ইমাম গাজ্জালী
১
কোনো পরিবর্তনই চেনা পথে সংঘটিত হয় না। সরল পথেও নয়। আগেকার অনেক ব্যাকরণ উলটপালট করে দিয়ে নতুন পরিবর্তন নিজস্ব পথ করে নেয়। এ কারণে প্রতিটি পরিবর্তনের থাকে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, থাকে নিজস্ব সুমহান ঐতিহ্য। কোনো পরিবর্তনের নেতার যদি অন্য কোনো পরিবর্তনের ঘটনাক্রম ও বৈশিষ্ট অনুসরণ বা অনুকরণ করতে যান, তাহলে তিনি জুতোর মাপে পা ছেঁটে দেওয়ার কাজই করবেন, কিন্তু নতুন পরিবর্তনের সুর ধরতে পারবেন না। একটা দেশে আগের পরিবর্তনের কোনো কোনো ঐতিহ্য, গৌরব, আবেগ ও ভাবাদর্শকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে, সেই পরিবর্তনের বহু অপূর্ণ কাজ পরিবর্তিত বাস্তবতায় আত্মীকরণ করে নতুন পরিবর্তন সংঘটিত হতে পারে। কখনো কখনো পুরনো অনেক কিছু ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। কেউ যদি আগের পরিবর্তনের ঐতিহ্য, আবেগ, গৌরব ও ভাবাদর্শ শক্ত করে ধরে রাখেন; ধর্মীয় ভক্তিবাদের মত পুরনো পরিবর্তনের ঐতিহ্য, আবেগ, গৌরব ও ভাবাদর্শের গণ্ডি অতিক্রম করতে ব্যর্থ হন, তাঁর পক্ষে পরবর্তী পরিবর্তনের সুরটি অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। শুধু তাই নয়, তিনি পরবর্তী পরিবর্তনের ঘটনায় ঘোর প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হতে পারেন। একই ব্যক্তি প্রথম পরিবর্তনে প্রগতিশীল, ঠিক তার পরের পরিবর্তনে প্রতিক্রিয়াশীল – এমন নজির দেশে ও বিদেশে ভুরি ভুরি। বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন, যা শেষপর্যন্ত শেখ হাসিনার পতন ঘটাল, তা নিয়ে বহু প্রগতিশীলের মন্তব্যে তেমন প্রতিক্রিয়ার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি আন্দোলনেই দেশি-বিদেশি নানা স্বার্থান্বেষী মহল নিজ নিজ স্বার্থে জড়িয়ে পড়ে, আন্দোলনকে নিজ নিজ স্বার্থে কাজে লাগাতে চায়। আন্দোলনের সঠিক দিশা না থাকলে সেইসব চাপে আন্দোলন দিগভ্রান্ত হতে পারে। তখন মুখোশধারী গণবিরোধী মহল সফল হতে পারে। তা সত্ত্বেও গণঅভ্যুত্থান ঘটে আভ্যন্তরীণ শর্তে ও শক্তিতে। শাসকরা প্রতিটি আন্দোলনেই বাইরের শক্তির ইন্ধন ও ষড়যন্ত্রের চিরাচরিত অভিযোগ করে থাকেন। ষড়যন্ত্র কিছু লোক করতে পারে, কিন্তু গণঅভ্যুত্থান ঘটে বিপুলসংখ্যক মানুষের সাধারণ আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।
একটি পরিবর্তনের অর্জিত ভাবাদর্শের শক্তি সেই সমাজকে একটা পর্যায় পর্যন্ত এগিয়ে নিতে পারে, কিন্তু তা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। এক পর্যায়ের পর সেই অর্জিত ভাবাদর্শ দিয়ে পরিবর্তিত সময়কে এগিয়ে নেওয়া যায় না, তাকে ব্যাখ্যাও করা যায় না। তখন পরিবর্তিত সময় পুরানো ভাবাদর্শে নিজেকে আটকে রাখতে পারে না। আরেকটি পরিবর্তন সমাজ অনুভব করে। সেই পরিবর্তনের জন্য নতুন ভাবাদর্শের প্রয়োজন হয়। পরিবর্তিত ভাবাদর্শিক অর্জন পরবর্তী সময়কে আরেকটি পর্যায় পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি ধারণ করে। কেউ যদি সেই আগের অর্জিত ভাবাদর্শকেই স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান করেন, তার অর্জনে নিজেকে বিমোহিত রাখেন, তাহলে তাঁর দ্বারা নতুন পরিবর্তনের সুর বোঝা সম্ভব নয়।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শিক শক্তি সেই ১৯৭২ সাল থেকেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে। কারণ আজ পর্যন্ত যে মুক্তিযুদ্ধের চর্চা হয়েছে সেটা ছিল আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ, জনগণের মুক্তিযুদ্ধ নয়। জনগণের মুক্তিযুদ্ধের বয়ান এখন পর্যন্ত নির্মিতই হয়নি। স্বাধীনতার পরপর ১৯৭২-৭৫ এ জাসদ, সর্বহারা পার্টিসহ বেশ কিছু বামপন্থী দলের সংগ্রামে সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। নানা আভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা ও বিচ্যুতির কারণে সেইসময় সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এখন ২০২৪ সালে এসে আবার জনগণের মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্য নির্মাণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২
বাংলাদেশের ভিত্তি একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সুমহান ঐতিহ্য, গৌরব ও ভাবাদর্শের উপরেই বাংলাদেশের দাঁড়ানোর কথা ছিল। শাসকদের নানা কারসাজিতে তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রতারণামূলক ঐতিহ্য, প্রতারণামূলক গৌরব এবং ভুল বিবরণীর উপর। কারণ মুক্তিযুদ্ধকে করে তোলা হয়েছে আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ। এদেশে বিএনপি আর জাতীয় পার্টিও অবস্থান করছে আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় বা অধীনে। কিছু কিছু হেরফের ছাড়া তারাও ধারণ করে আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের বয়ান। বর্তমানে লড়াইত্যাগী জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি একই ধারায় লীন হয়ে আছে। অপর দিকে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ প্রমুখ দল আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে জনগণের মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্য নির্মাণ করেনি। তাদের ভিন্ন কোনো ভাষ্য নেই এবং এ ব্যাপারে কোনো আয়োজনও দৃশ্যমান নয়। এই কারণে মুক্তিযুদ্ধের প্রতারণামূলক ঐতিহ্য, গৌরব, ভুল বিবরণীই স্বমহিমায় বহাল। তার উপর নির্ভর করেই দেশে দুঃশাসন জারি রাখতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে সর্বহারা পার্টির বইপত্রে শেখ মুজিবকে ‘জাতীয় বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় জাসদের লড়াকু অবস্থানে মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী ভাষ্য নির্মাণ বড় বাধার সৃষ্টি করে। সর্বহারা পার্টি খণ্ডবিখণ্ড ও লুপ্তপ্রায়, একই অবস্থা জাসদের। শুধু তাই নয় জাসদ ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে’। তখন আওয়ামী লীগ আপন মনের মাধুরী মিশায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখেছে। বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না। কিন্তু সঠিক বাংলাদেশকে পেতে চাইলে আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে জনগণের মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্য নির্মাণ জরুরি।
কারণ যে দলের প্রধান নেতার নামে দেশটি স্বাধীন হয়েছে, সেই দলের প্রায় কোনো নেতাকর্মীরই মুক্তিযুদ্ধে যে কোনো ভূমিকা ছিল না, একথা বলাই যায়।
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোভাগে ছিল আওয়ামী লীগ এবং সে যুদ্ধে অনুপস্থিত থেকেও একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।’
(আজিজুর রহমান ও সৈয়দ আনোয়ার হোসেন; ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক ভিত্তি’; ড. সিরাজুল ইসলাম (সম্পাদিত), বাংলাদেশের ইতিহাস, ১ম খন্ড, এশিয়াটিক সোসাইটি।)
একাত্তরে জনগণকে শত্রুর মুখে মৃত্যু অসহায় অবস্থায় ঠেলে দিয়ে যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলেন আর নেতারা ভারতে চলে গেলেন। তারপর জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শেখ মুজিবের অবর্তমানে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগের বাইরেও বিভিন্ন বামপন্থী দল, গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধের শেষের দিকে ভারতফেরত মুক্তিযোদ্ধারা আসতে থাকেন এবং সেই প্রতিরোধে সামিল হন। আওয়ামী লীগের নেতারা কলকাতায় আনন্দ ফুর্তি করে সময় কাটাচ্ছিলেন বলে অনেকের অভিযোগ আছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধ করেছেন। শেখ মুজিবের নামে তাঁরা যুদ্ধ করেছেন, কিন্তু কোনো দলের দিকনির্দেশ ছিল না। বামপন্থীদের মধ্যে বড় বড় শিক্ষিত, পরিশ্রমী আন্তরিক নেতা বা তাত্ত্বিক থাকলেও তাঁরা জনগণের ভাষা বুঝতে সক্ষম হননি। তাঁরা ভ্রান্তিমুক্ত ছিলেন না। সেই ধারাবাহিকতা আজও চলেছে।
তার আগে মওলানা ভাসানী স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের দাবি করেছিলেন। পাকিস্তানই, তবে আলাদা দেশ। তা স্বাধীনতা নাকি বিচ্ছিন্নতাবাদ – তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ আছে। একই অভিযোগ করা যায় ছয় দফা রাজনীতির বিরুদ্ধে। কিন্তু ছাত্র লীগের নিউক্লিয়াসপন্থী অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদের পর্ব অতিক্রম করে একে স্বাধীনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। ভাসানীর কাছে নিউক্লিয়াসের মত এমন শক্তির অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়নি। উপরন্তু ভাসানীর স্বাধিকার আন্দোলন যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উপনীত হয়, ঠিক তখনই কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়। চীনপন্থী কমিউনিস্টরা তাঁকে পরিত্যাগ করে আর রুশপন্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সেই ফাঁকে বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী ধারা পরিপুষ্ট হতে থাকে। ভাসানীর নেতৃত্বে বামপন্থীদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের তৈরি করা জমি পেয়ে যায় বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদীরা।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাজউদ্দীনের দূরত্ব বাড়তে থাকে। ১৯৭৪ সালে তাঁকে মুজিব বরখাস্ত করেন, কোলে তুলে নেন খন্দকার মোস্তাক আহমেদকে। তাজউদ্দীন ও খন্দকার মোস্তাক – এই দুই ব্যক্তিকেই নিজ নেতৃত্বের ছায়ায় রাখতেন শেখ মুজিব। প্রথম জন মনেপ্রাণে স্বাধীনতা চাইতেন, দ্বিতীয় জন স্বাধীনতার জন্য রাজি হয়েছিলেন বা পরিস্থিতির কারণে রাজি হতে হয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান ভাঙুক তা দ্বিতীয় জন মনেপ্রাণে চাননি। স্বাধীনতার জন্য তাজউদ্দীনকে মুজিব জায়গা দিয়েছিলেন, কিন্তু স্বাধীন দেশে আর তাজের জায়গা হয়নি।
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের নির্বাচনে কুমিল্লার মুরাদনগর আসন থেকে জিতেছিলেন জাসদের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার মোস্তাককে জেতানোর জন্য শেখ মুজিব ব্যালট বাক্স হেলিকপ্টারে উড়িয়ে বঙ্গভবনে নিয়ে এসে গণনা করান। যথারীতি খন্দকার মোস্তাককে জেতানো হয়। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আসন থেকে তাহেরউদ্দীন ঠাকুরকে জেতানো হয়।
আরো পড়ুন শ্যাম বেনেগালের মুজিব জরুরি, কিন্তু অপর্যাপ্ত
অপর দিকে, সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের যে অংশটি ছয় দফাকে টেনে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গেছে, মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত করেছে, সেই অংশকে শেখ মুজিব তাঁর নেতৃত্ব কাঠামো থেকে ১৯৭২ সালের বাতিল করে দেন। অনুমোদন দেন ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণির অংশকে। তাজউদ্দীনের জায়গায় মোস্তাক এবং সিরাজুল আলম খানের জায়গায় শেখ মণিকে জায়গা দেন। এঁদের দুর্বৃত্ত বললেও কম বলা হবে। এঁদের ক্ষমতার কেন্দ্রে এনেই শেখ মুজিব বাংলাদেশ শাসন শুরু করেন। তিনি যখন বলেন, ‘সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি।’ তখন হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে যায়। কারণ যিনি সোনার লোকদের ছুড়ে ফেলে দিয়ে চোরের খনি দিয়েই শাসন শুরু করলেন, তাঁর এসব কথা শুনলে হাসি চেপে রাখা দুষ্কর।
মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতিমান অংশকে ক্ষমতার বাইরে রেখে দুর্বৃত্ত অংশকে নিয়ে যে ক্ষমতা কাঠামো তৈরি হয়, নানা রাজনৈতিক পালাবদলে সেই ধারাটিই বজায় রয়েছে। দল ও ব্যক্তি বদল হলেও সেই ধারাই বহমান। শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ মালেক গ্রুপ, মিজান গ্রুপ, বাকশাল – এমন নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে এসে মালেক গ্রুপের আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। উল্লেখ্য মালেক উকিল ছিলেন মুজিব নিহত হওয়ার পর খন্দকার মোস্তাকের মন্ত্রিসভার সদস্য।
বলা চলে, বর্তমান আওয়ামী লীগ হল মোস্তাক-মণির আওয়ামী লীগ। এই অংশ আদৌ স্বাধীনতা চায়নি। পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আছে মোস্তাকের বিরুদ্ধে। মুজিবের হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগ না থাকলে হয়ত মুজিবের ছবির পাশে মোস্তাকের ছবিই শোভা পেত।
হাসিনার আওয়ামী লীগ যে মুক্তিযুদ্ধের দোহাই দিয়ে জোর করে, অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকছিল, তা সম্ভব হচ্ছিল জাসদ ও বামপন্থী স্বপক্ষত্যাগীদের কারণে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান প্রতারণামূলক। এরা মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতারণার স্বরূপ উম্মোচন করতে পারতেন, তাঁরাই এখন নৌকার মাঝিমাল্লা। এর বিপরীতে জনগণের মুক্তিযুদ্ধের বয়ান নির্মাণ হোঁচট খাচ্ছে। অথচ স্বাধীনতার পরপরই জাসদের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের গণভাষ্য নির্মাণ সম্ভব ছিল। কিন্তু জাসদ নিজের ভ্রান্তির খাদে নিজেই ডুবেছে, এতে রক্ষা পেয়েছে আওয়ামী লীগ।
বর্তমানে আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ আর কাজ করছে না। আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের চরম প্রতিক্রিয়াশীল স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। এখন সময়ের দাবি মুক্তিযুদ্ধের গণভাষ্য নির্মাণ। মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও গৌরব রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্তিযুদ্ধের পতাকা কেড়ে নেওয়া দরকার।
পরবর্তী অংশ আগামীকাল
নিবন্ধকার বাংলাদেশের সাংবাদিক। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








