সম্বিত পাল ও অর্ক ভাদুড়ি

একসময় হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিখ্যাত মমতা ব্যানার্জি এখন যা বলেন বা করেন সবটাই খুব মেপে। তাঁর কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা অবস্থানকে ‘হঠাৎ মাথায় এসেছে বলে তিনি বলেছেন’ – এমনটা ভাবলে মূর্খামি হবে। তাই দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগের দিন বলে দেওয়া, যে তিনি পশ্চিমবঙ্গে জোটের জন্য দরজা খুলে রেখেছেন বা ‘কাউকে তো বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধতেই হবে’ বা সিপিএম এলেও তাঁর জোটে আপত্তি নেই – সবটাই আসলে মমতার বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

দিল্লি, পাঞ্জাব, কেরালার মত পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির বিরোধী দলগুলি একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিলই। দিল্লি ও পাঞ্জাবে অরবিন্দ কেজরিওয়াল কংগ্রেসকে আসন ছাড়বেন কিনা, কেরালায় বামেরা কখনো কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করবে কিনা এ নিয়ে যেমন রাজনৈতিক জল্পনা রয়েছে, তেমনই সন্দেহ ছিল পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও।

এ রাজ্যে যে সিপিএম কখনোই তৃণমূলের হাত ধরবে না তা একপ্রকার নিশ্চিত। তাহলে যেটুকু জনসমর্থন তাদের দিকে আছে, সেটুকুও ধুলোয় মিশে যাবে। কিন্তু কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের জোটের ইতিহাস রয়েছে এই রাজ্যে। মমতা তা মাথায় রেখে এবং জোট না করার দায় যাতে তাঁর ঘাড়ে এসে না পড়ে, তাই আগেভাগে ঘোষণা করে দিয়েছেন যে তিনি জোটের জন্য প্রস্তুত। সিপিএম আসুক বা না আসুক, কংগ্রেস অন্তত আসুক।

কিন্তু সেই জোট হবে কোন ফর্মুলায়? তৃণমূল নেত্রী স্বয়ং মনে করিয়ে দিয়েছেন গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এই রাজ্য থেকে মাত্র দুটি আসনে জিতেছিল – মালদা দক্ষিণ ও বহরমপুর। প্রথমটিতে আবু হাসেম খান চৌধুরী, দ্বিতীয়টিতে অধীর চৌধুরী। জোটের ফর্মুলা তৈরি করতে অন্যান্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গের এআইসিসি নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। সেই বৈঠকে নাকি এ রাজ্যের নেতারা তৃণমূলের সঙ্গে জোটের বিপক্ষে রায় দিয়েও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেবেন বলে জানিয়ে এসেছেন। তবে তৃণমূলের সঙ্গে দর কষাকষিতে যেন কোনো খামতি না থাকে সেই অনুরোধ করেছেন।

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ডিসেম্বরের মধ্যে আসন ভাগাভাগি হয়ে যাবে। কিন্তু কংগ্রেস সূত্রের খবর, এখন পর্যন্ত দলের তরফে তৃণমূলের কাছে নিজেদের জেতা দুটি আসন ছাড়াও তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত দুটি আসন চাইছে তারা। সেই কোটায় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ও নদিয়ার রানাঘাট তাদের প্রথম পছন্দ। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী চাইছেন মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ আসন দুটিও, সঙ্গে মালদা জেলার মালদা উত্তর আসনটি। পারলে বসিরহাট আর কৃষ্ণনগরও যেন তাঁদের দেওয়া হয়। কোনো কোনো মহলের দাবি কংগ্রেস দার্জিলিং, রায়গঞ্জ এবং কোচবিহার আসনটিও চায়।

এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ থেকে আগেরবার তৃণমূলের আবু তাহের খান, জঙ্গিপুর থেকে তৃণমূলের খলিলুর রহমান জিতেছিলেন। কৃষ্ণনগরে জয়ী হয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র, বসিরহাটে নুসরত জাহান। তৃণমূল কেন কংগ্রেসকে জেতা আসন ছেড়ে দেবে বলে ভাবছেন কংগ্রেস নেতারা, তা বোঝার উপায় নেই। বিষ্ণুপুর, রানাঘাটে অবশ্য বিজেপি জয়ী হয়েছিল, জিতেছিলেন যথাক্রমে সৌমিত্র খাঁ এবং জগন্নাথ সরকার। কোচবিহার, রায়গঞ্জ, দার্জিলিংও বিজেপির দখলে।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ধরলে নিজেদের জেতা আসন দুটি ছাড়া একটি আসনেও কংগ্রেসের এত ভোট নেই যে তারা একক শক্তিতে জিততে পারবে। গত লোকসভা নির্বাচনের হিসাব ধরলে কোচবিহার আসনের একেকটি বিধানসভায় কংগ্রেসের ভোট ৪-৫ হাজারের বেশি ছিল না। বামেদের ভোট কোথাও ছিল তিন হাজার তো কোথাও পাঁচ, আবার কোথাও দশ হাজারের মত। সেখানে বিজেপি একেকটি আসনে ৮০,০০০ থেকে ১,১৫,০০০ হাজার মত ভোট পেয়েছে। তৃণমূলের ভোটও একেকটি আসনে ৮০,০০০ থেকে ১,২৩,০০০-এর মধ্যে ছিল।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট হয়েছিল কংগ্রেসের। বামেরাই কোচবিহার লোকসভার অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতে লড়েছিল। কিন্তু লড়াই হয়েছিল দ্বিমুখী – তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে। তৃণমূল মেখলিগঞ্জ, সিতাই, নাটাবাড়ি এবং উপনির্বাচনে দিনহাটা জিতেছিল। বাকিগুলি গিয়েছিল বিজেপির ঝুলিতে।

দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে দশ হাজারের কিছু বেশি, ফাঁসিদেওয়াতে ১৫,৫০০ আর চোপড়ায় ২২,০০০-এর বেশি ভোট পেয়েছিল কংগ্রেস। বাকি বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে দুই, তিন বা কোথাও ছ হাজার ভোট পেয়েছিল তারা। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে কংগ্রেসের শঙ্কর মালাকার সেই ২২,০০০ মত ভোটই পেয়েছিলেন। ফাঁসিদেওয়াতে কংগ্রেস প্রার্থী প্রায় ১৩,০০০ ভোট পেয়েছিলেন। চোপড়ায় সিপিএম প্রার্থী কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সত্ত্বেও ১২,০০০ মত ভোট পেয়েছিলেন। বাকিগুলি হয় তৃণমূল নয় বিজেপির দখলে গিয়েছিল।

এবার দার্জিলিংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রাক্তন নেতা বিনয় তামাং যোগ দেওয়ায় একটু অক্সিজেন পেয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। কিন্তু বিনয় কতখানি গোর্খা ভোট টানতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ গোর্খা নেতারা আর একসঙ্গে নেই। বিমল গুরুং বা অনীত থাপারা নিজের নিজের ভোটব্যাঙ্ক গোছাতে ব্যস্ত।

দীপা দাশমুন্সিকে তেলেঙ্গানা ও কেরালার সাংগঠনিক দায়িত্বে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে রায়গঞ্জ আসনটি নিয়ে কংগ্রেস আর জোরালো দাবি করবে কিনা তা বলা মুশকিল। কারণ দীপা ও তাঁর স্বামী প্রিয়রঞ্জনের ঘরের আসন ছিল রায়গঞ্জ। ২০১৪ সালে মহম্মদ সেলিমের কাছে এবং গতবার চতুর্মুখী লড়াইয়ে বিজেপির দেবশ্রী চৌধুরীর কাছে হেরে যান দীপা। তবে রায়গঞ্জ লোকসভায় কংগ্রেসের ভোট আর তৃণমূলের ভোট এক হলে গতবার বিজেপির ওখান থেকে জেতা কঠিন হতো। ইসলামপুর, করণদীঘি, হেমতাবাদে বিজেপির থেকে এগিয়ে থাকত জোটের প্রার্থী।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ইসলামপুরে কংগ্রেস ও বামেদের ভোট তৃণমূলের দিকে গিয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনের সময়ে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ৬০,০০০ ভোট পান, বিধানসভায় সেই ভোটের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৯,০০০। বিজেপি লোকসভায় পেয়েছিল ৫৬,০০০ ভোট। বিধানসভায় তা প্রায় ৬২,০০০ হয়ে যায়। বাম ও কংগ্রেস মিলিয়ে লোকসভায় ভোট ছিল ৩৬,০০০। কিন্তু বিধানসভায় কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছিলেন মাত্র ৩,৪০০ ভোট।

গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়াতে এমনিতেই এগিয়ে ছিল তৃণমূল। বিধানসভাতেও তারাই জেতে আসন দুটি।

করণদীঘিতেও একই কাণ্ড হয়েছিল। বিজেপির ভোট একইরকম (৮০,০০০-এর কাছাকাছি) থাকলেও তৃণমূলের ভোট ৬৬,০০০ থেকে ১, ১৫,০০০-এ পৌঁছেছিল। সেখানে বাম-কংগ্রেস জোটের ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী মাত্র ন হাজার ভোট পেয়েছিলেন। অথচ লোকসভায় কংগ্রেসের ভোট ছিল প্রায় ১৩,০০০ আর বামেদের ভোট ছিল প্রায় ৩০,০০০।

উত্তর মালদায় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির খগেন মুর্মু জিতেছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে গনিখান চৌধুরীর পরিবারের দুই সদস্য ইশা খান চৌধুরী ও মৌসম বেনজির নূর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ইশা কংগ্রেসের হয়ে আর মৌসম কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ঘাসফুল চিহ্নে লড়েন। কিন্তু চাঁচল ও মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির থেকেও এগিয়ে ছিল কংগ্রেস। তৃণমূল এগিয়ে ছিল হরিশচন্দ্রপুর ও রতুয়ায়। বিজেপি প্রার্থী হবিবপুর, গাজোল ও মালদা কেন্দ্রে এতটাই ব্যবধান বজায় রেখেছিলেন (প্রায় ৫০,০০০ ভোটের ব্যবধান ছিল প্রতিটি কেন্দ্রে) যে জয় আটকাতে পারেনি বিরোধীরা।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনেও কিন্তু এই তিনটি কেন্দ্রে জেতেন বিজেপি প্রার্থী। বাকিগুলিতে তৃণমূল। হবিবপুরে ও গাজোলে বাম-কংগ্রেস জোটের সিপিএম প্রার্থী পেয়েছিলেন ১৩,৫০০-১৪,০০০ ভোট। চাঁচলে জোটের কংগ্রেস প্রার্থী ৩১,০০০ মত ভোট পেয়েছিলেন। লোকসভায় কিন্তু বাম ও কংগ্রেসের ভোটের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৬,০০০।

দক্ষিণ মালদায় কংগ্রেসের আবু হাসেম খান চৌধুরী মানিকচক, ইংরেজবাজার ও বৈষ্ণবনগরে বিজেপির কাছে পিছিয়ে থাকলেও মোথাবাড়ি, সুজাপুর, ফরাক্কা ও সামশেরগঞ্জে এগিয়ে ছিলেন। বহরমপুরে অধীর চৌধুরী কিন্তু ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর আর কান্দি বিধানসভা এলাকায় এগিয়ে থাকলেও ভরতপুর, রেজিনগর, বেলডাঙা, নওদাতে তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকারের থেকে পিছিয়ে ছিলেন। দক্ষিণ মালদা ও বহরমপুরের অধীনে কোনো বিধানসভা কেন্দ্রেই কংগ্রেস ২০২১ নির্বাচনে জিততে পারেনি।

তবে জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাগরদীঘি বিধানসভার উপনির্বাচন সেই অঙ্ক পুরো গুলিয়ে দিয়েছিল। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সুব্রত সাহা এই আসনে প্রায় ৯৫,০০০ ভোট পেয়েছিলেন। কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩৬,০০০ আর বিজেপি প্রার্থীর ঝুলিতে গিয়েছিল প্রায় ৪৭,০০০ ভোট। কিন্তু দুবছরের মাথায় উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস ৮৭,৫০০ হাজার ভোট পান। তৃণমূল প্রার্থী পান ৬৪,৫০০ আর বিজেপি প্রার্থীর ভোট কমে দাঁড়ায় প্রায় ২৬,০০০! যতই বায়রন বিশ্বাস দলবদল করে তৃণমূলে নাম লেখান, ওই উপনির্বাচনে বাম ও কংগ্রেস ১৯% ভোটকে নিয়ে গিয়েছিল ৪৭ শতাংশে। তৃণমূলের ভোট ৫১% থেকে ৩৫% হয়ে যায়।

এখানেই লুকিয়ে রয়েছে তৃণমূলের কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার ‘সদিচ্ছা’-র কারণ। কংগ্রেস যে অন্যান্য আসনগুলি তৃণমূলের কাছে চেয়েছে সেগুলির সংখ্যা নিয়ে এখনই কাটাছেঁড়া না করলেও শুধু উত্তর বঙ্গের আসনগুলির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনগুলিতে ভীষণরকম মেরুকরণ হয়েছিল। বিশেষত উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদে। লোকসভায় সেই মেরুকরণ বিজেপিকে সাহায্য করেছিল আর বিধানসভায় তৃণমূলকে।

কিন্তু মেরুকরণের রাজনীতিতে ভয় পেয়ে যখন রাজ্যের শাসক দল নিজেদের ভাবমূর্তি বদল করতে শুরু করে, যখন নওশাদ সিদ্দিকিরা শাসক দলের অঙ্ক গুলিয়ে দেন, যখন বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র ব্যবধান কমে যায় এবং সব শেষে সাগরদীঘি একটি অশনি সংকেত বয়ে আনে, তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের টনক নড়তে শুরু করে। সংখ্যালঘু ভোটে যে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকছে না তা পরিষ্কার হতে থাকে।

জানুয়ারি মাসে রামমন্দির উদ্বোধন করে নরেন্দ্র মোদীরা যে হিন্দুত্বের মেরুকরণের রাজনীতিতে আরও ঘি ঢালবেন তা কারোর অজানা নয়। তাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা সত্ত্বেও (লোকসভা ভোটে মোদীকে জেতাতে অবশ্য সঙ্ঘ পরিবার ও বিজেপির কেন্দ্রীয় ভোট মেশিনারি ঝাঁপিয়ে পড়ে) তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু ভোটকে কখনোই ভাগ হতে দিতে চাইবে না। বামেদের পাশে পেলেও তৃণমূল নেত্রীর ভালই হত। কিন্তু কংগ্রেসকে যদি সঙ্গে পাওয়া যায়, তাহলেও লাভ তৃণমূলেরই।

আরো পড়ুন রাজ্যে ইন্ডিয়া জোটের গলার কাঁটা হতে পারে তৃণমূল ঔদ্ধত্য

কংগ্রেস যদি দুটো আসনও পায়, তাহলেও তাদের লাভ। কারণ মেরুকরণের রাজনীতিতে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল বিশেষ সুবিধা করতে নাও পারে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে তো একা জেতার অবস্থাতেই নেই কংগ্রেস। যদিও রাহুলের মণিপুর থেকে মুম্বাই ভারত ন্যায় যাত্রা পশ্চিমবঙ্গে কেমন প্রভাব ফেলে তা লক্ষণীয়।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছে সিপিএম। বন্ধু কংগ্রেস তৃণমূলের হাত ধরার উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা বামেদের সঙ্গে কোনোরকম আসন সমঝোতায় যাবে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। রাজ্য সম্পাদক সেলিম তাই তাকিয়ে রয়েছেন বিধান ভবনের দিকে। দুই দলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনাই হয়নি এখন পর্যন্ত।

নির্বাচনী রাজনীতিতে আসন সমঝোতা করতে গেলে দর কষাকষি হবেই। যে শক্তিশালী তার দিকে পাল্লা ভারি থাকবে। কিন্তু যখন জাতীয় স্তরে একটি সংঘবদ্ধ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলি, তখন শক্তিশালী দলকেও কিছুটা জায়গা ছাড়তেই হয়। যদিও ‘যে যেখানে শক্তিশালী সে সেখানে লড়ুক’ – নীতিতে জোটের আলোচনা শুরু হলেও, বিরোধী জোটের স্বার্থেই শক্তিশালী দলকে একটু নমনীয় হতে হয়।

মমতা সেই ‘উদারতা’ দেখিয়ে জোটের পথ উন্মুক্ত করেছেন সর্বসমক্ষে। যদিও ‘একের বিরুদ্ধে এক’ ফর্মুলা এখানে লাগু হবে না। তাই হয়ত তৃণমূল নেত্রী বলছেন, এই রাজ্যে ইন্ডিয়া জোট নেই।

তবে জাতীয় দল হিসাবে কংগ্রেস কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর জোটের আহ্বানকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারবে না। তাই রাজ্য নেতাদের জোটবিরোধী পরামর্শ শুনেও রাহুলরা জোটের জন্য উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে জোট হওয়া প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু তৃণমূল কটি আসন কংগ্রেসকে ছাড়বে তা নিয়ে টানাপোড়েন চলবে।

তবে রাজনীতিতে পাটিগণিতই শেষ কথা নয়। কর্ণাটকের নির্বাচনে কংগ্রেস জেতার পর যে উৎসাহ নিয়ে বিরোধীরা ইন্ডিয়া জোট তৈরি করেছিলেন বা যে ধরনের বিকল্প রাজনৈতিক আলেখ্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছিল, তা এখন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের পরে বানের জলে ভেসে গেছে। এখন বিরোধী জোটের মূল আলোচনা আসন সমঝোতায় এসে ঠেকেছে। তাতে বিরোধীদের কতটা লাভ হবে তা নির্বাচনের ফল দেখলেই বোঝা যাবে। তবে একদম কিছু না হওয়ার থেকে ২০২৪ নির্বাচনে একটু অন্যরকম লড়াই দেখা গেলে মন্দ কী?

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.