পাশ্চাত্যের এক চিত্রশিল্পী একবার বলেছিলেন, ক্যানভাসের গায়ে নগ্ন নারীদেহ আঁকলে তার মত নান্দনিক আর কিছু নয়। কিন্তু সেই ছবিতেই যদি নারীদেহের এক পায়ে মোজা পরিয়ে দেওয়া হয়, তা হয়ে ওঠে চূড়ান্ত অনান্দনিক। ‘অশ্লীল’ শব্দটা সচেতনভাবেই এখানে আমরা ব্যবহার করব না, কারণ শ্লীল-অশ্লীলের বিরোধ আজও কোনো চরম সত্যে উত্তীর্ণ হতে পারেনি, কোনোদিন পারবেও না। জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, কলকাতার নাগরিক সমাজকে তাঁর ‘লিবিয়ার জঙ্গলের মতো মনে হয়’ যারা ‘বস্তুত কাপড় পরে লজ্জাবশত’। শিল্পের শরীরে অসঙ্গতির একরকম ইশারা আমরা পেয়েছি রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের চিদাকাশে। তাঁর ছবিতে যেসব আপাত অসঙ্গতির তীব্র কালো রং, গাঢ় লাল রংয়ের ব্যবহার, সরু তুলির আঁচড়ের আঁকিবুকিতে বুনে তোলা নারী শরীরের অস্তিত্ব— সেগুলো শিল্পীর অবদমিত মানসের চিত্র। এক ধরনের অসঙ্গতি। সেই অর্থে ছবির ফ্রেমে আমসত্ত্ব ভাজা বাঁধিয়ে রাখা বা হুঁকোর জলে আলতা গুলে গালে ঠোঁটে লাগানোও এক বিচিত্র অসঙ্গতি, তবে ভিন্ন রসের অনুঘটক।
গান বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। গান মানে তার একটা আঁটোসাটো ভাব আছে। তাকে কথার, ছন্দের সঙ্গে সুরের তালে মিলতে হয়; ধ্রুবপদ থেকে ফিরতে হয় সমে। যতিপতন হলে সে গান ছানা-কাটা দুধের মতই অপাচ্য। তাহলে গানের মধ্যে অসঙ্গতি রোপন করা যাবে কেমন করে? রবীন্দ্রনাথের গানের স্বভাবই হল দৃঢ়বদ্ধতা, যেখানে খুব বেশি কোনো ফাঁক নেই। অথচ তিনি বারবার বলেছেন, গান তাঁর জীবনের এক সমান্তরাল চলন। অবনীন্দ্রনাথ লিখেছেন, রবিকার গানের ভিতর দিয়ে তাঁর গোটা জীবনটা ধরা যায়। জীবনের চলন তো আর অমন নিগড়বদ্ধ হতে পারে না, তাকে ফিরতেই হয় নতুন নতুন বিভঙ্গে বিভাবে ও আকুতিতে। কারণ অসঙ্গতি ছাড়া জীবন হয় না, আর নিজের সুসংহত কাঠামোগত গানের মধ্যে সেই আধুনিকতার অসঙ্গতি বা অসঙ্গতির আধুনিকতা ছেপে দিতে না পারলে রবীন্দ্রনাথ কী করে লিখবেন তাঁর পরের গানটি? রবীন্দ্রনাথ কেন, গোটা বিশ্বই মনে করে গান তৈরি এক গভীর সৃজন। তার চোদ্দ আনা কেরামতি গানের কথাকার ও সুরকারের, বাকি দু আনা পড়ে থাকে পরিবেশকের উপর, যাকে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘মাঝারি মাপের মানুষ’। তাহলে কথা ও সুর— এই যে দুই আয়ুধ ছিল তাঁর হাতে, এরই একটাকে তাঁর বেছে নিতে হবে অসঙ্গতির বজ্রবিদ্যুৎ ভর্তি সম্ভাবনার জন্য।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
রবীন্দ্রনাথের গানে সুরের আধুনিকতা ঠিক কেমনভাবে কোথায় কোথায় বিছিয়ে আছে, তা পাঠ্যমাধ্যমে বিবৃত করা সম্ভব নয়, দরকার প্রত্যক্ষ গানের পরিবেশন। একবার এক সঙ্গীতশিক্ষক আমাকে বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের ‘তোমারই মধুর রূপে বিরাজ’ গানটির চলন লক্ষ্য করার মত, ওতে নাকি সুরের আধুনিকতার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত আছে। কবি জয় গোস্বামী বলেছিলেন, ‘শেষ গানেরই রেশ নিয়ে যাও চলে’ গানটায় আসলে শেষ গানের রেশ হল একটি কড়ি মধ্যমের স্বর। ওটাই আসলে সেই শেষ গানের রেশ, যা বহন করে চলে যেতে বলছেন তিনি। ‘অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো’ গানে ‘বিশ্বজনের পায়ের তলায় ধূলিময় যে ভূমি’ উচ্চারণে ‘ভূমি’-র স্বর খুব উঁচুতে উঠে যায় কেন? ধূলিময় ভূমি মানে তো অবনতি, মাটির কাছে থাকা। আসলে রবীন্দ্রনাথ ওই সুরের কেরামতিতে জানাতে চান যে ওই পায়ের তলার ভূমি আসলে ‘সেই তো স্বর্গভূমি’, আর সেই লোককথার স্বর্গের অবস্থান তো উপরেই। সুর এই সত্যটাকে ধরতে চায়। ‘জীবন যখন ছিল ফুলের মত’ গানের অন্তরায় ‘আজ বুঝি তার ফল ধরেছে তাই’ এই লাইনটির সুর এত নিচে নেমে আসে, যা সব হারানোর বেদনাকে যেন জড়িয়ে ধরে থাকে একান্তে। একইভাবে ‘আঁধার রাতের একলা পাগল’ গানে ‘বুঝিয়ে দে বুঝিয়ে দে’— সুর যে হাহাকারে পৌঁছয় তাতে যেন লেগে থাকে দিক ভোলাবার পাগলের অন্ধকারময় হাসি। কোনো সমুদ্রতীরের সূর্যাস্তে দাঁড়িয়ে যদি ‘আজি কোন সুরে বাঁধিব’ গানটি শোনা যায়, দেখা যাবে দিনাবসানের আশ্চর্য এক স্তব্ধতার মধ্যে নিষ্কম্প শিখার মত অনিবার্য হয়ে ওঠে তার সুর। আবার আপাতভাবে খুব সাধারণ গান ‘আলোর অমল কমলখানি কে ফোটালে’-র গোড়ায় যে দীর্ঘ সুরবিস্তার, সে তো আসলে শরতের সুনীল আকাশের ভিতর থেকে উৎসারিত হওয়া আলোটাকেই ধরতে চায়। তবে আবারও বলতে হবে যে এইসব সুরের কারুকাঠামোকে শ্রাব্য মাধ্যম ছাড়া বুঝে নেওয়া যাবে না।
বরং তুলনায় সহজ কাজ গানের কথার ভিতরে তৈরি করা অসামান্য সব অসঙ্গতিকে ঝিনুকের মত তুলে আনা। আমাদের অতি প্রিয় ও পরিচিত গান ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’। এখানে ‘তোর’ এবং ‘চলো’ একই বাক্যের মধ্যে স্থান পেতে দেখি। সাধারণত এই সর্বনামকেন্দ্রিক ক্রিয়াপদের যে প্রচলিত ধাঁচ, তাতে ‘তোমার’ সঙ্গে যায় ‘চলো’ অথবা ‘তোর’ সঙ্গে ‘চল’। কিন্তু এই চেনা ব্যাকরণকে অনায়াসে ভেঙে দেন রবীন্দ্রনাথ। ‘বসন্তে কি শুধু/কেবল ফোটা ফুলের মেলা’ গানটায় ‘শুধু’ আর ‘কেবল’ একই অর্থের শব্দ পাশাপাশি বসিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ। একে তো অসঙ্গতি বলে মনে হতেই পারে। হয় না। সেইটিই রবীন্দ্রনাথের ম্যাজিক। তিনি শব্দের ঈশ্বর। ‘বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে’-র মত গানে এক বাক্যে তিনি লিখে ফেলেন
পিককূজন পুষ্পবনে বিজনে,
মৃদু বায়ুহিলোলবিলোল বিভোল বিশাল সরোবর-মাঝে
এমন একগুচ্ছ তৎসম শব্দময় গানের লাইন খুব সুলভ নয় আর এমন বাক্যবিন্যাসের ঝুঁকিও কি কম? তিনি এসবের তোয়াক্কা করেননি। ‘হৃদয়ে মন্দ্রিল ডমরু গুরু গুরু’ গানে পাই এইরকম বর্ণনা
সঘনবর্ষণশব্দমুখরিত বজ্রসচকিত ত্রস্ত শর্বরী,
মালতীবল্লরী কাঁপায় পল্লব করুণ কল্লোলে–
কানন শঙ্কিত ঝিল্লিঝঙ্কৃত॥
এমন অলঙ্কার নির্মিত সংস্কৃতবহুল ছবি দেখে মনে পড়ে যায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অনুদিত সীতার বনবাস-এর সেই সুবিখ্যাত অনুচ্ছেদ
এই সেই জনস্থান-মধ্যবর্তী প্রস্রবণগিরি। এই গিরির শিখরদেশ, আকাশপথে সতত সঞ্চরমান জলধরমণ্ডলীর যোগে, নিরন্তর নিবিড় নীলিমায় অলঙ্কৃত; অধিত্যকা প্রদেশ ঘনসন্নিবিষ্ট বিবিধ বনপাদপসমূহে আচ্ছন্ন থাকাতে, সতত স্নিগ্ধ, শীতল ও রমণীয়; পাদদেশে প্রসন্নসলিলা গোদাবরী তরঙ্গবিস্তার করিয়া, প্রবলবেগে গমন করিতেছে।
কিন্তু এ তো গদ্য, এখানে বিস্তারের স্বাধীনতা অনেক বেশি আর এর মধ্যে কোনো সুরের সঞ্চার করার দায় নেই। কিন্তু গানের মিতায়ত শরীরে যদি এমন ভাষা প্রযুক্ত হয়, তাহলে তাতে সুরারোপ এক দুঃসাহসিক কাজ। ঠিক এই কাজটাই করলেন রবীন্দ্রনাথ।
নিজের গানে যিনি মাঝে মাঝেই এমন শব্দের ঝংকার তোলেন, সেই তিনিই ‘প্রাঙ্গণে মোর শিরীষশাখায়’ গানে লেখেন ‘আর বছরেই এমনি দিনেই’। খাঁটি উত্তর কলকাতার মুখের ভাষা ‘আর বছর’, অর্থাৎ আগের বছর, খাপ খেয়ে যায় তার অভিজাত সঙ্গীতে, অথচ আমরা টেরই পাই না কেমনভাবে মিশে গেল ওই শব্দ। ‘গ্রামছাড়া ওই রাঙামাটির পথ’ গানটায় দেখি ‘মন ভুলায় রে’-র সঙ্গে তিনি মিলিয়ে দেন ‘ও যে কেড়ে আমায় নিয়ে যায় রে, যায় রে কোন চুলায় রে’। কোন চুলায় নিয়ে যাওয়া তো আমাদের মুখের ভাষা, আকাঁড়া শব্দ। রবীন্দ্রনাথ এইসব অকুলীন শব্দকে জায়গা করে দিয়েছেন তাঁর গানে। ‘শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে’ গানে লিখলেন
যা-কিছু জীর্ণ আমার, দীর্ণ আমার, জীবনহারা,
তাহারি স্তরে স্তরে পড়ুক ঝরে সুরের ধারা।
নিশিদিন এই জীবনের তৃষার ’পরে, ভুখের ’পরে
কী আশ্চর্য এই পথের ধারে পড়ে থাকা ‘ভুখ’ শব্দটি! কবি তাকে করপুটে তুলে এনে বসিয়ে দিলেন ‘তৃষা’-র পাশে।
আরো পড়ুন প্রাঙ্গণে মোর শিরীষশাখায়…: প্রতীক্ষা আর প্রশ্নের সংলাপ
আজকের বাংলা গানেও কি এমন শব্দের ব্যবহার আমরা ভাবতে পারি, ভাবতে পারেন একালের কম্পোজাররা? এগুলো আসলে ওই শব্দের ঈশ্বরের পক্ষে আয়াসসাধ্য জাদু; গুরুচন্ডালী নয়, সহজ শব্দের মিঠে শয়তানি। তাঁর কোনো কোনো গান শুরু হয় ‘হে মহাপ্রবলবলী’ বা ‘অসীম কালসাগরে ভুবন ভেসে চলেছে’ র মত গভীর মন্দ্রস্বরে। আবার তিনিই কী সহজ উচ্চারণে বলেন ‘আমি কেমন করিয়া জানাব আমার হৃদয় জুড়াল’ বা ‘আমার ভুবন তো আজ হল কাঙাল, কিছুই তো নাই বাকি’ কিংবা ‘জীবনে যত পূজা হল না সারা/জানি হে জানি তাও হয়নি হারা’! ভার আর নির্ভারের কী অতুলনীয় মিশেল। তাঁরই এক গানের কথায় ‘জীবন আমার চলছে যেমন তেমনি ভাবে/সহজ কঠিন দ্বন্দ্বে ছন্দে চলে যাবে’। এই সেই ‘সহজ কঠিন দ্বন্দ্বে ছন্দে’-র ঐশ্বর্যময় অসঙ্গতি, যা ডাক দেয় আধুনিকতার।
শুধু নানা গানের ভিতর দিয়েই বা কেন একই গানের মধ্যে এমন সব শব্দের অন্তর্ঘাত দেখি, যার স্পর্শ পেলে মনে হয় যেন বজ্রপাত হল সংবেদের অন্দরমহলে। ধরা যাক ‘আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে’ গানটি। একবারে শেষ লাইনে, অর্থাৎ আভোগে, বলা হয় ‘হঠাৎ খেলার শেষে আজ কী দেখি ছবি—/স্তব্ধ আকাশ, নীরব শশী রবি,/তোমার চরণ-পানে নয়ন করি নত/ভুবন দাঁড়িয়ে আছে একান্ত’। একেবারে শেষে এই ‘একান্ত’ শব্দটি পুরো গানের শরীরে যে কী স্ফূর্ত আলোড়ন তৈরি করে তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। অথচ ‘তোমার চরণ-পানে নয়ন করি নত/ভুবন দাঁড়িয়ে আছে…’ এই পর্যন্ত লিখলেই গানের আবর্তন সম্পূর্ণ হতে পারত, কিন্তু তা হয় না। ওই আচম্বিত শব্দের অগ্ন্যুৎপাত আমূল কাঁপিয়ে দেয় গানের ছবি। এই সেই রবীন্দ্রনাথ, যিনি বলবেন, তিনি যখন গান লেখেন তখন তিনি নির্বসন। সবটুকু ঝেড়ে না ফেললে অন্তরমহলের মর্মবস্তুকে উদ্ধার করবেন কী করে?
ওই একই কারণে কবিতার চেয়েও উচ্চাঙ্গের সব অলঙ্কার তাঁর গানে ফিরে ফিরে আসে, নতুন নতুন ছবির উন্মোচন হয়। ভাবা যাক ‘কি ফুল ঝরিল বিপুল অন্ধকারে’ গানটা। শুধু ফুলের সঙ্গে অন্ত্যমিল নয়, ‘বিপুল’ শব্দটি আরও অনেক ডানা জুড়ে দেয় গানে। ওই শব্দটি ছাড়া গান হয়ে পড়ে শীতের শুকনো নদীর মরা খাত। আর তাই ‘ফুলের গন্ধ বন্ধুর মতো জড়ায়ে ধরিছে গলে’-র মত আশ্চর্য নির্মাণ জ্যান্ত হয়ে ওঠে তাঁর কথায়। ‘ঘিরে ছিল বনগন্ধ ঘুমের চারি ধারে’ এই লাইন দিয়ে (গান: স্বপ্নে আমার মনে হল) তিনি ঘুমকে আয়তনবান করে তোলেন; আমরা খেয়াল করে দেখতে ভুলে যাই ‘হে ক্ষণিকের অতিথি’ গানে তিনি লিখলেন ‘ওগো অকরুণ, কী মায়া জানো,/মিলনছলে বিরহ আনো’। মিলনছলে বিরহ? ব্যাকরণের ভাষায় একে নিছক বিরোধাভাস বা oxymoron বলেই ছেড়ে দেওয়া যায় নাকি? একইভাবে ‘আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়’। সর্বনাশের আশা? এ কী বিচিত্র নির্মাণ, যা একটা গোটা গানকে বেঁধে রাখে বিষণ্ণতায়! ‘পারেও নহে ঘরেও নহে যে জন আছে মাঝখানে’— সে কেমন মানুষ? এসবই কি তার দুর্বিনীত দুঃসাহস না বিনীত অসঙ্গতি থেকে আধুনিকতার উড়াল?
বহুকাল আগে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি ‘আজি যত তারা তব আকাশে’ গানটি বিষয় মন্তব্য করেছিলেন ‘এটি বাংলায় লিখিত। কিন্তু বাঙালির পক্ষে গ্রিক’। জনৈক জ্যোতিষচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত করেছিলেন ‘রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ গীতই কপটোক্তি। তাঁর গানে ভান আছে প্রাণ নাই।’ আসলে শীলিভূত স্নায়ুহীন সমালোচকরা রবীন্দ্রনাথের গানের আধুনিকতাকে বুঝতে চাননি, অথবা ওটা তাঁদের নাগালে কুলোয়নি। তাতে আমাদের পুলক বাড়ে না। এইসব ধারাবাহিক অসঙ্গতির অন্তর্ঘাত পেরোতে না পারলে তাঁর গান শুরু থেকে যে শেষে পরিণতি পেত না, সেকথা তিনি ভালোই জানতেন। জানতেন বলেই আশি বছরের ওই বৃদ্ধ বলেছিলেন, তাঁর গানই তাঁর শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার। ইদানিং বাঙালির সমস্ত উত্তর-অধিকারই ‘দক্ষিণ-অভিমুখী’ কালঝড়ে এলোমেলো বলে শোনা যায়, দেখাও যে যায় না তা নয়। তবুও রবীন্দ্রনাথ মানে অসঙ্গতির সুনিপুণ শিল্প, পরিশীলিত অন্তর্ঘাতের বিছিয়ে থাকা ক্যানভাস, আধুনিকতার তীব্র উদ্দীপন। তাঁর গান আমাদের সর্বস্ব এবং সমূহ সর্বনাশের বিপ্রতীপে একমাত্র বিশ্বস্ত প্রাকার।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







