HAMLET: Where wilt thou lead me? Speak! I’ll go no further.
GHOST: Mark me.
HAMLET: I will.

(HAMLET ACT 1, SCENE 5)

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

 

বুফে ডিনার। বউ মেয়ে অলরেডি যা নেওয়ার নিয়ে একটা টেবিল দখল করে বসে পড়েছে। আমি আইটেমের নামগুলো পড়তে পড়তে ওদের খাওয়া প্রায় শেষ।

রাইস…কেরালা রাইস…সম্বর গোছের তিনরকম আইটেম…ভিন্দি ভিন্দালু…মীন মূলকিট্টাথু…নীলগিরি চিকেন…ইত্যাদি ইত্যাদি…

নেট সার্চ করে খাবার প্লেটে তুলব, এই ভাবতে ভাবতে ওই লোকটার দিকে চোখ পড়ল…দূরের টেবিলে…প্লেট হাতে…ওই লোকটা…

আমার হাতের প্লেট কেঁপে গেল, আমি স্থবিরের মত কেরালা রাইসের সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম।

‘এক্সকিউজ মি’ কেউ একজন বলল।

‘ম্যান, আর ইউ ওকে?’ আরেকজন বলল।

বউ তখন উঠে এসে আমার প্লেট কেড়ে তাতে নরমাল রাইস, এক বাটি সম্বর আর নীলগিরি চিকেন নিয়ে আড়চোখে তাকিয়ে বলল

‘আর সিন ক্রিয়েট না করে দয়া করে টেবিলে এসে বসো।’

আমতা আমতা করে বললাম

‘ওই লোকটা…’

‘কে?’

‘সাদা পাঞ্জাবি…শাল গায়ে…’

বউ প্রায় জোর করে আমায় বসাল। আমি ওই লোকটার থেকে চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। গ্লাসের জলে লেবু টিপছে খাওয়া শেষ হওয়ার পর…ঠিক যেন…ঠিক যেন…

‘মেয়ে বলেছে এর পরে বাবা গেলে ও আর যাবে না কোথাও।’

‘সে কি? কেন?’ সম্বিত ফিরল আমার।

‘কেন মেয়েকেই জিজ্ঞেস করো। মেয়ে বড় হয়েছে এখন।’

‘মা…’ আমি কিছু বলার আগে মেয়ে উঠে গেল। খাওয়া শেষ। শেষ না হলেও হয়ত উঠে যেত।

‘আমি কি করলাম?’ অসহায়ের মত বললাম।

জিঘাংসা ভরা দৃষ্টি নিয়ে বউ আমার দিকে তাকাল।

মেয়ে হাত ধুয়ে ফিরে এসেছে

‘চাবি দাও। আমার ঘুম পাচ্ছে।’

‘আমারও’, বউ উঠে গেল।

‘ভ্রম কাটলে ফিরে এসো।’

দুজনে গট গট করে ডাইনিং হল ছাড়ল।

কী থেকে কী হল ভাবতে ভাবতে আমি পিছন ফিরলাম…লোকটা? সেই লোকটা?

নেই। এখন আর দেখছি না তাঁকে। করিডোরে গেলাম…নেই। লিফটের সামনে নেই। রিসেপশনের সামনে নেই।

কী করে খুঁজব তাঁকে। নাম জানি না…কিচ্ছু জানি না।

বোকার মত এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ালাম কিছুক্ষণ। আবার ডাইনিং হলে এলাম। সবাই চলে গেছে। আমার প্লেটটা শুধু পড়ে আছে। একটু ভাত আর একটু নীলগিরি চিকেন এখনো খেয়ে ওঠা হয়নি।

সব হোটেলকর্মী আমার দিকে তাকিয়ে। আমার জন্য সবার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

ইশারায় বললাম প্লেট তুলে নিতে। একজন মাথা নেড়ে এগিয়ে এল।

‘ব্রাদার?’

‘স্যার…’

‘হু ওয়াজ দ্য জেন্টলম্যান ইন হোয়াইট শল?’

‘পার্ডন স্যার?’

‘এল্ডারলি ম্যান…উইথ স্পেকস…’

ছেলেটি মালয়ালামে অন্য ছেলেদের কিছু একটা বলল। তারাও উত্তর দিল। তারপর সে আমায় জানাল

‘ফ্রম রুম নম্বর ওয়ান জিরো সেভেন। হি কেম ইন এ শল।’

‘ও কে।’

‘এনিথিং বদারিং ইউ স্যার?’

‘ও, নো। নথিং।’

বলব না বলব না করেও বলে ফেললাম ‘ফ্রম ডিসটেন্স, দ্যাট ম্যান রিসেম্বলস মাই ডেড ফাদার!’

ছেলেগুলো একে অপরের দিকে তাকাল।

সত্যিই লোকটাকে দূর থেকে আমার বাবার মত দেখতে।

 

‘এগুলোকে এক যুগে বলা হত দুঃখবিলাস’ বউ বলল। তখন মধ্যরাত। মেয়ে গভীর ঘুমে। বউও ঠিক ঘুমিয়ে পড়বে জানি। আমি আরেক বিনিদ্র রজনীর অপেক্ষায়।

‘এখন এর অনেক গালভরা নাম আছে। মাইল্ড টু মডারেট ডিপ্রেশন, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার…আরও কত কী…আমি অবশ্য জানি এর কারণ।’

‘কী কারণ?’ জিজ্ঞেস করলাম।

‘কী কারণ না কে কারণ।’

‘কে কারণ?’

‘কারণ এক প্রাগৈতিহাসিক রাশিয়ান ভদ্রলোক! ফিওডোর মিখাইলোভিচ ডস্টোয়েভস্কি!’

‘ধ্যাৎ।’

‘যবে থেকে ডস্টোয়েভস্কি পড়ছ, এইসব হাবিজাবি চিন্তা মাথায় ঘুরছে তোমার। মৃত মানুষের ফিরে আসা…এক মানুষের দ্বৈত চরিত্র…মোটিভহীন খুন…রাস্তাঘাটে যখন তখন ডেলিরিয়াম…আর কী বলব? ভ্লাদিমির নবোকোভ ডস্টোয়েভস্কিকে নিয়ে কী বলেছিলেন জানো?’

‘তুমি ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিচ্ছ না। আমি সত্যি দেখলাম…’

‘আচ্ছা…তোমার বাবাকে আমি চিনতাম না? কে দেখত ওঁকে শেষ বয়সে? কে বসে থাকত রাত জেগে? কে নিয়ে যেত ডাক্তারের কাছে?’

‘মানছি…কিন্তু…’

‘বাবা কারোর মারা যায় না? আমার যায়নি? তখন আমার বয়স কত ছিল? কে ছিল আমার আর মায়ের পাশে? ওই ভদ্রলোক আর তোমার বাবার কোনো মিল নেই। আমি দেখেছি। সব বুড়ো মানুষকেই খানিকটা একরকম লাগে। ওইটুকুই।’

কত রাতে ঘুমিয়েছি কে জানে? স্বপ্ন দেখেছি…মনে হয় ডস্টোয়েভস্কির মতোই কাউকে দেখলাম…কাঁচের জানালার ওপার থেকে আমার দিকে ঠায় তাকিয়ে আছে…বউকে বললে বলবে গ্র্যাজুয়াল মেন্টাল ডিসইন্টিগ্রেশন…ধীরে ধীরে মনোবিকার…আমার…

 

ডস্টোয়েভস্কির চরিত্রদের মতোই ঘুম ভাঙল – উইথ হেডেক!

বউকে বললাম ‘সাইট সিইংয়ে তোমরা যাও। আমার শরীর ভাল লাগছে না।’

‘মুন্নারে থাকবে দু রাত। এক রাত গেছে। আজকের দিনেও যদি ঘরে থাকো, তবে এলে কেন এতগুলো টাকা খরচ করে?’

‘নিয়তি টেনে আনল বুঝলে? কর্ম…’ হট করে মেজাজটা বিগড়ে গেল।

‘যেও না, এমনিতেই মেয়ে…’

‘এই কথাটা আর আমার সামনে বলবে না।’

বেরনোর আগে মেয়ে এসে বলল ‘বাবা, যাবে না?’

চোখ না খুলেই বললাম ‘আই ডোন্ট বিলিভ ইন সাইট সিইং।’

একটু পরে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পেলাম। তার একটু পরে আমি বিছানা ছাড়লাম।

বারান্দায় মেঘ। সবুজ রঙের গালিচার উপর সত্যিই গাভির মত মেঘ ভেসে যাচ্ছে। যাক। জাহান্নামে যাক।

কফি চাই। স্ট্রং কফি। ফোন করলে দেবে। কিন্তু আমায় তো ডাইনিং হলে যেতেই হবে। তাঁকে খুঁজতে হবে।

কে তিনি? বাবার মত দেখতে? নাকি বাবাই?

ধুস। কী ভাবছি আমি!

কফি….কফি…

 

দুকাপ কফি আর দুটো ইডলি নিয়ে বসেছিলাম। আগের দিনের ছেলেটা এসে কানে কানে বলল ‘স্যার, হি হ্যাস টেকেন ব্রেকফাস্ট ইন হিস রুম।’

‘হু?’

‘দ্যাট ম্যান…ইয়োর ফাদার…’

‘ও…ব্রাদার, আই অ্যাম সো গ্রেটফুল দ্যাট ইউ হ্যাভ…’

‘ডোন্ট মেনশন স্যার।’

খোঁজ পেলাম। ভদ্রলোক কলকাতার। ছেলের ফ্যামিলির সাথে এসেছেন। নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলেন। আজ বিকেলে চলে যাবেন।

‘ স্যার, হি হ্যাস বুকড এ ক্যাব ফর সাইট সিইং। ডু ইউ ওয়ান্ট টু…’

‘ইয়েস, আই ওয়ান্ট টু ফলো। আই মিন আই ওয়ান্ট টু সি দ্য সাইটস, টু।’

‘মাই ব্রাদার থানজির হ্যাস এ ক্যাব। ভেরি চিপ।’

ছেলেটা কেন এত উৎসাহী ছিল বুঝলাম। নাকি বুঝলাম না?

আধ ঘন্টা পরে ওই লোকটার গাড়ি ছাড়ল। পিছনে আরেকটা গাড়িতে আমি আর থানজির।

 

কেউ কারোর পিছু নিয়েছে – এই গল্প মুন্নারে লেখা যায় না। মানে মুন্নারের পটভূমিতে থ্রিলার হয় না। ও গল্পে মানুষ লাগে। এখানে সবুজ মানুষকে গ্রাস করে নেয়। মানুষ আর মানুষ থাকে না।

সবুজ আর সবুজ। আকাশের রং ছাই। পৃথিবীর রং সবুজ। একটা রঙের পরতে পরতে কত বৈচিত্র্য…কত রহস্য…কত মায়া।

সবুজ মাটি…সবুজ পাহাড়।

‘থানজির, উইল ইউ মাইন্ড ইফ আই প্লে এ টেগোর’স সং ইন মাই মোবাইল?’

‘ইউ ক্যান স্যার।’

‘হার্ড অ্যাবাউট টেগোর?’

‘লিটল বিট স্যার।’

ওই গানটা চালালাম। বাবার প্রিয় গান। জর্জ বিশ্বাসের গলায়

সে দিন এমনি মেঘের ঘটা রেবানদীর তীরে,
এমনি বারি ঝরেছিল শ্যামলশৈলশিরে।
মালবিকা অনিমিখে   চেয়ে ছিল পথের দিকে,
সেই চাহনি এল ভেসে কালো মেঘের ছায়ার সনে॥

‘এ ভিউ পয়েন্ট স্যার।’

ভদ্রলোক নেমেছেন। আমিও নামলাম।

দূর থেকে তাঁকে দেখলাম। সেই হাঁটা। সেই সোজা হয়ে হাঁটা। সেই একটা হাত পকেটে রাখা। মাঝে মাঝে কাশির জন্য থেমে যাওয়া। পকেট থেকে বের হওয়া রুমাল।

বাবা! এতদিন পরে! এই বিদেশে! এই অচেনা লোকের মাঝে!

তুমিও তো আমায় দেখেছিলে কাল? একবারের জন্যও চেনা মনে হয়নি আমায়?

‘রেন স্যার। কামিং ডাউন হেভি’, থানজির চিৎকার করল পিছন থেকে।

আমি হাত দেখলাম।

না…বাবার ছেলে ছাতা খুলে ধরেছে মাথায়।

গাড়িতে ফিরলাম।

 

‘কিপ ফলোয়িং দ্য কার থানজির।’

‘ডুইং স্যার।’

মাঝে আরও ভিউ পয়েন্ট। হাতির মাথার মত আনামুদি পাহাড়। মেঘ মুকুট হয়ে আছে মাথায়। এই মেঘে চড়ে জীবনানন্দের মত মৃতেরা ফিরে ফিরে আসে এখানে। এই আবছা আলোর পাহাড়ে কিচ্ছু শেষ হয়ে যায় না। চিরকালের যাত্রা। অনন্ত যাত্রা। জল-বাষ্প-মেঘ-বৃষ্টি-জলের অনন্ত চক্র।

আমি গাড়িতে উঠছি নামছি। লোকটাও তাই। বাবার একটা ক্যামেরা ছিল। বড় ভাল ক্যামেরা। সূর্যাস্তের ছবি তুলত। আজ আকাশে সূর্য নেই। তাই অস্ত নেই।

রাস্তায় ডাব খেল লোকটা। বাবা হলেও ঠিক তাই করত। ঠিক যখন তাঁর মুখটা দেখতে যাব, অমনি এক খণ্ড মেঘ ভেসে এল আমার আর তাঁর মাঝে।

মেঘ যখন চলে গেল…

ডাব শেষ।

ওঁকে আবার নিয়ে গেল সোনার তরী।

থানজির যা ভাবে ভাবুক (জানেই তো পাগল), এমন পরিস্থিতিতে আমার প্রিয় কবিতার লাইনগুলো আওড়াই জোরে জোরে

পুবের সূর্য পশ্চিমে দেয় পাড়ি,

দুপুরবেলার ঘুমের থেকে জেগে উঠছে বাড়ি।

লাঠির ডগায় পুঁটলি বাঁধা, অনেকটা পথ ঘুরে

লোকটা যাচ্ছে দূরের থেকে দূরে…

 

‘হাউ মেনি ভিউ পয়েন্টস লেফট ব্রাদার?’

‘ওয়ান লেক স্যার।’

আরেকটা জায়গা বাকি।

একটা জলাশয়। জল। তারপর আবার বাবাকে হারাব আমি। সেই জলে। যে জলে একদিন ভাসিয়ে এসেছিলাম তাঁকে।

গাছেরা মাথা দোলাচ্ছে হাওয়ায়। সার্থক জন্ম উদ্ভিদ জন্ম। সারা জীবন শুধু অপেক্ষা অপেক্ষা। একই আকাশের দিকে তাকিয়ে গোটা জন্মের প্রতীক্ষা। বৃষ্টি নামল আবার।

ট্র্যাফিক জ্যাম। অঝোরে বৃষ্টি। একটা টিনের চালের বাড়ির সামনে আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে। ভেসে যাচ্ছে চাল। আর চালের গা বেয়ে পড়ছে বারিধারা। যেন নদীর জন্ম। নদীর পাহাড় থেকে নেমে আসা। স্বর্গ থেকে আদমের পতন। বৃষ্টি থামছে।

‘নিয়ারিং দ্য লেক স্যার…’

 

একটা লেকে থামলাম। পাহাড়ঘেরা জলাশয়ে।

‘এলিফ্যান্টস কাম হিয়ার টু ড্রিংক।’

চারপাশে পাহাড়। শ্যামল শৈলশির। নীল জলে ধূসর আকাশ আর সবুজ পাহাড়ের ছায়া।

সেই জলের দিকে ঝুঁকে কী যেন দেখছে লোকটা। একটা দূরবীন যদি থাকত…আমি দেখতাম মানুষটাকে।

বাবা জল ভালবাসত। পাহাড়ের থেকে জল বেশি ভালবাসত।

‘স্যার… ইফ ইউ গো বিয়ন্ড দিস হিল’ থানজির একটা পাহাড়ের দিকে ইশারা করল ‘ইউ উইল রিচ কোদাইকানাল ইন নো টাইম।’

লোকটা সরে আসছে জল থেকে। আমায় দেখতে হবে মুখটা। না দেখলে সারাজীবন ফিরে ফিরে আসবে অনুশোচনা। দেখতে হবে…দেখতেই হবে।

‘অনলি টুয়েলভ কিলোমিটারস স্যার।’

আমার দিকে আসছে লোকটা! গল্প করতে করতে। এই আমার বাবাকে দেখার শেষ সুযোগ। আবার পাওয়ার আবার হারানোর শেষ মুহূর্ত। পার্থিব অপার্থিব এই সীমানা অতিক্রমের শেষ অধ্যায়।

‘বাট দ্য রোড ইস ক্লোজড। ইট ইজ থ্রু ডেন্স ফরেস্ট। দে সে ওনলি গডস অ্যান্ড স্পিরিটস ক্যান ট্রাভেল দিস পাথ।’

লোকটা চলে গেল। আমায় পেরিয়ে চলে গেল। ঠিক যেভাবে একটা দূরপাল্লার ট্রেন একটা অনামি স্টেশনকে পেরিয়ে যায়…তাও মুখটা দেখলাম। বাবা নয়।

‘পুথম…উই কল ইন মালয়ালম। এ সুপার ন্যাচারাল বিয়িং…মুভস ইন দি ফরেস্ট…’

আবার গাড়িতে উঠলাম।

‘নরমালি ইট টেকস ফাইভ আওয়ারস টু রিচ কোদাইকানাল’, থানজির হাসল।

 

লোকটা হারিয়ে গেল।

বউ মেয়েকে ফিরে পেলাম পথে। খেলাম এক জায়গায়। খিদেও পেয়েছিল। মাথাটাও হালকা হয়েছে এখন।

‘গেছে?’

‘কে?’

‘হ্যালুসিনেশন বা ডিলিউশন। যা-ই বলো।’

‘যায় কি?’

‘তোমার মুখ চোখ বেটার।’

‘লোকটা বাবা নয়। কাছ থেকে দেখলাম।’

‘যাক…’

‘হেসো না। যার মাথায় এসব ঘোরে সে বোঝে কেমন লাগে।’

‘তাকে ডাক্তার দেখাতে হয়। একজন লোক এই ২০২৫-এর পৃথিবীতে কী করে একটা আত্মা মহাত্মা প্রেতাত্মা হারিয়ে যাওয়া ফিরে আসার প্যারালাল ইউনিভার্স বহন করে বেঁচে থাকতে পারে?’

পারে পারে…সব পারে…সব আছে…প্যারালাল ইউনিভার্স…সেখানে সব সত্যি।

নীলগিরি চিকেন যেমন সত্যি, ওই লোকটাও সত্যি। নাবোকভ সত্যি, ডস্টোয়েভস্কি সত্যি। পাঁচ ঘন্টার ন্যাশনাল হাইওয়ে সত্যি, ১২ কিলোমিটারের বনের প্রেত যক্ষ দেবতা দানবের পথও সত্যি।

ফেরার পথে আবার গানটা শুনলাম

বহু যুগের ও পার হতে আষাঢ় এল আমার মনে,
কোন্‌ সে কবির ছন্দ বাজে ঝরো ঝরো বরিষনে॥
যে মিলনের মালাগুলি   ধুলায় মিশে হল ধূলি
গন্ধ তারি ভেসে আসে আজি সজল সমীরণে॥

আরো পড়ুন কাহিনিকার 

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

1 মন্তব্য

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.