পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে কার্যত কল্পতরু হয়েছিল সবকটি রাজনৈতিক দলই। বিজেপি, কংগ্রেস, বিআরএস – ভোটারদের মন পেতে কেউই প্রতিশ্রুতির ফানুস ওড়াতে দ্বিধা করেনি। এবার কথা রাখার পালা। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিসগড়ে জয় পেয়েছে বিজেপি। তেলেঙ্গানায় বিআরএসকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে কংগ্রেস। নির্বাচনী ইস্তেহারে রাজনৈতিক দলগুলি যে প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, সেগুলি পূরণ করতে নতুন রাজ্য সরকারগুলির কত খরচ হবে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
ছত্তিসগড়: ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছিলেন, ছত্তিসগড়ে এবার জোর লড়াই। কংগ্রেসকে হারাতে প্রচার পর্বে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করতেই নতুন সরকারের পকেট থেকে যাবে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি।
কৃষক সহায়তা: নির্বাচনী প্রচার পর্বে কৃষক সহায়তা নিয়ে বিজেপি যা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলি পূরণ করতে খরচ হবে অন্তত ৭৬,৬৩১ কোটি টাকা। ছত্তিসগড়ে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারেও চাষিদের জন্যে নানারকম সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি ছিল। ভূপেশ বাঘেলের সরকার যেখানে চাষিদের থেকে ৩২০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল দরে একরপ্রতি ২০ কুইন্টাল হিসেবে ধান কেনার কথা বলেছিল, বিজেপি সেখানে ৩,১০০ টাকা দরে একরপ্রতি ২১ কুইন্টাল ধান সংগ্রহের ঘোষণা করে। গত খরিফ মরশুমে ছত্তিসগড় সরকার মোট ১০৭.৫২ লক্ষ কুইন্টাল ধান সংগ্রহ করেছিল প্রতি কুইন্টাল ২,৬৪০ টাকা দরে, অর্থাৎ ২৮,৩৮৫ কোটি টাকা মোট খরচে। বিজেপির প্রতিশ্রুত দরে ওই পরিমাণ সরকারি ধান সংগ্রহের খরচ দাঁড়াবে ৩৩,৩৩১ কোটি টাকার উপর। ২০০৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রামন সিং-এর মুখ্যমন্ত্রিত্বে এই রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। ওই সময়কালের শেষ দুবছরের ধানচাষের বকেয়া বোনাসও মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নির্বাচনী ইস্তেহারে। ২০১৬ সালে ১৩ লক্ষ ধানচাষিকে মোট ২,১০০ কোটি টাকার বোনাস দেয় রামন সিং সরকার। ওই একই সংখ্যক চাষিকে একই হারে ২০১৬-১৮-র বকেয়া মেটানো হলেও তার খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৪,২০০ কোটি টাকা। এছাড়াও ব্যাগপ্রতি ৫,৫০০ টাকা দরে টেন্ডুপাতা সংগ্রহ এবং টেন্ডু চাষিদের বার্ষিক ৪,৫০০ টাকা বোনাসের খরচ পড়বে ৩৪,০০০ কোটির বেশি। এছাড়াও রয়েছে ভূমিহীন কৃষকদের বার্ষিক ১০,০০০ টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি। শ্রম ও নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের হিসেবে অনুযায়ী ২০১৭ সালে ছত্তিসগড়ে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা ছিল ৫১ লক্ষ। অর্থাৎ অন্ততপক্ষে ৫,১০০ কোটি বরাদ্দ প্রয়োজন।
নারী সহায়তা: নারী সহায়তা নিয়ে বিজেপি যা বলেছে, তা পূরণ করতে খরচ হবে ৪,৮০০ কোটি টাকারও বেশি। ক্ষমতায় এলে মাহতারি বন্দন যোজনা প্রকল্পে বিবাহিত মহিলাদের মাসিক ১,০০০ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেছিল বিজেপি। আনুমানিক ৪০ লক্ষেরও বেশি মহিলা এই প্রকল্প থেকে উপকার পাবেন। সেই হিসাবে এই বাবদ খরচ হবে অন্তত ৪,৮০০ কোটি টাকা।
গৃহ সহায়তা: গৃহ সহায়তা বাবদ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নতুন সরকারের খরচ হতে পারে অন্তত ১৮,১৭২ কোটি টাকা। কংগ্রেসের মতই বিজেপিও ৫০০ টাকা দামে উজ্জ্বলা যোজনার এলপিজি সিলিন্ডার দেবার কথা বলেছে। ছত্তিসগড়ে উজ্জ্বলার আওতায় থাকা ৩৪,৪০,৩৮১টি পরিবারকে এই দামে সিলিন্ডার দিতে ভর্তুকি খরচ পড়ে ১৭২ কোটি টাকা। এছাড়াও ১৮ লক্ষ পরিবারকে অন্তত ১ লক্ষ টাকা করে আবাস যোজনার সহায়তা দিতে খরচ পড়বে ১৮,০০০ কোটি টাকা।

অন্যান্য: পথবিক্রেতাদের জন্য ২,০০০ টাকা বার্ষিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালে ছত্তিসগড়ে পথবিক্রেতার সংখ্যা ছিলো ৩২,০০০-এর কাছাকাছি। সংখ্যাটা তিন বছরে খুব বদলায়নি ধরে নিলে এই অনুদান বাবদ খরচ পড়বে ৬.৪ কোটি টাকা।
এছাড়াও বিজেপির দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির তালিকায় আরও রয়েছে ২১,০০০ টাকা মাতৃত্ব ভাতা, সরকারি স্কুল বা কলেজে পড়া ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের সন্তানদের জন্য ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জলপানি, কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার জীবন বিমা এবং ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বিমার সুরক্ষা, মৌমাছি পালনে ৫০% ভর্তুকি, পশুপালনে ভর্তুকি, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১০০টি আবাসিক বিদ্যালয়।
গোটা ইস্তেহার জুড়ে থাকা অসংখ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যগুলি বাস্তবায়ন করতেই খরচ হবে ১,০০,০০০ কোটি টাকারও বেশি।
ছত্তিসগড়ের বিদায়ী কংগ্রেস সরকারের ২০২৩-২৪ বাজেটে আনুমানিক ব্যয়ের উল্লেখ ছিল – কৃষি ও সংলগ্ন খাতে ১৯,৮৯৬ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৭,৮৪২ কোটি টাকা, শক্তি খাতে ৫,৮৬০ কোটি, পুষ্টি ও সমাজকল্যাণ খাতে ৪,৫৮১ কোটি টাকা। বিভিন্ন সামাজিক খাত মিলিয়ে মোট খরচ ছিল ৮৮,১০৬ কোটি টাকা, রাজস্ব ব্যয় ১,০২,৫০১ কোটি টাকা।
এইসব খরচের কিছু হয়ত কাটছাঁট করতে পারবে নতুন সরকার, তবে অধিকাংশই খরচই বজায় থাকবে। তার উপর যোগ হবে বাড়তি প্রতিশ্রুতি রক্ষার খরচ।
রাজস্থান: ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি
সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছিলেন অশোক গেহলত। তাঁকে হারাতে বিজেপি নেতারা প্রতিশ্রুতির ডালি উপুড় করেছিলেন।
কৃষক সহায়তা: কৃষক-সহায়তা বাবদ বিজেপির দেওয়া কথা রাখতে খরচ হবে ৯,৭৫৫ কোটি টাকারও বেশি। গমের ন্যূনতম মূল্য কুইন্টাল প্রতি ২,৭০০ টাকা করার আশ্বাস দিয়েছে বিজেপি। ২০২৪ সালে আনুমানিক ৪২.৮ লক্ষ মেট্রিক টন গমের সরকারি ক্রয়ের খরচ তাহলে দাঁড়ায় প্রায় ১,১১৫ কোটি টাকা। কৃষকদের জন্য রয়েছে বার্ষিক ১২,০০০ টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধির আওতায় থাকা ৭২ লক্ষ কৃষক যদি এই সুবিধা পান, তবে মোট খরচ পড়ে ৮,৬৪০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষকদের জন্য ৩,০০০ টাকা পেনশনের কথাও রয়েছে।
নারী সহায়তা: নারী সহায়তা বাবদ বিজেপির প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হলে নতুন সরকারের পকেট থেকে যাবে অন্তত ১,২৩৮ কোটি টাকা। লাড়ো প্রোৎসাহন যোজনা খাতে বিভিন্ন শ্রেণিতে পাঠরত স্কুলছাত্রীদের জন্য ৬,০০০ থেকে ১৪,০০০ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক বৃত্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। এই একই প্রকল্পে দরিদ্র পরিবারের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানদের জন্য ২ লক্ষ টাকার বন্ড দেওয়া হবে। রাজস্থানের সরকারি স্কুলগুলিতে পড়া প্রায় ১ কোটি ছাত্রছাত্রীকে স্কুলব্যাগ এবং ইউনিফর্মের জন্য ১,২০০ টাকা করে দিতে হলে লাগে ১,২০০ কোটি টাকা। স্কুল পাস করার পর মেধাবী ছাত্রীদের জন্য স্কুটারের প্রতিশ্রুতি বাবদ খরচ পড়তে পারে ৩৮ কোটি।
গৃহ সহায়তা: গৃহ সহায়তা বাবদ বিজেপি যা করবে বলেছে, তার খরচ অন্তত ২৮৫ কোটি টাকা। রাজস্থানে উজ্জ্বলা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪৫০ টাকায় নামিয়ে আনার কথা বলেছে বিজেপি। ২০২৩ সালে রাজস্থানে উজ্জ্বলার আওতায় ছিল ৬৩,৯২,৪৮২টি পরিবার। এই সংখ্যক গ্রাহককে ৪৫০ টাকায় সিলিন্ডার দিতে ভর্তুকি বাবদ খরচ পড়বে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা।

অন্যান্য: অন্যান্য যে সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছে, সেগুলি রক্ষা করতে খরচ হবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। রাজস্থানের ৬১,৫৯৩ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে মাসিক ১৩,০০০ টাকা ভাতা দিতে মোট খরচ ৯৬০ কোটি ছাড়াবে। ক্ষুদ্র অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক বরাদ্দ ৭,৫০০, সহায়ক কর্মীদের জন্য ৬,৫০০ এবং আশাকর্মীদের মাসিক বরাদ্দ ৬,০০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও আছে গর্ভবতী ও সদ্যপ্রসূতিদের জন্য ৩,০০০ টাকা সাহায্য, জেলাপিছু মহিলা থানা, মহিলা খেলোয়াড়দের জন্য ৫ লাখ টাকা করে অনুদান, মহিলা বাস, মহিলা শৌচাগার, লাখপতি দিদি স্কীমে ৬ লক্ষ গ্রামীণ মহিলাকে বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা আয়ের উপযোগী স্কিল ট্রেনিং, স্বয়ংসিদ্ধ প্রকল্পে ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি।
সব মিলিয়ে মরুরাজ্যে বিজেপির ইস্তেহারের প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলি মেটাতেই খরচ হবে ১৩,২৩৮ কোটি টাকার বেশি।
বিদায়ী কংগ্রেস সরকারের ২০২৩-২৪ বাজেটে আনুমানিক খরচের মধ্যে ছিল কৃষি ও সংলগ্ন বিষয়ে ১২,৮৬৪ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণে ২২,০৬৪ কোটি টাকা, শক্তি বাবদ ২৬,৩৭১ কোটি টাকা, পুষ্টি ও সমাজকল্যাণে ২০,৩১৮ কোটি টাকা। সামাজিক খাতে মোট খরচ ছিল ১,৯৫,২১৩ কোটি টাকা। রাজস্ব ব্যয় ছিল ২,৫৮,৮৮৪ কোটি টাকা। এই পরিমাণও খুব বেশি বদলাবে না। এর উপর আসবে নতুন প্রতিশ্রুতি রক্ষার খরচ।
মধ্যপ্রদেশ: ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি
২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতায় এসেছিল কংগ্রেস। পরে কংগ্রেসের বিধায়ক ভাঙিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এবছর ক্ষমতা ধরে রাখতে একাধিক খরচসাপেক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।
কৃষক সহায়তা: কৃষক সহায়তা বাবদ বিজেপির দেওয়া কথা রাখতে নতুন সরকারের খরচ হবে অন্তত ৫৬,৮৮০ কোটি টাকা। গমের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ২,৭০০ টাকা এবং ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ৩,১০০ টাকা ধার্য করার আশ্বাস দিয়েছে বিজেপি। ২০২৪ সালের আনুমানিক সরকারি ক্রয় ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন গম এবং ১২১ মেট্রিক টন ধান। অর্থাৎ রাজ্য সরকারের শস্য ভাণ্ডারের জন্য গম ও ধানের ক্রয় খরচ যথাক্রমে ৯,১৮০ কোটি ও ৩৭,৫০০ কোটি টাকা। তেন্দু পাতার ক্রয়মূল্য ব্যাগ প্রতি ১,০০০ টাকা বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রয়েছে মিলেট চাষের জন্য একরপ্রতি ১,০০০ টাকা সহায়তা এবং দেশি গরু পালনের জন্য ৪০,০০০ টাকা এককালীন সহায়তার প্রতিশ্রুতিও। কিষান সম্মান নিধির আওতায় থাকা ৮৫ লক্ষ কৃষকের জন্য ১২,০০০ টাকা বার্ষিক অনুদানের প্রতিশ্রুতির অর্থমূল্য ১০,২০০ কোটি টাকার কিছু বেশি।
নারী সহায়তা: নারী সহায়তা বাবদ বিজেপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলি পালন করতে খরচ হবে ১,১২৫ কোটি টাকারও বেশি। পঞ্চমবারের জন্য ক্ষমতায় এলে বারো ক্লাস পাস করা ছাত্রীদের স্কুটার দেওয়া এবং ৩ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে ল্যাপটপ কেনার জন্য ২৫,০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সোজা হিসাবেই খরচ দাঁড়ায় অন্তত ৮০০ কোটি। লাডলী বেহনা যোজনার আওতায় থাকা ১.৩ কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ১,০০০ টাকার বরাদ্দ বাড়িয়ে ১,২৫০ টাকা করা হয়েছে নির্বাচনের আগের মাসেই। তাহলে এই খাতে বাড়তি খরচ ৩২৫ কোটি।

অন্যান্য: এর বাইরেও বিজেপি আরও যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন হাসপাতাল তৈরির জন্য ২০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। অর্থাৎ ইস্তেহারে উল্লিখিত প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলি পালন করতেই নতুন সরকারের খরচ হবে ৭৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি।
বিদায়ী সরকারের ২০২৩-২৪ বাজেটে আনুমানিক বরাদ্দ ছিল কৃষি ও সংলগ্ন খাতে ১৭,৯৩৮ কোটি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৬,২৯৯ কোটি, শক্তি খাতে ২৫,২৭৬ কোটি, পুষ্টি ও সমাজকল্যাণ খাতে ২০,৯৭৭ কোটি টাকা। মোট সামাজিক খাতে খরচ ছিল ১,৭৬,৫৮৫ কোটি টাকা, রাজস্ব ব্যয় ২,২৫,২৯৭ কোটি টাকা। এর কিছু হয়ত কমবে। যা থাকবে তার সঙ্গে যোগ হবে কথা রাখার খরচ।
তেলেঙ্গানা: ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস
তেলেঙ্গানাতেও আগের তুলনায় শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে বিজেপির। তবে বিআরএসকে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। প্রচার পর্বে কংগ্রেস বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যেগুলি পূরণ করা যথেষ্ট খরচসাপেক্ষ।
কৃষক সহায়তা: কৃষক সহায়তা বাবদ কংগ্রেস যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করতে খরচ হবে বিপুল। তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারে রিথু ভরোসা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ১৫,০০০ টাকা ও কৃষি শ্রমিকদের জন্য ১২,০০০ টাকা বার্ষিক অনুদানের ঘোষণা ছিল। তেলেঙ্গানায় নথিভুক্ত ৭০.৫৪ লক্ষ কৃষককে এই অনুদান দিতে খরচ হবে ১০,৫০০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়াও ধানের কুইন্টাল প্রতি ৫০০ টাকা বোনাস দেওয়ার কথা দিয়েছে কংগ্রেস।
নারী সহায়তা: নারী সহায়তা বাবদ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কংগ্রেসের খরচ হবে বছরে অন্তত ৬৩.৬ কোটি টাকা। মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে খরচ মহালক্ষ্মী স্কিমের আওতায় ২,৫০০ টাকা মাসিক সাহায্য, ৫০০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিনামূল্যে বাসযাত্রা। তেলেঙ্গানা স্টেট হাউজিং কর্পোরেশনের হিসাব অনুযায়ী দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা পরিবারের সংখ্যা ২,১২,১৫২। পরিবার পিছু একজন মহিলাকে মাসিক সাহায্য দেওয়ার খরচ তাহলে দাঁড়ায় ৫৩ কোটি টাকার বেশি। সিলিন্ডারের ভর্তুকি বাবদ ১০.৬ কোটি টাকা। তদুপরি রয়েছে মেয়ের বিয়ের জন্য ১০ গ্রাম সোনা এবং ১ থেকে ১.৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থসাহায্যের প্রতিশ্রুতি।
গৃহ সহায়তা: গৃহ সহায়তা বাবদ দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে নতুন সরকারের খরচ হবে অন্তত ৫,৫০০ কোটি টাকা। গৃহ জ্যোতি প্রকল্পে সমস্ত পরিবারকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলা হয়েছে। ইন্দিরাম্মা ইন্ডলু যোজনায় নিজের বাড়ি না থাকা পরিবারগুলিকে বাড়ি তৈরি করতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এক লক্ষ পরিবারও যদি এই সুবিধা পায়, তবে এই দুই প্রকল্প মিলিয়ে আনুমানিক সরকারি ব্যয় অন্তত ৫,৫০০ কোটি টাকা।

অন্যান্য: অন্যান্য যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কংগ্রেস, সেগুলি রক্ষা করতে খরচ হবে ১৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি। কলেজ পড়ুয়াদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বিদ্যা ভরোসা কার্ড, তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সংগ্রামীদের পরিবারকে ২৫,০০০ টাকা ভাতা, মাসিক ৪,০০০ টাকা বেকারত্ব ভাতা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি এবং পুরোহিত/মৌলবী/ধর্মযাজকদের জন্য ১০,০০০ টাকা সহায়তা, তফসিলি জাতি-উপজাতি, সংখ্যালঘু এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সাহায্য মিলিয়ে আরও ১৪,০০০ কোটি টাকার মত প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইস্তেহারে উল্লিখিত এই প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করতেই খরচ হবে ৩০,০৬৩ কোটি টাকার বেশি।
আরো পড়ুন মণিপুর থেকে হরিয়ানা: ডবল ইঞ্জিনে জ্বলছে দেশ
বিদায়ী বিআরএস সরকারের ২০২৩-২৪ বাজেটে আনুমানিক বরাদ্দ ছিল কৃষি ও সংলগ্ন ক্ষেত্রে ২৯,১৬৪ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ক্ষেত্রে ১২,৩৭৮ কোটি টাকা, শক্তি ক্ষেত্রে ১৬,৬৭৭ কোটি, পুষ্টি ও সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে ১৯,৪১৬ কোটি।
সামাজিক খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ১,৭২,০৫৭ কোটি। রাজস্ব ব্যয় ২,১১,৬৮৫ কোটি। এই হিসাবও খুব একটা বদলাবে না। সঙ্গে যোগ হবে নতুন প্রতিশ্রুতি রক্ষার খরচ।
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।









ভালো লাগলো dole ও প্রশান্ত কিশোর philosophy ওপর ভর করে চুনাও জিততে কে কত খরচ করে তার এস্টিমেট কোন ব্লগ করছে। কিন্তু ভারতীয় অর্থনীতির ওপর এর ভবিষ্যতে কি প্রভাব পড়বে তাও জানতে ইচ্ছে করে ৷ আর তা কতটা সংবিধান সম্মত তাও ৷ আমরা কি আরেকটা পাকিস্তানি বা শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি তৈরী করছি? কোনো ভবিষ্যতদ্রষ্টা অর্থনীতিবিদ কি আর ভারতে নেই? নাকি তাঁদের কথা বোঝার বুদ্ধি এই গোমাতার দেশে করোরই নেই! ক্রেডিট কার্ড ও লোনে ডোবা আমেরিকাতে এখন Tony Robbins Unshakeable লিখে ফেলেছেন৷ আর আমরা কি পৌষ পার্বণে ও মেলায় চা চপ বেচে ডবল ইঞ্জিন অর্থনীতিতে পৌঁছে যাব?