নিশা মাতম্প

২০০৫ সালে ভিসার জন্যে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে গিয়ে আলাপ্পুজার নির্মাণ শ্রমিক ভাভাচান চেরাথামথুরুথিল (৪৫) জানতে পারেন যে তাঁর চোখে একটা সমস্যা আছে। কী সমস্যা? ডাক্তার তাঁকে বলেন যে চিন্তার কিছু নেই, কারণ ভাভাচান তো আর অফিসের কাজ করতে ওমান যাচ্ছেন না। কিন্তু এরপর বেশকিছু বছর ধরে তাঁর বাঁ চোখের দৃষ্টি ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। প্রায় ১৫ বছর পরে, যখন ওই চোখটায় প্রায় কিছুই আর দেখতে পান না, ভাভাচান শেষপর্যন্ত জানতে পারেন যে সমস্যাটা হল ছানি। দৃষ্টি ফিরে পেতে তাঁকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর কন্ট্রোল অফ ব্লাইন্ডনেস অ্যান্ড ভিজুয়াল ইমপেয়ারমেন্ট যে সমীক্ষা চালিয়েছিল, সেই সমীক্ষা অনুযায়ী ভারতে মোট অন্ধত্বের ৬৬.২% ঘটে ছানির কারণে। সাধারণভাবে ছানি পড়া বার্ধক্যজনিত ব্যাপার বলেই পরিচিত, কিন্তু মহামারী সংক্রান্ত (epidemiological) গবেষণা বারবার প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘদিন অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণের আওতায় থাকা ছানির অন্যতম কারণ। মানুষের চোখের লেন্স রেটিনাকে সুরক্ষা দিতে অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে এটা ঘটতে থাকলে লেন্স প্রোটিনের ক্ষতি হয়, ফলে প্রোটিন এক জায়গায় জড়ো হয়ে যায় এবং দৃষ্টি ঝাপসা করে দেয়। একেই ছানি বলা হয়।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কুথাট্টুকুলমের শ্রীধরীয়াম আয়ুর্বেদ আই হসপিটালের রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সুমেশ সোমন ব্যাখ্যা করলেন ‘শরীরের অধিকাংশ কোষই পুরনো হয়ে গেলে তার জায়গায় নতুন কোষ তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু লেন্সের কোষের ক্ষেত্রে তা ঘটে না। নতুন কোষ পুরনো কোষের উপরেই স্তরে স্তরে তৈরি হতে থাকে। পুরনো কোষগুলোর যত ক্ষয় হয়, ছানি দেখা দিতে থাকে। সাধারণত এই প্রক্রিয়া কয়েক দশক ধরে চলে, ফলে আমরা মনে করি এটা বয়সের সমস্যা। কিন্তু জীবনযাত্রা, জেনেটিক ব্যাপার আর বিকিরণের আওতায় থাকার মত ব্যাপারের উপর নির্ভর করে এই ব্যাপারটা দ্রুত ঘটতে পারে বা আরও মন্থরও হয়ে যেতে পারে।’

চক্ষু পরীক্ষা শিবিরগুলোতে প্রায়ই অল্প বয়সে ছানির লক্ষণ দেখা যায়। অঙ্গমালির লিটল ফ্লাওয়ার হসপিটাল আয়োজিত এরকমই এক শিবিরে ছানি ধরা পড়া ২০ জন রোগীর মধ্যে ১২ জনই জানান তাঁরা রোজ বহু ঘন্টা রোদে কাটান।

রবিকুমার মঙ্গলথের যখন ছানি ধরা পড়ে, তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৪। তিনি বললেন ‘মনে হল বিদ্যুৎ চমকাতে দেখলাম। তবে শুধু আমার বাঁ চোখ দিয়ে।’ রবিকুমারের বয়স এখন ৪৮। তিনি বহুবছর ধরে নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করছেন, ফলে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

ডাঃ সনিতা সত্যেন জানালেন ‘আমি যখন ছাত্রাবস্থায় আলাপ্পুজায় বিভিন্ন চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে কাজ করতে যেতাম, সব জায়গায় দেখতাম প্রচুর মানুষ এসেছেন।’ পরে তিনি একটা সমীক্ষা চালান কেরালায় অল্প বয়সে ছানি পড়ার প্রাদুর্ভাবের কারণ বুঝতে। বললেন ‘সাধারণত আমরা ৬০ বছরের বেশি বয়সের রোগীদের মধ্যে ছানি দেখতে পাই। কিন্তু তখন প্রায়শই ডায়বেটিস বা ট্রমা নেই এমন ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও ছানি দেখতে পাচ্ছিলাম। তাঁদের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে রোদে থাকার ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছিল।’

কী ধরনের অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীর মাটিতে এসে পৌঁছয়?

অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: UV-A, UV-B আর UV-C। তৃতীয়টাই সবচেয়ে ক্ষতিকর এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তরে সম্পূর্ণ শোষিত হয়। প্রায় ৯০%-৯৫% UV-B বায়ুমণ্ডলেই পরিশ্রুত হয়ে যায়, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠে এসে পড়া রশ্মির বেশিরভাগটাই UV-A।

কোচিন ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাডভান্সড সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক র‍্যাডার রিসার্চের বিজ্ঞানী এমজি মনোজ বললেন ‘যদিও UV-B রশ্মি অনেক কম পরিমাণে বিকিরিত হয়, তাহলেও এটাই শারীরিক দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিকর। মাঝদুপুরে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট অসুরক্ষিত অবস্থায় সূর্যের আলোয় থাকলেই চামড়া পুড়ে যেতে পারে। UV-B ডিএনএ-র ক্ষতিও করে এবং ছানি পড়ার সঙ্গে এর যোগ পাওয়া গেছে। আমরা যখন ছানির কেসগুলোর বিশ্লেষণ করি তখন দেখি যে নির্মাণ শ্রমিক, মৎস্যজীবী, কৃষিকাজে যুক্ত মানুষের ছানি পড়ার সম্ভাবনা ধারাবাহিকভাবে বেশি।’

ভাভাচানের বয়স এখন ৬৫। তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটিয়েছেন কেরালার বিভিন্ন নির্মাণ সাইটে, অল্প কিছুদিন ওমানেও কাজ করেছেন। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কাজ করতেন মাথায় টুপি বা সানগ্লাস ছাড়া। তাঁর প্রশ্ন ‘আমি সারাজীবন সূর্যের আলোয় কাটিয়েছি। তাই কি এটা হল?’

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা অবশ্য কোনো একটা কারণকে ছানির জন্যে দায়ী করার বদলে অনেকগুলো পরস্পর নির্ভরশীল ব্যাপারের ফল বলে মনে করেন। বিশেষজ্ঞ এবং কেরালা জার্নাল অফ অপথ্যালমোলজির সম্পাদক ডাঃ সনিতা বললেন ‘গণহারে করা সমীক্ষাগুলোয় UV রশ্মিতে থাকার সঙ্গে ছানির সম্পর্ক দেখা যায়। তবে কোনো একজন রোগীর ক্ষেত্রে আমরা সূর্যের আলোর মধ্যে থাকা, ডায়বেটিস, হাইপারটেনশন, ট্রমার মত অনেকগুলো বিষয়ের দিকে নজর রাখি। যদি অন্যগুলো অনুপস্থিত থাকে, তাহলে UV রশ্মির বিকিরণ বড় কারণ হতে পারে বলে ধরে নেওয়া হয়। তবু আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না। নির্দিষ্টভাবে এই দাবি করতে গেলে আমাদের ব্যাপক হারে রোগী পিছু তথ্য লাগবে এবং একাধিক পরিবর্তনশীল বিষয়ের বিশ্লেষণ করতে হবে।’

কেরালায় বিকিরণ

কেরালার ভৌগোলিক অবস্থান হল বিষুবরেখার কাছাকাছি, যেখানে সারাবছর সূর্যের আলো অন্য জায়গার চেয়ে সরাসরি পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বেশ কয়েক মাস মেঘ অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণকে সীমিত রাখে, কিন্তু বছরের বাকি সময়টায় আকাশ পরিষ্কারই থাকে।

ডাঃ মনোজ বললেন ‘জলবায়ু পরিবর্তন মেঘের ধরন বদলে দিয়েছে। এখন অনেক কম দীর্ঘমেয়াদি ভারি মেঘ থাকে, বেশিরভাগ ছেঁড়া ছেঁড়া বা পাতলা মেঘ দেখা যায়। আংশিক মেঘলা দিনে অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে মেঘের প্রান্ত ছেঁড়া ছেঁড়া হওয়ার ফলে। সেই মাত্রা কখনো কখনো পরিষ্কার আকাশে অতিবেগুনি রশ্মির যে মাত্রা, তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।’

গবেষক নিনু কৃষ্ণন ২০০৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কেরালার আলট্রাভায়োলেট ইনডেক্স (UVI) বিশ্লেষণ করেছিলেন। তিনি দেখেন যে রোজকার UVI ভ্যালুর ৭৯% ‘অতি উচ্চ’ থেকে ‘চরম’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে উচ্চ UVI-সম্পন্ন দিনের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে, যদিও বার্ষিক গড় ওঠানামা করেছে। তথ্য মসৃণ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে না। বরং এটা একটানা উচ্চ বিকিরণ, মরশুমি শীর্ষবিন্দু এবং স্বল্পমেয়াদি বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলোই যেসব মানুষ দীর্ঘক্ষণ খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন তাঁদের পক্ষে ক্ষতিকর। একজন ব্যক্তির ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণ করে, তিনি কতটা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি বিকরণের শিকার হবেন। চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ জোনাথন সি জ্যাভিটের করা ১৯৯৫ সালের এক সমীক্ষায় জানা গেছিল যে বিষুবরেখার দিকে এক ডিগ্রি এগোলে ছানি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ার সম্ভাবনা ৩% বেড়ে যায়।

মনোজ যোগ করলেন ‘ভূপ্রকৃতিও অতিবেগুনি রশ্মির প্রবেশকে প্রভাবিত করে। গভীর জঙ্গল বিকিরণ কমায়, উপকূল এলাকায় বেড়ে যায়।’

সমুদ্র সৈকতে সূর্যালোক প্রতিফলিত হয়। শুকনো বালি ৩০% পর্যন্ত বিকিরণ ফিরিয়ে দিতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠে ঢেউয়ে পড়ে আলো ছড়িয়ে যায়, ফলে কার্যকরী বিকিরণ বেড়ে যায়। উপকূলের বাতাসে এয়ারোসল থাকে, যা একাধিক দিক থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে আরও মৃদু করে দেয়। অর্থাৎ, মনোজ ব্যাখ্যা করলেন যে মানুষ উপর আর নিচ, দুদিক থেকেই বিকিরণ পায়। কেরালার উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে এই ব্যাপারটা প্রভাব ফেলে।

লিটল ফ্লাওয়ার হসপিটালের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মেরি সেবাস্তিয়ান একটা অনুরূপ ধরন বর্ণনা করলেন। ‘১৯৯০-এর দশকে একেকটা চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে ৬০০-৭০০ রোগী আসত, তার মধ্যে প্রায় ১৫% রোগীর ছানি ধরা পড়ত। উপকূল এলাকায় সেই সংখ্যাটা প্রায়ই ৩০% পর্যন্ত উঠে যেত।’ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকাল রিসার্চের এক সমীক্ষায় গুরুগ্রাম, গৌহাটি আর অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার ছানি পড়া রোগীদের তুলনা করে দেখা হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, গুরুগ্রামে সারা জীবনে সূর্যের আলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেলেও, হিসাব পাওয়া অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা প্রকাশমে সবচেয়ে বেশি। ছানি পড়ার যোগাযোগ অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রার সঙ্গেই বেশি, বেশিক্ষণ সূর্যালোকে থাকার সঙ্গে কম।

কেরালায় ছানি অস্ত্রোপচার দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। ২০০৬-০৭ সালে ছিল প্রায় ৯৮,০০০। ২০২৪-২৫ সালে হয়ে গেছে ২.১ লক্ষ। এর্নাকুলাম, তিরুবনন্তপুরম আর মলপ্পুরমের মত উপকূলবর্তী জেলায় ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশি অস্ত্রোপচারের ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এর্নাকুলামে ছানি অস্ত্রোপচার বেড়েছে ২৮%, তিরুবনন্তপুরমে ২৩% আর মলপ্পুরমে ১২%। তা সত্ত্বেও ছানি পড়ার সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির সম্পর্কের ব্যাপারে সচেতনতা সীমিত। কেরালা স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি অতিবেগুনি রশ্মির ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে, কিন্তু তাতে কদাচিৎ চোখের স্বাস্থ্যের কথা বলা থাকে।

বিলম্বের ফল

২০১৯ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, চোখের স্বাস্থ্য ভারতের জিডিপির ০.৫৭% ক্ষতি করে কাজ হারানো, উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, রোগীর যত্ন নেওয়ার বোঝা এবং অকালমৃত্যুর মাধ্যমে। ডাঃ সনিতা বললেন ‘আমার একজন ষাটোর্ধ্ব মাছ বিক্রেতার কথা মনে আছে। তিনি কোনটা কত টাকার নোট তাও দেখতে পাচ্ছিলেন না প্রায়, অথচ বাড়ির কাউকে বলেননি বললে কী হবে ভেবে। অপারেশনের পরে তাঁর জীবন বদলে গেছে।’

ছানি ভাভাচানের দৈনন্দিন কাজ বদলে দিয়েছে। বয়সে ছোট প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে এখন তিনি নিজেকে গ্রামের ছোটখাটো নির্মাণকাজেই সীমাবদ্ধ রাখেন। আয় বাড়াতে একটা চীনা জাল নিয়ে নিজের সমুদ্রের ধারের বাড়ির বাইরে মাছ ধরেন। সেই জাল ঘনঘন মেরামত করতে হয়, তাতে প্রতিবার ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। ভাভাচান বললেন ‘আমার চোখ ঠিক থাকলে আমি নিজেই কাজটা করে নিতে পারতাম।’ আলাপ্পুজার বাড়ি রং করার মিস্তিরি অগাস্টিন সি জে (৬৯) কাজের জন্যে অন্য জায়গায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বললেন ‘আমি বাসের লেখা পড়তে পারি না। এখন আমরা আমার পেনশন আর আমার বউয়ের আয়েই বেঁচে আছি।’

অন্যদিকে লিটল ফ্লাওয়ার হসপিটালের প্রোজেক্ট অফিসার অঞ্জু বেবি বললেন ‘চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের যাদের ছানি ধরা পড়ে, তাদের মধ্যে মোটে ৩০% শেষপর্যন্ত ছানি অপারেশন করায়।’ বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, আর্থিক অসঙ্গতি, যত্ন নেওয়ার লোকের অভাব, ভয় এবং অস্ত্রোপচারের নাগাল ভালো না থাকা হল প্রধান বাধা। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা অনেক রোগী বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের শিবিরগুলোর অপেক্ষায় থাকেন। মেরি সেবাস্তিয়ান বললেন ‘এখন আমরা সপ্তাহে অন্তত চারটে শিবিরের আয়োজন করি। একেকটা ক্যাম্পের উপর চাপ কমেছে, কারণ অনেক বেশি প্রতিষ্ঠান এখন এরকম শিবিরের আয়োজন করছে। কিন্তু চাহিদা এখনো অনেক।’

আলাপ্পুজার একটা স্কুলের এনএসএস ছাত্ররা যখন সপ্তাহের মাঝে একটা শিবিরের আয়োজন করেছিল, তিন ঘন্টায় ১৫৩ জন রোগী এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের ছানি ধরা পড়ে। ভাভাচান তাঁদের একজন।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ছানির চিকিৎসা

একসময় পাঁচটা জেলার রেফারাল হাসপাতাল ছিল যে কোট্টায়াম মেডিকাল কলেজ, তা বারবার পরিকাঠামোগত ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে। একবছরের বেশি সময় ওই হাসপাতালের OCT আই স্ক্যান মেশি অকেজো হয়ে পড়ে ছিল। রোগীদের আট কিলোমিটার দূরে পাঠানো হচ্ছিল স্ক্যান করতে। সেখান থেকেও তাঁদের স্ক্যান রিপোর্টের ছবি মোবাইলে তুলে নিয়ে আসতে হচ্ছিল, কারণ কোট্টায়াম জেনারেল হসপিটালের প্রিন্টার খারাপ হয়ে গেছিল। দীর্ঘদিন লেসার মেশিনগুলোও কাজ করছিল না, ফলে রোগীদের এর্নাকুলাম বা আলাপ্পুজায় যেতে হচ্ছিল। সম্প্রতি একটা নতুন মেশিন বসানো হয়েছে, তবে স্লট এখনো সীমিত। মেডিকাল কলেজের এক চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ বললেন, আরও একটা OCT আর লেসার মেশিন রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

ছানি চিকিৎসাযোগ্য হলেও, এর ক্ষতি নীরবে ঘটতে থাকে সূর্যালোকে, কয়েক দশক ধরে। তারপর রোগীরা হাসপাতালে যান। কেরালার উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা বহু মানুষের জন্যে এই রোগ অপ্রত্যাশিতভাবে আগে চলে আসছে।

প্রতিবেদক একজন ফ্রিলান্স সাংবাদিক এবং 101reporters.comএর সদস্য। এই প্রতিবেদন ওই ওয়েবসাইট ও নাগরিক ডট নেটের সহযোগিতার ভিত্তিতে মূল প্রতিবেদন থেকে ভাষান্তরিত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.