দেবাদিত্য রায়চৌধুরী

আমরা যে কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গেলে দেখতে পাই সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল বা ন্যাক (NAAC) নামক মাপকাঠিতে কত পেয়েছে। এই ন্যাক মূল্যায়ন এবং তার প্রভাবের বিষয়ে কিছু কথা আলোচনা করাই এই লেখার উদ্দেশ্য।

ন্যাক তৈরি হয় ১৯৯৪ সালে। এই তথ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯৯১ সালে ভারতে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি প্রবেশ করে। গত দুই দশকে কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চশিক্ষায় বেসরকারিকরণ (স্বপোষিত পাঠক্রম) এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নীতি প্রবর্তন করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি – যেমন স্বীকৃতি প্রক্রিয়া, অর্থ বরাদ্দ প্রকল্প এবং র‍্যাংকিং কাঠামো ব্যবহার করে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়েছে। যদি আমরা ন্যাকের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করি, তাহলে এর উদ্দেশ্য ও ফলাফল থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে এবং অবহেলিত ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও অসুবিধায় ফেলে। ন্যাক স্বীকৃতি প্রক্রিয়া মূলত প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সুবিধাগুলোর (যেমন মানবসম্পদ এবং পরিকাঠামো) বিষয়ে পরিমাণগত ও গুণগত তথ্য সংগ্রহ করে। এই তথ্য এবং পূর্বনির্ধারিত কিছু মাপকাঠি (সাত ভাগে বিভক্ত) ব্যবহার করে একটা গ্রেডেশন প্রক্রিয়া চালানো হয়। তার মাধ্যমে ন্যাক স্কোর এবং গ্রেড নির্ধারিত হয়। অন্যান্য মাপকাঠির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রাপ্য সরকারি তহবিলের পরিমাণও এই ন্যাক গ্রেডের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ ভাল গ্রেড পেলে বেশি সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়, খারাপ গ্রেড পেলে কম।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এই পদ্ধতি পুরোপুরি দুর্বল এবং অবহেলিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। যেমন যেসব প্রতিষ্ঠান বেশি শিক্ষক নিয়ে কাজ করে, তাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ভাল থাকে এবং তারা সাধারণত সম্পদশালী প্রতিষ্ঠান হিসাবে ভাল গ্রেড পায়। আবার যেসব প্রতিষ্ঠান উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ও শ্রেণিকক্ষ পরিকাঠামো ব্যবহার করে, তারা আরও ভাল গ্রেড পায়। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কম এবং পরিকাঠামো দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে তহবিল কম বরাদ্দ হয় এবং তারা আরও পিছিয়ে পড়ে। লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS) এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ERP) সফটওয়্যার ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ভাল গ্রেড পায়, যেহেতু তাদের তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নততর। এর ফলে প্রতিষ্ঠিত ও সম্পদশালী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি তহবিলের বেশিরভাগটা পায় আর দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো কম। এ এক ধরনের বিদ্যায়তনিক অবিচার, যা বৈষম্য বাড়িয়ে তোলে।

ভারত রাষ্ট্র যে ভাবনাগুলোর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল তার অন্যতম হল সামাজিক ন্যায়। অর্থাৎ সমাজের পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত মানুষের জন্য ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ন্যাক স্বীকৃতি প্রক্রিয়া ঠিক তার উল্টোটা করছে। সুষ্ঠু ও সুস্থ প্রতিযোগিতা কেবল সমান সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই ঘটতে পারে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এমনিতেই অসাম্যের শিকার। ন্যাক সেই অসাম্য আরও বাড়িয়ে তুলছে। বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর আমাদের শিখিয়েছিলেন সামাজিক ন্যায়ের গুরুত্ব কতখানি। সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশগুলোকে সংরক্ষণ ও অন্যান্য নীতির মাধ্যমে উন্নতি করতে সাহায্য করার চেষ্টা ছিল ভারতের সংবিধানে। একই নীতি অনুসারে সরকারি অর্থের ভাগ দুর্বল ও অবহেলিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশি হওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা উন্নত সুবিধা ও পরিকাঠামো উপভোগ করতে পারে। কিন্তু ন্যাক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবধান তথা বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে।

২০১৩ সালে চালু হয় রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযান (RUSA)। এটা একটা কেন্দ্রীয় বরাদ্দ প্রকল্প, যা রাজ্য পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে এর দ্বিতীয় চক্র চালু হয়। এতে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তৈরিতে ব্যাপক উৎসাহ দেওয়া হয়। এর সঙ্গেই আসে আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, যা স্বপোষিত পাঠক্রমের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, ফলে শিক্ষার খরচও বেড়ে যায়। এইসব পাঠক্রমের ফি সাধারণ ডিগ্রি কোর্সগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সরকারি বিনিয়োগ কমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর আর্থিক চাপ বেড়ে যায়। সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের উপর, যাদের এই অতিরিক্ত খরচ জোগানোর ক্ষমতা নেই। এ জিনিস সমাজকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সাংবিধানিক আদর্শের পরিপন্থী।

ভারতের সংবিধানের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হল যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, যা কেশবানন্দ ভারতী মামলার (১৯৭৩) রায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত। ন্যাক ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার সাম্প্রতিক সংশোধন এই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোরও অবমাননা। যেহেতু শিক্ষা সংবিধানের যৌথ তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তাই কেন্দ্রীয় সরকার একতরফা নিজের নীতি রাজ্যগুলোর উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় শিক্ষা নীতি (২০২০) চালু করেছে এবং রাজ্যগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করে তার বাস্তবায়ন করতে চাইছে। তামিলনাডু, কেরালা, কর্ণাটক এবং পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশকিছু রাজ্য এর বিরোধিতা করছে এবং নিজেদের নির্দিষ্ট শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে বা করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ন্যাক ম্যানুয়ালের সাম্প্রতিক সংস্করণে কলেজগুলোকে তাদের জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। যেসব কলেজ রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন, তাদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো লঙ্ঘন।

ন্যাক মূল্যায়নের প্রস্তুতি শুরু হলেই বেশিরভাগ কলেজ প্রশাসনের মধ্যে এক অদ্ভুত আদিখ্যেতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখা যায়। যেনতেনপ্রকারেণ A বা A+ পেতেই হবে। বেসরকারি কলেজগুলো এমন করে যাতে ন্যাকের শংসাপত্র দেখিয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানো যায়, তাদের থেকে বেশি মাইনে নেওয়া যায় এবং মালিকপক্ষের পেট আরও ভরিয়ে তোলা যায়। প্রশ্ন হল, সরকারি কলেজগুলোর আদিখ্যেতার কারণ কী?

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে প্রথমে বুঝতে হবে, ন্যাক মূল্যায়নের প্রস্তুতি পর্বে কলেজের শিক্ষকদের কী কী করতে হয়। অজস্র কাগজ নষ্ট করে (প্রকৃতির ক্ষতি করে, কিয়োটো প্রোটোকলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে) প্রচুর গল্প লিখতে হয় আগের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে (না হওয়া মিটিংকে হওয়া দেখানো, না হওয়া রিপোর্টকে হওয়া দেখানো, না করা কাজকে করা দেখানো, না হওয়া সইকে হওয়া দেখানো ইত্যাদি)। কলেজের শিক্ষকদের প্রাথমিক ও মৌলিক কাজ হল পড়ানো। সেই কাজ শিকেয় তুলে এইসব কাগজপত্র, রিপোর্ট, অ্যাড-অন ক্লাস, শয়ে শয়ে সেমিনার করানোয় ব্যস্ত থাকতে হয়। অ্যাড-অন ক্লাস খারাপ নয়। কিন্তু যখন তার উদ্দেশ্য শুধু ন্যাকের হাত থেকে নম্বর পাওয়া, তখন প্রশ্ন আসবেই যে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ দেখা হল কিনা। সেমিনার করাও খুব জরুরি। তাতে ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানবৃদ্ধি হয়। কিন্তু যখন ক্লাসের থেকে সেমিনারের সংখ্যায় বেড়ে যায়, কারণ একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক সেমিনার না করলেই নয়, তখন প্রশ্ন করতেই হয় যে এই সেমিনারগুলো কার স্বার্থে করা হচ্ছে? ছাত্রস্বার্থে, নাকি কেবল ন্যাকের নম্বর পাওয়ার জন্যে? হাজার হাজার পাতার নথি তৈরি করতে যে সময় শিক্ষকরা ব্যয় করছেন সেই সময়ে থিওরি বা প্র্যাকটিকাল ক্লাস নিলে ছাত্রছাত্রীদের জন্যে আরও ভাল হত না? ন্যাকের সেলফ স্টাডি রিপোর্ট (SSR) জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করতে হয় বিভিন্ন রিপোর্ট, এক্সেল শিট, ফাইল ইত্যাদি প্রস্তুত করতে। বেশিরভাগ রিপোর্টই আত্মপ্রশংসামূলক এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নত করায় এসবের কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেই। বরং এর ফলে ক্লাস নেওয়া কমে যায়, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়।

আরো পড়ুন কলেজ সংকট: ছাত্রছাত্রী সব গেল কোথায়?

ন্যাক মূল্যায়নের আরেক নেতিবাচক দিক হল শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান প্রাপ্তি (প্লেসমেন্ট) সংক্রান্ত তথ্যের পরিমাণ। যখন দেশে বেকারত্ব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন কলেজগুলোর এই সংক্রান্ত অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান পরিবেশন করে, যা প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতিফলন আটকায়। ন্যাক মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মসংস্থানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করে, যা বিভ্রান্তিকর। এতে সরকারের সুবিধাই হয়, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তো একেবারে আলাদা। নাগরিকদের সামনে কর্মসংস্থানের কপট ছবি তুলে ধরা রাষ্ট্রের পক্ষে সুবিধাজনক, কিন্তু গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।

ন্যাক মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছে কনসালটেন্সি ব্যবস্থা। আমাদের দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে ঢুকে পড়া কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর মতই এদেরও কোনো মতাদর্শ নেই। একমাত্র কাজ টাকার বিনিময়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে সফটওয়্যার বানানো, এক্সেল শিট বানানো, নথি তৈরি করে দেওয়া, উপদেশ দেওয়া, ন্যাক মূল্যায়নে কত নম্বর পেতে পারেন তা কষে দেওয়া। আকাশ থেকে চাঁদ আর সূর্য পেড়ে দেওয়া ছাড়া এরা সব পারে এবং করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কাজটা করে শিক্ষাব্যবস্থাকে ভালবেসে নয়, মোটা টাকার বিনিময়ে। এই ফার্মগুলোকে যে টাকা দিচ্ছে কলেজগুলো, সে টাকা আসে কোথা থেকে? কোনো ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফি বাবদ দেওয়া টাকা, কখনো অ্যাডমিশন ফর্ম বিক্রির টাকা, কখনো বা সরকারের থেকে পাওয়া টাকা। কিন্তু এই টাকা যদি কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হত, কিছু ছেলেমেয়েকে বাড়তি স্কলারশিপ দিতে ব্যবহার করা হত, কৃতী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার দিতে ব্যবহার করা হয়ত, তাহলে বোধহয় শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নতি বেশি হত। কলকাতা ও শহরতলির কিছু কলেজ শুধুমাত্র ফার্ম নিয়োগ করে এবং টাকা ঢেলেই A বা A+ পেয়ে যাচ্ছে। সেই কলেজের ছেলেমেয়েদের কী উন্নতি হচ্ছে এতে? সে প্রশ্ন করার লোকজন, ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক সংগঠন ক্রমেই কমে আসছে।

আগেই আলোচনা করেছি যে ন্যাক মূল্যায়নে ভাল গ্রেড পাওয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের টাকা। প্রশাসনের নাম যশ বৃদ্ধি পায় এবং কিছু ক্ষেত্রে কলেজ প্রশাসকের আত্মপ্রচারের পথ হয়ে ওঠে ন্যাক থেকে পাওয়া ভাল গ্রেড। ভাবার সময় এসেছে, ন্যাক মূল্যায়ন নিয়ে এই আদিখ্যেতা কি অপরিহার্য? নাকি এর চেয়ে কমেও কাজটা করে ফেলা যায়, যাতে কলেজের যা মূল কাজ – পড়াশোনা – তা কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

ন্যাকের মত এক চূড়ান্ত নয়া উদারবাদী ষড়যন্ত্র, যার মূল উদ্দেশ্যেই হল শিক্ষাব্যবস্থাকে পণ্যে পরিণত করা, শিক্ষার বেসরকারিকরণ ত্বরান্বিত করা, তার বিরুদ্ধে আজকাল দেখি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক সংগঠনগুলোও চুপ। তাদের সদস্যরাও ন্যাক মূল্যায়নের জন্য হাজার হাজার ফাইল বানাতে আর ফার্মগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে ব্যস্ত। অথচ ঠিক যেমন দেশের জিডিপি বাড়ার সঙ্গে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষের উন্নয়নের প্রায় কোনো সম্পর্ক নেই, আছে পুঁজিপতিদের উন্নতির, তেমনই ন্যাকের হাত থেকে A বা A+ পেলে কলেজের একটু নাম হয়, অধ্যক্ষের অনেকটা খ্যাতি হয়। কিন্তু ক্ষতি হয় ছাত্রছাত্রীদের, যাদের ক্লাস কমে যায়, কারণ শিক্ষকরা বাধ্য হয়েছিলেন হাজার হাজার ফাইল বানাতে; ক্লাস কমে গিয়েছিল কারণ চলছিল অ্যাড-অন ক্লাস, সেমিনার ইত্যাদি চক্করে; তাদের প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের টাকা বা অন্য কোনো খাতের টাকা চলে গিয়েছিল কনসালটেন্সি ফার্মের কাছে। তাই বলছি, ন্যাক মূল্যায়ন হোক, কিন্তু A বা A+ পাওয়ার হ্যাংলামি কমুক, তাতে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থী এবং পুরো সরকারি ব্যবস্থার সার্বিক লাভ।

নিবন্ধকার সমাজকর্মী এবং সরকারি কলেজের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

1 মন্তব্য

  1. একদম সত্যি কথা। এরকম টা NBA নিয়েও চলে অথচ সব কলেজে টিচার স্টুডেন্ট ratio সমান না। কিন্তু টিচেরদের অধিক প্রেসার দিয়ে এসবের কাজ করানো হচ্ছে, স্বাভাবিক ভাবেই এফেক্টেড হচ্ছে actual teaching learning process

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.