অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশনেই গত দশ বছরের সঙ্গে এবারের পার্থক্যটা স্পষ্ট হল। বহুদলীয় গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী পক্ষের প্রয়োজনীয়তা এই অধিবেশনে বোঝা গেল। বিগত দশ বছরে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিজেপি সবকিছু চালাতে চেয়েছে নিজের ইচ্ছে মত। ‘সহমত’ কথাটি ছিল তাদের সিলেবাসের বাইরে। অসহিষ্ণুতা কেবল প্রশাসন আর সরকারকেই নয়, সংসদীয় ব্যবস্থাকেও গ্রাস করেছিল। বিরোধী সাংসদদের বহিষ্কার করে, আলোচনার সুযোগ না দিয়ে একের পর এক নতুন আইন বা আইনের সংশোধনী পাস করা হয়েছে। শাসক দল, এমনকী মন্ত্রীদেরও, সংবিধান নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য, সরকারি বিভিন্ন কার্যকলাপে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এবারের নির্বাচনে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন করবে। তাই ইন্ডিয়া জোটের নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ছিল সংবিধান রক্ষার ডাক।
নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে তারা সেই সংবিধানকেই হাতিয়ার করেছে। লোকসভায় বিজেপির ধর্মীয় স্লোগানের পালটা বিরোধীদের ‘জয় সংবিধান’ স্লোগান শোনা গেছে। চাপে পড়ে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যসভায় সংবিধানের ৭৫তম বর্ষ উপলক্ষে গণ উৎসব পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণায় বাধ্য হয়েছেন। অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশনেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধী যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ জ্ঞাপন বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি শাসক পক্ষের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন। কেবল কংগ্রেসেরই নন, তিনি যে সার্বিকভাবে বিরোধী পক্ষের নেতা, নিজের বক্তব্যে তা যোগ্যতার সঙ্গেই প্রমাণ করতে পেরেছেন। বিজেপির হিন্দুত্ববাদের পালটা ভাষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, বিজেপি হিন্দুধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না। হিংসা, সন্ত্রাস কেবল হিন্দুধর্মেরই নয়, সব ধর্মেরই বিরোধী। নিট, নেট কেলেঙ্কারি, মণিপুর, তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা, বেকার সমস্যা, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই রাহুলজি বিজেপিকে বিঁধেছেন। স্পিকারকেও ছাড় দেননি। স্পিকারকে তাঁর পদমর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
রাহুলের বক্তব্যের সময়ে বিরোধী পক্ষের ঐক্যও বিজেপির উদ্বেগ বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। রাহুলকে বিজেপি যত বার বাধা দিতে গেছে, ততবার ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফৈজাবাদের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদকে পাশে বসিয়ে রাহুলও বিরোধী ঐক্য মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন। তিনি যখন সংবিধানের কথা তুললেন, তখন পিছনের বেঞ্চ থেকে সংবিধান এগিয়ে দিলেন আরএসপি সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রন। কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোটের অনেক সাংসদের বক্তব্যই এবার নজর কেড়েছে। সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব মোদীর বিকশিত ভারতের আসল চেহারা তুলে ধরতে গিয়ে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের স্থান, ভয়াবহ বেকার সমস্যা, পরীক্ষা দুর্নীতি, গঙ্গা দূষণ থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন। ওই দলেরই অবধেশ তুলে ধরেন অযোধ্যার মানুষের দুর্দশার কথা। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র গতবার লোকসভা থেকে তাঁকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই বিঁধেছেন। মণিপুরের কংগ্রেস সাংসদ আঙ্গোমছা বিমল আকোইজাম রাজ্যের গৃহযুদ্ধের কথা তুলে ধরে সরকারকে আক্রমণ করেছেন।
পাঞ্জাবের কংগ্রেস সাংসদ অমরিন্দর সিং রাজার বক্তব্যে কৃষক আন্দোলনের দাবিগুলি উঠে এসেছে। আজাদ সমাজ পার্টির দলিত নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ দলিত, অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
লোকসভায় সাংসদ সংখ্যা মাত্র নয় হলেও বামেরা শপথ বাক্য পাঠ করার সময়েই নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। ট্রাক্টরে চড়ে সংসদের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সিপিএম সাংসদ অমরা রাম কৃষক আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়েছেন।
পরপর তিনবার জিতে আসা আরএসপি সাংসদ প্রেমচন্দ্রন বিতর্কে অংশ নিয়ে অভিযোগ করেন যে প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ আগামীদিনে সরকারের নীতি সম্পর্কে দিশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে বেকার সমস্যা, দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি, পরীক্ষা দুর্নীতি, আর্থিক অসাম্যসহ নানা জ্বলন্ত সমস্যা রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্থান পায়নি। সিপিআইএম-এল (লিবারেশন) সাংসদ সুদামা প্রসাদ কৃষকদের সমস্যার কথা বলেন। জাতপাতের ঘৃণার রাজনীতির বিপরীতে রুটি রুজির লড়াইকেই বাম সাংসদরা সংসদের ভিতর তুলে ধরেছেন। লোকসভা অধিবেশনে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের পারস্পরিক কক্ষ সমম্বয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে সংসদ কক্ষের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমেও তাঁরা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও হেমন্ত সোরেনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
বিরোধী পক্ষের সম্মিলিত আক্রমণের সামনে বিজেপি নিজেদের অস্বস্তি ও উদ্বেগ লুকিয়ে রাখতে পারেনি। রাহুলের ভাষণের সময়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুবার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছবার উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হন। বিজেপির অন্যান্য মন্ত্রী এবং সাংসদরাও বারবার ভাষণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। রাহুল বিজেপির হিংসা, সন্ত্রাসের রাজনীতি হিন্দুধর্মসম্মত নয় বললেও, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে তিনি হিন্দুদের অপমান করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রায় সোয়া দু ঘন্টার ভাষণে বড় সময় ব্যয় করেন রাহুলের বিরোধিতায়। কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহারকে বিকৃত করে ভোটের প্রচারে ঘৃণা ছড়ানো, উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন মোদী। ভোটের ফলেই স্পষ্ট, তাঁর সেই বক্তব্য দেশবাসী গ্রহণ করেননি। মোদী কিন্তু জনাদেশ থেকে শিক্ষা না নিয়ে সেই একই পথেই হাঁটছেন। রাহুলকে অপরিপক্ক বলে কটাক্ষই করলেন না, তিনি হিন্দুদের অপমান করেছেন বলেও সত্যের অপলাপ করলেন। অগ্নিবীর প্রকল্পের সমালোচনার জবাবে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার অভিযোগ আনলেন। নিট, নেট নিয়ে মামুলি কিছু আশ্বাস দিয়ে দুর্নীতি বিরোধিতার কথা বললেন। অথচ জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি মোকাবিলায় সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ কিছু বললেন না। বিরোধীদের দাবি সত্ত্বেও লোকসভায় মণিপুর পরিস্থিতির উল্লেখ করলেন না। তিনি বিরোধীদের বিরোধিতাতেই সময় কাটালেন। বিরোধী ঐক্যে ভীত মোদী ইন্ডিয়ার মধ্যে ভাঙন ধরাতে কংগ্রেসকে পরজীবীও বললেন। কিন্তু তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো বার্তা দিতে পারলেন না।
যদিও তাঁর ভাষণে একটা বার্তা খুব স্পষ্ট হয়েছে। আগের মত এবারেও বিজেপি তথা সরকারের সমালোচনাকে তারা দেশদ্রোহিতা ও হিন্দুধর্ম বিরোধিতার সমার্থক হিসাবেই গণ্য করবে। বিগত দশ বছর ধরে সেটাই হয়ে চলেছে। বিরোধীরা তাঁদের ভাষণে সেই সন্ত্রস্ত পরিবেশের কথা বারবার তুলে ধরেছেন। তৃতীয় মোদী সরকারও যে ভিন্ন মত, সমালোচনা শুনতে অক্ষম তা লোকসভার প্রথম অধিবেশনেই স্পষ্ট হল।
সংসদে আগের মতই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। রাহুলকে চাপে রাখতে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস ধরাতে চাইছে বিজেপি। হিন্দুত্ব, অগ্নিবীর নিয়ে রাহুলের বক্তব্য সংসদের নথি থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। অথচ রাহুলের এই বক্তব্যের বিরোধিতায় রাখা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মোছা হয়নি। বিরোধীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুললেই মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্পিকার বলেছেন, মাইকের বোতাম তাঁর কাছে থাকে না। কিন্তু সদস্যদের মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রাখার দায়িত্ব কি স্পিকার অস্বীকার করতে পারেন? বিরোধীদের অভিযোগ, মাইকের বোতাম তাঁর কাছে যদি নাও থাকে, তাহলেও এই সমস্যার সমাধানে নির্লিপ্ত থাকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিরোধীরা বিতর্কিত প্রসঙ্গ তুললেই টিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে নেওয়ার ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট। তৃতীয় মোদী সরকারও সংসদের ভিতরে মতপ্রকাশের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চায়।
রাজ্যসভার অধিবেশনে সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। রাজ্যসভাতেও বিরোধী ঐক্য শাসককে উদ্বিগ্ন করেছে। কংগ্রেসসহ বিরোধী সদস্যরা মোদী তথা বিজেপির ঘৃণা ও উস্কানিমূলক আচরণের বিরোধিতা করেছেন। সিপিএম সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বাংলায় বক্তব্য রেখে বিজেপির ভাষা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছেন। লোকসভার মত রাজ্যসভাতেও বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ উঠেছে। আরএসএস ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের অভিযোগকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পর যে আরএসএসকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে এখন সংসদে অভিযোগ পর্যন্ত আনা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে প্রমাণ দিতে হবে। অথচ মণিপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের অভিযুক্ত করলে তাঁর কোনো প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় মণিপুর নিয়ে কোনো কথা না বললেও, রাজ্যসভায় বলেছেন। সরকারের দায় অস্বীকার করে বিরোধীদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট মণিপুর নিয়ে রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তিরস্কার করলেও তাঁর ভ্রূক্ষেপ নেই। লোকসভার মত রাজ্যসভাতেও তিনি কংগ্রেসকে দলিতবিরোধী বলেছেন। সংবিধান রক্ষার ভার তাঁর উপরে বলে দম্ভ প্রকাশেও পিছপা হননি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কোনো অংশই লোকসভা বা রাজ্যসভার নথি থেকে মুছে দেওয়া হয়নি। লোকসভায় রাহুলের বক্তব্যের মাঝে প্রধানমন্ত্রী কথা বলার অনুমতি পান। অথচ রাজ্যসভায় বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময়ে সেই সুযোগ পাননি। বিপদ এখানেই। সংসদের ভিতরেও যেখানে পক্ষপাতিত্ব করে বিরোধী কণ্ঠরোধের আয়োজন হয়, সেখানে আমজনতার অধিকারের করুণ বাস্তবতা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
বিজেপি যে নির্বাচনী ফলাফলে নিজেদের বদলাবে না তার প্রমাণ সংসদের বাইরেও পাওয়া যাচ্ছে। রাহুলের বক্তব্যের বিরোধিতায় দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস দফতরে বিজেপি বিক্ষোভ দেখিয়েছে। আমেদাবাদে কংগ্রেস দফতরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল হামলা করেছে বলেও অভিযোগ। প্রতিবাদী সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীদের পুরনো মামলায় ইউএপিএ বা অন্য ধারায় কারারুদ্ধ করার কাজও থেমে নেই। গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে মধ্যপ্রদেশ সরকার নাগরিকদের বাড়ি ভেঙেছে। পরীক্ষা দুর্নীতি, রেল দুর্ঘটনা, বিমানবন্দরের ছাদ ভেঙে পড়া বা অযোধ্যার নবনির্মিত রাস্তায় ফাটল – কোনো কিছুতেই তারা বিচলিত নয়। সুশাসনের প্রতি বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা সরকারের নেই। আসলে ভয় দেখিয়ে, ঘৃণা ছড়িয়ে যারা ক্ষমতা ভোগ করতে চায়, তাদের পিছু হটলে চলে না। নিজেদের ভয় পাওয়াকে ঢাকতে আরও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হয়। জনাদেশ থেকে শিক্ষাগ্রহণ তাদের কাছে দুর্বলতার নামান্তর।
আরো পড়ুন অবশেষে রামনাম লুঠের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস
ভারতের মানুষ কিন্তু বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করেননি। আসন সংখ্যা কমিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। জনাদেশে বোঝা যাচ্ছে, তাঁরা একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ চেয়েছেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বিরোধী পক্ষেরও জনাদেশকে মর্যাদা দেওয়ার দায়িত্ব কম নয়। লোকসভার প্রথম অধিবেশনে ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে যে ঐক্য ও সমম্বয়ের চিত্র দেখা গেল, তা আগামীদিনেও বজায় রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক বিরোধী দলের। বিজেপি স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইবে।
দেশের ভোটাররা কৃষক আন্দোলন, দলিত, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলন, সংবিধান রক্ষার দাবিকে সমর্থন করেছেন। সংসদে প্রতিবাদের পাশাপাশি পথের আন্দোলন গড়ে তোলার দায়িত্বও বিরোধীদের রয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে আশা করা যায় বিরোধীশাসিত রাজ্যের সংখ্যা বাড়বে। রাজ্য শাসন করতে গিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন না করা, ভিন্ন মতকে মর্যাদা দেওয়া, স্বশাসিত সংস্থাগুলির স্বাধীনতা বজায় রাখার দায়িত্ব তাদেরও পালন করতে হবে। ভারতের গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, সংবিধানের মূল সুরকে রক্ষার গুরুদায়িত্ব বিরোধীদের। তাদের সেই দায়িত্ব পালন করার উপরেই অনেকখানি নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। অবশ্য শাসক ও বিরোধী পক্ষ দায়িত্ব পালন না করলে আন্দোলনের পথেই মানুষ নিজেদের অধিকার বুঝে নেন। ভারতের নাগরিক যে সেই কাজে সক্ষম তা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








