১৯৮১ সালে প্রকাশিত মিডনাইট’স চিলড্রেন উপন্যাস সলমান রুশদিকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। সেটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস। ওই উপন্যাসের জন্যই তিনি বুকার পুরস্কার পান। পরে উপন্যাসটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়। সারা পৃথিবীর সাহিত্যপ্রেমী ও সাহিত্য সমালোচকরা বুঝতে পারেন, ইংরেজি সাহিত্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের আবির্ভাব হতে চলেছে। এর দুবছর পরে, ১৯৮৩ সালে, প্রকাশিত হয় তাঁর তৃতীয় গ্রন্থ শেম। এটিও প্রশংসিত হয়। বইয়ের বিক্রিও হয় বেশ ভাল। এর পাঁচবছর পরে, ১৯৮৮ সালে, প্রকাশিত হয় তাঁর চতুর্থ উপন্যাস – দ্য স্যাটানিক ভার্সেস, যা এই আলোচনার মূল বিষয়।
প্রায় পাঁচ বছর পরিশ্রম করে, অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই উপন্যাসটি রচনা করেন রুশদি। কী আছে এর মধ্যে, যা হয়ে দাঁড়াল অনেক মানুষের মৃত্যর কারণ, যা লেখকের জীবনকে করে তুলল দুর্বিষহ, হয়ে উঠল দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের অন্তরায়?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে বরং প্রথমে জেনে নেওয়া যাক স্যাটানিক ভার্সেস আসলে কী, যা থেকে উপন্যাসটির নামকরণ? ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মতে কোরান শরীফ হচ্ছে সর্বশক্তিমান আল্লার বাণী। এই বাণী ফেরেস্তা জিব্রাইলের মাধ্যমে প্রথমে নবী মহম্মদের কাছে প্রেরিত এবং পরে কালক্রমে লিপিবদ্ধ হয়েছে কোরানের বিভিন্ন অধ্যায়ে ও আয়াতে। এ জিনিস একদিনে, একবারে হয়নি – হয়েছে বহুকাল ধরে।
এরই মাঝে একবার শয়তান (স্যাটান) জিব্রাইল সেজে নবী মহম্মদকে বিপথে পরিচালনার চেষ্টা করে এবং কয়েকটি আয়াত যোগ করে দেয়, যেখানে বলা হয়, আল্লা ছাড়াও যে তিন দেবী মূর্তির পূজা আগে মক্কা মদিনা অঞ্চলে করা হত – যথা, লাৎ, উজ্জা, ও মানৎ – তাদের আরাধনাও চলবে। এই আয়াতগুলিই শয়তানের আয়াত বা স্যাটানিক ভার্সেস নামে পরিচিত (অধ্যায় ৫৩; আয়াত ১৯, ২০)। পরবর্তীকালে নবী মহম্মদ শয়তানের চাল ধরে ফেলেন এবং সেই মত আয়াতগুলি সংশোধন করেন। এখন কোরানে এই সংশোধিত আয়াতগুলিই আছে। অনেকে আবার মনে করেন, এমন ঘটনা আসলে কখনো ঘটেনি – স্যাটানিক ভার্সেসের পুরো কাহিনিই কাল্পনিক।
সে যা-ই হোক, কোরানের এই বিতর্কিত অংশ থেকেই রুশদির বিখ্যাত (বা কুখ্যাত) উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেসের নামকরণ। এখন অনেকের মনে হতে পারে, এই উপন্যাসটি ইসলাম ধর্ম বিষয়ক। তা কিন্তু নয়। এখানে প্রত্যক্ষভাবে ইসলাম এসেছে খুবই কম। পরোক্ষভাবে যা-ও বা এসেছে, তা ১৫-২০ শতাংশের বেশি হবে না। তাহলে এত গোল কিসের?
এই ব্যাপারটি বুঝতে হলে সাহিত্যের দুটি ধারা বা বিষয় একটু ঝালিয়ে নিতে হবে। একটি হচ্ছে উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য, যেখানে প্রায়শই আলোচনা করা হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশ সহ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্যান্য উপনিবেশের মানুষের কাহিনি, যারা উন্নততর জীবনের আশায় ইংল্যান্ডে পাড়ি দিয়েছে। অন্য ধারাটি হল জাদু বাস্তবতা। এই দ্বিতীয় ধারার উপন্যাসে অনেক ঘটনা ঘটে বা এমন সব চরিত্র হাজির হয়, যেগুলি বাস্তবে দেখা যায় না। এই সব নাটকীয় পরাবাস্তব বা জাদুবাস্তবের মধ্যে দিয়ে যে গল্পটি বলা হয় তা কিন্তু বাস্তবের গল্প – মানুষের জীবন, ভালবাসা, সংগ্রাম, সমাজ, দেশ ও রাজনীতির গল্প।
সহজভাবে বললে, দ্য স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস এই দুই ধারার মিশ্রণে তৈরি। এই উপন্যাসের দুই মূল চরিত্র – সালাউদ্দিন চামচাওয়ালা আর গ্যাব্রিয়েল ফারিস্তা – ভারতীয়, যারা ইংল্যান্ডে পাড়ি দিয়েছে। উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে আছে, কীভাবে ইংল্যান্ডে ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ বর্ণবিদ্বেষের শিকার হচ্ছে, আছে তাদের জীবনযুদ্ধ। আছে অনেক জাদুবাস্তবতার অনেক উপাদানও। যেমন ইংল্যান্ডে যাবার পথে প্লেন দুর্ঘটনা ঘটে। সালাউদ্দিন আর গ্যাব্রিয়েল অদ্ভুতভাবে বেঁচে যায়। তবে তাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন (মিউটেশন) ঘটে। গ্যাব্রিয়েল নিজেকে ফরিশতা (দেবদূত) আর সালাউদ্দিন নিজেকে শয়তান বা দানব ভাবতে শুরু করে।
এই উপন্যাসের অনেক কর্মকাণ্ডই ঘটে স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে। স্বপ্নে অনেককিছু খুব আবছা হয়ে যায়। তাই অনেক সময় মানুষের নাম, জায়গার নাম পরিবর্তন হয়ে যায়। মক্কা হয়ে যায় জাহেলিয়া। মহম্মদ হয়ে যায় মাহুন্দ। এই মাহুন্দ নামে, মহম্মদকে ইউরোপের ক্রুসেডাররা ডাকত। এর অর্থ ভণ্ড বা মিথ্যুক নবী। এখান থেকেই বিতর্কের শুরু, তবে শেষ নয়। এই উপন্যাসে আছে সালমান দ্য পার্শিয়ান বলে একটি কাল্পনিক চরিত্র, যে সেই সময়ের বিচারে খুব উচ্চশিক্ষিত ও বুদ্ধিমান। তার অন্যতম কাজ হল জিব্রাইলের দ্বারা প্রেরিত উপন্যাসে নবী মাহুন্দের বাণী লিপিবদ্ধ করা। এটি করার সময়ে সলমান দ্য পার্শিয়ান লক্ষ করে, মাহুন্দ নিজের ব্যবসার স্বার্থে জিব্রাইলের অনেক বাণী পাল্টে দিচ্ছেন।
তবে দ্য স্যাটানিক ভার্সের উপন্যাসের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়টি নবী মহম্মদের সহধর্মিনীদের সম্বন্ধে। এই উপন্যাসের একটি চরিত্র স্বপ্নে দেখে জাহিলিয়া শহরের একটি বেশ্যালয়, যার নাম হিজাব। এই বেশ্যালয়ে আছেন বারোজন মহিলা, যাঁদের নাম, চরিত্র সব কিছুই নবী মহম্মদের বারোজন সহধর্মিনীর মত। এছাড়া আরও অনেক ছোটখাটো জায়গা আছে, যা বিতর্কের উদ্রেক করতে পারে।
আত্মপক্ষ সমর্থনে রুশদি মূলত যা বলেছেন, তা হল, এই উপন্যাসের এই তথাকথিত বিতর্কিত ব্যাপারগুলি ঘটছে স্বপ্নের মধ্যে এবং কাল্পনিক চরিত্রের মধ্যে। ইসলাম ধর্মের মূল ঘটনার সাথে এগুলির কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। যেমন, তিনি বলেননি নবী মহম্মদের স্ত্রীরা বারবনিতা। বারোজন বারবনিতা নবীর স্ত্রীদের আচার আচরণ ধারণ করেছে মাত্র।
পৃথিবীর অধিকাংশ খ্যাতিমান লেখক ও বুদ্ধিজীবী বাকস্বাধীনতা এবং চিন্তার স্বাধীনতার কথা মাথায় রেখে রুশদিকে সমর্থন করেন। যাঁরা বিরোধিতা করেছেন, তাঁদের অন্যতম খুশবন্ত সিং। বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, যেভাবে নবী মহম্মদের স্ত্রীদের চিত্রিত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয়। মূলত তাঁর উপদেশেই পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া সিদ্ধান্ত নেয়, বইটির কোন ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ করা হবে না।
সেইসময় রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, লোকসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসছিল। খুব সম্ভবত মুসলমানদের ভোটের কথা মাথায় রেখে তিনি উপন্যাসটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ভারতই প্রথম দেশ যেখানে উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করা হয়। ভারতের পরে আরো অনেকগুলি দেশ বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। প্রায় সেই সমস্ত দেশেরই রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম।
একাধিক দেশ বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও রুশদিকে প্রাণে মারার কথা কেউ বলেনি। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ১৯৮৯ সালে, উপন্যাস প্রকাশের একবছরের মাথায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম আয়াতুল্লা খোমেইনি রুশদিকে হত্যা করার ফতোয়া জারি করেন। রুশদিকে হত্যা করলে কয়েক লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করা হয়। তার সঙ্গে দেখানো হয় জন্নতের লোভ।
কেন খোমেইনি এমন ফতোয়া জারি করলেন? যদি ধরে নেওয়াও হয়, এই উপন্যাসটির মূল উদ্দেশ্য ইসলামকে কটাক্ষ করা, তাহলেও তো এটি প্রথম উপন্যাস বা শিল্পকর্ম নয় যেখানে এমন করা হয়েছে। অন্য দেশের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন খুনের ফতোয়া নজিরবিহীন। এর পিছনেও আছে রাজনীতি বা কূটনীতি। কী সেটি?
১৯৮৯ সাল। ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের প্রায় দশবছর হয়ে গেছে। কড়া ইসলামিক নিয়মকানুনে দেশ চালাচ্ছেন ইমাম খোমেইনি। ইরানের মানুষ যে বিপুল আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শাহের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং খোমেইনিকে নেতা হিসাবে মাথায় তুলে নিয়েছিলেন, তার প্রায় কিছুই পূরণ হয়নি। উপরন্তু ইরাকের সঙ্গে প্রায় পাঁচবছর ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। একদা ধর্মীয় গোঁড়ামিমুক্ত ইরানে একটা অংশ সবসময়েই ছিল খোমেইনি ও ইসলামিক শাসনের বিরুদ্ধে। এরা ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যেও অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। শাসকশ্রেণির মধ্যে যে চোরা লড়াই থাকে, সেখানেও অনেকে ওঁত পেতে ছিল, কিভাবে খোমেইনিকে দুর্বল করা যায়।
রুশদির উপন্যাস খোমেইনিকে এনে দিল এক সুবর্ণ সুযোগ। ফতোয়া জারি করে তিনি অনেকের কাছে হয়ে উঠলেন ইসলামের রক্ষক। পাশ্চাত্যের কোনো দেশ যেহেতু এই উপন্যাসটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি, তাই খোমেইনি নিজের সমর্থকদের কাছে নিজেকে পাশ্চাত্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মেসায়া হিসাবে তুলে ধরলেন। তাছাড়া ইসলামী দুনিয়ায় যে শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব আছে, সেখানেও তিনি বাজিমাত করার চেষ্টা করলেন।
অন্যদিকে খোমেইনির এই ফতোয়ার কারণে রুশদিকে চলে যেতে হল স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কড়া নিরাপত্তা বলয়ে। বেঁচে থাকতে হচ্ছে মৃত্যুভয়কে সঙ্গী করে। ইংরেজ সরকারকে জলের মত টাকা খরচ করতে হল ভারতে জন্ম নেওয়া একজন ব্রিটিশ নাগরিকের জীবন সুরক্ষিত করতে। এক অর্থে এটিই এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। কেন ট্র্যাজেডি, তা আলোচনা করা যাক।
আরো পড়ুন মাইকেল মধুসূদন: আগ্নেয় ইশতেহার
এই উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে আছে সেই সময়ের ইংল্যান্ডের সমাজের বর্ণবিদ্বেষ, ভেদাভেদ ইত্যাদির তীব্র নিন্দা। ইংরেজ পুলিশকে তুলোধোনা করা হয়েছে। ছেড়ে দেওয়া হয়নি সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকেও। তাঁকে ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে মিসেস টর্চার। পক্ষ নেওয়া হয়েছে ভাগ্যান্বেষী সেই অভিবাসীদের, যাদের বেশিরভাগই মুসলমান। অর্থাৎ যাদের হয়ে রুশদি কলম ধরেছেন, তাদেরই এক অংশ তাঁকে প্রাণে মারতে উদ্যত। যাদের তিনি বিদ্রুপে ক্ষতবিক্ষত করেছেন, তারা তাঁর প্রাণ বাঁচানোর ব্যবস্থা করেছে।
কোন বিষয় কীভাবে কার সংবেদনশীলতায় আঘাত করবে তা নির্ধারণ করা কষ্টসাধ্য। একই সাথে বাক, চিন্তা ও অভিব্যক্তির যে স্বাধীনতা, তার সীমানা নির্ধারণ করাও প্রায় অসম্ভব। তবে একটি কথা বলাই যায়, যে উপন্যাসটির ভাষা, গল্প বলার ধরন এত জটিল, এই উপন্যাস পড়ে তার অর্থ উদ্ধার করে নিজের সংবেদনশীলতায় আঘাত লাগতে দিতে হলে তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। ইংরেজি ভাষায় অনন্য দক্ষতা প্রয়োজন। পৃথিবীর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে কতজন এত ভাল ইংরেজি জানতেন সেই সময়? যাঁরা জানতেন তাঁদের মধ্যে কতজন সাহিত্যপ্রেমী? সেই সাহিতপ্রেমীদের মধ্যে কতজন রুশদির লেখা পড়তেন? তাঁদের মধ্যে যতজনের খারাপ লেগেছিল, সেই সংখ্যাটা কত? আমার ধারণা শতাংশের বিচারে নগণ্য।
শুরুতে কিছু মানুষের প্রচার, কিছু দেশে বইটিকে নিষিদ্ধ করা এবং শেষে ইমাম খোমেইনির ফতোয়া – সব মিলিয়ে উপন্যাসটি হয়ে উঠেছিল বহু মানুষের আলোচনার বিষয়। বিক্রি বেড়ে গিয়েছিল বহুগুণ। বিতর্কিত জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ ওই উপন্যাসকে দীর্ঘজীবী করেছে। ২০২২ সালে রুশদিকে খুনের চেষ্টা উপন্যাসটিকে আরও অক্সিজেন জুগিয়েছে। এই উপন্যাসের জন্য যদি রুশদির প্রাণনাশ ঘটে, কে বলতে পারে, হয়ত বা অমর হয়ে যাবে উপন্যাসটি। এক অর্থে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








