চৈত্র মাসের মাঝামাঝি। রাত সাড়ে এগারোটা। ধানবাদের এক ঘিঞ্জি গলির শেষপ্রান্তে একটা চলটা-ওঠা ঘরে ঝিনঝিন করে পাখা চলছিল। ঘরের চওড়া খাটে উল্টো হয়ে শুয়ে থাকা সুনীতার নগ্ন ডাগর তামাটে পিঠের উপর কাচের গেলাস রেখে, তাতে মদ ঢেলে জল মিশিয়ে ভাল করে তার ঘ্রাণ নিল উপেন্দ্র। তারপর এক নিঃশ্বাসে তা ঢকঢক করে গলাধঃকরণ করে ‘আহ’ করে একটা শব্দ করল। মদটা একটু কড়া হয়ে গেছে। গলা জ্বলে গেছে বোধহয়।
সুনীতা তার সরু আঙুল দিয়ে খাটের কলমকারি চাদরের ওপর আঁকিবুঁকি কাটছিল। উপেন্দ্র মোবাইলে একটা তামিল আইটেম সং চালিয়ে সুনীতার কোমরে চিমটি কাটল।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
সুনীতা একটু লাস্যের ভাব এনে বলল, ‘লাগছে কিন্তু!’
সুনীতার কথায় নেশাচ্ছন্ন উপেন্দ্রর মুখে একটা চাপা হাসি ফুটে উঠল। নারীকে ব্যথা দিয়ে সে আনন্দ পায়। তার রক্ত চগবগিয়ে ওঠে। বাসনা চাগাড় দেয়। সে সুনীতাকে চিত করে শুইয়ে তার নিরাবরণ শরীরের উপর নিজেকে ছুড়ে দিতে যাবে, ঠিক এমন সময় বেজে উঠল মোবাইল ফোনটা। ‘ধ্যাত্তেরিকা!’ বিরক্ত মুখে উপেন্দ্র ফোনের দিকে তাকাল। মুহূর্তের মধ্যে তার ভুরু কুঁচকে গেল। সুনীতা জিজ্ঞেস করল, ‘কৌন?’
উপেন্দ্র হাত তুলে তাকে থামিয়ে বলল ‘আম্মা—’
বলেই সে ফোন তুলল ‘কী হল?’
‘মুন্নি আজকেও বেরোল ব্রজেশের সঙ্গে—’
কথাটা শুনেই উপেন্দ্রর স্নায়ু চড়চড় করে উঠল।
সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, ‘আম্মা, তু জেগে থাক! কটায় ফিরছে নজর রাখ। আমি কাল ফিরে সব হিসাব লিবো!’
ফোন কেটে দিল উপেন্দ্র।
সে বোতল থেকে ঢকঢক করে মদ টেনে উঠে দাঁড়াল। তার চোখ লাল।
সুনীতা জিজ্ঞেস করল, ‘কা হুয়া?’
‘আমি ছতরপুর ফিরব—’
‘আভি?’
‘হাঁ, আভি!’
ঝড়ের মত চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল উপেন্দ্র। ট্রাকে উঠে স্টার্ট দিল সে।
অন্ধকারে বড় হেডলাইট জ্বেলে হাইওয়ে ধরে হু হু করে ছুটতে লাগল উপেন্দ্রর ট্রাক। তাকে কালকের মধ্যে একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে। ব্রজেশের সঙ্গে তার বিবাহিতা ঔরত মুন্নির এই নোংরা লটঘট চলতে দেওয়া যায় না। প্রয়োজনে ব্রজেশকে সে খুন করবে।
২
ঝাড়খণ্ডের পালামৌ ডিভিশনে ছতরপুর ব্লকের অন্তর্গত তিলহাড়োয়া গ্রাম।
সেই গ্রামের বাসিন্দা বছর আটাশের উপেন্দ্র সিংয়ের সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়েছিল বাইশ বছরের মুন্নি সাহুর সঙ্গে। মুন্নির গ্রাম মধ্যপ্রদেশের জলসর। বিয়ের পর চার বছর কেটে গেছে। মুন্নির শ্যামলাবরণ, রোগা পাতলা গতর উপেন্দ্রর দুচক্ষের বিষ! সে নারীর শরীরে মেদ-মাংস চায়। খানিকটা রুমঝুম টলটলে মেদ। না হলে তার বাসনা জাগে না। মনে পটকা ফাটে না। গতর ডবকা না হলে তা আবার গতর নাকি?
ফুলশয্যার রাত থেকেই মুন্নির রোগা শরীরটাকে ঘৃণা করতে শুরু করে উপেন্দ্র। তাও তার মনে হয়েছিল, হয়ত বছর গড়ালে মুন্নির গায়ে মাংস লাগবে। একটু ডাগর হবে সে। কিন্তু কোথায় কী? বিয়ের চার বছর পরেও যে কে সেই! সেই রোগাপানা ডিগডিগে শরীর। দেখলেই বিরক্তি আসে। তাই, সে নধর শরীরের খোঁজে তক্কে তক্কে ছিল। হঠাৎ ধানবাদে এক রাতের পানশালায় দেখা হয়ে গেল সুনীতার সঙ্গে।
এইরকম মেয়েমানুষই খুঁজছিল সে, যার যৌবনের জলে স্নান করে মজা আছে। এই মজাই ক্রমশ তাকে মুন্নির থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে।
মুন্নি যেদিন সুনীতার কথা জানতে পেরে কৈফিয়ত চেয়ে বসল, সেদিন উপেন্দ্রর জিভ টলমলায়নি। সে সোজা জাঁহাবাজ গুন্ডার মত কাঠের টেবিলে থাবড়া মেরে বলেছিল ‘আরে বেশ করেছি, সুনীতার কাছে গেছি! একশোবার যাব! তোর মত মেয়েমানুষকে জবাব দিতে হবে নাকি, অ্যাঁ? আয়নায় নিজের শরীরটো দেখেছিস কখনো? আরে এই শরীর নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালেও খরিদ্দার পাবি না রে শালি! আমি হাজারবার সুনীতার সঙ্গে শোব! তুই কী করবি করে নে!’
এই কথার মুখে কী করবে মুন্নি? ভারতের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের রোগা নরম মেয়ে কী করতে পারে? মুন্নি কিছুই বলতে পারেনি সেদিন। সে দুচোখ ভরা জল নিয়ে ভূমিকম্প লাগা তালপুকুরের মত কাঁপছিল। উপেন্দ্র দড়াম করে দরজায় লাথি কষিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।
উপেন্দ্র বেরিয়ে যাবার পর মুন্নি নগ্ন হয়ে আয়নায় নিজেকে দেখেছিল।
কিচ্ছু নেই তার শরীরে! কিচ্ছু নেই! বাঁক নেই, তরঙ্গ নেই, চোরাস্রোত নেই – এই গতর কী করে একটা পুরুষকে টেনে রাখবে? কিন্তু এতে তার কী করার আছে? সে তো খাওয়াদাওয়া করে, তবু তার গতরে শস্য ডগবগিয়ে ওঠে না। ন্যাড়া নাবাল জমি পতিত থাকে। মুন্নি তার শরীরে হাত বুলিয়ে ভাবে, উপেন্দ্র কি কখনো তার মনের দিকে তাকাবে না?
সে যে উপেন্দ্রকে ভালবাসে, পাগলের মত ভালবাসে – একথা উপেন্দ্র কেন কিছুতেই বুঝতে চায় না?
উপেন্দ্রর দিকে তাকালে তার চোখ ভরে যায়। কিন্তু উপেন্দ্র কি সিনেমার নায়ক? নয় তো! তবু তো সে তাকে ভালবাসে। তার গালের কাটা দাগটিকে ভালবাসে, তার থ্যাবড়া নাক, উঁচু দাঁত আর রোমশ হাতটিকে ভালবাসে। তবে উপেন্দ্র স্বাস্থ্যবান পুরুষ। আগ্রা, বেনারস, পাটনা, ভোপাল, জব্বলপুর থেকে সে যখন ট্রাক চালিয়ে ফিরে দুপুর রৌদ্রে চৌবাচ্চার ধারে বসে গায়ে সাবান মাখে, তখন রান্নাঘরে মুন্নির খুন্তির আওয়াজ থেমে যায়। সে উপেন্দ্রকে দেখে। তার চওড়া কর্মঠ শরীর। তার রগড়ে রগড়ে সাবান মাখা। তার স্নান করা। মুন্নির কলেবরে শিহরণ হয়। তার শরীরে পদ্ম ফোটে, অথচ তার শরৎকাল আসে না। শুধু গ্রীষ্ম আর দাবদাহ!
মুন্নির মাঝেমধ্যে মনে হয় ‘শেষ করে দেব এই নিখাকি শরীর। রাতের অন্ধকারে কুয়োয় ঝাঁপ দেব, সব জ্বালা মিটে যাবে। শান্তি হবে।’ তবু সে পারে না। মরে গেলে উপেন্দ্রকে সে যে দেখতে পাবে না আর কখনো। কী করবে সে তবে, কী করবে?
বাড়িতে সারাক্ষণ তার শাশুড়ি গজগজ করে চলেছে ‘এ কেমন ঔরত যে তার সোয়ামিকে আটকে রাখতে পারে না! দোষ আমার লড়কার নয়, বুঝেছ? দোষ তোমার। গেঁহুর দানার মত শরীরে কিছু হয়? মেয়েমানুষের বদন হবে আখের মত। রসে টানটান। তবে তো আদমি ধেড়ে ছুঁচোর মত আসবে। তোর মা-বাপ তোকে একটা ডবকা গতর পর্যন্ত দিতে পারেনি?’
মুন্নির মাথা গরম হয়, তবু সে উত্তর দিতে পারে না। সে আড়ালে চোখের জল ফেলে। গভীর রাতে যখন দুমারিয়ার জঙ্গল থেকে ভেসে আসে নেকড়ের ডাক, তখন তার মনে হয় – কেন সে মানুষ হয়ে জন্মাল? কেন সে গভীর অরণ্যে শাল গাছ হয়ে জন্মাল না? মুন্নি ভাবে, ভেবেই চলে। ভগবানজি তাকে মন দিলেন, অথচ মনের মত একটা শরীর দিলেন না কেন?
৩
তিলহাড়োয়া গ্রামে উপেন্দ্রর ছোট একতলা গ্রাম্য বাড়ি। সিমেন্টের ঘর, মাথায় খাপরার চাল। খানিকটা উঠোন। চৌবাচ্চা। উঠোনের ধারে ঝাঁকড়া পিপুল গাছ। সেই পিপুল গাছের নিচে বেদিতে বসে বিস্তীর্ণ ক্ষেত পেরিয়ে দূরে দিকচক্রবালের দিকে তাকিয়ে মুন্নি মোবাইলে খুটখাট করে। সে রিল দেখে। সে দেখে কত দেহাতি মেয়ে তাদের উদ্ভিন্ন গতর দেখিয়ে নাচছে। সে-ও কি পারে না সেসব? হাজার হোক তার মেয়ের শরীর। একেবারেই কি দেখার লোক পাবে না? সে যদি শরীর দেখিয়ে ওইসব রিল করে? কেমন লাগবে উপেন্দ্রর? কিন্তু না। সে ওসব করবে না। সে চায় উপেন্দ্র তার কাছে আসুক।
মুন্নি দিবাস্বপ্ন দেখে – উপেন্দ্র তাকে বাইকে বসিয়ে ছতরপুর দুমারিয়ার জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেক বনের ভেতর ঝরনার জল দেখে তারা থেমে গেল। সে নিজে নগ্ন হয়ে ঝরনার জলে স্নান করছে। স্নান করতে করতে ইশারা করছে উপেন্দ্রকে! সে যেন মেনকা, উপেন্দ্র বিশ্বামিত্র। উপেন্দ্র আসবে, তার শরীরকে রোদ্দুর করবে।
এইসব কথা কল্পনা করে এক অদ্ভুত সুখের মধ্যে ডুবে যায় মুন্নি। আবেগতাড়িত হয়ে উপেন্দ্রকে ফোন করে। উপেন্দ্র ফোন তোলে না। অথবা কখনও তুলে বলে, ‘টেরাক চালাচ্ছি! পরে করছি!’ সে পর আর আসে না। মুন্নি উদাস চোখে তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে। গোধূলির মাস ফুরিয়ে রাত্রির বছর ঢোকে। এ পৃথিবীতে কত শুকনো ডালে ফুল আসে, কত রোগা নদীতে জল আসে, শুধু তার শরীরে মাংস আসে না।
৪
দিন কয়েক আগে উপেন্দ্রকে তার মা রাত্রিবেলা ফোন করে একটা অদ্ভুত কথা বলেছে, যা প্রায় অসম্ভব একটা ঘটনার মত – ‘বেটা, মুন্নি ব্রজেশের সঙ্গে বেরিয়ে গেল!’
‘কী আনাপশনাপ বকছিস, আম্মা! মুন্নি ডরপোক ঔরত! সে ব্রজেশের সঙ্গে বাইকে – না, না তুই ভুল দেখেছিস, মা! ব্রজেশ ওরকম ছেলেই নয়। ওর নিজের জোরু রাখী রয়েছে। ও কী করে এরকম করবে?’
‘না রে বেটা! এ সত্যি। তু এসে দেখে যা। না হলে মুন্নিকে মোবাইলে ফোন করে দ্যাখ আমার কথা সত্যি কিনা!’
উপেন্দ্র একটু থমকে গেছে। মুন্নিকে সে ফোন করবে? সে? মুন্নিই তার সঙ্গে দু মিনিট কথা বলার জন্যে কাকুতি মিনতি করে। সে কি এই কথা শুনে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ল যে মুন্নিকে ফোন করে জিজ্ঞেস করবে? না, না। এ হয় না। হতে পারে না। ওই রোগা মেয়েমানুষের দম কত, জানা আছে। কিন্তু ব্রজেশের সঙ্গে ও এত রাতে বেরোল কোথায়?
উপেন্দ্র আর ফোন করেনি। শুধু মাকে বলে দিয়েছে, ‘আবার হলে খবর দিও।’
ফোনটা রাখার পরেও উপেন্দ্রর কোথায় যেন কী একটা অসুবিধা হতে লাগল ওই লিকপিকে মেয়েটিকে ঘিরে।
এর দিন দুয়েক পরে, আবার মায়ের ফোন ‘আজ মুন্নি আবার বেরোল। ও একবার আমার ঘরের দরওয়াজা খুলে উঁকি দিয়ে দেখে গেল আমি ঘুমিয়ে পড়েছি কিনা। আমি তো মটকা মেরে পড়েছিলাম। রাত এগারোটা নাগাদ বেরোল। ব্রজেশ এসেছিল!’
উপেন্দ্র তখন দুর্গাপুরে। ধানবাদে পৌঁছে তার ছুটি। সে চুপ করে পুরোটা শুনল। তার মাথা দপ করে উঠল। এত রাতে করছে কী মেয়েটা? ব্রজেশের সঙ্গে কি তবে…? মুহূর্তের মধ্যে ব্রজেশের সঙ্গে মুন্নির সঙ্গমদৃশ্য তার কল্পনায় মূর্ত হল। সে যেন দেখতে পেল যে ব্রজেশ মুন্নির শাড়ি খুলে তাকে…অসহ্য হয়ে উঠল এই দৃশ্য। মটকা গরম হয়ে গেল উপেন্দ্রর। মুন্নি কি প্রতিশোধ নিচ্ছে তার উপর? পরকীয়া দিয়ে পরকীয়ার প্রতিশোধ! কিন্তু ব্রজেশের ঔরত রাখী কি একথা জানে না? সে কিছু বলছে না কেন? হঠাৎ ব্রজেশের মুন্নির প্রতি এত পিরিত জাগল কী করে?
উপেন্দ্র তার মায়ের কথা শুনে একটু থেমে বলল, ‘আম্মা, তু নজর রাখ। আমি মজা দেখাচ্ছি হারামজাদিকে।’
তৃতীয় ফোনটি ধানবাদে এল। উপেন্দ্র আর অপেক্ষা করল না। প্রায় সারারাত উন্মত্তের মত ট্রাক চালিয়ে ভোরের দিকে ছতরপুরে পৌঁছল।
সে বাড়ি ফিরল না। সোজা বড় গ্যারাজে পৌঁছে ব্রজেশের কলার চেপে ধরে চিৎকার করে উঠল ‘বেইমান শালা, আমার জরুকে নিয়ে লটরপটর করিস, তোর ইতনা হিম্মৎ…’
ব্রজেশ প্রথমটায় উপেন্দ্রর আক্রোশ দেখে একটু থতমত খেয়ে গিয়েছিল। বারবার ধাক্কা খেতে খেতে সে-ও উল্টে ঠাস করে একটা চড় মারল উপেন্দ্রকে। চড় খেয়ে উপেন্দ্র থমকে গেল। সে ব্রজেশের চোখের দিকে তাকাল। ব্রজেশ স্থির শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সে উপেন্দ্রকে বলল ‘পুরো কথা না জেনে চিড়বিড় করিস না। আমিও মারতে পারি।’
উপেন্দ্র বুঝল ব্রজেশ কিছু বলতে চায়, যা শোনা দরকার।
ব্রজেশ গ্যারাজের পেছনে উপেন্দ্রকে ডেকে নিয়ে গেল। সেইখানে উন্মুক্ত বিপুল ক্ষেত। একটা বিড়ি ধরিয়ে শান্ত গলায় ব্রজেশ বলল, ‘তোর জরুর সঙ্গে দিললগি করার জন্যে আমি তাকে রাতের বেলা জঙ্গলে নিয়ে যাইনি।’
‘তবে?’ বিস্মিত হল উপেন্দ্র।
‘নিয়ে গিয়েছিলাম পুজোর জন্যে।’
‘পুজো? কীসের পুজো?’
‘সে আমাকে মুন্নি বলেনি। ও রাখী জানে। রাখী আমাকে বলেছিল যে মুন্নির চমগাদড়ের হাড় দরকার। তাই…’
বাদুড়কে এসব অঞ্চলে চমগাদড় বলে।
উপেন্দ্র অতিশয় বিস্মিত হয়ে বলল ‘চমগাদড়ের হাড়? কাহে?’
‘একটা পুজো করবে মুন্নি আজ রাতে। আজ তো চৈতি পূরণমাসি! আজকেই পুজো।’
উপেন্দ্র হতবাক ‘মুন্নি পুজো করবে জঙ্গলে? আজ রাতে?’
‘হাঁ। লেকিন এদিকে গত কয়েকদিন ধরে একটো দলছুট দাঁতাল জঙ্গল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মুন্নিকে মানা করেছি, ফির ভি শুনছে না।’
‘কিন্তু, তুই ওকে রাতে নিয়ে গিয়ে কী করছিলি?’
‘অনেকগুলো চমগাদড় মারলাম। মুন্নি টর্চ দিয়ে গাছের উপর আলো ফেলত। আমি গুলেল ছুঁড়ে মারতাম। গত দুদিনে বেশ কয়েকটা চমগাদড় পাওয়া গেছে। আমার ভয় ছিল জঙ্গলের গার্ডরা দেখতে না পায়। ভগবানজির কৃপায় ওসব হয়নি।’
ব্রজেশের কথা শুনতে শুনতে উপেন্দ্র থম মেরে গেল। এই মুন্নি তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। একে সে চেনেই না।
ব্রজেশ বলল, ‘এ ব্যাপারে রাখী কুছু জানে।’
উপেন্দ্র মরিয়া হয়ে বলল, ‘ভাউ, তু আমাকে একবার রাখীর কাছে নিয়ে চল। কী চলছে আমাকে বুঝতেই হবে।’
৫
পালামৌ অঞ্চলে নানারকমের তাবিজ-টাবিজ, দৈব ওষুধ, টোটকা প্রভৃতির জন্যে বাদুড় বা চমগাদড় মারা বেশ প্রচলিত। এই এলাকার গ্রামীণ মানুষের বিশ্বাস – বাদুড়ের হাড়ের মাদুলি পরলে ডাইনির কোপ থেকে বা কুবাতাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ছতরপুর ব্লকে দশেরার পর যে ভূতমেলা বসে, সেখানে ওঝা-গুণিনরা এইসব বাদুড়ের হাড়ের মাদুলি নিয়ে বসে। গ্রাম্য নারী, পুরুষ সেসব মাদুলি, তাবিজ, দৈব ওষুধ কিনে নিয়ে যায়। উপেন্দ্র এসব কথা জানে। সে এ-ও জানে যে ডাইনিরা তুকতাকের জন্যে বাদুড়ের হাড় সংগ্রহ করে। ব্রজেশের বাইকে করে যেতে যেতে সে বারবার ভাবছিল, কী এমন ঘটে থাকতে পারে যার জন্যে মুন্নি গভীর রাতে মরা বাদুড় সংগ্রহ করছে। সে কি কোনো গুণিনের পাল্লায় পড়ল?
ব্রজেশের স্ত্রী রাখী চায়ের কাপ তুলে দিল উপেন্দ্রর হাতে। তারপর বলল, ‘দেখিয়ে উপেন ভাই! ইসব কথা আমার বলা বারণ ছিল, কিন্তু এখন—’
উপেন্দ্র হাঁ হাঁ করে উঠে বলল, ‘ওসব বারণ-টারণ থাক, রাখী। তুমি বলো আমাকে – কা চল রহা হ্যায়?’
রাখী বলল, ‘তোমার মনে আছে মাঘী পূরণমাসির সময় মুন্নি একবার বাপের বাড়ি গিয়েছিল জলসরায়? সঙ্গে আমিও তো গিয়েছিলাম—’
উপেন্দ্র মাথা তুলে চোখ উঁচু করে ভাবার চেষ্টা করল। কিন্তু খুব একটা কিছু মনে করতে পারল না। সে মুন্নির ব্যাপারে একেবারেই চিন্তিত নয়। মুন্নি কী করল, কোথায় গেল – এ নিয়ে সে ভাবেইনি কখনো। এমনকি সে যদি মুন্নির মৃত্যুর খবরও পেত, তাহলেও হয়ত সে বাড়ি ফিরত না। আম্মাকে বলত ‘ওদের বাড়ির লোককে বলো, পুড়িয়ে দিতে।’ তারপর হয়ত সুনীতার মত শরীরওয়ালি কাউকে নিজে দেখেশুনে বিয়ে করত।
উপেন্দ্র মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, ‘আমার ইয়াদ নেই—’
রাখী বলল, ‘আমরা কিন্তু তখন জলসরে যাইনি।’
‘কোথায় গিয়েছিলে তবে?’
‘মালাজপুরে—’
‘মা-লা-জ-পুর! কী করতে?’
‘ভূতমেলায়। সেখানে নানারকমের টোটকা পাওয়া যায়। সারা উত্তরাঞ্চলের নানা ওঝা গুণিন অঘোরী তান্ত্রিকের দল আসে। সেইখানে ভূতে-পাওয়া মানুষেরা আসে। তাদের ভূত ঝাড়ানো হয়। খারাপ নজর যাতে না লাগে, সেজন্যে নানা দৈব ওষুধ, পুজোর মন্ত্র দেওয়া হয়।’
‘কিন্তু এখানে মুন্নি কী করতে গিয়েছিল?’ হতবাক হয় উপেন্দ্র।
‘উপেন ভাই, মুন্নির ধারণা হয়েছে যে ওর শরীরে ভূতের নজর লেগেছে, তাই অনেক খাওয়াদাওয়া করেও ওর হাড়ে মাংস লাগছে না। আর এই কারণে আপনি ওকে ফেলে দিয়েছেন। ও মালাজপুরের মেলায় গিয়ে নিজেকে ওঝা দিয়ে ঝাড়িয়েছে। ওখানেই ওকে এক বুড়ো ওঝা চৈতি পূরণমাসির রাতে একটা পুজো করতে বলেছে। ও সেই পুজোই আজ করছে।’
উপেন্দ্র রাখীর কথা শুনে মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ বসে রইল।
তারপর রাখীকে বলল, ‘তোমার এগুলো আমায় জানানো উচিত ছিল।’
‘কেন?’ গলায় বিরক্তি ও ঘৃণার ঝাঁঝ এনে জিজ্ঞেস করল রাখী।
উপেন্দ্র সেটা বুঝতে পারল। যার ব্যাপারে কোনো খোঁজ সে রাখে না, তার ব্যাপারে কোনো কিছু জানার অধিকার তার নেই। সে ব্রজেশের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আজ তু মুন্নিকে তুলতে যাবি তো?’
ব্রজেশ মাথা নাড়ল ‘রাত বারোটা।’
৬
সন্ধের পর আদিবাসীদের কুঁড়ের চালের মাথায় উঠল এক রক্তবর্ণের চাঁদ। চৈত্রের পূর্ণিমায় ফসল মাখা ক্ষেতের উপর দিয়ে দখিনা বাতাস যেন এক বিরহবিধুরা রোগা নারীর দীর্ঘশ্বাসের মত দিগন্ত প্রসারিত বিপুল তমিস্রায় মিলিয়ে গেল। কিছু একটা হবে কোথাও, আজ আকাশে বাতাসে যেন তার আয়োজন। নিশাচর পাখির ডানায় জ্যোৎস্না রজনী কেঁপে কেঁপে কীসের যেন প্রতীক্ষা করছে।
রাত প্রায় বারোটা তখন। নিচু স্বরে ঘড়ঘড় করতে করতে ব্রজেশের বাইকটা এসে দাঁড়াল। মুন্নি রাঙা শাড়ি পরে, মাথায় চওড়া করে সিঁদুর দিয়ে, হাতে একটা পুঁটুলি নিয়ে বেরিয়ে এল। গরগর করতে করতে বাইক ছুটল দুমারিয়ার জঙ্গলের দিকে।
চাঁদের আলোয় নিশুতি রাতের নীরবতায় চুপ করে ঘুমিয়ে রয়েছে গ্রামগুলো। কোথাও খাপরার চাল, ইটের ঘর; কোথাও খড়ের চাল, মাটির ঘর। দূরে কোথাও নিঃসঙ্গ কুকুর ক্ষেতের ধারে দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে মুখ তুলে চেঁচিয়ে উঠছে।
বাইক একসময় দুমারিয়ার জঙ্গলে এসে থামল। মুন্নি নামল বাইক থেকে। সে বলল, ‘ব্রজেশ ভাই, আপনি আমাকে আগুন জ্বালতে মদত করবেন?’
ব্রজেশ মাথা নাড়ল। জঙ্গলের একটু ভেতরে প্রবেশ করে একটা ফাঁকা জায়গায় ডালপালা জড়ো করল দুজনে। তারপর ব্রজেশ তাতে দেশলাই জ্বালিয়ে ফুঁ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল। জ্যোৎস্নাপ্লাবিত আরণ্যক পটভূমিতে দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগল অগ্নিকুণ্ড।
আরো পড়ুন যুবতীসন্ধ্যার জানলা
মুন্নি এবার ফিরে তাকাল ব্রজেশের দিকে। কাজলটানা চোখে তাকিয়ে বলল, ‘ভাইয়া, আপনি আজ চলে যান এখান থেকে। আজ আর থাকবেন না।’
ব্রজেশ মুন্নির দিকে একবার তাকাল, তারপর বাইক চালিয়ে বেরিয়ে গেল।
ঠিক সেইসময় অদূরে একটি গাছের আড়ালে এসে দাঁড়িয়েছে উপেন্দ্র।
৭
মুন্নি জানে না যে উপেন্দ্র ফিরে এসেছে, কারণ সে বাড়ি ফেরেনি। ব্রজেশের বাড়িতেই থেকে গেছে। ব্রজেশ তাকে একটা বাইকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। সেই বাইকে করেই সে খানিক দূরত্ব রেখে এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে। ব্রজেশ চলে যেতে উপেন্দ্র চুপ করে দেখতে লাগল তার বিবাহিতা স্ত্রীর অদ্ভুত কাণ্ড।
মুন্নি তার সমস্ত বস্ত্র খুলে ফেলল। এখন সে নিরাবরণ। নগ্ন। সারা গায়ে সিঁদুর লেপে নিল। পুঁটলি থেকে একটা সাদা মালা বের করল। চমগাদড়ের হাড়ের মালা। সেটা গলায় পরল।
তারপর কী একটা মন্ত্র উচ্চস্বরে আউড়ে আউড়ে সে উন্মত্ত যোগিনীর মত আগুনের চারপাশে ঘুরে ঘুরে শুরু করল নৃত্য। বিপুল পালামৌ অরণ্যের একপ্রান্তে চৈত্র পূর্ণিমার রাতে সাদা জবার শাখার মত এক রোগা যুবতী নাচছে। চৈত্র রাতের বাতাসে তার খোলা চুল উড়ছে। তার শরীর অগ্নিশিখার মত কাঁপছে। সে যেন আর মানবী নয়। সে যেন কোনো প্রাগৈতিহাসিক আদিম তপস্বিনী।
উপেন্দ্র স্তব্ধ হয়ে মুন্নিকে দেখছে। এই মেয়েটিকে সে কোনোদিন দেখেনি।
এ কি তারই স্ত্রী? উপেন্দ্রর চওড়া বুক কেঁপে উঠল। মুন্নি কি তবে ডাইনি হয়ে গেল? কী হবে এবার? গাঁয়ের মানুষের কাছে যদি একবার একথা রটে যায়, তবে তো সর্বনাশ হবে। এ অঞ্চলে ডাইনি বলে সাব্যস্ত হলে মানুষ পাথর ছুড়ে মেরে দেয়। মুন্নিকে সে আর বাঁচাতে পারবে না। কিন্তু, সে কি মুন্নিকে বাঁচাতে চায়?
উপেন্দ্র আর ভাবতে পারল না। সে গাছের আড়াল থেকে প্রেতের মত বেরিয়ে এসে ডেকে উঠল ‘মুন্নি!’
নাচতে নাচতে একটা ঘোরের ভেতর চলে গিয়েছিল মুন্নি। উপেন্দ্রর ডাক শুনে সে চমকে উঠল। থমকে দাঁড়াল। তার সর্বাঙ্গে ঘাম। শরীর কাঁপছে। সে উপেন্দ্রকে দেখে স্তব্ধ হল। তারপর বলল ‘তুমি, সত্যি এলে? একবার তোমায় ছুঁয়ে দেখব?’
দূরে শেয়ালের চিৎকার, বনবিড়ালের কান্না।
মুন্নি এগিয়ে গিয়ে হতবাক উপেন্দ্রর বুকে হাত দিল। তারপর নিজে বিড়বিড় করে বলল ‘তাহলে তো মন্ত্র সত্যি! তাহলে তো আমার পুজো সফল! আমার আদমি তো মন্ত্রের জোরে ফিরে এল…’
উপেন্দ্র কড়া করে বলল, ‘এসব কী হচ্ছে মুন্নি? তুমি কি ডাইনি হলে?’
‘হ্যাঁ। ডাইনি হলাম। শুধু তোমাকেই ভালবেসে ডাইনি হলাম…’
উপেন্দ্রর মুখে কথা সরল না। মুন্নি বলল, ‘মালাজপুরের জটাবাবা আমাকে বলেছিল, এ পুজো করলে তোর আদমি তোর কাছে ফিরবে। ফিরবেই। এই চমগাদড়ের হাড় তোমাকে ফিরিয়ে এনেছে। তুমি তো ফিরলে!’
উপেন্দ্র বলল ‘তু আমার জন্যে এই এতসব করছিস?’
মুন্নির চোখ জলে ভরে এল। সে বলল ‘আমি যে তোমায় ভালবাসি। খুব ভালবাসি। কিন্তু তুমি আমায় ভালবাসো না। আমি কী করি বলো তো? এই মনহুঁস শরীরটো এসে আমার জীবনের সমস্ত সাধ নষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যে এক পিশাচ ছিল, যে ভেতর থেকে আমার সব মাংস খেয়ে নিত। কিন্তু আর খাবে না। সে পিশাচকে তাড়িয়ে দিয়েছে জটাবাবা! তুমি কি এবার আমায় একটু ভালবাসতে পারবে? সুনীতা যা পায়, আমি কি পাব না কখনো?’
উপেন্দ্র জানে না সে কী বলবে। তাকে এত ভাল কেউ কি বেসেছে কখনো?
তার বুকের ভেতরটা সহসা মোচড় দিয়ে উঠল মুন্নির জন্য। বিয়ের চার বছরে, এই প্রথমবার। কিন্তু পরমুহূর্তে তার মনে হল যে এই মুন্নি তো আর এখন সেই মুন্নি নেই। এ তো এখন ডাইনি হয়ে গেছে। একে কি আর পত্নী বলা যায়?
হঠাৎ খানিক দূরে বনের একদিকের ডালপালা ঝোপঝাড় নড়ে উঠল।
একটা উন্মত্ত হাতির গর্জন শোনা গেল। উপেন্দ্রর রক্ত হিম হল।
ব্রজেশ আজকেই তাকে দলছুট দাঁতালটার কথা বলেছে। এ নিশ্চয়ই সেই দাঁতালটা। মুন্নিও হাতির ওই তুমুল বৃংহনে থরথরিয়ে কেঁপে উঠল। উপেন্দ্র সেই মুহূর্তে পাগলের মত তার বাইকের দিকে দৌড়তে লাগল। একা।
মুন্নি কিছুটা থতমত হয়ে উপেন্দ্রর একলা ছুটে যাওয়া দেখল। তারপর সে-ও প্রাণভয়ে তার সমস্ত সরঞ্জাম ফেলে শুধু রাঙা শাড়িটুকু বুকে আঁকড়ে নগ্ন অবস্থায় উপেন্দ্রর পেছনে ছুটল। কিন্তু একসময়ে টাল সামলাতে না পেরে সে শাড়িসুদ্ধু মাটিতে পড়ে গেল।
‘আহ!’ বলে ককিয়ে উঠল।
উন্মত্ত দাঁতালের ডাকে বন ধড়ফড়। জ্যোৎস্না ছমছম। উপেন্দ্র ঘুরে তাকিয়ে দেখল মুন্নি পড়ে গেছে। সে হাঁচড়ে পাঁচড়ে ওঠার চেষ্টা করছে। দাঁড়িয়ে পড়ল উপেন্দ্র। সময় খুব অল্প। মুন্নিকে সে অবিলম্বে তুলে আনতে পারে। কিন্তু মুন্নি তো ডাইনি! গাছ থেকে গাছে ক্যাঁ ক্যাঁ ক্যাঁ করে উড়ে যাচ্ছে বুনো ময়ূর। মুন্নিকে ফেলেই আবার দৌড় দিল উপেন্দ্র। বাইকের কাছাকাছি পৌঁছে উপেন্দ্র অনুভব করল যে মুন্নি আসছে না। সে ফিরে তাকিয়ে দেখল, মুন্নি মাটি থেকে উঠে জঙ্গলের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সটান। নগ্ন রোগা অসহায় একটি মেয়ে এক বিপুল অরণ্যের সামনে দাঁড়িয়েছে ভয়হীন।
সে যেন ঘুরে দাঁড়িয়েছে খলখলে মৃত্যুপুরুষের দিকে। সে বুঝেছে, রোগা হোক বা ডাগর – এতে সেই পুরুষের অন্তত কিচ্ছু যায় আসে না। নির্দয় মানুষের মত দূরে ঠেলে না দিয়ে, মৃত্যুপুরুষ তাকে গ্রহণ করবেই তার সমস্ত খুঁত সমেত। মেয়েটা তো মরে যাবে এভাবে! উপেন্দ্র আতঙ্কিত হয়ে আর্তনাদ করল, ‘মুন্নি-ই-ই-ই-ই!’
মুন্নি ঘাড় ঘুরিয়ে একবার উপেন্দ্রর দিকে ঠান্ডা চোখে তাকাল। সে নড়ল না।
উপেন্দ্র আবার আর্তনাদ করল ‘মুন-নি-ই-ই-ই-ই!’ তবু সে নড়ল না।
উন্মত্তের মত দুহাতে জ্যোৎস্না ভাঙতে ভাঙতে উপেন্দ্র ছুটে ফিরতে লাগল ওই রোগা উন্মাদিনীর দিকে। চৈত্রের ঝোড়ো বাতাসে ছতরপুরের গহন জঙ্গল থেকে ধ্বনিত হল উদ্দাম দাঁতালের হাড় কাঁপানো বৃংহণ।
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








