প্রজাতন্ত্র দিবস যেহেতু ছুটির দিন, সেহেতু আজ অনেক ভারতীয়ের বাড়িতেই জমিয়ে মাংস রান্না হচ্ছে। তবে ওড়িশার কোরাপুট জেলায় সেটা হওয়া গত ২৩ জানুয়ারি থেকে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জেলাশাসক মনোজ সত্যবান মহাজন লিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন – প্রজাতন্ত্র দিবসে জেলার কোথাও আমিষ বিক্রি করা যাবে না। ব্যাপারটা চাউর হয়ে যাওয়ায় অনলাইনে এবং অফলাইনে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয় দেশজুড়ে। কোরাপুটের কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উলাকাও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শেষমেশ চাপে পড়ে গতকাল ওই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু তাতে উল্লসিত হওয়ার বদলে ভেবে দেখা দরকার – সরকারি মহল থেকে এমন আদেশ দেওয়া হল কেন?
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন আমিষ বিক্রি করা যাবে না? কেউ বলেছিলেন, প্রজাতন্ত্র দিবস তো কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। সেক্ষেত্রে ওই দিনটার জন্যে মানুষকে নিরামিষাশী হয়ে যেতে হবে কেন? অনেকে এও বলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেই বা কী হত? যার ধর্ম সে চাইলে পালন করুক, আমাকে কেন পালন করতে হবে? এত বিরুদ্ধ যুক্তির মধ্যে কেউ কেউ ঠিক উলটো কথাও বলেছেন। যেমন, আহা, একটা দিন নিরামিষ খেতে কিসের অসুবিধা?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
যে যা-ই বলুন, এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষেই বলুন আর বিপক্ষেই বলুন, আপনাকে মানতেই হবে যে আজকের দিনে আমিষ বেচা চলে না – এ ভাবনা আপনার মাথায় আসত না। একজন পদস্থ সরকারি কর্মচারীর মাথায় এলেই তিনি আদেশ দিয়ে দেবেন আর সেটাই আপনাকে মানতে হবে বা অমান্য করতে হবে – একে প্রজাতন্ত্র বলে না, এ একেবারে রাজতান্ত্রিক ব্যাপার। একজন আমলা আদেশ দিয়েছেন বলে এই ঘটনাকে আমলাতান্ত্রিক বললেও ব্যাপারটার গুরুত্ব খাটো করা হয়। কারণ আমলারা কোন ব্যাপারে আদেশ দিতে পারেন আর কোনটায় পারেন না, তা কঠোরভাবে আইন-নিয়ন্ত্রিত। সেইসব আইনের মধ্যেও সংবেদনশীলতার অভাব থাকে, বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্কহীনতা থাকে, এমনকি সেই ইংরেজ আমলের ভাবনাচিন্তার প্রকাশও থাকে। কিন্তু যা লেখা আছে তার বাইরে যাওয়ার উপায় থাকে না। তা সাধারণ বুদ্ধির প্রতিকূল হলেও নয়। সে কারণেই নিন্দা করে ওসব আদেশকে আমরা অনেকসময় আমলাতান্ত্রিক বলে থাকি। কিন্তু আমলাতান্ত্রিকতা আইনকানুন, সংবিধান মেনে নির্মিত। তার বাইরে যেতে পারে না, মানে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু কোরাপুটের জেলাশাসকের চাপানো নিষেধাজ্ঞা কোনো আইনের কোনো ধারা মেনে চলেনি। এ একেবারে ব্রিটিশ আমলের জেলাশাসকদের জারি করা একুশে আইন। যেমন কোনো ইংরেজ অফিসারের মর্জি হতেই আদেশ হত – দেয়ালে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা থাকলে দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনি এমনি তো আর তাদের রাজপুরুষ বলা হত না। তন্ত্র মানে শাসন, প্রজাতন্ত্র মানে প্রজাদের শাসন। অনেকে তো সঙ্গত কারণেই রিপাবলিক ডে-র বাংলা হিসাবে প্রজাতন্ত্র দিবস কথাটাকে মেনে নিতে আপত্তি করেন। কারণ আমরা কারও প্রজা নই, নাগরিক। তাই সাধারণতন্ত্র দিবস বলাই সঙ্গত বলে তাঁদের মত। সাধারণতন্ত্রে আমলারা রাজপুরুষ নন, জনতার কাজের লোক (public servant)। কবে কোন বাড়ির কাজের লোক ঠিক করেছে, বাড়ির মালিক কোনদিন বাজার থেকে কী কিনতে পারবে না বা ব্যবসায়ী মালিক কোন জিনিসটা বেচতে পারবে না?
কোরাপুটের ঘটনাটাকে এত বড় দেশের একটামাত্র রাজ্যের একটামাত্র জেলার কোনো একজন আত্মম্ভরী আমলার কীর্তি বলে উড়িয়ে দেওয়ারও উপায় নেই। কারণ গোটা দেশে এ জিনিস এই প্রথম ঘটল না। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের মত বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে অমুক দিনে, তমুক উৎসব উপলক্ষে, এই মাসে, সেই পুজোয় নানা এলাকায় আমিষ বিক্রির উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে দিল্লি বা কলকাতার মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সংঘ পরিবারের লোকেদের মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টার চেয়েও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত, কারণ সেগুলো গুন্ডামি। প্রশাসন বা সরকার চাইলে সেসব দমন করতে পারে; সরকারের গুন্ডামি দমন করবে কে? বিক্রি বন্ধ রাখার আসল উদ্দেশ্য যে মানুষের আমিষ খাওয়া বন্ধ রাখা – এ নিয়েও ন্যাকা আর বদমাইশ ছাড়া সকলেই একমত হবেন। ছোট ছোট এলাকায় বিশেষ দিনে আমিষ খাওয়া বন্ধ রাখতে রাখতেই সম্পূর্ণ নিরামিষাশী দেশের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। দুম করে করতে গেলে যে সব কেঁচে যেতে পারে তা বোঝার মত বুদ্ধি এদেশের বর্তমান শাসকদের অবশ্যই আছে। হিন্দি বলয়ে, যেখানে সমাজের দখল নেওয়া হয়ে গেছে আগেই, সেখানে নির্বাচন মিটলেই আক্রমণাত্মকভাবে আমিষ বিক্রি বন্ধ করতে নেমে পড়েন বিজেপির কোনো নেতা বা মন্ত্রী। ওড়িশার মত যেখানে সরকারে আসতে সময়ে লেগেছে অনেক বেশি, সমাজ এখনো পুরোপুরি দখলে আসেনি, সেখানে জেলা স্তরে সরকারি অফিসারদের দিয়ে এই জাতীয় নোটিশ দিয়ে জল মাপা হয়। প্রতিবাদ হলে পিছিয়ে যাওয়া হয়, না হলেই ব্যাপারটা চালু হয়ে যেত, দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াত। আগামী বছর থেকে এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়াত এবং ওড়িশার সব জেলাতেই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চাপানো সহজ হয়ে যেত।
ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গবাসীর কোরাপুট ভোলা উচিত নয়। এ রাজ্যে বিজেপি আর তৃণমূল কংগ্রেসের দয়ায় গত এক দশকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে এখন নাক সিঁটকে হিন্দি বলয়ের থেকে আমরা আলাদা – একথা বললে ঘোড়ায় হাসবে। আমিষ-নিরামিষ রাজনীতিও পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে এবং তাতে যারা আমিষ বিক্রেতাদের, বিশেষত মুসলমানদের পেটায় তাদের প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ঠিক সেইরকম নরম মনোভাবই দেখিয়েছে যা কংগ্রেস শাসনে থাকা রাজস্থানে গোরক্ষার নামে পহলু খানকে খুন করা বাহিনীর লোকেদের প্রতি দেখানো হয়েছিল। ফলে আগামীদিনে হয়ত আরামবাগের প্যাটিস বিক্রেতা রিয়াজুল আর মহম্মদ সালাউদ্দিনকে ব্রিগেডের ময়দান থেকে প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরতে দেওয়ার জন্যেই হয়ত আমরা বিজেপি-আরএসএস কর্মীদের ধন্যবাদ দেব। কারণ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুলিস মূল অভিযুক্তদের সহজেই জামিন পেয়ে যাওয়া আটকানোর কোনো চেষ্টাই করেনি। এদিকে কলকাতার বিভিন্ন উচ্চমার্গীয় স্কুলে যে টিফিনে আমিষ নিয়ে গেলে বাবা-মায়েদের কর্তৃপক্ষ তিরস্কার করছেন – সে খবরও মাঝেমধ্যেই সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে প্রকাশ হয়ে পড়ে। বাবা-মায়েরা মেনেও নেন, কোনো সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ হয় না। রাজ্যের প্রশাসন, কলকাতা কর্পোরেশন, কলকাতার বেশিরভাগ বিধানসভা এলাকা দখলে থাকা সত্ত্বেও এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সক্রিয়তা নেই। বেসরকারি স্কুলগুলোকে আকাশছোঁয়া মাইনের জন্যে মুখ্যমন্ত্রী ধমকেছিলেন একদা (তারপর মাইনে কমেছে কিনা বা কতটা কমেছে তা অন্য প্রশ্ন), এসব কি তাঁর কানে পৌঁছয় না? না পৌঁছলে কেন পৌঁছয় না? উত্তর যা-ই হোক, মোদ্দাকথা হল, অন্তত কলকাতার সমাজ এমনভাবে তৈরি হয়ে যাচ্ছে যে কাল রাজ্যে পালাবদল হলে নিরামিষ চাপানোর উদ্যোগে কোরাপুটের চেয়ে কম প্রতিবাদই হবে সম্ভবত। বাকি রাজ্যে হয়ত তুলনায় বেশি প্রতিরোধ হবে, কিন্তু গোটা রাজ্যের বাঙালির সম্পর্কেই তো লেখা হয়েছিল ‘ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো,/পোষ-মানা এ প্রাণ’।
এখন প্রশ্ন হল, যে দেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাস পর্যন্ত আক্রমণের মুখে পড়ে, তাকে কি প্রজাতন্ত্র বলা চলে? পশ্চিমবঙ্গে তবু এখন পর্যন্ত কিসের মাংস কে খাচ্ছে তা নিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু দলবদ্ধভাবে পরিচিতির জন্য মুসলমান নিগ্রহের ঘটনা তো চালু হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী যত বেশি মন্দির গড়ছেন তত যেন এসব ঘটনা বাড়ছে। যুক্তি অবশ্য বলে, তেমনটাই হওয়ার কথা। মন্দির বানিয়ে মন্দির রাজনীতিকে কী করে ঠেকানো যায় – দেবা ন জানন্তি। পশ্চিমবঙ্গে বিভাজন বাড়াতে আবার পালটা মসজিদ রাজনীতিও চালু হয়ে গেছে, যা হিন্দি বলয়েও হয়নি। হুমায়ুন কবীরের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান রাজনৈতিক শক্তির আশীর্বাদ না থাকলে ভারতের কোথাও এ জিনিস সম্ভব নয়। এমন নয় যে গোটা দেশের মধ্যে কেবল মুর্শিদাবাদ আর মালদা জেলাতেই মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। স্বভাবতই এর প্রতিক্রিয়াতেও রাজ্যের হিন্দুদের মধ্যে মুসলমানবিদ্বেষ বাড়ছে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে, হাসপাতালে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শয়ে শয়ে মন্দির তৈরি হচ্ছে দেখে যেসব ‘সেকুলার’ হিন্দুদের দেশে গোঁড়ামি বাড়ছে মনে হয় না, তারাও মুর্শিদাবাদে একটা মসজিদ হচ্ছে শুনে রাজ্যে মৌলবাদের উত্থান নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। সুতরাং বাকি দেশের মত পশ্চিমবঙ্গেও মুসলমান নাগরিকরা বিদ্বেষের শিকার, কোণঠাসা।
কদিন আগেই জম্মুতে একটা আস্ত মেডিকাল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হল প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করা অধিকাংশ ছাত্র মুসলমান বলে। আর প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা খোলাখুলি বলে দিয়েছেন, তাঁর দলের কর্মীরা ফর্ম নং ৭ জমা দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাঙালি মুসলমানদের (আসামে যাঁদের বলা হয় মিয়াঁ) বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিহারে দেখা গিয়েছিল বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর ফলে বড় অংশের মুসলমান বাদ পড়েছেন, পশ্চিমবঙ্গেও দেখা যাচ্ছে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ নামক অবয়বহীন দানব মুসলমান আর মহিলাদেরই গিলতে আসছে বেশি। কোটি কোটি নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বিহারে, জ্যান্ত মানুষকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে এসআইআর শুনানির নোটিশ। কাল পর্যন্ত বাংলা বলার জন্যে ভিনরাজ্যে মার খাওয়া, খুন হওয়া, বাংলাদেশে বিতাড়িত হওয়া মুসলমানদের বাঙালি বলে মানতে না চাওয়া ভদ্রলোক ভদ্রমহিলারাও ঢোঁক গিলে আবিষ্কার করছেন – বাঙালি মানেই এদেশের আজকের শাসকের কাছে সন্দেহজনক। হিন্দু হলে গ্রেস মার্কস পেয়ে নাগরিকত্ব নিরাপদ রাখার কোনো সুযোগ নেই। তা এত কোটি নাগরিক যখন বিপদে এবং তাদের বিপদে ফেলছে রাষ্ট্রযন্ত্রই, তখন প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করার কোনো মানে আছে কি? আপনি এসআইআরের পক্ষেই থাকুন, এতদিনে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে প্রক্রিয়াটা হল রাষ্ট্রের নাগরিক বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ তন্ত্রের লাগাম কাদের হাতে থাকবে সেটা ঠিক করছে শাসকরাই। একে আর যা-ই হোক, প্রজাতন্ত্র বা সাধারণতন্ত্র বলা চলে না।
স্বাধীনতা দিবস আর প্রজাতন্ত্র দিবসে মাইকে একই গান বাজাই আমরা। এ থেকেই বোঝা যায়, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারির পর থেকে প্রজাতন্ত্র কী এবং কেন – তা নিয়ে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো চর্চা চালু করার চেষ্টাই হয়নি। সে কারণেই দেখা যায়, আজকাল গানের তালিকা থেকে এমনকি ‘উঠ গো ভারতলক্ষ্মী’ বা ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ পর্যন্ত বাদ হয়ে গেছে। পড়ে আছে কেবল বর্ডার বা হকিকত-এর মত যুদ্ধ সম্পর্কিত হিন্দি সিনেমার গান। আরও উগ্র, সামরিক হিন্দি সিনেমার গানও চলে। সব গানই সৈনিকদের সম্মান জানিয়ে, কোনোটার সঙ্গেই দেশের নাগরিকদের বা নাগরিক অধিকারের কোনো সম্পর্ক নেই। স্বাধীন, প্রজাতান্ত্রিক দেশে বানানো সিনেমার মুক্তি আটকে যাওয়া পরিচালক দিবাকর ব্যানার্জি কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন – এদেশে কোনোদিনই সবচেয়ে নিচের তলার মানুষকে সংবিধানের মানে বোঝানোর কোনো চেষ্টা করা হয়নি। তাই ৭০-৮০ শতাংশ মানুষের মূল্যবোধ পড়ে আছে ব্রোঞ্জ যুগের শেষ থেকে লৌহ যুগের প্রারম্ভে। আজ নিজেদের চারপাশ দেখলেই কথাটার সত্যতা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
আরো পড়ুন ভারতমাতার লাঞ্ছনা ড্যাবডেবিয়ে দেখতে শিখেছি আমরা
অতএব প্রজাতন্ত্র দিবসে খাসির মাংসের চর্বি উপভোগ করা ছাড়া আমাদের আর বিশেষ কিছু করার নেই। সামান্য একটা লেখার স্বাদের তারতম্য ঘটানোর ক্ষমতা নেই – এই বিশ্বাসে শুধু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে গত ১০ জানুয়ারি মণিপুরের সেই কুকি মেয়েটা মারা গেছে, যাকে ২০২৩ সালে প্রবল কুকি-মেইতেই সংঘর্ষের মধ্যে মেইতেইরা গণধর্ষণ করেছিল এবং মেরে ফেলতে চেয়েছিল, মেয়েটি দৈবাৎ বেঁচে গিয়েছিল। আজ পর্যন্ত সেই ঘটনায় কেউ গ্রেফতারও হয়নি। আমাদের প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী, যিনি নিজেকে বলেন ‘প্রধান সেবক’, আড়াই বছরেও ওই নাগরিকের কাছে গিয়ে দুটো সান্ত্বনাবাক্য উচ্চারণ করার সময় পাননি। এর চেয়ে এদেশের বিভিন্ন যুগের হিন্দু ও মুসলমান রাজারা তাঁদের প্রজাদের প্রতি বেশি দয়া দেখিয়েছেন।
মতামত ব্যক্তিগত
দেখুন এসআইআর নিয়ে আমাদের দুখানা পডকাস্ট
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








