আরেকটা ভালোবাসার দিন এল এবং গেল। দেশের নানা জায়গায় আরও কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা প্রমাণ করল, আমরা ভালোবাসা ভালোবাসি না।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে ভালোবাসার নামে বেচাকেনা ও হইচই আমাদের প্রজন্মের মানুষের কাছে কিছুটা বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে, তবে এই উদযাপন কমবেশি আগেও ছিল, তা নিয়ে গুন্ডামি করার প্রবণতাটা নতুন। এটা নতুন ভারতের বৈশিষ্ট্য।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
সোশাল মিডিয়ায় প্রেম দিবসে অনেক সুন্দর সুন্দর পোস্ট পড়লাম। কয়েকটা পোস্ট খুব চমৎকারভাবে এই দিনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেছে—এই দিনটা সকলের, সকলকেই ভালোবাসার দিন; শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার একে অপরকে গোলাপ ফুল দেওয়ার দিন নয়। বিশ্বমানবতার যে মূল কথা –ভালোবাসা, তাকে আরেকবার মনেপ্রাণে অনুভব করার, প্রকাশ করার দিন। এইসব পড়ে মনে পড়ল, আমাদের দেশে মানুষে-মানুষে ভালোবাসা, প্রতিবেশীর প্রতি প্রতিবেশী দেশের ভালোবাসা— আজ কোন তলানিতে এসে ঠেকেছে।
কদিন আগে বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন শেষ হল। আমরা সকলেই সেদেশের সরকারকে মানবাধিকার, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের কথা স্মরণ করিয়েছি, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছি। এ-ও এক ধরনের ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ। কিন্তু সেই একই ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় নিজের দেশে, নিজের পাড়ায়, নিজের পরিবারে ছড়িয়ে দিতে আমাদের এত কার্পণ্য কেন? শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে উত্তর থেকে দক্ষিণ ভারতের নানা রাজ্যে বাঙালি প্রবাসী শ্রমিকরা মার খাচ্ছেন, খুন হচ্ছেন, পুলিশের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। সবটাই রাজনীতির অংশ, অথচ এ রাজ্যের বাঙালি সমাজে এর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ নেই।
মনে পড়ে গেল, ২০১৭ সালে যখন গোরক্ষকদের তাণ্ডব সারা দেশে মহামারীর আকার নিয়েছিল, যার শিকার হচ্ছিলেন নিরীহ মুসলমানরা, তখন আমরা শহুরে শিক্ষিত মানুষেরা ‘Not in my name’, অর্থাৎ আমার নামে (সংখ্যাগুরু জনগণের নামে) এসব করা চলবে না বলে প্ল্যাকার্ড হাতে শহরে জমায়েত করেছিলাম। আমিও অংশ নিয়েছি তাতে, মনে হয়েছে কর্তব্য করলাম। কিন্তু অচিরেই স্পষ্ট হয়েছে, আর পাঁচটা শৌখিন মজদুরির মত এই প্রতিবাদের প্রভাবও ছিল ক্ষণস্থায়ী, কারণ এখান থেকে ভবিষ্যতের কোনো কর্মপন্থা স্থির করা হয়নি। আমার নামে শুধু নয়, কোনো অজুহাতেই যে এই ধরনের অপরাধ আমরা মানব না— সেই বার্তা হয়ত যথেষ্ট জোরের সঙ্গে দেওয়া যায়নি। আরও বড় কথা, এতে আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য। এই প্রসঙ্গে অনতি অতীতের রাত দখল আন্দোলনের কথা মনে পড়ছে। এইসব প্রতিবাদ দরকার, কিন্তু তারপর সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি না থাকলে এবং আন্দোলনটা শুধু শহরের ভদ্রসমাজের হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, প্রতীকী হয়ে পড়ে। প্রতীকী আন্দোলনও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাতে বৃহত্তর রাজনীতি বা সামাজিক ব্যবস্থা বদলায় না।
এতসব কথা এই ভালোবাসা দিবস উপলক্ষেই মনে এল, তাই লিখছি। বিগত দশকের রাজনীতি দেশে ঘৃণার চাষ করেছে। সেই ঘৃণা শুধু রাজনৈতিক দলের দলাদলির মধ্যে সীমিত নয়, সেই ঘৃণা অত্যন্ত পরিকল্পনা করে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, উস্কে দেওয়া হয়েছে মানুষের মনে জমে থাকা অজ্ঞানতার অন্ধকার। অন্যদিকে শুভবুদ্ধি, ভালোবাসা, সহমর্মিতা দেখানোর অপরাধে বহু মানুষ সামাজিক বয়কট থেকে শুরু করে পুলিশের হয়রানি পর্যন্ত অনেককিছুর শিকার হয়েছেন, সর্বশেষ উদাহরণ উত্তরাখণ্ডের মহম্মদ দীপক বা দীপক কুমার। প্রতিবেশী মুসলমান ব্যবসায়ীকে বজরং দলের গুন্ডামির হাত থেকে রক্ষা করার পুরস্কার হিসাবে তিনি শুধু সামাজিক বয়কটের শিকারই হচ্ছেন না, তাঁকে খোলাখুলি খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক পরিসরে এই ব্যাধি কতখানি গভীর আর সুশিক্ষিত মানুষ কীভাবে তার দ্বারা প্রভাবিত, সে সম্পর্কে নিজের একটা অভিজ্ঞতা মনে পড়ছে। বাংলাদেশে যখন ২০২৫ সালের জুলাই বিপ্লব হয়, তখন আমি জেন জি-র এই আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের দমননীতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গেও যে পরোক্ষ অন্যায় সেদেশে করা হয়েছে, তা নিয়ে ফেসবুকে দু-চার কথা লিখেছিলাম। আমার এক প্রাক্তন ‘সংস্কৃতিমনা’ শিক্ষক তা নিয়ে নানা তির্যক মন্তব্য করেন। আমি এড়িয়ে যাই, বর্ষীয়ান শিক্ষকের প্রতি সাধারণ সম্মান দেখানোর শিষ্টাচার থেকে। এরপর বাংলাদেশে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। যেমন শেখ মুজিবের বাড়ি ভাঙা, মূর্তির উপরে মূত্রত্যাগ ইত্যাদি। নানা জায়গা থেকে আওয়ামী লীগ কর্মীদের এবং হিন্দুদের আক্রান্ত হওয়ার খবর আসতে থাকে, আমাদের গোদি মিডিয়া তিলকে তাল করার কাজও প্রত্যাশিতভাবেই করতে থাকে। এরপর আমার সেই শিক্ষক, প্রকাশ্যে কোনো কারণ বা অজুহাত ছাড়াই আমাকে মৌলবাদী বলে গাল পাড়তে থাকেন। তাঁকে ফেসবুকে ব্লক করলে সেই অশীতিপর বৃদ্ধ আমাকে হোয়াটস্যাপ করে গালিগালাজ করেন। শেষে সেখানেও ব্লক করতে বাধ্য হই।
এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই রকম ‘শিক্ষিত’ মানুষে শহুরে সমাজ ভরে গেছে। এঁরা নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কে নিরাসক্ত, কিন্তু অন্য দেশের সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে মুখর। এবারের প্রেম দিবসে মূলত এঁদের জন্যই মনে হল, কিছু পুরনো কেসের বর্তমান অবস্থা নিয়ে লিখি, যাতে আমাদের এই সামাজিক ভণ্ডামির মুখোশটা অন্তত চিনতে পারা যায়।
প্রথমেই বলি, সেই অস্ট্রেলিয়ান পাদরি গ্রাহাম স্টেইনস ও তাঁর দুই শিশুপুত্রের কথা, ১৯৯৯ সালে ওড়িশায় যাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল কিছু সন্ত্রাসবাদী। তাদের প্রধান ছিল বিজেপির ও বজরং দলের সদস্য এবং আরএসএস-ঘনিষ্ঠ রবীন্দ্র কুমার পাল, ওরফে দারা সিং। দেশ ও বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ফলে সেই অপরাধীরা গ্রেপ্তার হয়, বিচারে দারার ফাঁসি, পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, হয়। তার সাঙ্গোপাঙ্গদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। গতবছর অন্যতম প্রধান অপরাধী মহেন্দ্র হেমব্রমকে সদাচরণের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তি দিয়েছে ওড়িশা সরকার।
বড় আকারে ঘৃণাজনিত অপরাধের (hate crime) ঘটনার সূচনাবিন্দু বলা যায় স্টেইনসদের হত্যাকে। এরপরে অনেকের কথা আমরা বিস্মৃত হয়েছি। আখলাক আহমেদ, পেহলু খান, জুনায়েদ, মহম্মদ আফরাজুল, তীকারাম মীনা, আব্দুল কাদারভাই ভানপুরওয়ালা, আসগর আব্বাস শেখ, সঈদ সাইফুল্লা— তালিকা অনেক লম্বা। সব নাম লিখতে গেলে একখানা চটি বই হয়ে যাবে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মৌলবাদী হিন্দু সন্ত্রাসবাদীরা খুন করেছে। কখনো বাড়িতে ঢুকে, কখনো চলন্ত ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, কখনো চলন্ত ট্রেনে গুলি চালিয়ে, আবার কখনো জীবন্ত জ্বালিয়ে দিয়ে সেই ভিডিও বীরদর্পে প্রচার করে। গোরক্ষার নামে গণধোলাই তো নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরো পড়ুন হিন্দুরাষ্ট্রের হিন্দু নাগরিকের পিঠ বাঁচানোর চিঠি
এই ঘটনাগুলোর মধ্যে আরেকটা মিল আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীদের শাস্তি হয়নি বা অত্যন্ত লঘু শাস্তি হয়েছে, পুলিশ ভালো করে তদন্ত করেনি (সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও)। প্রায় সবক্ষেত্রেই মিডিয়া তথা সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন প্রতিবাদের ঢেউ ওঠেনি। ১৯৯৯ সালে আমি একটা গবেষণার কাজে ওড়িশায় ছিলাম, তখন মহিলা মহলের আলোচনায় খুনি দারার প্রতি সরাসরি সমর্থন দেখেছি। বিলকিস বানোর কথাও কি ভোলা যায়? তাঁর অপরাধীদের মুক্তি দিয়ে ফুলমালা দিয়ে, মিষ্টি মুখ করিয়ে মূলস্রোতে ফিরিয়ে নিতেও তো আমরা দেখেছি। সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আবেদন করে সেই ধর্ষকদের জেলে ফেরত পাঠানো গিয়েছিল।
এই হল এদেশের ভালোবাসার বাস্তুতন্ত্র। ফলে এমন হয়েছে যে প্রেম দিবসে বজরং দল ও সমমনস্ক সংগঠনগুলোর গুন্ডামির ছবি, প্রেমিক-প্রেমিকাদের মারধোর করার ছবি সোশাল মিডিয়ায় না এলে এখন অবাক হই। এবারে অবশ্য নিচের ভিডিওর মত এক-আধটা দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেরাই এই গুন্ডাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে, ফলে এদের লেজ তুলে পালাতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য এই ঘৃণার চাষের ফসল ভোটবাক্সে দেখতে পাচ্ছে, তাই এটা তাদের প্রচারের প্রধান অস্ত্র। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে পোশাক দেখে মানুষ চেনার ইঙ্গিতসহ আরও নানা সাম্প্রদায়িক কথা নানা সময়ে বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বাঙালিদের উইপোকাও বলে ফেলেছেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা কার্যত সে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিকভাবে বয়কট করতে এবং যতরকমভাবে সম্ভব সমস্যায় ফেলার ডাক দিয়েছেন। মুসলমানদের দিকে তাঁর বন্দুক তাক করা ভিডিও-ও বেরিয়েছিল, পরে প্রতিবাদের মুখে তা ডিলিট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নীরব, সুপ্রিম কোর্ট হিমন্তর বিরুদ্ধে পিটিশনারদের আবেদন পর্যন্ত হাইকোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। দি ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে ঘৃণাভাষণ বেড়েছে ১৩%। এ তো গেল ক্ষমতাসীনদের কথা, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকালে সেখানেও কোনো বিকল্প ভালোবাসার বয়ান নেই। আছে মিনমিনে প্রতিবাদ ও ভোটব্যাংকের হিসাব।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো ঘৃণাজনিত অপরাধকে আলাদা বিভাগ হিসাবে গণ্য করে কোনো হিসাব রাখে না। গোরক্ষা সংক্রান্ত খুনখারাপির হিসাব নাকি রাখা সম্ভব নয়, কারণ পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করে না। এছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধি সরিয়ে যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আনা হয়েছে, সেখানেও ঘৃণাজনিত অপরাধের আলাদা বিভাগ নেই।
অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (APCR) ও কুইল ফাউন্ডেশন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুন ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্বে দেশে ৯৪৭টি ঘৃণাজনিত অপরাধ হয়েছে। তার মধ্যে ৪১৯ জন আক্রান্ত মুসলমান, বাকিরা খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশ এই অপরাধের তালিকায় শীর্ষে। ভেবে দেখুন, এই সময়কালে আমরা যতখানি পাশের দেশের হিন্দুদের সুরক্ষা নিয়ে সরব ছিলাম (সঠিকভাবেই), ততটা নিজের দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে সচেতন ছিলাম কি?
পশ্চিমবঙ্গে সামনেই নির্বাচন। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন হল, আর সেই আবহে ঘৃণার চাষের তীব্রতাও বাড়ল। রাজনৈতিক প্রচারে এসআইআরের চাঁদমারি ছিল ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। বাস্তবে তাদেরই শুনানি ইত্যাদির নোটিস পেতে দেখা গেছে বেশি। দেখা গেছে কীভাবে ফর্ম নং ৭-এর অপব্যবহার করে মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছে। অনেকক্ষেত্রেই তা বিফল হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত না হলে আসল চিত্র বোঝা সম্ভব হবে না। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এ রাজ্যে নির্বাচনের বাজার গরম করতে, নেতারা আবার ঘৃণার অস্ত্র নিয়ে প্রচারে নামবেন। সকলেই পরিত্রাতার ভূমিকায় অভিনয় করে, কেউ সংখ্যাগুরুদের কল্পিত বিপদ থেকে বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, অন্যরা সংখ্যালঘুদের ভিটেমাটি বজায় রাখার দায়িত্ব নেবে বলে। সমস্যার মূলে গিয়ে তার সমাধানের কথা, সমানাধিকার তথা সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কথা সততার সঙ্গে কেউ বলে না।
অথচ ঘৃণা নামক এই জটিল সামাজিক ব্যাধির একটাই মোক্ষম দাওয়াই— ভালোবাসা। সমস্ত বিভেদকামী দল এই ভালোবাসার বাঁধনকে বড় ভয় পায়। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে নির্বাচনী প্রচারের জাঁকজমক লাগে না, ভাষণ লাগে না, প্রতিবাদী মিছিল লাগে না, এমনকি কোনো প্রেম দিবসও লাগে না। একে অপরকে বোঝা, খোলা মনে এবং সুস্থ মস্তিষ্কে শুধুমাত্র ভালো চাওয়া; নিজের, প্রতিবেশীর এবং দেশের— এটুকুই যথেষ্ট। ভালোবাসার অন্য পিঠে যে ঘৃণার চাষ, তা কোনোদিন কারও ভালো করেনি। যে ঘৃণা করে এবং যাকে ঘৃণা করা হয়, এক অর্থে উভয়ই অধঃপাতে যাওয়া রাজনীতির শিকার। কোনো দেশ কখনো শুধু ঘৃণার রাজনীতি করে বিশ্ববরেণ্য হয়ে ওঠেনি।
এই ঘৃণার শৃঙ্খল ভাঙবার দায়িত্ব আমজনতাকেই নিতে হবে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








