বিরোধীপক্ষকে পিছনে ফেলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হল অপ্রতিসম পদক্ষেপ নেওয়া। যেমন রাষ্ট্র পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমন করতে এলে, পালটা মারপিট না করে বা সহিংস পথে না গিয়ে অনশনে বসে যাও। কেউ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে, সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ পথ বেছে নাও। পুলিসি অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে, পুলিসকে গোলাপ ফুল উপহার দাও। এসব করলে রাষ্ট্র বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। আসলে যে পথ সচরাচর কেউ নেয় না, তেমন কোনো পথ নিলেই অন্য পক্ষ বিপাকে পড়ে যায়। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গে ঠিক এ কাজই করছে।

২০১৯ সালের এপ্রিলে খুব ঘটা করে সিএএ-এনআরসির ‘ক্রোনোলজি’ বুঝিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘ক্যা ক্যা ছি ছি’ শব্দে সভাস্থল মাতিয়ে সারা দেশের মত কলকাতাতেও আন্দোলনে শামিল হয়েছিল তৃণমূল। তখন রব উঠেছিল ‘কাগজ আমরা দেখাব না।’ কোভিড চলে আসায় সেসব ধামাচাপা পড়ে যায়। তার পরে কেন্দ্রীয় সরকার দেশব্যাপী এনআরসি নিয়ে বিশেষ এগোয়নি। সবাই একে রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনের সাফল্য বলেই ধরে নিয়েছিলেন। তারপর গত কয়েক মাসে আমরা কী দেখলাম? এসআইআরের নামে এনআরসি-ই হয়ে গেল। লক্ষ লক্ষ বঙ্গবাসীকে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হল তাঁরা ভারতের নাগরিক। লক্ষ লক্ষ নাগরিককে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় পাঠিয়ে দেওয়া হল। তাতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়লেন মালদা-মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু মানুষ।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

লক্ষ করুন, এতে কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সরাসরি ভূমিকা রইল না। ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বা নেওয়ার কোনো এক্তিয়ার নেই নির্বাচন কমিশনের। সংবিধানে বলা রয়েছে, ভারতীয় নাগরিকরাই ভোট দিতে পারেন এবং তা সুনিশ্চিত করতে হবে কমিশনকে। এই ‘মুরগি আগে না ডিম আগে’-র যুক্তিতেই নাগরিকত্ব যাচাই করে নিল নির্বাচন কমিশন।

তারপর এই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে দিল আদালত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসার নিয়োগ করার টালবাহানার অজুহাতে, সাধারণ মানুষের হয়রানি কম করার পরিবর্তে, আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় অফিসার নিয়োগ করা হল। নির্বাচন কমিশন হাত তুলে নিল। এখন বিচারবিভাগীয় অফিসাররা বিচারাধীন ভোটারদের ভাগ্য নির্ণয় করছেন। তার থেকেও বড় কথা হল, আদালত ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দিয়েছে। অর্থাৎ বিচারাধীনদের মধ্যে কারও নাম ভোটার তালিকায় না উঠলে বিচার চাইতে ট্রাইব্যুনালের দারস্থ হতে হবে। সাধারণ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নাম ওঠানো যাবে না! কী? ব্যাপারটায় কীরকম এনআরসি-র গন্ধ আছে না?

পুরো এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ না করে, ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলিয়ে রেখে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিল নির্বাচন কমিশন। ভাবখানা এমন যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তো ফেব্রুয়ারির শেষে হয়েই গেছে। এবার ৬ মে-র মধ্য ভোটের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তাই ভোটের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেল। বাকিটা আদালত আর বিচারবিভাগীয় অফিসাররা বুঝে নেবে। যেমন যেমন বিচারাধীনের তালিকা ধরে ধরে নিষ্পত্তি হবে, তেমন তেমন সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, কোন অজ্ঞাত কারণে তিন সপ্তাহে একটা তালিকাও প্রকাশ করা গেল না কে জানে!

আচ্ছা এবার দেখুন, ভোট কটা দফায় হবে? দুটো। সেই ২০০১ সালের পর এমন সৌভাগ্য পশ্চিমবঙ্গের হয়নি। আট দফার ভোটও দেখে নিয়েছে রাজ্যবাসী। দুই দফায় ভোট হবে মানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার কোনো সমস্যা নেই। তাই নিশ্চয়ই নির্বাচন কমিশন দুই দফায় ভোটগ্রহণে রাজি হয়েছে। কিন্তু না! ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আনতে হবে দুই দফায় ভোট করতে গেলে। রাজ্যের ইতিহাসে দু লাখ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান কখনো ভোট করাতে পশ্চিমবঙ্গে আসেনি।

অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন বুঝিয়ে দিল যে রাজ্য পুলিসের উপর তাদের ভরসা নেই। সেটা প্রমাণ করতেই যেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিসের ডিরেক্টর জেনারেল, কলকাতার পুলিস কমিশনার— সবাইকে বদলি করে দিল। সাম্প্রতিককালে ভোট পরিচালনায় নিরপেক্ষ পুলিস প্রশাসনের কাঠামো তৈরি করতে এমন পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশন করে থাকে বটে। কিন্তু একসঙ্গে এত শীর্ষস্তরের আধিকারিককে বদলির ঘটনা পশ্চিমবঙ্গ কেন, কোনো রাজ্যই দেখেনি।

দু-একদিন পরেই বোঝা গেল, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ অ্যাড হক ভিত্তিতে এই প্রশাসনিক ও পুলিসি রদবদল করছে। আইজি বা ডিআইজি স্তরের অফিসার, ডিএম, এসপি স্তরের অফিসারদের বদল করে দেওয়া হল একে একে। এদিকে বিধাননগর আর শিলিগুড়ির পুলিস কমিশনারকে পুরনো পদেই বহাল রাখা হল। অর্থাৎ এঁদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই তেমন কোনো অভিযোগ নেই। তাই তাঁদের বদলির নির্দেশের পরেও স্বপদে বহাল রাখা হল। তাহলে বদলি কেন করা হয়েছিল? এমন একজন পুলিস অফিসারকে একটা জেলার সুপার করা হল যাঁকে ভাঙড়ের নৌশাদ সিদ্দিকি বনাম তৃণমূল ঝামেলা সামলাতে হিমসিম খেতে হয়েছিল। অনেক জেলাশাসক তো জেলার নির্বাচনী আধিকারিক হিসাবে কাজ করছিলেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে একটু হলেও কি নির্বাচনী প্রস্তুতি টাল খেয়ে যাবে না?

২০২১ সালে রাজীব কুমারকে এডিজি (সিআইডি)-র পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। যুক্তি ছিল— নির্বাচনের কাজে তাঁর কোনোরকম হস্তক্ষেপ আটকানো। অথচ এবার কলকাতার পুলিস কমিশনারকে সরিয়ে সেই সিআইডি-র শীর্ষ পদেই বসানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও নিশ্চয়ই গুরুতর কোনো অভিযোগ ছিল না।

রাজ্যের শীর্ষ ও জেলাস্তরের কর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কে পরামর্শ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে? কার অভিযোগে বদলির খাঁড়া নামছে অফিসারদের উপর? কারণ মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকেই তো প্রথমে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। অনেক অফিসারকে তো পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে তামিলনাড়ু ও কেরালায় নির্বাচনের কাজেই পাঠানো হয়েছে। তার মানে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কাজ করতে তাঁরা দক্ষ নন, কিন্তু অন্য রাজ্যে তাঁদের দক্ষতা প্রশ্নাতীত?

আসল কথা হল, মমতা ব্যানার্জি যে শাসক-অনুগত পুলিস ও প্রশাসন তৈরি করেছিলেন তারই মাশুল দিতে হচ্ছে দক্ষ আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ না হয়েও অনেককে সরে যেতে হচ্ছে, অনেকে ভয়ে ভয়ে রয়েছেন। হয়ত নির্বাচন কমিশন এই ভয় ঢুকিয়ে দিতেই এই ধরনের রদবদল করছে।

সুতরাং এনআরসি না করেই কাগজ দেখানো, নাগরিকত্ব প্রমাণ, ট্রাইব্যুনাল— সব হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি না করেই এক ধরনের কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপে পুলিস ও প্রশাসনের পুরো ব্যবস্থা ঘেঁটে দেওয়া গেল। এবার শোনা যাচ্ছে, বাইরের রাজ্য থেকে অফিসারদের এনে ভোট করানোর ব্যবস্থা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। খুব বেশি ঝামেলা হলে ভোটটাই হয়ত হবে না। তার জন্য প্রাক্তন আইবি কর্তা এন রবিকে রাজভবনে বসানো রয়েছে আগেই। সত্যিই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে তিনি সামলে নেবেন সবটা।

আরো পড়ুন বিচারাধীন ভোটার ও ট্রাইব্যুনাল: আসাম মডেলের মুখোমুখি পশ্চিমবঙ্গ

পুরো প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ বোধহয় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। কারণ কেউ সাধারণ মানুষের হয়রানির বিষয়টা নিয়ে কোনো আন্দোলনই দাঁড় করাতে পারল না। বিজেপি নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে খুশি। কারণ এসআইআরের আবহে কোটি কোটি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর তত্ত্বে তা দেওয়া গেল। নিজেদের সংগঠন থাক বা না থাক, এই গোলমালে যদি আসন সংখ্যা বাড়ে বা তালেগোলে পশ্চিমবঙ্গে তারা ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে তো কেল্লা ফতে।

মমতা বিপদে পড়বেন বলে প্রথম প্রথম দু বাহু তুলে নেত্য করছিলেন বাম নেতারা। যতদিনে তাঁরা ক্রোনোলজি বুঝলেন, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রাহুল গান্ধীর কাছে পশ্চিমবঙ্গের বোধহয় কোনও অস্তিত্বই নেই। ভোটার তালিকার কারচুপি নিয়ে এত হৈচৈ করে পশ্চিমবঙ্গের বেলায় তিনি চুপ করে গেলেন। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস দলটিকেই তিনি কেন যে রেখেছেন, কে জানে!

তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমে ভেবেছিল পাড়ায় পাড়ায় সংগঠন ও সরকারি অফিসারদের দিয়ে ব্যাপারটা ম্যানেজ করে নেবে। কিন্তু এসআইআরের দ্বিতীয় দফা থেকেই খেলা তাদের হাতের বাইরে। আদালতে গিয়ে ব্যাপারটা আরও জটিল হয়েছে সন্দেহ নেই। মমতা চেষ্টা করেছিলেন বটে, কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে তিনি এই খেলা থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। তাই তিনিও পরামর্শ দিচ্ছেন সংযোজিত ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ট্রাইব্যুনালে যান। হয় তাঁর দলের আভ্যন্তরীণ হিসাবে তিনি বিজেপির থেকে এগিয়ে রয়েছেন, অথবা তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

যেমন কয়েকদিন তিনি ধর্মতলায় ধর্না দিলেন ঠিকই, কিন্তু কেন ধর্না দিলেন এবং কিসের ভিত্তিতে ধর্না তুলে নিলেন (অভিষেক ব্যানার্জির অনুরোধে), তা তিনিই জানেন। তিনি যে চাপে পড়েছেন তা ধর্না মঞ্চ থেকেই একটি অত্যন্ত নিম্নরুচির ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক কথা দিয়েই প্রমাণ করে দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, আমরা আছি বলেই আপনারা ভালো আছেন। আর যদি আমরা না থাকি, যদি সেরকম সময় আসে, এক সেকেন্ড সময় লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে। কোন কমিউনিটি তা তিনি নাম করে বলেননি, কিন্তু সেটা কারও বুঝতে বাকি নেই। তবে শুধুই ৩০% সংখ্যালঘু আর বাঙালিদের বিজেপির জুজু দেখিয়েই যে তিনি প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার হাওয়া অনায়াসে সামলে ফেলবেন, তেমনটা না-ও হতে পারে।

আসলে এসআইআরের নিশানা মালদা-মুর্শিদাবাদ-উত্তর দিনাজপুর বলে সংখ্যালঘুরা এই প্রক্রিয়ায় বেশি বিপদে পড়েছেন ঠিকই। কিন্তু সংখ্যাগুরুরাও কম বিপদে পড়েননি। শুধুই সংখ্যালঘুদের বিপদ মনে করে এসআইআর প্রক্রিয়ার খামতিগুলো যেন লঘু হয়ে যাচ্ছে রাজ্যের এক বড় অংশের মানুষের কাছে। বিশেষত যাঁরা মনে করেন সংখ্যালঘুরা হিন্দুদের জন্য বিপদ।

প্রশাসনিক রদবদলের রীতিনীতি শিকেয় তুলে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের এক তরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু আইনের চোখে ওগুলোর কোনোটাই অবৈধ নয়। আদালতের দ্বারস্থ হলেও তা কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। কারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেলে নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনবলেই বিপুল ক্ষমতা এসে যায়। আদালতও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সাধারণত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে নির্বাচন কমিশনের নানা পদক্ষেপই কি বিজেপির আসল গেমপ্ল্যান? শিক্ষক দুর্নীতি, আর জি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে কয়লা ও গরু পাচার, রেশন দুর্নীতি— বিজেপির কাছে তো মমতার বিরুদ্ধে ইস্যু কম ছিল না। কেন্দ্রে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে নাগরিক আন্দোলনকে হাতিয়ার করে মনমোহন সিংয়ের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের মত রাজ্যে তারা সেটা পারল না কেন? এ রাজ্যে সাম্প্রদায়িক ইস্যু ছাড়া অন্য কোনো নাগরিক ইস্যুতেই বিজেপি স্বাভাবিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে না। বামেদের থেকে আসা ভোটের ভরসায় বিজেপি লম্বা রেসে যেতে পারবে না। আবার শুধুমাত্র শহুরে মধ্যবিত্তের উপর ভরসা করেও নদী পার করা কঠিন।

আসলে সারারাজ্যে গেরুয়া বাহিনীর তেমন সংগঠন নেই যা তৃণমূলের সংগঠনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। মমতার সরকারি অব্যবস্থার বিকল্প কোনো ভাবনা নেই বিজেপির। সপ্তম পে কমিশন এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছাড়া নজর কাড়া কোনো কথা বিজেপির সভায় শোনা যায়নি। সিঙ্গুরে এসেও প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড় শিল্পের কথা মুখে আনতে পারেননি। তাই ঘুরপথেই কি মমতাকে কোণঠাসা করতে উদ্যোগী হয়েছে গেরুয়া শিবির?

নির্বাচনের এখন আর মাসখানেক বাকি। এই এক মাসে কোথাকার জল কোথায় গড়ায় তা দেখতে হবে। আপাতত ‘আপ ক্রোনোলজি সমঝিয়ে’।

মতামত ব্যক্তিগত

দেখুন এসআইআর নিয়ে আমাদের পডকাস্ট

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

মতামত জানান

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.