অর্ণব সাহা

কাশ্মীর ভারতের ছিল, ভারতের আছে, ভারতের থাকবে — এই উগ্র রাষ্ট্রবাদী হিন্দুত্বের জিগিরে ভরে উঠেছে গোটা দেশ। সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অবলুপ্তিকরণে সুপ্রিম কোর্টের শিলমোহর পড়ার পরেই কোথাও বিজেপির রাজ্য দফতরে বাজি পটকা ফাটিয়ে উদযাপনের হিড়িক, কোথাও উগ্র সমর্থকদের মিষ্টিমুখ করার সমবেত উল্লাস। সান্ধ্য টেলিভিশনের প্যানেল-বক্তা সমেত সঞ্চালকের উদ্দাম হাত-পা ছুঁড়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে খুলে-আম স্বাগত জানানোর এই প্রবল সম্প্রচারে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে অনেকগুলো জরুরি তথ্য।

২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তিকরণের কেন্দ্রীয় সরকারি সিদ্ধান্তের পর যে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নামিয়ে এনেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, হাজার হাজার কাশ্মীরি যুবকের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, মাসের পর মাস স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির গেটে তালা মেরে দেওয়ার পর দিনের পর দিন ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সরকারি নিদানে যখন কাশ্মীর উপত্যকা পুরোপুরি মিলিটারি স্টেটে পরিণত, তখন বিজেপির মুখপাত্র টেলিভিশনে ব্যাখ্যা করছেন, ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত কাশ্মীরে কত শতাংশ পর্যটকের আগমন বেড়েছে; বারামুল্লা, পুলওয়ামা সহ মোট কতগুলো জায়গায় সিনেমা হল খুলেছে, কাশ্মীরিয়তের দাবিকে কতখানি নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে তার খতিয়ান। এই ভাষ্যের আগ্রাসী চাপে হারিয়ে যাচ্ছে কাশ্মীরের মানুষের স্বাধীন, স্বাভাবিক, সুস্থ জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, তাদের আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচিতির নিজস্ব অভিব্যক্তি।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কাশ্মীর চিরকাল ভারতের ছিল?

দ্বাদশ শতকের কাশ্মীরি ঐতিহাসিক কলহন রাজতরঙ্গিনী বইটি লেখেন ১১৪৯-৫০ সালে। তা থেকে জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানীয় শাসক কাশ্মীর শাসন করতেন। মাঝে মাঝে ভারতের বৃহৎ শাসকরা কাশ্মীর দখল করলেও তাদের আধিপত্যের বন্ধন শিথিল হওয়া মাত্রই স্থানীয় শাসকরা বিদ্রোহ করতেন। ১৩৩৯ সাল থেকে স্থানীয় মুসলিম শাসকরা কাশ্মীর শাসন করেছেন। কিন্তু অবস্থার গুণগত বদল ঘটে ১৫৮৬ সালে আকবর কাশ্মীরকে মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত করার পর। আজও কাশ্মীরের মানুষ মনে করে তাদের পরাধীনতার সূচনা ওই সময়েই।

আঠারো শতকের গোড়ার দিকে রণজিৎ সিংয়ের নেতৃত্বে পাঞ্জাবে শিখ শক্তির উত্থান ঘটে। রণজিৎ সিং ১৮১৯ সালে কাশ্মীরের পাঠান শাসকদের পরাস্ত করে কাশ্মীরকে তাঁর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৮৪৬ সালে ইংরেজদের হাতে পরাস্ত শিখ শক্তি লাহোর চুক্তি করতে বাধ্য হয়। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ যে দেড় কোটি টাকা ইংরেজ শক্তি দাবি করেছিল, শিখ শক্তির কাছে সেই পরিমাণ টাকা ছিল না বলে শিখরা জম্মুর ডোগরা শাসক গুলাব সিংকে কাশ্মীর বিক্রি করে দেয়। ইংরেজরা ১৮৪৬ সালের অমৃতসর চুক্তি মারফত ৭৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কাশ্মীর উপত্যকা ও তার পার্শ্ববর্তী অংশে গুলাব সিংয়ের আধিপত্য মেনে নেয় ও এই দুই পক্ষের চুক্তিতে বলা হয় – কাশ্মীর চিরকালের জন্য হিন্দু ডোগরা রাজাদের অধীনে থাকবে এবং ডোগরাদের বংশানুক্রমিক আধিপত্য বজায় থাকবে কাশ্মীরে।

১৯৪৭ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র কয়েকদিন আগে, ১ অগাস্ট, মহাত্মা গান্ধী স্বয়ং কাশ্মীরে যান এবং ঘোষণা করেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই অমৃতসর চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কাশ্মীরের অধিকার কেবলমাত্র কাশ্মীরিদের। গোটা দেশে যখন সাম্প্রদায়িক অশান্তির আগুন, কাশ্মীরিরা তাঁদের রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে সফল হয়েছিলেন বলে তাদের প্রশংসাও করেন ‘বাপু’।

গণভোটের কী হল?

পাক মদতপুষ্ট বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে পর্যুদস্ত রাজা হরি সিং যখন বাধ্য হয়ে কাশ্মীরের ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন, তখন এই শর্তই রাখা হয়েছিল যে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ – তিনটি ক্ষেত্রে জম্মু-কাশ্মীর সরকার ভারত সরকারের কর্তৃত্ব মেনে চলবে। ১৯৪৭ সালের ২ নভেম্বর জওহরলাল নেহরু এক বেতার ভাষণে ঘোষণা করেন, যে মুহূর্তে কাশ্মীরে আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং কাশ্মীরের ভূখণ্ড পাক আক্রমণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হবে, কাশ্মীরের ভারতভুক্তির বিষয়টি গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন কাশ্মীরের মানুষ।

১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি নেহরু কাশ্মীর সমস্যার বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠান। রাষ্ট্রসঙ্ঘ কাশ্মীরে গণভোটের উদ্যোগ নিলেও ভারত বা পাকিস্তান, কোনো রাষ্ট্রই চায়নি এর আশু সমাধান। তাই আজ ৭৫ বছর পরেও কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের জন্য কাশ্মীরিদের গণভোট নেওয়া হয়নি।

১৯৪৯ সালে প্রথমে ৩০৬(এ) অনুচ্ছেদ ও পরে ১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার, স্বাতন্ত্র্য ও স্বায়ত্তশাসন স্বীকার করেও এমন কিছু ধারা যুক্ত করে রাখা হয়, যাতে কাশ্মীরের স্বশাসনের অধিকার চিরতরে বাতিলই হয়ে গেছিল। শেখ আবদুল্লাকে ‘সদর-ই-রিয়াসৎ’ পদে রেখে ১৯৫২ সালের ২৪ জুলাই দিল্লি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ঠিক এর পরের বছর, ১৯৫৩ সালের ৯ অগাস্ট ভিত্তিহীন অভিযোগে শেখ আবদুল্লাকে গ্রেফতার করে ভারত সরকার। তিনি ১১ বছর কারারুদ্ধ ছিলেন। তাঁর জায়গায় বসলেন নেহরু-ঘনিষ্ঠ বক্সী গুলাম মহম্মদ।

১৯৫৪ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি এক বিশেষ সাংবিধানিক নির্দেশ জারি করে কাশ্মীরের যে কোনো আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘বৈধ’ হস্তক্ষেপের অধিকার হাতে নিয়ে নেন। বস্তুত, কাগুজে ৩৭০ অনুচ্ছেদর কার্যকারিতার অবসান সেদিনই ঘটে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, এর অনেক আগেই, ১৯৪৮ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ আবদুল্লাকে লেখা একটি চিঠিতে নেহরু বলেন “কাশ্মীরে গণভোট কোনোদিন না হবার সম্ভাবনাই বেশি।” তিনি এই বক্তব্য শেখ আবদুল্লাকে গোপন রাখতে বলেছিলেন। অর্থাৎ ভারত রাষ্ট্র গোড়া থেকেই শেখ আবদুল্লার “কাশ্মীরের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে কাশ্মীরিরা” – এই স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছে। কাজেই কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ৩৭০ অনুচ্ছেদ – এই দাবি ভিত্তিহীন।

যদিও ৩৫(এ) অনুচ্ছেদটিতে বলা হয়েছিল কারা কাশ্মীরের অধিবাসী তা নির্ধারণ করার অধিকার কাশ্মীরের আইনসভার আছে, ২০১৯ সালের অগাস্টে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক উপায়ে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদের পাশাপাশি ৩৫(এ) অনুচ্ছেদটিও অবলুপ্ত করা হয়েছে। অথচ অনুরূপ ৩৭১-ক অনুচ্ছেদে নাগাল্যান্ড, ৩৭১-জি অনুচ্ছেদে মিজোরামে জমি কেনাবেচা, হস্তান্তর সহ একাধিক বিষয়ে বিশেষ অধিকার দেওয়া আছে। কাশ্মীরে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের গোড়া থেকেই আপত্তির একমাত্র কারণ সঙ্কীর্ণ রাজনীতি, অর্থাৎ মুসলমানপ্রধান কাশ্মীরকে পায়ের তলায় দাবিয়ে রাখার ইচ্ছা।

শ্যামাপ্রসাদের ইচ্ছে তাহলে এতদিনে সফল হল?

হিন্দুত্ববাদীদের একটু মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কিন্তু ৩৭০ অনুচ্ছেদ মেনে নিয়েছিলেন। লোকসভা ডিবেটস, ৭ অগাস্ট ১৯৫২, নথি থেকে জানা যায় ওই দিন সংসদে দাঁড়িয়ে শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন (তখন তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন এবং বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা), “এটা সত্য যে কাশ্মীর ইস্যুকে রাষ্ট্রপুঞ্জে নিয়ে যাবার প্রয়াসে আমি ছিলাম সক্রিয় অংশীদার…কাশ্মীরিদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাদের ভারতের আনুগত্য গ্রহণে বাধ্য করতে হবে, এরকম কিছুই আমি বলিনি, বলার প্রশ্নও ছিল না…আমরা এই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছি যে, এমনকি ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হবার অধিকার সমেত কাশ্মীরিদের গণভোটে অংশগ্রহণের অধিকার আমরা মেনে নেব। সংবিধান সভার মাধ্যমে কাশ্মীরের মানুষের ইচ্ছার সর্বোচ্চ মর্যাদা আমরা দেব”।

এর পাশাপাশি রাখুন ১৫ অগাস্ট, ২০১৭ লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ, যাতে তিনি বলেন, কাশ্মীরে গুলি বা গালি কোনোটাই চলবে না, বরং কাশ্মীরিদের বুকে টেনে নিয়ে আলিঙ্গন করতে হবে। ২০১৫ সালে কাশ্মীরে মহবুবা মুফতির সঙ্গে জোট সরকারে যায় বিজেপি। সেই ভোটে জোটের যৌথ ইশতেহারের ন্যূনতম কর্মসূচির কোথাও ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের কথা ছিল না। তিনবছরের মাথায় বিজেপি জোট সরকার ফেলে দেয়। কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। মহবুবা সহ পিডিপির সমস্ত শীর্ষনেতাদের গৃহবন্দি করা হয়। কাশ্মীরকে মিলিটারি বুটের তলায় পিষে রাখার নীল নকশা সফল হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আজ কাশ্মীর উপত্যকায় প্রত্যেক তিনজন শিশুর মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে, অজস্র কাশ্মীরি যুবক গ্রেফতারের পর নিখোঁজ, গত চারবছরে কেবল গুলবার্গেই ৪০০-র বেশি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। গৃহবন্দি সিপিএম বিধায়ক ইউসুফ তারিগামি বলেছেন, কাশ্মীরকে তিলে তিলে হত্যা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সামরিক অবরোধের ফলে কাশ্মীরের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সামরিক প্রহরায় ধীরে ধীরে পর্যটক আসা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু ভারতের বৃহৎ কর্পোরেট এইবার কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করার অবাধ ছাড়পত্র পেল এটাও সত্যি। যদিও জঙ্গি হামলা শেষ হয়ে যায়নি আর চিরকালের মতো হারিয়ে গেছে স্বাধীন কাশ্মীরিয়তের স্বপ্ন, খোদ শ্যামাপ্রসাদ একদিন যাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন কাশ্মীর আর মণিপুরের হাল দেখে বাঙালির শিউরে ওঠা উচিত

সুপ্রিম কোর্টকে দিয়েই কফিনে শেষ পেরেক

নাসিকের এক নির্বাচনী সভায় মোদী ঘোষণা করেছিলেন, ৫ অগাস্ট ২০১৯ তারিখের পর থেকে তিনি চান ‘নয়া স্বর্গ, নয়া কাশ্মীর’ গড়ে তুলতে। ১৯৪৪ সালে শেখ আবদুল্লা একটি বই লেখেন। তার নামও ছিল নয়া কাশ্মীর। ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত কাশ্মীরের মুসলিম কনফারেন্সের প্রথম সভাপতি শেখ আবদুল্লা বলেছিলেন, তাঁর আন্দোলন কোনো সাম্প্রদায়িক আন্দোলন নয়। এটি সব ধর্ম, জাতির মিলিত কাশ্মীর গড়ার আন্দোলন। প্রতিবাদে দলের কট্টর মৌলবাদী গোষ্ঠীর নেতা মিরওয়াইজ ইউসুফ শাহ দল ছাড়েন। ১৯৩৮ সালে শেখ আবদুল্লার দলের নতুন নাম হয় জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স। ১৯৪৪ সালে এই দল হিন্দু ডোগরা রাজা হরি সিংয়ের কাছে কাশ্মীর পুনর্গঠন সংক্রান্ত যে দাবিসনদ পেশ করে, সেটিই ‘নয়া কাশ্মীর’ দলিল। জম্মুর কট্টরপন্থী হিন্দু মহাসভার নেতারা চেয়েছিলেন হরি সিং স্বাধীন হিন্দু রাজা হিসাবেই থেকে যান, যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সেনাবাহিনী দিয়ে কাশ্মীরিদের স্বাধীনতার লড়াইকে দমন করা যায়। মনে রাখতে হবে, পরাধীন ভারতে এবং তারপরেও হিন্দু মহাসভা ছিল দেশীয় সামন্তরাজাদের অনুগ্রহপুষ্ট একটি মুসলমানবিরোধী হিন্দু গণসংগঠন। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পরে যে রাজস্থানের এক বিজেপি নেতা সোল্লাসে বলেছিলেন, এইবার আর হিন্দু যুবকদের জন্য কাশ্মীরি মেয়ে বিয়ে করায়, কাশ্মীরে জমি কেনায় কোনো বাধা রইল না, তার নিহিতার্থ হল, মুসলমানপ্রধান কাশ্মীরকে এতদিনে হিন্দুত্ববাদ দিয়ে ফের কব্জা করা গেছে। এটাই ছিল বিগত আট দশকের হিন্দু রাষ্ট্রবাদী প্রকল্প।

বিগত এক দশকে মোদীর শাসনে ভারতের প্রত্যেকটি সাংবিধানিক, আইনি, নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম আজ হিন্দু রাষ্ট্রবাদীদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। আজ যে কোনো অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ আইনি পথে, দরকার হলে গায়ের জোরেও, প্রয়োগ করা হবে।

নিবন্ধকার শেঠ আনন্দরাম জয়পুরিয়া কলেজের শিক্ষক। মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.