ভারতীয় মুসলমানদের উদ্দেশে গালাগালি হিসাবে ইদানীং ‘মাদ্রাসা ছাপ’ কথাটা প্রায়শই ব্যবহার করা হচ্ছে। যাঁরা এমন করেন তাঁদের মহম্মদ ইসরারের কথা জানানো দরকার। ইসরার গত এক দশকে কেবল মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পূর্ণ করেননি (মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা), উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ মানের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সম্প্রতি তিনি সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও একটা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেন পূর্ণ বৃত্তি পাওয়া ছাত্র হিসাবে।
গত সপ্তাহে কলকাতার বাসিন্দা ইসরার সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্বে এমএসসি ডিগ্রি পেলেন। সাধারণ পরিবারের ছেলে ২৪ বছর বয়সী ইসরারের লক্ষ্য কোনো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করা, তারপর পূর্ণ সময়ের পেশাদার হওয়া।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
ইসরারের বাবা মহম্মদ মুস্তাক যখন মারা যান তখন ইসরারের বয়স মাত্র চার। মুস্তাক ছিলেন একজন ছোট ব্যবসায়ী। সেই থেকে ইসরারের দাদা মহম্মদ ইশতিয়াকই বাবার ভূমিকা পালন করে আসছেন।
কিন্তু এলিয়ট লেনের বাসিন্দা এক মাদ্রাসার ছাত্রের ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য পর্যন্ত যাত্রাটা কেমন ছিল?
সাউদাম্পটন থেকে ফোনে এই প্রতিবেদককে ইসরার বললেন ‘ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর আমাকে জামিয়া আবদুল্লা ইন এ মাসুদ মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। কিন্তু আমার ছোটবেলার বন্ধু হাসান আব্দুল গফফার পড়ত একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে আর ও লেখাপড়ায় খুব ভাল ছিল। ও-ই আধুনিক এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষায় আমার আগ্রহ তৈরি হওয়ার জন্যে দায়ী।’ হাসান এখন নামকরা তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাকসেঞ্চারে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করেন।
‘হাসানের জন্যেই আমার সেইসব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছে হয়েছিল, যেগুলোকে আমাদের দেশে মূলধারার বলে ধরা হয়। মাদ্রাসায় প্রথমদিকের পড়াশোনা শেষ করার পরে আমি এলাহাবাদের (অধুনা প্রয়াগরাজ) জামিয়া আরিফিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হই। ওই মাদ্রাসাটা আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির অনুমোদনপ্রাপ্ত।’
আরো পড়ুন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতিষশাস্ত্র শিক্ষা: পিছন দিকে এগিয়ে যান
জামিয়া আরিফিয়ার পাঠক্রমে মাদ্রাসার সাবেকি বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইংরিজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান এবং হিন্দি পড়ানো হয়। তবে যেহেতু ইসরারের লক্ষ্য প্রথম থেকেই পরিষ্কার ছিল, সেহেতু তিনি আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র সেকেন্ডারি পাঠক্রম সম্পূর্ণ করেন। ‘উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পরে আমি আলিগড় থেকে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে বিএ পাস করি। তারপর হায়দরাবাদের মৌলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ পাস করি,’ ইসরার জানালেন। হায়দরাবাদে পড়াশোনা করার সময়ে নিজের খরচ চালাতে তিনি জেনপ্যাক্টে কাজ করতেন। ‘আমাকে সকাল নটা থেকে দুপুর দেড়টা অব্দি ক্লাস করতে হত, তারপর কখনো কখনো রাত তিনটে পর্যন্ত অফিসে কাজ করতে হত। ব্যাপারটা শক্ত ছিল, তবে আমি দুটোই চালিয়ে যেতে পেরেছি।’
ইসরারের কাহিনি কেবল মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী নয়, যে কোনো আধুনিক শিক্ষার্থীর জন্যেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। ‘নতুন ভারত’-এও নিজের মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে গর্বিত ইসরার বললেন ‘এমএ করার পরে আমি সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তির মেরিটাইম আর্কিওলজিতে এমএসসি পাঠক্রমে ভর্তি হওয়ার আবেদন করি। কলা বিভাগের ছাত্র হয়েও বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করার চ্যালেঞ্জটা নিতে চেয়েছিলাম। প্রথমদিকে ব্যাপারটা শক্ত লাগছিল, তারপর বিষয়টা উপভোগ করতে শুরু করলাম। প্রত্নতত্ত্ব ইতিহাসেরই অংশ, কিন্তু সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ব এখনো একটা ব্যতিক্রমী বিষয়, বিশেষ করে ভারতে। এ পর্যন্ত আমার যাত্রায় আমার মা আমনা খাতুন সব সিদ্ধান্তে মদত দিয়ে আমার জোর হিসাবে কাজ করেছেন।’
মূল প্রতিবেদন: ইনিউজরুম
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







