এক সপ্তাহ জুড়ে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে দক্ষযজ্ঞের আয়োজন সম্পূর্ণ। সারা বিশ্বের তাবড় তাবড় রাষ্ট্রপ্রধান, প্রযুক্তি কোম্পানির বড় কর্তারা, নীতিনির্ধারকরা, আলোচকরা আলো করে রাখবেন আমাদের দেশের রাজধানীকে। গতকাল থেকে ভারতে শুরু হয়ে গেছে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে শীর্ষ সম্মেলন। ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফ্রান্সের পরে এই প্রথম দক্ষিণ বিশ্বের কোনো দেশে এই সম্মেলন হচ্ছে। যথারীতি এই নিয়ে ধুমধামের অন্ত নেই।
এবারে উদ্যোক্তা হিসাবে ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মত উদীয়মান প্রযুক্তির কেন্দ্রে মানুষ, আমাদের পৃথিবী এবং অগ্রগতির মত তিনটি সূত্রকে সামনে রাখছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যাতে মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রগতির কাজে ব্যবহার করা যায়, বিশ্বের পরিবেশকে রক্ষা করে নতুন নতুন উদ্ভাবন করা যায় এবং এই প্রযুক্তি যাতে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষকে সংযুক্ত করে অগ্রগতির পথে এগোয়, সেটিই এই সম্মেলনের ঘোষিত মূল উদ্দেশ্য। মানবসম্পদ, সামাজিক ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়ায় সবার অন্তর্ভুক্তিকরণ, নিরাপদ ও বিশ্বস্ত এআই তৈরি করা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা, বিজ্ঞান, এআই সম্পদের গণতন্ত্রীকরণ, অর্থনৈতিক বিকাশ ও সামাজিক কল্যাণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই নরেন্দ্র মোদী সরকার এআই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনের মূলমন্ত্র ‘সবার কল্যাণের জন্য, সবার সুখের জন্য’ এআই।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
যেভাবে এই প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে কাজের জায়গাগুলিতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, তাতে এআই-কে দূরে ঠেলে রেখে লাভ নেই। ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশগুলি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে মানুষের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে পারে, তার উপরেই জোর দিচ্ছে এই সম্মেলন। এটি শুধুই একটি প্রযুক্তি নয়, একে কীভাবে কৌশলে দেশের উন্নয়নের কাজে লাগানো যেতে পারে তা নিয়ে বিস্তর ভাবনাচিন্তা চলছে।
এখানেই প্রশ্ন, ভারত কি শুধুই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করে ক্ষান্ত থাকবে, নাকি এই প্রযুক্তির নেতৃত্বে কোনোভাবে উঠতে আসতে চাইবে?
প্রথমেই সত্যি কথাটি স্বীকার করে নেওয়া ভালো। এই সম্মেলনের আলোর নীচে যে কথাগুলি হারিয়ে যেতে পারে, তা আগে বলে নেওয়া দরকার। আমেরিকা থেকে শুরু করে চীন যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বেড়ে খেলেছে, তাতে ভারত অনেক পিছিয়ে পড়েছে প্রথম ধাপেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য হার্ডওয়্যার এবং কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটিংয়ের যে পরিকাঠামো, তাতে উত্তর বিশ্ব বা উন্নত দেশগুলি অনেক যোজন এগিয়ে রয়েছে। ভারতে কাছে এই প্রযুক্তির মালিকানা নেই, তথ্যের উপর একছত্র অধিকার নেই, এই প্রযুক্তি চালাবার জন্য যে ডেটা সেন্টার বা ভিত্তিমূলক মডেল তাও নেই, প্রযুক্তিটির জন্য যে যন্ত্রপাতি ও রসদ দরকার তার জন্য আমাদের বিদেশের উপর নির্ভর করতে হয়। অর্থাৎ এর কোনোটাতেই আমরা নেতৃত্ব দিতে পারছি না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় ভারত অনেক পিছিয়ে থেকে শুরু করেছে।
ভারতের কাছে কী রয়েছে তাহলে? মেধা। অর্থাৎ এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত মেশিনগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য যে মানবসম্পদের দরকার, সেই ইঞ্জিনিয়াররা রয়েছেন। বিশ্বের মোট এআই মেধার ১৬% ভারতে। তবুও দেখা যাচ্ছে, এআই ব্যবহার করে কাজ করার দশটি সুযোগ থাকলে মাত্র এক জন দক্ষ লোক পাওয়া যাচ্ছে।
তবে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, ভারতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারীদের বিশাল বাজার। অন্য কিছু ভাবতে হবে না, যেভাবে এদেশের কোটি কোটি মানুষ চ্যাটজিপিটির মত জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন, তাতেই পরিষ্কার কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বেড়েছে। তা থেকে যে তথ্য বা ডেটা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি পাচ্ছে, তা সোনার খনির থেকে কম নয়। শুধু তো চিঠিপত্র লেখা বা স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট করা বা দু-চারটে ছবি বা ভিডিও তৈরি নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রতিটি শিল্পেই হতে পারে। সেই ব্যবহার ধীরে হলেও বাড়তে শুরু করেছে। সেইজন্যই সবাইকে ভয় দেখানো শুরু হয়েছে— এআই আপনার চাকরি খেয়ে নেবে।
অর্থাৎ এআই ব্যবহার করো বা করতে শেখো, নয়ত চাকরি ঘচাং ফু। এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলি যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করেছে, তাতে এই আশঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে যে, এআই ব্যবহারের জন্য বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি প্রতিদিন আমাদের, এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের কোম্পানিগুলিকে, উৎসাহিত করে চলেছে। যতটা দরকার তার থেকেও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। খুব ছোট্ট একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। যেমন আপনি এখন গুগল সার্চ করলে সার্চ রেজাল্টের প্রথমেই এআই দ্বারা তৈরি ‘ওভারভিউ’ পাচ্ছেন। ধীরে ধীরে আপনি এতেই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন। আপনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরতা বাড়ছে। অথবা চটজলদি কোনো লেখা লিখে নিতে আপনি কোনো এআই চ্যাটবটকে ব্যবহার করছেন। ভালোমন্দ পরের কথা, এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।
এখন সেই আগের প্রশ্নে ফিরে যেতে হবে। আমাদের দেশ কি শুধু এআই কোম্পানিগুলির ব্যবহারকারী ও ক্রেতা হিসাবেই থেকে যাবে, নাকি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠবে?
আপনি বলতে পারেন, আমাদের দেশে তো বহু এআই স্টার্টআপ বা নতুন নতুন কোম্পানি তৈরি হচ্ছে। ঠিকই, কিন্তু তারা কেউ মূল প্রযুক্তির মালিক নয়। মূল প্রযুক্তিটির ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন মডেলের মালিকানা হয়ত কোনো মার্কিন বা অন্য দেশের কোম্পানির হাতে। আপনি স্টার্টআপ কোম্পানিগুলির কাছে ব্যবহারকারী হিসাবে যে তথ্য দিচ্ছেন, তাও হয়ত সেই কোম্পানিগুলির কাছেই চলে যাচ্ছে।
আরো পড়ুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আশা, আকাঙ্ক্ষা ও আশঙ্কা
ভারত কি কিছুই করছে না এআই পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে? করছে। ভারতের এআই মিশনে ১০,০০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে। এআই-দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য কাজ হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য যে চিপ বা সেমি-কন্ডাক্টরের প্রয়োজন হয়, সেগুলি এদেশে বানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে আমাদের সরকার। গুজরাট, আসাম ও ওড়িশাতে সেমি-কন্ডাক্টর চিপ বানানোর কারখানা তৈরি হচ্ছে। ভারতীয় ডেটা সেন্টার বানানোর কাজও শুরু হয়েছে। গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এক গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার বানাচ্ছে। মূলত ভারতীয় ভাষাগুলির লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ভিত্তি এখানে বানানোর কাজ চলছে। এনভিডিয়ার চিপ ব্যবহার করা হলেও ভারতীয় ইঞ্জিনিয়াররা এর সঙ্গে যুক্ত।
আদানি গোষ্ঠী ও গুগল মিলে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এআই হাব বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে সম্প্রতি। হায়দরাবাদে কন্ট্রোলআইএস ৬১৬ মেগাওয়াটের এআই ক্যাম্পাস তৈরি করছে। সেখানে লিকুইড কুলিং ও ইমার্শন কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। গৌহাটিতে ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারের উদ্বোধন হয়েছে। এটি সরকারের নিজস্ব উদ্যোগ। সেখানে ভারতে তৈরি এইউএম প্রোসেসর ব্যবহারের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। নভি মুম্বাইতে ইয়োট্টা ‘সার্বভৌম ক্লাউড’ তৈরি করছে যাতে ভারতীয় স্টার্টআপ কোম্পানিগুলি কম খরচে জিপিইউ ভাড়া করে কাজ করতে পারে। যেসব কোম্পানি এই কাজ করছে, তাদের জন্য ২০৪৭ সাল পর্যন্ত কর ছাড়ের ঘোষণাও কেন্দ্রীয় বাজেটে করা হয়েছে। সি-ড্যাকের তৈরি রুদ্র সার্ভার সিরিজ এখন ভারতের তথ্যভাণ্ডারের মেরুদণ্ড হয়ে উঠছে।
তবু, এআই পরিকাঠামো তৈরি করার জন্য যে প্রযুক্তি ও কাঁচামাল দরকার এবং যতখানি বিদ্যুৎ ও জল দরকার, তা মেলা খুবই কষ্টসাধ্য। এখন পর্যন্ত এআই প্রযুক্তির জন্য জরুরি সেমি-কন্ডাক্টর চিপ, রাসায়নিক, গ্যাস, সিলিকন ওয়েফারস— প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ভারতের কাছে সুযোগ প্রচুর রয়েছে। আমাদের মত বহু ভাষার দেশে নানা আঞ্চলিক ভাষায় লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বানানো এবং তা দিয়ে এআই মেশিন চালানোর একটি বড় কাজ আমাদের সামনে রয়েছে। তা নিয়েও সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে। ভারত সরকার নিজেই আইআইটিগুলির সহযোগিতায় ভাষিণীর মত অ্যাপ তৈরি করছে।
এআই দিয়ে সরকারি পরিষেবাও সহজ হচ্ছে। জাতীয় কিষাণ ই-মিত্র পরিষেবা ১১টি ভারতীয় ভাষায় দিনে ২০,০০০-এর মত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। ই-সঞ্জীবনীর মত টেলিমেডিসিন পরিষেবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমেই চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত পড়াশোনার প্ল্যাটফর্মগুলিও সাহায্য করছে। বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃস্থানীয় হয়ে উঠতে পারবে কিনা। এআই নিয়ে নৈতিকতা, সুরক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে। এবারের শীর্ষ সম্মেলনে তা নিয়েও অনেক কথা হবে। কিন্তু শুধু নৈতিকতা দিয়ে বা এআই কীভাবে সবার হিতের জন্য চালানো উচিত, তা দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দূরপাল্লার ট্রেনে দৌড়ে উঠতে পারা যাবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিদেশের উপরে নির্ভরতা কমাতে না পারলে ভারতের পক্ষে এতে নেতৃত্ব দেওয়া অসম্ভব।
অন্যদিকে এ নিয়েও চর্চা হচ্ছে যে, আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের স্বপ্ন দেখে ফেলছি কিনা। চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মত জেনারেটিভ এআই টুলগুলি কিন্তু নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারে না। এরা শেখানো বুলি বা ট্রেনিং দেওয়া আর নিজে থেকে শেখা তথ্য থেকে প্যাটার্ন বের করে উত্তর দেয়। মানে আপনি যদি লেখেন ‘এআই সামিট নিয়ে আমাকে বলো’, তাহলে টুলটিকে যে তথ্য দিয়ে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে বা আমার-আপনার থেকে এআই নিয়ে সে যা যা শিখেছে, অনলাইনে যা তথ্য পাচ্ছে, সেই তথ্যভাণ্ডারে গিয়ে মিলিয়ে দেখবে ‘এআই’ ও ‘সামিট’ কোথায় কোথায় পাওয়া যাচ্ছে। আপনি কীভাবে এর আগে এই টুলটি ব্যবহার করেছেন বা আপনার প্রশ্নটি ঠিক কী। সেসব বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামিট সংক্রান্ত যা যা তথ্য সে মেলাতে পারবে, সেগুলি সাজিয়ে গুছিয়ে আপনার কাছে পৌঁছে দেবে।
আমরা যে এর পরবর্তী এজেন্টিক এআই-এর কথা বলছি, কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সেই এজেন্টিক এআই-ও এই ধরনের প্যাটার্নের ভিত্তিতেই কাজ করছে। এখন পর্যন্ত নিজে নিজে মানুষের মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এআই-এর তৈরি হয়নি। এর পিছনে আরও অনেক টাকা ঢালতে হবে। আপাতত যে ধরনের এআই টুল রয়েছে, সেই ধরনের টুলগুলিকে নানা মোড়কে ভারতের মত বিশ্বের অন্যান্য বাজারে বেচতে চাইছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি।
আগেই বলেছি, ভারতের কাছ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারী ছাড়াও তথ্যের বড় চাহিদা রয়েছে। অবশ্য ভারত সরকার এআই গর্ভনেন্স গাইডলাইন তৈরি করেছে এবং এত বড় বাজারের এত বড় তথ্যভাণ্ডারের চাহিদা সব দেশের সব কোম্পানির কাছেই থাকবে। তাতে ভারতের দর বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের তথ্য নিয়ে বিদেশি কোম্পানি ফুলে ফেঁপে উঠলে সেই ডিজিটাল বিপ্লবের মত এআই বিপ্লবেও আমাদের স্থান একই জায়গায় থাকবে। আধার বা ডিজিলকারের মতো পরিকাঠামো ভারত তৈরি করেছে বটে। কিন্তু অনেক জায়গায়, যেমন অনলাইন টাকা লেনদেনের বাজারে গুগল পে বা ফোন পে-র (ওয়ালমার্টের হাতে সিংহভাগ শেয়ার) মত কোম্পানিগুলিই কিন্তু রাজ করছে। অর্থাৎ সেখানেও বিদেশিদেরই দাপট। অনেক চেষ্টা করেও হোয়াটস্যাপের মত বা ফেসবুকের মত জনপ্রিয় ভারতীয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায়নি।
ভারত যদি এআই-এর জন্য প্রযুক্তির জোগান থেকে শুরু করে ডিজিটাল পরিকাঠামো যথাযথভাবে গড়ে তুলতে না পারে, তাহলে এআই-বিশ্বের নেতৃত্বে অনেক পিছিয়ে পড়বে। শুধুই নৈতিকতার দিকগুলি তুলে ধরে বা এআই গভর্নেন্সের গাইডলাইন তৈরি করে আমরা বেশি দূর যেতে পারব না। ২০২৬ সালের এআই সামিট যদি আমাদের প্রযুক্তির মালিকানা, ভারতীয় ডেটা সেন্টার, পরিকাঠামো তৈরির পথ প্রশস্ত করে, তাহলেই এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসাবে আমাদের লাভ হবে। প্রথম দিনের নিম্নরূপ অব্যবস্থা আশার আলো দেখাচ্ছে না।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







