তাপস দাস
স্কুল ছুটির পরে মামুন, সুকান্ত, ভক্ত, বাপি, প্রদ্যুৎদের রিজার্ভ করা গাড়িতে মাঝে মাঝে বাড়ি ফিরি। ওরা সবাই বয়সে আমার চেয়ে ছোট। একই স্কুলে পড়াই। আমি আংশিক সময়ের শিক্ষক, বাকিরা উচ্চমাধ্যমিক স্তরের নিয়মিত শিক্ষক। সেদিন ফেরার সময়ে পলাশ, মানে মামুন, হঠাৎই বলেছিল – জানো, আমাদের রিয়া জেলা ক্রিকেট টিমে সুযোগ পেয়েছে।
– কোন রিয়া? আমি প্রশ্ন করি। রিয়া নামে কোনো ছাত্রীকে তখন মনে পড়েনি। পলাশের কথা ধরে বাপি বলে – ক্লাস সেভেনে পড়ে। বেতনা মাহাতো পাড়ার। পলাশ মোবাইলে দেখায়, দক্ষিণ দিনাজপুরের বিরুদ্ধে তিন ওভার বল করে দুই উইকেট পেয়েছে। এক ওভার মেডেন। গাড়ি থেকে নামার সময়ে বাপি বলে – তাপসদা, রিয়া বলছিল ওর ব্যাট, প্যাড, জুতোর দরকার। তুমি একটু চেষ্টা করে দেখবে?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
– দেখি। বলে গাড়ি থেকে নেমে যাই।
লকডাউন শেষে সবে স্কুল খুলেছে। প্রায় দুই বছর ছাত্রছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ ছিল না। কী এক সময় গেছে! একটানা মাসের পর মাস বাড়িতে বসে থাকা, নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে। রাস্তায়, দোকানে, আড্ডায় বক্রোক্তি, ব্যঙ্গ – শিক্ষক হয়ে কাজ না করে বসে বসে বেতন নিতে ভালই লাগে। অথচ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল না। কেউ জানতেও চায়নি শিক্ষকদের মতামত। অধিকাংশই হয়ত খুশি হয়েছিলেন, তবু দুই-একজনও ছিলেন না, যাঁরা ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে চাইতেন? টানা বিচ্ছেদে পড়ুয়া, শিক্ষক, স্কুলবাড়ি – প্রত্যেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। লকডাউনের পরে স্কুল খোলার প্রথম দিন স্কুলবাড়িটাকে মনে হয়েছিল অপরিচিত। বহুদিন কেউ যেন যত্ন নেয়নি। পরিত্যক্ত, বহুদিন কেউ আসেনি। সন্ধের দিকে ভাবছিলাম, বেতনা মাহাতো পাড়া বাড়ি থেকে ছয়-সাত কিলোমিটার দূরে। অথচ আমি জানি না! সত্যি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। মানুষ, প্রকৃতি – সবার সঙ্গেই যোগাযোগ কমছে। নিজের বৃত্তটুকুর বাইরে যেন কিছু নেই।
কিছুতেই মনে করতে পারছিলাম না। কে রিয়া? বেতনা মাহাতো পাড়ার মেয়ে অনূর্ধ্ব-১৪ জেলা মহিলা দলে সুযোগ পেয়েছে। গ্রামে তো খেলা উঠেই গেছে, ছেলেরাই খেলে না। সবাই মোবাইল, ফ্রি ফায়ারে আসক্ত। খেলা হয় না বললে ভুল হবে, টেনিস বলে ছোট মাঠে নগদ টাকায় এদিকটায় গ্রামে গ্রামে ক্রিকেট খেলার চল হয়েছে। অনেকটা জুয়ার মত। কিন্তু বেতনা মাহাতো পাড়ার মেয়ে ক্রিকেট খেলছে, জেলা দলেও সুযোগ পেয়েছে – বেশ অবাক করার মত। রাতে পলাশকে ফোন করি – রিয়ার ছবি আছে? পলাশ ছবি পাঠিয়ে বলে – কালকে তো স্কুলে দেখা হবেই।
টিফিনের সময়ে আমি, মামুন, সুকান্ত রিয়াকে ডাকি। প্রায় ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা। কালো। চোখদুটো উজ্জ্বল। ছেলেদের মত চুলের ছাঁট। প্রথমে যে কেউ ছেলে বলে ভুল করতে পারে।
– তুই ঝুলন গোস্বামীর নাম শুনেছিস? স্মৃতি মান্ধানা?
– না স্যার।
– ওরা কী খেলে, জানিস?
– জানি না স্যার।
– তোর ক্রিকেট খেলায় আগ্রহ কেন? কোথায় খেলিস?
– আমাদের পাড়ায় ছেলেরা খেলে। ওদের দেখে, ওদের সাথে খেলি।
– পাড়ায় খেলেই জেলা টিমে?
– না স্যার। ইসলামপুরে কোচিং নিই। কোচিং স্যার রায়গঞ্জে খেলতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর জেলা টিমে।
এবার আমি বললাম – যা, বল করে দেখা তো, কেমন বল করতে পারিস?
ততক্ষণে স্কুলে বেশ কিছু ছেলেমেয়ে আমাদের ঘিরে ধরেছে। ওরা একসাথে বলল – হ্যাঁ রিয়া, স্যার বলছেন, যা কর।
স্কুলে একসময় খেলার চল ছিল। ফুটবল, খো খো, ভলিবল খেলা হত। খো খো খেলায় তো কয়েকবার জেলাস্তরে স্কুল টিম গিয়েছিল। এখন হয় না, উঠেই গেছে প্রায়। কোনোরকমে বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়, জানুয়ারির শেষে, তাও প্রাণহীন। করতে হয় বলেই করা। এই কয়েক বছরে সবকিছু কেমন যেন বদলে গেছে। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। যেন বহুদূরে চলে গেছে। কেউ কাউকে স্পর্শ করতে পারি না।
কমন রুমে এককোণে টেনিস ব্যাট, বল ছিল। একজন উপর থেকে নিয়ে এল। রিয়া বল হাতে নিয়ে কয়েক পা দৌড়ে এসে প্রথম বল করল। বলটা মাটিতে পড়লই না, ফুলটস হয়ে গেল। রিয়া ম্লান মুখে বলল – স্যার, এই বলে হচ্ছে না।
সুকান্ত বলল – আবার চেষ্টা কর।
কয়েক পা দৌড়ে এসে রিয়া বল করল। এবার টেনিস বল ঘাসে পড়েই অন্যদিকে ঘুরে গেল।
ছাত্রদের মধ্যে কেউ একজন বলে উঠল – আরিব্বাস, লেগস্পিন!
রিয়ার চোখে মুখে আনন্দ। বলল – হ্যাঁ, আমি লেগস্পিন করি।
মামুন এবার প্রশ্ন করল – তুই যে ক্রিকেট খেলিস, তোর বাবা বকে?
– না স্যার, বাবাই তো ইসলামপুর কোচিংয়ে ভর্তি করে দিয়েছে।
– বাবা কী কাজ করেন?
– ড্রাইভার, স্যার। গাড়ি চালায়।
– কার গাড়ি চালায়?
– এখন পাঞ্জাবে। ইটভাটায় গাড়ি চালায়।
এতটা ভাবিনি। পিছিয়ে পড়া উত্তর দিনাজপুরের পিছিয়ে পড়া তস্য গ্রামের একজন ড্রাইভার, সে কিনা পাঞ্জাবে ইটভাটায় গাড়ি চালিয়ে সংসারের খরচ বাঁচিয়ে মেয়েকে ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্পে পাঠিয়েছে!
– অ্যাই তোর বাবার নাম কি?
– রথীন মাহাতো। বাবা আপনাকে চেনে স্যার।
রথীন মাহাতোর মুখ ভেসে উঠল। মনে হল কয়েকবছর দেখিনি। আমাদের গঞ্জগ্রামে একজনের সুমো গোল্ড গাড়ি চালাত। আচ্ছা, রথীন মাহাতো ঝুলন গোস্বামীর নাম জানে? মহিলা ক্রিকেটে দেশের অবস্থান জানে? নাকি শুধু মেয়ের ইচ্ছেপূরণের জন্য? প্রতিটি বাবার কাছে তার মেয়ে স্বপ্নসম্ভবা।
টিফিন শেষ। কমন রুমে ফিরে আসার সময়ে জিজ্ঞেস করলাম – তোর কী কী লাগবে?
– ব্যাট, বল, প্যাড, জুতো।
– এগুলো নেই?
– না
– তাহলে খেলিস কী করে?
– অন্য দিদিদের ব্যাট, বল, জুতো…
ক্লাসে যাওয়ার আগে রিয়াকে বলে এলাম, ও যেন চিন্তা না করে। সব ব্যবস্থা হবে।
– আচ্ছা তোর ক্রিকেট খেলা নিয়ে পাড়ার লোকেরা কিছু বলে?
– না তো!
অবশ্য প্রান্তিক মানুষের জীবনে এত সময় কোথায়? এমনিতেও সরল জীবনে এসব সমস্যা নেই। জটিল মধ্যবিত্ত জীবনেই হাজার প্রশ্ন।
আমাদের চারপাশে ভাল মানুষের অভাব নেই। সুযোগ, সামর্থের অভাবে মনে শ্যাওলা পড়ে যায়। কেউ একটু ঘষলেই তকতকে উঠোন বেরিয়ে আসে। মানুষ বড় স্নিগ্ধ। সেদিন রাতে রিয়াকে সাহায্য করার আবেদন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করি। দুই দিনে নগদ ২৫,০০০ টাকা পাঠিয়েছেন বন্ধুরা। ক্রিকেটপাগল এক বন্ধু কলকাতা থেকে নামি কোম্পানি এস জি গ্রুপের ব্যাট, প্যাড, বল, হেলমেট, টিশার্ট, প্যান্ট, খেলার যাবতীয় সামগ্রীর সেট পাঠিয়েছে। অন্য এক বন্ধু কানপুরের এক কোম্পানির ক্রিকেট সামগ্রী পাঠিয়েছে। কেউ কলকাতায় কোচিং, সবরকমভাবে পাশে দাঁড়াবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি নিজেও এতটা ভাবিনি।
দিন দশেক পরে স্কুলের হেডস্যার রিয়ার হাতে খেলার সামগ্রী তুলে দিলেন। আমরা ঠিক করলাম নগদ ২৫,০০০ টাকা গোপাল স্যারের কাছে জমা থাকবে। প্রতি মাসে রিয়াকে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ইসলামপুর, রায়গঞ্জে কোচিংয়ে যাওয়ার ভাড়া। আমরা কযেকজন শিক্ষক তখন যেন নিজেরাই রিয়া মাহাতো। ওর মধ্যে নিজের সাফল্য দেখতে চাইছি।
সুকান্ত স্যার বলাতে রিয়া জার্সির, জুতো, প্যাড, হেলমেট, গ্লাভস পরে ব্যাট হাতে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এ আমরা কাকে দেখছি? যেন ঠা ঠা দুপুরে মেঘের ছায়া। চোখ জুড়িয়ে গেল।
সেদিন বিকেলবেলা রিয়াদের বাড়ি গিয়েছিলাম। মাহাতো পাড়ার শেষে টিনের চালা, বাঁশের বেড়া দেওয়া একটি মাত্র ঘর। বারান্দায় একটি চৌকি, মলিন বিছানা পাতা। উঠোনের এককোণে খোলা আকাশে দুটো মাটির উনুন, কয়েক হাত দূরেই কলের ড্রেন। অভাব লেপ্টে আছে সবখানে। মা দুর্বল। বারান্দায় পা ছড়িয়ে, খোলা চুলে, এলোমেলো বসেছিলেন। স্কুলে যা যা হল সবটা বলার পরে বললাম, রিয়াকে যেন প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ দেন।
রিয়ার মা মৃদু উচ্চারণে বললেন – কোথায় পাব দুধ?
রাতে রথীন মাহাতো পাঞ্জাব থেকে ফোন করেছিল – মাস্টার, মেয়েটার খুব শখ ক্রিকেট খেলবে। আমি না করিনি। মেয়ে হয়েছে তো কী হয়েছে? ছেলেরা খেললে, মেয়েরাও খেলবে। ইসলামপুর কোচিংয়ে ভর্তি করে দিয়েছি। রিয়ার কথা শোনার পর এখানে মালিক আমাকে খুব সম্মান করে। মেয়ের জন্য আমার ইজ্জত বেড়ে গেছে। রিয়া ফোন করে আজ আপনাদের কথা বলল। আপনাদের ধন্যবাদ, মাস্টার। আমি মাঝেমাঝে আপনাকে ফোন করব। বিরক্ত হবেন না। আপনাকে ভরসা করি। ওর টাকাপয়সা লাগলে একটু যোগাড় করে দেবেন।
রিয়া প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে টিচার্স কমন রুমে আসে, খাতায় সই করে এক হাজার টাকা নিয়ে যায়। স্কুলে কম আসে। যেদিন আসে, ক্লাসে গল্প করি। রিয়া বালুরঘাট, বর্ধমান, আলিপুরদুয়ারে খেলে এসেছে। এখন সে রায়গঞ্জ ডিএসএ ক্যাম্পে কোচিং নেয়। ইসলামপুরে জয়ন্ত স্যারের কাছে যায় না। রিয়াদের সমস্যা যেন শেষ হয় না। ডিএসএ স্টেডিয়ামে থাকার জায়গা দেয়, খাবার দেয় না। নিজেকে কিনে খেতে হয়।
সেদিন সোমবার ছিল, রিয়া ক্লাসে বলল – স্যার, বাবা আপনাকে ফোন করেছে?
– না? কেন বল তো?
– বাবা বাড়ি এসেছে। স্যার, আমি বেঙ্গল আন্ডার সিক্সটিন ট্রায়ালে চান্স পেয়েছি।
– বাহ, দারুণ তো! কোথায় হবে ট্রায়াল? কতদিনের?
– ইডেন গার্ডেনে। চারদিনের।
– ইডেন গার্ডেন? মানে যেখানে শচীন, সৌরভ, ধোনি, কপিলদেব, গাভস্কর… মানে আমাদের মাহাতো পাড়ার মেয়ে ইডেনে খেলবে? তোকে চান্স পেতেই হবে রিয়া। পেতেই হবে। দেখো, রিয়া একদিন ইন্ডিয়া খেলবে। উত্তেজনায় ক্লাসে বাকিদের বলি। ওরা সবাই হাততালি দেয়।
আরো পড়ুন বেলা ফুরোতে আর বসে রইলেন না শেন ওয়ার্ন
রিয়া ফুলের মত হেসে উঠে বলে – স্যার, আমার টাকা লাগত। বাবা ওই জন্য ফোন করেছিল।
– ঠিক আছে সমস্যা নেই। বাবাকে আসতে বলিস। টাকার সমস্যা হবে না। তুই শুধু খেলে যা মা।
কমনরুমে এসে খবরটা রাষ্ট্র করে দিলাম। ভাবতেই পারছিলাম না এই অজগ্রামের স্কুলের মেয়ে ইডেনে বল করবে। একদিন সে বাংলা দলে খেলবে, ভারতীয় দলের জার্সি পরবে। এমন তো হতেই পারে! রিয়ার ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে কমন রুমে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চলল। ঠিক হল, কলকাতা যাওয়ার জন্য এই মাসে রিয়াকে চার হাজার টাকা দেওয়া হবে।
তিনদিন পরে সকালে রিয়া ফোন করেছিল। আমি ধরিনি। ছেলে ফোন ধরে আমাকে বলল – তোমার শচীন তেন্ডুলকর ফোন করেছিল।
মাহাতো পাড়া ধামসা মাদল বাজিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছে। স্থানীয় নেতারা বক্তৃতা করেছে। রিয়া বাবার সঙ্গে আজ রাতে কলকাতা যাবে। বাড়ি ফেরার সময়ে দেখলাম মাহাতো পাড়ার সামনে জটলা। সবাই মিলে রিয়া, রিয়ার বাবাকে গাড়িতে তুলে দিচ্ছে।
তিনদিন পরেই রিয়া ফিরে এসেছে।
– কী রে, এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলি?
– একদিন মাত্র ট্রায়াল হয়েছে স্যার।
– তুই চান্স পেয়েছিস?
– মাত্র দুই ওভার বল করিয়েছে। বলেছে পরে জানাবে।
– কেউ চান্স পেয়েছে?
– না স্যার, কারো নাম বলেনি।
– ঠিক আছে, এই প্রথম সুযোগ পেয়েছিস। এবার আরো পরিশ্রম করতে হবে। সফল হতেই হবে।
রিয়া এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। মিড ডে মিলের ডিম আর পায় না। আগের মত খবরও নেওয়া হয় না। প্রতি মাসে টাকা নিয়ে যায়। বহুদিন খবর নেওয়া হয়নি। বেশ কিছুদিন ক্লাসেও আসে না। সপ্তাহ তিনেক পরে স্কুলে রিয়ার সঙ্গে দেখা। সে এখন কলকাতায় খান্নার কাছে বালুরঘাট, রায়ঞ্জের মেয়েদের সঙ্গে মেস ভাড়া করে থাকে। খান্নার কাছে কোচিং সেন্টারে কোচিং নেয়। রায়গঞ্জে থেকে কোনো সুযোগ নেই। ওর বাবাই টাকার ব্যবস্থা করেছে। ইচ্ছের কাছে অনেকসময় অভাব হার মানে। কলকাতায় থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দিতে বলেছিল, পারিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমার উদ্দীপনা কমে এসেছে। ভেবেছি এখন তো কলকাতায়, ঠিক কেউ না কেউ ভাববে। মাঝে মাঝে স্বপ্ন আসে, রিয়া এসে বলছে – স্যার, আমি ইন্ডিয়া টিমে চান্স পেয়েছি। স্কুলে সেদিন উৎসব। সাংবাদিক, ক্যামেরা, কত কত মানুষ। রিয়া সাংবাদিকদের বলছে ওর সাফল্যের পিছনে আমাদের অবদান। আমরা বলি আমাদের গ্রামের মেয়ে জাতীয় দলের প্লেয়ার।
প্রায় তিনমাস পরে দেখা। দেখলাম পরপর বেশ কয়েকদিন ক্লাসে। পড়াশোনায় ভাল না। কিন্তু বুনো ফুলের মত কৃষ্ণা মেয়েটি স্নিগ্ধ, সৎ। আজ যেন ওকে খুব রোগা, দুর্বল মনে হচ্ছে। ওর কি অসুখ হয়েছে?
জিজ্ঞেস করলাম – তুই কলকাতা থেকে চলে এসেছিস?
– না স্যার।
– তাহলে অনেক দিন যে এখানেই আছিস?
– কোচিংয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলাম। কোচ বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন আমি দুর্বল। পুষ্টির অভাব। ভাল ভাল খেতে বলেছেন। রোজ দুধ খেতে বলেছেন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম – কোচিং ক্যাম্পে টাকা নেয়?
– হ্যাঁ স্যার।
আমি সেদিন আর কমন রুমে খবরটা রাষ্ট্র করিনি।
বিকেলে বাড়ি ফেরার সময়ে রিয়াদের পাড়ার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ে মনে পড়ল – রিয়ার মা বলেছিল, দুধ? কোথায় পাব দুধ?
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








