সঙ্গীত বিষয়টা আদপে শিক্ষানির্ভর। তাই সমস্ত গানের ক্ষেত্রেই শিক্ষা ও শিক্ষকের বড় ভূমিকা থাকে। রবীন্দ্রনাথের গানও তার ব্যতিক্রম নয়। এতদিনকার রবীন্দ্রগানের প্রশিক্ষণের ব্যাপ্ত ভুবনে এমন অনেক দিকপাল শিক্ষক আছেন যাঁরা নিজে গায়ক বা গায়িকা হিসেবে তেমন বড় শিল্পী না হলেও শিক্ষক হিসাবে অনেক কৃতী শিল্পীকে প্রকাশ্যে এনে আমাদের কৃতজ্ঞ করেছেন। যদিও একথা বলে রাখা দরকার যে অন্তত রবীন্দ্রনাথের গানের ক্ষেত্রে গায়ক বা গায়িকাকে ‘শিল্পী’ আখ্যায় আদপে মেনে নেওয়া মুস্কিল, কারণ যিনি কোনো শিল্প সৃষ্টি করেন শিল্পী কথাটা তাঁকেই মানায়। রবীন্দ্রনাথের গান যাঁরা গাইবেন তাঁরা পরিবেশক। আলাদা করে তাঁদের সৃজন করার মত কোনো মৃত্তিকাখণ্ড রবীন্দ্রনাথের গানে নেই। রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই শৈলজারঞ্জন মজুমদার, শান্তিদেব ঘোষ, মায়া সেন, সুভাষ চৌধুরী, সনজিদা খাতুনরা প্রশিক্ষক হিসাবে খ্যাত। এঁদের মধ্যে শান্তিদেব ঘোষ ছাড়া বাকিদের ব্যক্তিগত গায়ন আমার যে খুব একটা ভাল লাগে তা নয়। আবার পঙ্কজকুমার মল্লিক, দেবব্রত বিশ্বাস, সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবিনয় রায় প্রমুখ একইসঙ্গে শিক্ষক ও শিল্পী হিসাবে সর্বমান্য। এঁরা নিজেদের গায়নে তৈরি করে দিয়েছেন একটা স্বতন্ত্র স্বর, আর একইসঙ্গে পরের প্রজন্মকেও হাতে ধরে শিখিয়ে দিয়েছেন রবীন্দ্রগানের কুহককে কীভাবে প্রকাশ করতে হয়। রবীন্দ্রনাথ বরাবরই চেয়েছিলেন তাঁর গান তাঁর ভাবনা মতই গাওয়া হোক। কিন্তু তার মধ্যেও বলতে ভোলেননি ‘গায়ক মানুষটা আসলে মাঝারি মানের’। তাই তাকে ঠিক মত গড়েপিটে নিতে না পারলে গীতিকারের সৃজনের মর্মবস্তু শেষ পর্যন্ত অপাত্রে দান হয়ে যেতে পারে। তাই তাঁর গানে গায়কের ‘স্বাধীনতা’-র চেয়েও বড় কথা তাঁর প্রশিক্ষণ এবং গানকে আত্মস্থ করে তার পূর্ণ ব্যঞ্জনা শ্রোতার মধ্যে সঞ্চার করে দেওয়া। এই নিয়ে খোদ কবির সঙ্গে বহু গুণী মানুষের বিবাদ-বিসম্বাদ হয়েছে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তাঁর ঘোষিত পথ থেকে সরেননি।
কিন্তু গুরুনির্ভর শাস্ত্রীয় সঙ্গীত একরকম, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের একটা ঘরানা বা পরম্পরা থাকে। রবীন্দ্রনাথের গানের আগে বা পরে সেরকম কোনো সিদ্ধ ঘরানা নেই। তিনি নিজেই শেষ জীবনে চীনে গিয়ে ছাত্রদের সামনে অভিভাষণে বলেছেন, সমাজে একজন বিপ্লবীর যে ভূমিকা, বাংলা গানের ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা সেই একই। বিপ্লবীর মৃত্যু হয়, বিপ্লব বেঁচে থাকে। কিন্তু এমনি এমনি বেঁচে থাকে না, তাকে চর্চা ও মননের অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। রবীন্দ্রগানের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ হল সেই জীবনদায়ী ভেন্টিলেটর। প্রশিক্ষণেরও যে দিনকাল পালটায় তা ভুল নয়, কারণ কালের নিয়মে প্রশিক্ষকরা একসময় থেমে যান, আসেন নতুন মানুষ। কেমন হতে পারে সেই প্রশিক্ষণের আদল? এ নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। যেহেতু রবীন্দ্রনাথের গান বাঙালির এক চিরসবুজ প্রণোদনা, সেহেতু তার প্রাণ ও সত্তাকে আগলে না রাখলে কোথায় যেন একটা নৈতিক অপরাধ আমাদের বিদ্ধ করে। তার উপর রবীন্দ্রনাথের কাল পেরিয়ে এখন আমরা এমন এক মাঝদরিয়ায়, যেখানে তাঁর গান বিশ্বভারতীর উঠোন পেরিয়ে বিদ্যায়তনিক ও ঘোর বাণিজ্যিক দোলায় দুলে উঠছে অনেকদিন হল। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নামী শিক্ষক তথা পরিবেশক সিলেবাসের গান নামে একখানা সিডি অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন। তাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে থাকা খান চল্লিশেক গান গেয়েছিলেন। অবশ্যই তাঁর উদ্দিষ্ট তাঁর শিক্ষার্থীরা, যাঁরা ওই গায়ন শুনে শুনে শিখবেন, এমনকি স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের দেওয়া লাস্ট মিনিট সাজেশনের মত দু-একটা কমনও পেয়ে যেতে পারেন পরীক্ষায়। অন্য এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষ ধরে ধরে গানের তালিকা আর তার রেকর্ডিং ইউটিউবে দিয়েছে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এই প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বর্ষের গানের তালিকা কীভাবে তৈরি হয় সে বিষয়ে সত্যিই আমার কোনো ধারণা নেই। বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে সরল পাটিগণিত, বুনিয়াদি বীজগণিত, মৌলিক পদার্থবিদ্যার কিছু জ্ঞান অর্জন করে নিলে পরের স্তরে যাওয়া যায়, সেভাবেই তৈরি হয় পাঠক্রম। কিন্তু গানের প্রশিক্ষণের যা উদাহরণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি তাতে এভাবে পাঠক্রম নির্মাণে আশ্চর্য হতে হয়। আমার ছোটভাইকে বহুবছর আগে যিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখাতে এসেছিলেন, তিনি গোড়াতেই যে গান শিখিয়ে হাতেখড়ি (গানে খড়ি?) দিয়েছিলেন সেটা হল ‘আয় তবে সহচরী’। একেবারে গোড়ার শিক্ষার্থীকে এই গান শিখতে হবে কেন? তার সাঙ্গীতিক ভিত্তিটা কী? তপন সিংহ মশাইয়ের কাবুলিওয়ালা ছবিতে ছোট্ট মিনিকে আমরা যে গানের সঙ্গে নাচতে দেখি তা হল ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা’। ওই ছায়াছবি প্রকাশের পর থেকে ‘নাচের গান’ বলে এই গানটা চিহ্নিত হয়ে যায়। অথচ এই গানেই আছে এমন একটা লাইন – ‘তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপ-কথার,/ পথ ভুলে যাই দূর পারে সেই চুপ-কথার–’। এখানে সেই চুপ-কথা এক রহস্যে ঢাকা, যার ব্যঞ্জনা এখনো আমি নিজে ভেদ করতে পারিনি। নাচের ছন্দে গানের বোলকে শরীরের বিভঙ্গে ফুটিয়ে তোলা এক জিনিস, কিন্তু গান গাওয়া অন্য ব্যাপার। মজার কথা এই যে, বাজারে এমন কিছু রবীন্দ্রনাথের গানের অ্যালবাম রয়েছে যাদের শিরোনাম ‘নাচের গান’। এইসব গানের একটা মোটামুটি তালিকা করলে যে গানগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে আছে ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে’, ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’, ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’, ‘বাদল বাউল বাজায়’। এখন কথাটা হল, এইসব গানগুলোতে বেশ একটা ছন্দ বা আছে যার সঙ্গে নাচা যায়। এ জিনিস হয়ত করা যায় না ‘বেদনা কী ভাষায় রে’ বা ‘কোথা যে উধাও হল’ গানের সঙ্গে। তার মানে কি এই যে প্রথম তালিকার গানগুলো শিশুতোষ সহজ পাঠ?
আরো পড়ুন বাঙালির রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা: অনুভবের ছবি
আসলে তো প্রশিক্ষণ মানে গানের প্রকৃত বা আভাসিত অর্থ বুঝে তা ঠিক ঠিক গাওয়া। ‘মম চিত্তে’ গানের এক জায়গায় আছে ‘কী আনন্দ কী আনন্দ কী আনন্দ/দিবারাত্রি নাচে মুক্তি নাচে বন্ধ’। মুক্তি আর বন্ধনের এই যৌথ নৃত্য যে আনন্দের কল্লোল তুলে দেয় তা বুঝে নাচতে ঠিক ঠিক পা ফেলাই কি যথেষ্ট? রবীন্দ্রনাথের অন্য এক গানেও তো উদ্দিষ্ট কোনো প্রণয়ীকে বলা হয়েছে ‘মুক্তি আমার বন্ধনডোর’। প্রশিক্ষক এই ব্যাপারটা শিক্ষার্থীকে কীভাবে শেখাবেন? বাদলের মেঘ বাউলের মত একতারা হাতে বৃষ্টি ঝরিয়ে চলেছে, এরকম একটা ছবি আছে ‘বাদল বাউল বাজায়’ গানে। কল্পনার এই সঞ্চার যদি শিক্ষার্থীর মনে না ছায়া ফেলে, ঠিক ঠিক গাওয়া যাবে এই গান বা এই ধরনের গানগুলো? এখানে একটা কথা উঠতে পারে। একেবারে নবীন শিক্ষার্থী, বয়সে ও অভিজ্ঞতায়, কেমনভাবে এতটা পরিণত ভাবনাকে বহন করতে পারবে? কার্যত এখানেই গানের প্রশিক্ষকের চ্যালেঞ্জ আর এখানেই ভয়। অথচ একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, একেবারে শিশুমনের জন্য রবীন্দ্রনাথ যে সহজপাঠ্য বা শিশুপাঠ্য কবিতা লিখেছেন তার মধ্যেও প্রচুর কল্পনার সঞ্চার আছে। আমাদের খুব পরিচিত ‘এসেছে শরৎ, হিমের পরশ’ কবিতার শেষে আছে ‘সেই গান ভেসে যায় দূর হতে দূরে/ শরতের আকাশেতে সোনা রোদ্দুরে’। সোনামাখা রৌদ্রের সঙ্গে গান ভেসে যাওয়ার এই রূপকল্প কি শিশুদের নিজেদের কল্পনার ডানা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যক্ষ উপলক্ষ নয়?
বছর তিরিশেক আগে কলকাতার এক অফিস ক্লাবের অনুষ্ঠানে এক ভদ্রমহিলা আমাদের গান শেখাতে এসেছিলেন। তিনি নিজেকে সুচিত্রা মিত্রের ছাত্রী বলে পরিচয় দিতেন। ‘এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে’ গানটা তিনি যেভাবে শেখাচ্ছিলেন, আমার কেবলই মনে হচ্ছিল তা মরা গাঙে জোয়ারের উদ্দাম কৌতুকের বদলে নিস্তরঙ্গ ভাটার দিকেই ঝুলে যাচ্ছে। আমার বিনীত প্রতিবাদে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং নিজেকে সরিয়ে নেন। নিজের অভিজ্ঞতায় আরও দেখেছি, একজন নামী সঙ্গীতশিক্ষিকা ছাত্রীদের কীভাবে ‘তোমার সুরের ধারা’ গানটি শেখাচ্ছেন হেলা ভরে। ওই গানের ‘আমি শুনব ধ্বনি কানে,/আমি ভরব ধ্বনি প্রাণে’ উচ্চারণ এবং সেই ধ্বনি দিয়ে চিত্তবীণায় তার বাঁধার যে অত্যাশ্চর্য সঙ্কেত — গানের শিক্ষণে তার গভীরতা প্রায় নেই। সেই গানেরই সঞ্চারীতে বলা হয় ‘আমার নীরব বেলা সেই তোমারি সুরে সুরে/ ফুলের ভিতর মধুর মতো উঠবে পুরে’। ফুলের ভিতর মধুর মত সুরের রস পুঞ্জিত হচ্ছে – শুধু এইটুকু ভাবতে গেলেই আমাদের দু হাজারবার জন্ম নিতে হবে। সেই গানের উচ্চারণে অবহেলা? এর দায় প্রশিক্ষকের নয় তো কার?
গানের গায়নের ক্ষেত্রে কথার পর্ব ভাগ (scanning) একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়। এখানেও খেয়াল করা যায় উদাসীন অথবা নির্বোধ ত্রুটি। খুব চেনা গান ‘আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে’। এখানে স্বাভাবিক পর্ব ভাগ হল ‘আমার সকল । দুখের প্রদীপ । জ্বেলে দিবস । গেলে করব । নিবেদন’। আসলে পংক্তিটা হল ‘আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করব নিবেদন –’। অনেক শিক্ষককে বলতে শুনেছি, ওইভাবে পর্ব ভাগ করে নাকি গাওয়া যায় না। মান্য শিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত কিন্তু গানের কথার দাবি মেনে ওভাবেই গানটা গেয়ে দেখিয়েছেন। সেই পরিবেশনায় ‘জ্বেলে দিবস’ এই অর্থহীন উচ্চারণ এড়িয়ে থাকা গিয়েছে।
আবার ‘ছায়া ঘনাইছে বনে বনে’ গানের এক জায়গায় বলা হচ্ছে ‘পুরবে নীরব ইশারাতে একদা নিদ্রাহীন রাতে’ গাইতে গেলে বেশিরভাগই শিল্পীই গান ‘পুরবে । নীরব । ইশারাতে । একদা নিদ্রা । হীন রাতে’। এই পর্ব ভাগ গানের মূল বার্তাকে রুদ্ধ করে। ‘একদা নিদ্রা’ ও ‘হীন রাতে’ বাক্য দুটো অর্থহীন।
এরকম অসংখ্য দৃষ্টান্ত যাওয়াই যায়, তবে তাতে আমাদের গড়পড়তা রবীন্দ্রগানের প্রশিক্ষকদের সম্মান বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের কাছে গান শেখা সাহানা দেবী অবশ্য লিখেছেন, গান শেখার সময়ে এত খুঁটিনাটি তাঁরা নজর করতেন না। তিনি বলছেন, তাঁর পরের প্রজন্মের সুচিত্রা, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও পরিশুদ্ধ গান গাইতে পারেন। তবে এটা সম্ভবত তাঁর পরিণত বয়সের বিনয়। কারণ রবীন্দ্রনাথ নিজে বলেছেন, আমার গান যখন ঝুনুর (সাহানা দেবী) গলায় শুনি, মনে হয় আমাকে নয় ওকেও শুনছি।
রেডিওতে রবিবাসরীয় ‘সঙ্গীত শিক্ষার আসর’ অনুষ্ঠানে পঙ্কজ মল্লিক নাকি প্রথমেই শিক্ষার্থীদের গানটাকে ভাল করে পড়তে বলতেন। তারপর শুরু হত গায়নের প্রশিক্ষণ। তাঁর আসর শোনার অভিজ্ঞতা আমার নেই। তবে পরে একসময় সুচিত্রা এই আসর পরিচালনা করতেন। তাঁরও ধরন ছিল একই। তাঁর ছাত্রছাত্রীদের থেকে এই একই গল্প শুনেছি। সুবিনয়ের শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ওঁর মূল জোর ছিল গানের স্বরলিপি ও শুদ্ধতর গায়নে। কথা নিয়ে যে আলাদা করে বলা হত তা নয়। তবে একটা গানের নিটোল পরিবেশনে কথা ও সুরের সম্মিলন যে অনিবার্য তা তিনি বুঝতেন। নয়ত তাঁর কণ্ঠে আমার শোনা অন্তত তিনটে গান ওই অলৌকিক উচ্চতায় পৌঁছত না। গানগুলো হল ‘এই উদাসী হাওয়ার পথে পথে’, ‘যেথায় থাকে সবার অধম’ ও ‘তিমির অবগুণ্ঠনে’। বলা বাহুল্য, এরকম গানের তালিকা বিরাট লম্বা। জর্জ বিশ্বাসের কাছে এক নামী সঙ্গীতশিল্পী ‘তোমার দ্বারে কেন আসি’ গানটা শিখতে এসেছিলেন। ওই গানের শেষে আছে ‘একটি চাওয়া ভিতর হতে ফুটবে তোমার ভোর-আলোতে/প্রাণের স্রোতে –/অন্তরে সেই গভীর আশা বয়ে বেড়াই’। বহুবার অনুশীলন করেও এই অংশটা ওই ভদ্রমহিলা ঠিকমত তুলতে পারছেন না, দেবব্রত কিছুতেই খুশি হতে পারছেন না। উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী তাঁর শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলেন, ত্রুটিটা ঠিক কোথায়? দেবব্রত পাল্টা প্রশ্ন করলেন ‘দিদিমণি আপনে সকালে কয়টায় ওঠেন?’ বিব্রত মহিলা বললেন ‘আমার উঠতে একটু বেলা হয়ে যায়।’ দেবব্রত বললেন ‘এইবারে পথে আসেন। আপনে তো কুনোদিন ভোরই দ্যাখেন নাই …একটি চাওয়া ভিতর হতে ক্যামনে ভোর আলোতে ফুইট্যা ওঠে তা আপনি জানবেন ক্যামনে আর এক্সপ্রেশন দেবেনই বা ক্যামনে!’ রবীন্দ্রনাথের গান শিখতে ও গাইতে গেলে এগুলোও যে দরকার।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








