অন্য সময় হলে এটা একটা আশ্চর্যের বিষয় হত। বিরোধী বুর্জোয়া দলের নেতা, কেন্দ্রীয় আইনসভার নিম্নকক্ষ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নামে সারা দেশের বিভিন্ন আদালতে চলা মামলার একটা লম্বা তালিকা রয়েছে। মামলার সংখ্যা প্রায় কুড়ি। এর মধ্যে অধিকাংশই হল মানহানির মামলা। কার মানহানি? প্রধানত প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর অথবা বিজেপি নেতা কি সংঘ পরিবারের বিভিন্ন সংগঠনের মানহানি। বোঝা শক্ত নয় যে রাহুলের ফ্যাসিবাদীদের সম্পর্কে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে এই মামলাগুলো করা হয়েছে আরএসএস-বিজেপির পক্ষ থেকে। এর একটা উদ্দেশ্য যে রাহুলকে চুপ করিয়ে দেওয়া। অন্য উদ্দেশ্য, মামলাগুলোতে অনুকূল রায় পেলেই রাহুলকে আইনসভা থেকে সাসপেন্ড করে দেওয়া। অর্থাৎ আইনসভার ভিতরে ও বাইরে রাহুলের মুখ বন্ধ করতে বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে বিজেপি বা আরএসএস নেতারা দিনের পর দিন কী ধরনের মন্তব্য করে থাকেন তাঁদের কথাবার্তায়, ভাষণে – সেকথা সবাই জানে। দেশের মুসলমান জনসমাজের বিরুদ্ধে তাঁরা যে ধরনের উক্তি করে থাকেন তাতে আজকাল অনেকেই বিজেপিকে ‘দ্বেষজীবী’ বলে থাকেন। যদিও আদালতকে এসব নিয়ে খুব একটা রা কাড়তে দেখা যায় না। অথচ রাহুলের মুখ বন্ধ করতে তারা অতি তৎপর। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ‘চীন ভারতের জমি দখল করে আছে’ – এই মন্তব্য করার জন্য রাহুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আদালত রাহুলকে বলেছে, প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের কথা কেন বলা হচ্ছে! অর্থাৎ সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় বিরোধী দলনেতাকে বুঝে শুনে কথা বলার নিদান দিয়েছে। বিচারক দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অগাস্টিন মাসিহ আর মন্তব্য করেছে যে একজন সত্যিকারের ভারতীয় এরকম কথাবার্তা বলে না। প্রসঙ্গত, এই নিয়ে রাহুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিল বিজেপি।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এখন প্রশ্ন হল, কোন ধরনের কথা তাহলে বলা যাবে? সুপ্রিম কোর্টের রায় থেকে পরিষ্কার যে, যা বলতে হবে তার প্রমাণ দিতে হবে। বেশ। তাহলে দেখা যাক বিজেপি নেতারা ঠিক কী ধরনের কথাবার্তা বলে থাকেন। এঁদের গায়ে কিন্তু আজ অবধি সুপ্রিম কোর্ট টোকা পর্যন্ত দেয়নি।
গতবছরের কথা। লোকসভা নির্বাচন তখন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে, আদর্শ আচরণ বিধি চালু হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় নির্বাচনী প্রচারে মোদী মুসলমান জনসমাজ সম্পর্কে কতবার প্রমাণবিহীন মিথ্যা অভিযোগের বন্যা বইয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন তা জানেন কি? গত বৃহস্পতিবার (১৪ অগাস্ট) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংগঠনের ওয়েবসাইটে এ নিয়ে একখানা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে (India: Hate Speech Fueled Modi’s Election Campaign)। এই বিশ্ববিখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা দেখিয়েছে, ওই সময়ে মোদী ১৭৩ বার বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তার মধ্যে ১১০ বার মুসলমানদের বিরুদ্ধে। অন্যান্য মন্তব্য ছিল রাজনৈতিক বিরোধীদের সম্পর্কে। বলাই বাহুল্য, এসবের প্রমাণ নেই। কীরকম ছিল মন্তব্যগুলো?
২ মে ২০২৪। গুজরাটের জুনাগড়ে বলেন, ‘কংগ্রেস পার্টি গণতন্ত্রের জন্য এই নির্বাচনে লড়াই করছে না। তারা লড়াই করছে শ্রী রামের বিরুদ্ধে। আমি আপনাদের প্রশ্ন করতে চাই, যদি শ্রী রাম হেরে যান তাহলে জিতবে কে? এটা সেই মোগলদের বিজয়ের মতই হবে, যারা রামমন্দির ভেঙে দিয়েছিল ৫০০ বছর আগে।’
৭ মে মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার এক সভায় মোদী বলেন, কংগ্রেস এমনকি খেলাধুলোর ক্ষেত্রেও মুসলমানদের প্রাধান্য দিতে চায়। তারা ক্ষমতায় এলে নাকি মুসলমানদের দিয়েই ভারতীয় দল ভরিয়ে দেবে।
১০ মে তেলেঙ্গানায় বলেন ‘কংগ্রেস হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করতে চায়। তাই কি তারা ভোট জিহাদের ডাক দিয়েছে?’
১৪ মে ঝাড়খণ্ডের কোডারমায় এক নির্বাচনী জনসভায় মোদী বলেন ‘আমাদের দেবদেবীদের মূর্তি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারী (অর্থাৎ মুসলমান) আমাদের মা-বোনেদের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।’
১৭ মে উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকিতে তিনি দাবি করেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি নবনির্মিত রামমন্দির ভেঙে ফেলতে চায়। তাঁর কথায় ‘কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে রামলালাকে আবার তাঁবুতে পাঠিয়ে দেবে আর রামমন্দির বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেবে।’
এ তো মাত্র কয়েকটা উদাহরণ। সেই গোটা পর্যায় জুড়ে এমনই ছিল দেশের মোদীর ভাষণ। কোনো আদালত তাঁকে ধমকে দেয়নি, নিরস্ত করেনি। মোদীর কাছে তিনি যে সমস্ত কথা বলেছেন তার প্রমাণ চায়নি।
প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বিবাদে এসব বলে বেড়াতে পারেন, তাহলে অন্যরা চুপ থাকবেন কেন? অমিত শাহ, আদিত্যনাথ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, বিজেপির ছোট-বড় প্রায় সব নেতাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে কুকথার বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে। নির্বাচন কমিশন, আদালত – সকলেই চুপ ছিল। সুতরাং এই যে সুপ্রিম কোর্ট রাহুলকে তিরস্কার করল এই বলে যে তিনি প্রমাণ ছাড়া কথা বলছেন – এ তার মানে শুধু রাহুলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের জন্য আদালত আলাদা মাপকাঠি তৈরি করেছে। বিজেপি-আরএসএস নেতাদের ক্ষেত্রে মৌন থাকা হবে।
ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্যই হল, এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র সমাজের উৎপাদক অংশগুলির উপরেই দমনপীড়ন চালায় না, শুধুমাত্র প্রতিবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলির উপরেই খড়্গহস্ত হয় না, একইসঙ্গে সে শাসকশ্রেণির অন্য অংশকেও দমন করতে চায়। সুতরাং বিজেপি-আরএসএসের ফ্যাসিবাদী জমানায় যে বিরোধী বুর্জোয়া দল হিসাবে কংগ্রেসের উপর আক্রমণ আসবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু রাহুল যেন এই ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন। ফ্যাসিবাদীদের ক্রোধের আগুন রাহুলকে কেন্দ্র করেই যেন প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে বেশি। এর কারণ কী?
অন্যতম প্রধান কারণ হল, তারা বুঝে নিয়েছে যে বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন শক্তিকে তারা তাদের তাঁবে নিয়ে আসতে পারলেও রাহুলকে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মমতা ব্যানার্জি বিজেপির একজন ঋজু বিরোধী হিসাবে পরিচিত। অনেকেই মনে করেন, মমতা বোধহয় বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচণ্ড অনমনীয় একটি রাজনীতির প্রতিনিধি। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা যে অত সহজ নয়, তা পশ্চিমবঙ্গবাসী জানেন। বিজেপির সমস্ত নীতি তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত রাজ্যে লাগু করছে। একই রকমের ধর্মীয় উন্মাদনা, ধর্মীয় রাজনীতি তারা রাজ্যে চালিয়ে যাচ্ছে। সবথেকে বড় কথা, বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে আদর্শগত লড়াই করার কোনো পরিকল্পনাই তাদের নেই। মমতা তো আরএসএসকে ভাল সংগঠন বলেই মনে করেন। বিজেপি খারাপ, কিন্তু আরএসএস দারুণ – এমনটাই তাঁর ধারণা। একই অবস্থা ভারতের অন্য নানা আঞ্চলিক দলের। ইন্ডিয়া জোটে সরকারিভাবে থাকা অথবা বিভিন্ন কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে থাকা বহু দলেরই এই ব্যাধি রয়েছে। ফলে আরএসএসের বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে, প্রয়োজনে তারা এই দলগুলোর সঙ্গে কোনো এক রকমের বোঝাপড়ায় আসতে পারে। সেটা অসম্ভব নয়। কিন্তু রাহুলের সঙ্গে তা সম্ভব নয়। এমনকি কংগ্রেসের মধ্যেকার অনেক বড় বড় নেতার সঙ্গেও ভাব করে ফেলা যেতে পারে, রাহুলের সঙ্গে নয়। রাহুল নিজেই এ ব্যাপারে তাঁর অনমনীয় অবস্থান বারবার পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
২০২২ সালের মে মাসে রাজস্থানের উদয়পুরে কংগ্রেসের এক চিন্তন শিবির হয়েছিল। কংগ্রেস এর নাম দিয়েছিল – নব সংকল্প শিবির। ১৫ মে সেই শিবিরের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে রাহুল অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেন। সেখানে তিনি প্রথমেই পরিষ্কার করে বলে দেন ‘আমাদের লড়াই শুধু বিজেপির সঙ্গে নয়, আমাদের লড়াই আরএসএসের সঙ্গেও এবং তাদের আদর্শের সঙ্গে। বিজেপি-আরএসএসের আদর্শগত অবস্থান দেশের পক্ষে বিপজ্জনক।’
এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের পুরনো চেহারা মনে করিয়ে দেয়। বিনায়ক দামোদর সাভারকরদের পরিকল্পনামাফিক নাথুরাম গডসে যে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল তিনি কালক্রমে ‘জাতির পিতা’ হয়ে উঠেছেন ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে তিনি কংগ্রেসের অবিংসবাদী নেতা ছিলেন। পরবর্তীকালে কংগ্রেসের বহু নেতাকে দেখে এমন কথা আর মনেই হত না। বিজেপির সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি; নৈতিকভাবে, আদর্শগতভাবে আরএসএসের সঙ্গে টক্কর নিতে না পারা কংগ্রেসকে নখদন্তহীন সংগঠনে পরিণত করেছিল। এমতাবস্থায় রাহুলের ওই পরিষ্কার ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই ভারতের বর্তমান ফ্যাসিবাদী জমানার কুশীলবদের কাছে বিরাট মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে।
ওই ভাষণে রাহুল আরও কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেন, যা নিশ্চিতভাবে আমাদের দেশের মূলধারার শাসকবর্গীয় নেতারা মুখে আনার সাহস পান না। অথচ আমাদের দেশটা নির্মিত হয়েছে ওগুলোকে ধরেই। যেমন সেদিন রাহুল বলেছিলেন ‘কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় আইনসভায় আমি এক বক্তৃতায় বলেছিলাম, ভারত রাজ্যগুলোর একটা ইউনিয়ন। এটাই হচ্ছে লাইন, এটাই আমাদের সংবিধানে লেখা আছে। ভারতকে সেখানে একটা জাতিরাষ্ট্র বলে বর্ণনা করা হয়নি; একে বলা হয়েছে রাজ্যগুলোর ইউনিয়ন। এর অর্থ হল এখানে বিভিন্ন রাজ্য পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, জনগণ একসাথে যুক্ত হয়ে ভারত ইউনিয়ন গঠন করেছে।”
এখানে রাহুল ভারতের বহুজাতিক চরিত্র, তার যুক্তরাষ্ট্রীয় চরিত্রকে উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। ঠিক কথাই যে ভারতের সংবিধান একথাই বলে। কিন্তু আজকের ফ্যাসিবাদী জমানা ‘এক দেশ এক নেতা’ থেকে শুরু করে সব কিছু ‘এক’-এ নিয়ে আসাই দেশপ্রেম বলে বর্ণনা করতে চাইছে এবং এটাকেই স্বাভাবিক ও সংবিধানসম্মত বলে দাঁড় করিয়ে দিতে চাইছে। সে অবস্থায় রাহুল যে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবেন তাতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।
আরো পড়ুন কতটা পথ পেরোলে পরে ভারত পাওয়া যায়?
ওই ভাষণে রাহুলের আরও কিছু কথা ফ্যাসিবাদী শাসকদের শিরঃপীড়া যে বাড়িয়ে দিয়েছিল তা বলাই বাহুল্য। তিনি বলেছিলেন ‘আমাদের শুধু একটা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে তা নয়। ভারত রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। গোটা ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই লড়তে হচ্ছে।’ খুব পরিষ্কার করে রাহুল দেখিয়ে দেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি কীভাবে গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থারই দখল নিয়েছে এবং এখন একটা বিরোধী বুর্জোয়া দলকেও শুধু রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, লড়তে হচ্ছে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে। এরপরেই মোদী সমেত বিজেপি সব নেতা, মন্ত্রী রাহুলকে ‘আর্বান নকশাল’ বলতে শুরু করেন।
সম্প্রতি কর্ণাটকের ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে রাহুল আবার একটা বোমা ফাটিয়েছেন ভারত রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। বলা যেতে পারে, তিনি কমিশনকে একেবারে বেআব্রু করে দিয়েছেন। কর্ণাটকের একটামাত্র লোকসভা কেন্দ্রের একটা বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে রাহুল এবং তাঁর টিম সাতরকম পদ্ধতি ব্যবহার করে লক্ষাধিক ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা ধরে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। ভোটে জালিয়াতি, জুয়াচুরি সকলেই করে থাকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে এত বড় মাপের নির্বাচনী ধাপ্পাবাজি চালানো যে আসলে নির্বাচনী প্রক্রিয়াটাকেই বানচাল করে দেওয়ার সামিল, তা বুঝতে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কমিশনকে কতটা ভালভাবে পকেটে পুরে ফেলতে পারলে কয়েক হাজার লোকের বাবার নাম xyzabc –এই জাতীয় হতে পারে, হাজার হাজার লোকের বাড়ির নম্বর শূন্য হতে পারে, তা বুঝতে কিসের অসুবিধা? সুতরাং রাহুল যখন বলেন ‘আমাদের শুধু একটা পার্টির বিরুদ্ধেই নয়, লড়তে হচ্ছে গোটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে’ – তা স্বাভাবিকভাবেই বৈধতা পায়।
তাই তিনি ফ্যাসিবাদী ভারত রাষ্ট্রের আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছেন। এই লড়াই যদি মাঝপথে পরিত্যক্ত হয় তাহলে আলাদা কথা। নচেৎ তা শেষ হবে কোনো এক পক্ষের পূর্ণ পরাজয়ে। ইতিহাসের শিক্ষা এটাই।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








