সন্তোষ সেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ শুরু হল ভয়াবহ দাবানলের ভয়ঙ্কর বিপর্যয়কে সঙ্গী করে। ৭ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিধ্বংসী দাবানলে ছারখার। লস এঞ্জেলস, হলিউড হিলস, প্যালিসেডস, পাসাডেনা – সব জ্বলছে দাউদাউ করে। একাধিক জায়গায় দাবানল ছড়িয়েছে, তাতে সঙ্গত দিচ্ছে ঘন্টায় ৬০-১০০ কিলোমিটার গতিবেগের ঝোড়ো হাওয়া ‘Santa Ana Winds’। তাতে ভর করেই ছড়াচ্ছে আগুন। ধাক্কা খাচ্ছে আগুন নেভানোর কাজ। ছয়দিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে এখন পর্যন্ত অন্তত তিন লক্ষ বাড়ি ভস্মীভূত, লক্ষাধিক মানুষ গৃহহারা। প্রাণ বাঁচাতে মানুষজন পড়িমরি করে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কোথায় পালাবে হে বুদ্ধিমান মানুষ? এখনো তোমাদের হুঁশ ফিরবে না? কত, আর কত নষ্ট করবে প্রকৃতি পরিবেশ? দাবানলের কবলে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। লস এঞ্জেলসের শেরিফ জানিয়েছেন, আগুনের কারণে সব জায়গায় পৌঁছনো যায়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাড়ি, গাড়ি, দোকান, বাজার মিলে অন্তত হাজার দশেক সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই ৫,০০০ কোটি ডলার ছুঁয়ে ফেলেছে। আহত অসংখ্য মানুষ। বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দাবানল লাগার কয়েক ঘন্টার মধ্যে ২৯,০০০ একরের বেশি এলাকা পুড়ে ছাই।

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গোটা দেশ থেকে দমকল বিভাগের কর্মীদের আনা হয়েছে লস এঞ্জেলসের নানা জায়গায়। দমকলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও অফিসারদেরও সাহায্য চাওয়া হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে যাওয়ায় দমকল বিভাগও আগুন বাগে আনতে হিমশিম খাচ্ছে। জলাশয়গুলো প্রায় জলশূন্য। নেই, নেই, জল নেই দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। প্যাসিফিক প্যালিসেডসের মত উঁচু জায়গায় জলের সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। সমুদ্র তীরবর্তী হওয়া সত্ত্বেও আগুন নেভাতে জল পাওয়া যাচ্ছে না কেন? দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন – একান্ত নিরুপায় না হলে আগুন নেভাতে সমুদ্রের জল ব্যবহার করা হয় না। কারণ নোনা জলে একদিকে যন্ত্রপাতির চিরস্থায়ী ক্ষতি হয়, অন্যদিকে মাটিতে নুনের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে পরবর্তীকালে ওই জমি গাছপালার জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

হায় রে উন্নত দেশ আমেরিকা! প্রকৃতির ভয়ানক রুদ্ররোষে তোমার কপালও আজ পুড়ছে। এমনটাই তো হওয়ার ছিল।

আমেরিকার বাসিন্দা ডঃ পার্থ ব্যানার্জি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে জানিয়েছেন ‘জেল থেকে কয়েদিদের নিয়ে এসে প্রায় বিনি পয়সায় আগুন নেভানের কাজে লাগানো হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন ‘আমেরিকায় রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কয়েদি। প্রচুর জেল এখন বেসরকারি মালিকানায়। বেশি কয়েদি জেলে পুরতে পারলে এই বেসরকারি পুঁজিপতিদের বাণিজ্য, মুনাফা ও শেয়ারের দর ফুলে ফেঁপে ওঠে। তাই আগুন নেভাতে গিয়ে এই কয়েদিদের মৃত্যু হলেও আমেরিকান প্রশাসনের কিছু যায় আসে না।’ আমরা সবাই জানি, আমেরিকার পুঁজিবাদী মডেল অত্যন্ত নিষ্ঠুর, নির্মম ও ভয়ঙ্কর। পুঁজির নিজস্ব নিয়মেই এই দেশেও রয়েছে তীব্র আর্থিক বৈষম্য। ধনী-গরীব ভেদাভেদ।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো থেকে জানা যাচ্ছে, অন্তত তিন লক্ষ বাড়ি ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎবিহীন হাজার হাজার বাড়ি। বায়ুদূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের তীব্র কালো বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে আগুন না লাগা অন্যান্য অঞ্চলেও। শ্বাসকষ্ট সহ ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন একের পর এক মানুষ। ফলে সেখান থেকেও বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে হচ্ছে, বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত স্কুল কলেজ।

লস এঞ্জেলসের দাবানলের একের পর এক ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলা দেখে আঁতকে উঠছেন সকলে। দাবানল দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ায় শহর জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে কোনোক্রমে টিকে যাওয়া গাড়ির বহর ট্রাফিক জ্যামে স্তব্ধ। বেড়েছে চুরি, লুঠপাট। মানুষজন আতঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে লস এঞ্জেলসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এই দাবানল সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার টাউন অফ প্যারাডাউস ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল দাবানলে। এবারের ঘটনা তাকেও ছাপিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দাবানল যেসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে তার মধ্যে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী প্যালিসেডস এবং হলিউড হিলস।

গোটা বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের স্বপ্ন যেখানে ঘুরতে যাওয়া, ঠিক সেই জায়গাটা এখন ভয়ঙ্কর দাবানলের মুখে। শুধু হলিউড হিলসই নয়, ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তর্গত লস এঞ্জেলস শহর এবং লাগোয়া একাধিক এলাকা এখন দাবানলের গ্রাসে। ছখানা দাবানল উত্তর, পূর্ব এবং পশ্চিম দিক দিয়ে ঘিরে ধরেছে লস এঞ্জেলসকে। এই ভয়ঙ্কর দাবানল কতটা কী ক্ষতিসাধন করল দেখা যাক।

প্যালিসেডস ফায়ার: মঙ্গলবার শুরু হয়েছে এই দাবানল। এই এলাকার সবচেয়ে বড় এই দাবানলে ২৪,০০০ একর অঞ্চল আগুনের গ্রাসে। গোটা প্যালিসেডস ধ্বংসস্তূপে পরিণত।

ইটন ফায়ার: লস এঞ্জেলসের পূর্বে পাসাডেনা এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। এই দাবানলের প্রকোপে অ্যালটাডেনা শহরও। ১৪,১০০ একর জুড়ে আগুন জ্বলছে দাউদাউ করে।

হার্স্ট ফায়ার: উত্তরে সান ফার্নান্দোয় মঙ্গলবার রাত থেকে দাবানল শুরু হয়েছে। প্রায় ৮৫০ হেক্টর এলাকা এই দাবানলের গ্রাসে। যদিও বর্তমানে এই আগুন ৭০% নিয়ন্ত্রণে।

লিডিয়া ফায়ার: লস এঞ্জেলসের উত্তরে পার্বত্য এলাকা অ্যান্টিলোপ ভ্যালিতে শুরু হওয়া এই দাবানল ৪০০ একর পুড়িয়ে আপাতত নিয়ন্ত্রণে।

সানসেট ফায়ার: হলিউড হিলসে এই দাবানলে ৫০ একর জমি আগুনের গ্রাসে।

আর্চার: ১০ জানুয়ারি থেকে গ্রানাডা হিলস এলাকায় নতুন করে লাগা এই আগুন এখনো পর্যন্ত ২০ একর এলাকা পুড়িয়েছে।

লস এঞ্জেলসের প্যাসিফিক প্যালিসেডস, পাসাডেনা, মালিবু, সান্তা মনিকার মত অভিজাত এলাকাও আগুনের গ্রাসে। এই এলাকায় রাস্তার পাশে পাশে হলিউডের তাবড় শিল্পীদের মহল। হাজার হাজার কোটি টাকার সেই বাড়িগুলোও পুড়ে ছাই হয়েছে। চোখ ধাঁধানো বিত্ত ও বৈভবে মোড়া ওই এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপ। লস এঞ্জেলসের ওই রাস্তায় আকছার দেখা মিলত কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ির। সেগুলোও আগুনের করাল গ্রাসে পুড়ে খাক। শহরের বহুলাংশ ঠিক যেন বহুকাল আগে আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসা লাভায় ভস্ম পম্পেই। আমেরিকার জাতীয় আবহাওয়া দফতর আগামী সপ্তাহের জন্যেও লস এঞ্জেলস ও সংলগ্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন এই এলাকায় আর্দ্রতা কম থাকবে, শুকনো গরম হাওয়া বইবে। বাতাসের সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার। ফলে নতুন করে আগুন লাগা এবং তা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন – যত দিন যাবে, আরও বেশি বেশি করে এই ধরনের জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবে। কয়েক মাস পরেই লস এঞ্জেলসে বর্ষা নামবে। সেইসময় দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে। তখন ফের স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে হবে।

অন্যদিকে লস এঞ্জেলস কাউন্টি শেরিফ জানিয়েছেন – এখনো সব এলাকা বসবাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি। বহু জায়গা এখনো বিদ্যুৎহীন, জ্বালানি গ্যাসের লাইন খোলা। ফলে বাসিন্দাদের আগুন নিভে যাওয়া অঞ্চলেও বাড়ি ফিরে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। লস এঞ্জেলসের বাসিন্দাদের বোতলবন্দি জল কিনে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন, ট্যাপের জল খাওয়া বারণ। কারণ জলের স্তর তলানিতে ঠেকেছে। আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার কারণে বেশকিছু এলাকার জল দূষিত হয়ে গিয়েছে। তাই মিনারেল ওয়াটারেই রান্না, এমনকি স্নান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন গ্যাস চেম্বার দিল্লি, মানুষের পরিবেশচেতনা এখনো ঘুমন্ত

পশ্চিম হলিউডের সানসেট টাওয়ার হোটেলে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, চুক্তি ইত্যাদি হয়েছে। সেটা এখন ঘরহারাদের আশ্রয়স্থল। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ – একই হোটেলের ছাদের নিচে মাথা গুঁজতে বাধ্য হয়েছেন। প্রকৃতির রুদ্ররোষ যেন তারকাদের পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। প্রকৃতির বিচারের ভারসাম্য আর নিরপেক্ষতা অসাধারণ। প্রকৃতির বিচারে শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ, জাতপাতের বিভেদ নেই। আয়লা ঝড় সমুদ্রের ধারের গরিব মৎস্যজীবী, প্রান্তিক মানুষের বসতবাড়ি তছনছ করে দিয়েছিল। ঠিক তেমনি দাবানল হলিউডের কোটিপতি ধনীকেও জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিয়েছে। তাই কমলা হ্যারিসকে পর্যন্ত বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুড়ে গিয়েছে স্টিভেন স্পিলবার্গ এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের বাংলোও। হলিউড তারকা থেকে মধ্যবিত্ত, অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শ্রমিক, কৃষক, ল্যাটিনো, শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ – কাউকে ছাড়েনি এই ভয়ঙ্কর দাবানল। অনেকটা বাইবেলে বর্ণিত ‘জাজমেন্ট ডে’-র মত। জেমস উডস, প্যারিস হিলটন, বিলি ক্রিস্টালের মত বহু বিশ্বখ্যাত ব্যক্তির বাড়ি পুড়ে ছাই। দেখলে মনে হবে ঝুপড়ির অবশিষ্টাংশ। ইনস্টাগ্রামে প্যারিস লিখেছেন ‘পরিবারের সঙ্গে টিভির পর্দায় নিজেদের বাড়ি পুড়তে দেখার আঘাত যেন কাউকে সইতে না হয়।’

একই চিত্র অন্যভাবে আমরা দেখেছি প্যালেস্তাইনে। রকেট, গ্রেনেড সহ নানাবিধ আধুনিক সামরিক অস্ত্রের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্যালেস্তাইনে প্রায় সব ঘরবাড়ি, স্কুল কলেজ, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র। হাত, পা, চোখ, মুখ ঝলসে যাওয়া শিশুদের আর্ত চিৎকার আমরা শুনেছি ‘আমাদের বাঁচাও। আমাদের ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এভাবে পুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে দিও না। আমাদের বাঁচতে দাও। আমরা পড়তে চাই। স্কুলে যেতে চাই।’ আসলে নিজেদের আশ্রয়স্থল চোখের সামনে দাউদাউ করে জ্বলতে দেখলে সকলেই এভাবে ডুকরে কেঁদে ওঠে। হাহুতাশ করে।

অথচ নিজেদের দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দেশ, ধনী দেশ বলে মনে করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সরকারই তাদের রাজকোষ ভরিয়ে তুলতে দেশে দেশে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করে। ইজরায়েল ও ইউক্রেনে তারা লক্ষ কোটি ডলারের সামরিক অস্ত্র ও আর্থিক সাহায্য চালিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বলে বলীয়ান আমেরিকার এই ব্যবসা নিজের দেশ সমেত গোটা পৃথিবীর পরিবেশ মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে যুদ্ধাস্ত্র তৈরি, বিক্রি ও একের পর এক দেশে যুদ্ধ জারি রাখতে গিয়ে।

আমরা সকলেই জানি এবং মানি, পরিবেশের বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক মানুষজন এবং কৃষক সমাজ। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে নির্বিচারে প্রকৃতি নষ্ট করার কারণে পরিবেশ বিপর্যয় চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এত হাত থেকে ধনী, অতি ধনী হলেও নিষ্কৃতি নেই। তৃতীয় বিশ্বের গরিব মানুষ সবার আগে মরবেন ঠিকই। কিন্তু ধনীরাও আর বেশিদিন টিকবে না এই ধরাধামে। কৃতকর্মের ফল প্রাকৃতিক কারণেই তাদের ভোগ করতে হবে। ধরণী এখন এক অর্থে টগবগ করে ফুটতে শুরু করেছে। বারবার ঘটে চলা চরম থেকে চরমতম ঘটনাগুলো একথাই প্রমাণ করে ছাড়ছে। তবুও রাষ্ট্রনেতা ও ধনকুবেরদের কালঘুম ভাঙছে না। সবকিছু নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রকৃতি লুঠের ধ্বংসযজ্ঞ থামবে বলে আশা করতে পারছি না।

কেন? সেকথা পরবর্তী পর্বে হবে।

শেষাংশ আগামীকাল

নিবন্ধকার বিজ্ঞান শিক্ষক, বিজ্ঞান ও পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক। মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

1 মন্তব্য

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.