদ্ধের কোনো চেতনাই তারা কখনো বহন করেনি। এর সবচেয়ে ভাল প্রমাণ হল, স্বাধীনতার পরে কেমন ভারত তৈরি হবে – এই প্রশ্নের জবাবে তারা সর্বদাই বলে এসেছে যে সেটা হবে হিন্দুদের রাষ্ট্র।

এখানে লক্ষণীয়, যাঁরাই ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতার লড়াইয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন, তাঁরাই বিশ্বাস করতেন যে এই লড়াই শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ের লড়াই নয়। সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোকই ভারতের মুক্তির জন্যে লড়াই করছেন। সুতরাং মুক্ত ভারত হবে সবারই, শুধু হিন্দুদের নয়। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছিল ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিন্তু যারা এই লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেনি, এই লড়াইকে অপ্রয়োজনীয় এবং অবাস্তব বলে মনে করেছে, তাদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবেই এই চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব ছিল না এবং এদের মধ্যেই প্রথম দ্বিজাতিতত্ত্বের বীজ বপন করা হয়। এরাই ভারত ভাগের কাণ্ডারী। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী এবং সাভারকরের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনামূলক আলোচনা করলেই আমরা এই সত্য বুঝতে পারি।

আরো পড়ুন দ্বিজাতিতত্ত্ব ও ভারত ভাগ: চেপে রাখা ইতিহাস

এই লেখায় আমরা সে আলোচনায় ঢুকব না। কিন্তু মনে রাখব যে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিচালনা নিয়ে গান্ধীর অনেক সমালোচনা, যা বিভিন্ন ধারার কমিউনিস্ট এবং আম্বেদকর তথা অস্পৃশ্য আন্দোলনের লোকেরা করেছিলেন, তার অনেক কিছুই সঠিক হলেও একথা সত্য যে, গান্ধী কোনোভাবেই ভারতভাগ চাননি, অথবা স্বাধীন ভারত শুধু হিন্দুদের হবে – এমন ধারণাকে প্রশ্রয় দেননি। তিনি আমরণ এটাই চেয়েছিলেন যে, স্বাধীন অবিভক্ত ভারতে সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে বসবাস করবে। গান্ধীর এই মনোভাব সবথেকে বেশি অপছন্দের ছিল সংঘ পরিবারের। তার ফলেই তাদের হাতে গান্ধী নিহত হন। গান্ধীর এই মনোভাব আজকের কংগ্রেসের মধ্যেও দেখা যায়। এটা ঠিকই যে, কংগ্রেস চিরকালই নরম হিন্দুত্বের মনোভাব নিয়ে চলেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই তাদের এই আপোসমুখিতা খুব পরিষ্কার। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার কোনো বাসনা কখনো দেখা যায়নি। এর প্রধান কারণই হল, ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র করার পরিকল্পনা ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা লড়াইয়ের ঠিক বিপরীত এবং বিরোধী। ফলে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য বহন করে এমন কোনো দলের পক্ষেই ওই পথে হাঁটা সম্ভব নয়। যেহেতু স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং হিন্দুরাষ্ট্র পরস্পরকে নাকচ করে, সেহেতু একের উত্থান অন্যকে বাদ দিয়ে বা খারিজ করেই হওয়া সম্ভব। তাই ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র করার চেষ্টা করতে পারে তারাই, যারা ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়নি এবং তার বিরোধী ছিল। ভারতে একমাত্র সংঘ পরিবারই তেমন শক্তি।

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনেকেই খেয়াল করেন না। তা হল আরএসএস বা হিন্দু মহাসভা জাতীয় সংগঠনগুলো ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিল না কেন? সেটা কি নিছক একটা মুচলেকার ফলাফল? সাভারকার জেলে ছিলেন। বোঝা সম্ভব যে তাঁর ইংরেজের জেলে জীবন কাটিয়ে দেওয়ার মত দৃঢ়তা ছিল না। অপরিণত যৌবনের আবেগে তিনি ব্রিটিশ বিতাড়নের সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আন্দামানের জেলে তাঁর অবস্থা খুবই সঙ্গিন হয়ে পড়ে। সুতরাং তিনি কাকুতি মিনতি করে ছাড়া পেলেন। কিন্তু এটা তো স্রেফ সাভারকরের ব্যক্তিগত বিষয় ছিল না। রাজনৈতিক হিন্দুবাদীদের গোটা একটা ধারা, গোটা রাজনৈতিক শিবির যে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিল না তা তো শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মুচলেকার ফলাফল হতে পারে না। যদি সেই রাজনৈতিক ধারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও ব্রিটিশবিরোধী হত, তাহলে সাভারকরের মত একজন মুচলেকা দিয়ে জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিকে নিজেদের নেতা বলে স্বীকার করে নিত না। তাঁর তো পরিচয় হওয়া উচিত ছিল একজন বিশ্বাসঘাতক হিসাবে।

এ এক গুরুতর প্রশ্ন। এ বিষয়ে কয়েকটা কথা আলোচিত হওয়া দরকার। খেয়াল করলে দেখা যাবে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্রমে রাষ্ট্র ও সমাজের ফ্যাসিকরণের সঙ্গে সঙ্গে আর্য বিতর্ক নতুন করে তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে। সমস্ত প্রমাণ বিপরীত হলেও হিন্দুত্ববাদীরা বরাবর মনে করে থাকে এবং প্রচার করে থাকে যে ভারত হল আর্যদের আদি বাসভূমি। ভারত থেকেই আর্যরা এশিয়ার অন্যত্র ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও হিন্দুত্বের প্রবক্তাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন এর উল্টোটাই সত্য, অর্থাৎ আর্যরা বাইরে থেকে ভারতে এসেছিল। এদের মধ্যে দয়ানন্দ সরস্বতী, বাল গঙ্গাধর তিলক, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। তবু সাভারকরের হাত ধরে হিন্দুত্ববাদী মহলে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে, আর্যরা এই ভারতভূমিরই আদি অধিবাসী। এটাই তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে জুতসই বক্তব্য। তার পক্ষে কোনো প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক। আরএসএসের তাত্ত্বিক গুরু মাধব গোলওয়ালকর ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইন্ড গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘আমরা হিন্দুরা অন্য কোথাও থেকে এদেশে আসিনি। স্মরণাতীত কাল থেকে, যখন অন্য কোনো বিদেশি জাতি এই মাটিতে পা রাখেনি, সেইসময় থেকেই আমরা এ মাটির সন্তান ও এদেশের স্বাভাবিক প্রভু।’ (‘আর্য প্রসঙ্গ: জেনেটিক্স ও পলিটিক্স’ – সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়)

এখন এই বিষয়ে হিন্দুত্ব শিবিরে যতই মতভেদ থাকুক না কেন, এ বিষয়ে তারা দৃঢ়চিত্ত যে, ইউরোপিয় আর ভারতের ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা একই জনগোষ্ঠীর অংশ। তার উপর এই মহান জনগোষ্ঠীই নাকি সারা বিশ্বের সমস্ত উন্নত সভ্যতার জনক। এই ধারণা শুধু ভারতের হিন্দুত্ববাদীদেরই নয়, ইউরোপিয় তাত্ত্বিকদের একাংশের মধ্যেও আছে। রোমিলা থাপার দেখিয়েছেন যে উনবিংশ শতকের জার্মান রোমান্টিকতাবাদ সংস্কৃত সাহিত্যের মধ্যেই বিশ্বজনীন সভ্যতার বীজ খুঁজে পেয়েছিল।

“German Romanticism in the earlier part of the nineteenth century portrayed Sanskrit and Indian culture as encapsulating the noble beginnings of universal civilization.” (‘আর্য প্রসঙ্গ’ থেকে উদ্ধৃত)

ভারতের রাজনৈতিক হিন্দুত্বের প্রবক্তারাও মনে করতেন যে, আর্যরা উন্নত ভাবনাচিন্তা ও কৃষ্টির মালিক। সুতরাং তারাই স্বাভাবিকভাবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের উপর ছড়ি ঘোরাবার, শাসন করার এবং দমন করার অধিকারী। অন্যদিকে ইংরেজরাও একই মনোভাব ও তত্ত্বায়নের দ্বারা ভারতে তাদের শাসনকে যুক্তিসিদ্ধ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। আর এর যুগলবন্দি হিসাবেই আরএসএস, হিন্দু মহাসভা বা সামগ্রিকভাবে সংঘ পরিবার ব্রিটিশ শাসনকে অপরের শাসন বলে ভাবেনি। ফলে তার বিরোধিতা করা বা তাকে উচ্ছেদ করার কোনো কর্মসূচি তাদের ছিল না। আজ এরই ধারাবাহিকতায় তারা মনে করে না যে, ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ইংরেজরা ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে ভারতের স্বাধীনতাপ্রাপ্তি ঘটেছে। ইংরেজরা মোগল সাম্রাজ্য, অর্থাৎ মুসলমান শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিজেদের শাসন প্রবর্তন করেছিল। রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদীরা সেটাকে আশীর্বাদ হিসাবেই দেখেছে। আজ রামমন্দির প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে হিন্দুরাষ্ট্রের দিকে এক কদম এগিয়ে যাওয়াকে তারা যে প্রকৃত স্বাধীনতা বলে বর্ণনা করছে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

শেষ করার আগে আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইব। এখন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের ইতিহাসে এই আর্য রক্তের বিশুদ্ধতার ধারণা বড় জায়গা নিয়েছে। সেটা যেমন গত শতকের জার্মান ফ্যাসিবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তিভূমি হিসাবে কাজ করেছিল, তেমনি বর্তমানে ভারতীয় ফ্যাসিবাদেরও ‘মন কি বাত’ হিসাবে কাজ করছে। এটাও সমান লক্ষণীয় যে, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের শিকড় আমাদের রাজনৈতিক সমাজে অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। কংগ্রেস নেতা হিসাবে রাহুল গান্ধী যেরকম লাগাতার আরএসএস সংগঠনের বিরোধিতা করছেন, তাও ওই স্বাধীনতা সংগ্রামেরই উত্তরাধিকার। কংগ্রেসের নতুন সদর দফতর উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এমনকি একথাও বলেছেন যে, বিজেপি-আরএসএস যেভাবে ভারত রাষ্ট্রের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করে নিয়েছে তাতে এখন কেবল বিজেপি বা আরএসএস নয়, লড়তে হচ্ছে খোদ ভারত রাষ্ট্রেরই বিরুদ্ধে। রাহুলের এই উক্তি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ইতিমধ্যেই ভারতীয় রাষ্ট্রের ফ্যাসিকরণ সম্পূর্ণ। এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের তাৎপর্য যত তাড়াতাড়ি কমিউনিস্ট তথা বাম দলগুলো সমেত দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তি হৃদয়ঙ্গম করে ততই মঙ্গল।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.