সন্তোষ সেন

পরিবেশ বিপর্যয় আজ রাষ্ট্রীয় সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব চরাচরে পরিব্যাপ্ত। ১৮৫০-১৯০০ সালের গড় তাপমাত্রার থেকে বর্তমানে তা ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমানো যায়নি। তার সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিতলের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, ২০২৩ সালের গ্রীষ্ম ছিল গত ২০০০ বছরের উষ্ণতম। কোনো প্রান্তে তীব্র দাবদাহ-খরা-তাপপ্রবাহ; অন্যত্র প্রবল বৃষ্টি-বন্যা-ধস, এমনকি দুটো বিপরীত চরম আবহাওয়া প্রায় একই সময়ে একই স্থানে আছড়ে পড়ছে। হিমবাহের অতি দ্রুত গলন, সমুদ্রের জলস্তর ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দ্রুত অরণ্য হ্রাস, জল বাতাস নদীর দূষণ, সঙ্গে জলের তীব্র সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে প্রবলভাবে। ২০২৪ সালের পুরো মে, জুন জুড়ে দক্ষিণবঙ্গ, দিল্লি, মুম্বাই সহ দেশের এক বড় অংশের মানুষ তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করলেন, ঘেমে নেয়ে একসা হলেন, এয়ার কন্ডিশনারের বাজারে ছুটলেন আরও বেশি করে। বৃষ্টির দেখা নেই, খাতায় কলমে বর্ষা এলেও জুলাই মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ৪৯%। ধান রোয়ার কাজ পিছিয়ে গেছে। বৃষ্টি অনেক কম হওয়ায় খাল বিল পুকুরে জল নেই, পাট জাঁক দিতে চাষিরা সমস্যায় পড়ছেন। প্রবল গরমে সমস্যায় শ্রমিক, কৃষক উভয়েই।

অন্যদিকে একমাসের বেশি সময় ধরে টানা প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গ বানভাসি। জাতীয় সড়ক সহ রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার। তিস্তা, তোর্সা, রায়মঙ্গল, জলঢাকা ফুলে ফেঁপে রাস্তার সঙ্গে একাকার। বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি জলের তলায়, জনপদগুলো জল থৈ থৈ। জুলাই মাস থেকে অসম, মেঘালয় বানভাসি। ওদিকে উত্তরাখণ্ডও ভাসছে। প্রবল বৃষ্টি, প্লাবনে শিমলা বিধ্বস্ত। হিমাচল প্রদেশের ৮৩টি রাস্তা বন্ধ থাকল বেশ কিছুদিন। বিপর্যস্ত বন্যপ্রাণ, মারা গেছে হগ ডিয়ার, হাতি সহ দেড়শোর বেশি বন্যপ্রাণী।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার জেরে তীব্র হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার লড়াই। এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছি আমরা। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে সংবিধান-গণতন্ত্র-পরিবেশের সংকট সব জড়াজড়ি করে জট পাকিয়ে তুলেছে। প্রবল মূল্যবৃদ্ধি, বেকারি, আর্থিক বৈষম্যসহ পরিবেশ সংকটের মূল কারণ দেশি, বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির নির্বিচারে জল জঙ্গল জমি পাহাড় নদী ধ্বংস করা। পরিবেশ ধ্বংসকারীর সংখ্যা হাতে গোনা হলেও এর প্রভাব পড়ছে নিম্নবিত্ত মানুষ, প্রান্তিক কৃষক, কৃষি শ্রমিক তথা মেহনতী মানুষ ও বনবাসী জনজাতিদের জীবনে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যের সমস্যা

তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপপ্রবাহে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মানুষের শরীরের অভ্যন্তরের তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে গেলে গুরুতর অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। উষ্ণতর দেশগুলিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই নির্মাণ শ্রমিক, খনি শ্রমিক, স্বনিযুক্ত শ্রমিক, চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী শ্রমিক, কৃষিজীবী, ক্ষেতমজুর ও প্রান্তিক কৃষকের সংখ্যাও অনেক বেশি। দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটাতে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৭৫% মানুষকে প্রবল গরম উপেক্ষা করেই বাইরে বেরোতে হয় কাজের তাগিদে। কর্মরত অবস্থায় কোথায় কতজন শ্রমিক চরম তাপপ্রবাহ বা তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বা মারা যাচ্ছেন – তার কোন হিসাব সরকারের কাছে নেই। ফলে ক্ষতিপূরণেরও কোনো বালাই নেই। অস্থায়ী শ্রমিক, চুক্তিভিত্তিক কর্মী, গিগ ওয়ার্কারদের অসুস্থতাজনিত কোন সবেতন ছুটি বা চরম আবহাওয়ায় কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুতে বিমার ব্যবস্থা যেন গল্পকথা।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের (আইএলও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে ভারত, পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকায় শ্রমিক ও কৃষিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনির অসুখ দ্রুত বেড়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী কর্মস্থলে অতিরিক্ত গরমের জন্য কিডনিজনিত অসুখে আক্রান্ত আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ। তার মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। ভোরে ও সন্ধ্যায় ঘরের কাজের পাশাপাশি দিনের বেলায় তীব্র গরমে বাইরে কাজ করতে হয় তাঁদের। কর্মক্ষেত্রে যথাযথ শৌচালয় না থাকায় জল কম খেতে অভ্যস্ত মহিলারা। ২০২২ সালে এক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষা বলছে – জল কম খাওয়ায় এবং তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহে বাইরে কাজ করতে বাধ্য হওয়া গর্ভবতী মেয়েদের ভ্রূণ/সন্তান নষ্ট হওয়া, কম ওজনের সন্তান জন্মের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট, বেঙ্গালুরুর সাম্প্রতিক সমীক্ষার তথ্য – তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষকে প্রতিদিন কাজের সময়ে অনেক বেশি গরম সহ্য করতে হয়। সাধারণ শ্রেণির মানুষ যখন গড়ে মোট শ্রম ঘন্টার ২৮% বাইরের কাজে ব্যবহার করেন, সেখানে তফসিলি জনজাতিভুক্তদের মোট শ্রম ঘন্টার ৪৩%-৪৯% বাইরের কাজে কাটাতে হয়। অসাম্যের এই নতুন দিকের নাম দেওয়া হয়েছে থার্মাল ইনজাস্টিস বা উষ্ণতাজনিত অন্যায়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা – তাপমাত্রাজনিত অসাম্য স্বল্পকালীন নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের পেশাগত দুর্দশা দীর্ঘমেয়াদে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। চল্লিশ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরিয়ে যাওয়া গরমে মাঠে, রাস্তায়, খোলা চত্বরে কঠোর কায়িক পরিশ্রম করার ফলে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে তাঁরা অনেক বেশি করে অসুস্থতার শিকার হবেন, প্রাণহানির ঘটনাও বাড়বে। এর সঙ্গে জাতপাতের বৈষম্যের কারণে তেষ্টা মেটানোর পর্যাপ্ত জলের অধিকারটুকুও ক্রমশ হারাবেন তাঁরা। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, ভারতের নীতি নির্ধারকরা এক্ষেত্রে সদর্থক ভূমিকা নেবেন কি? যে সমস্ত বামপন্থী দল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থে রাজনীতির কথা বলেন, কাজ করার চেষ্টা করেন, তাঁরাও কি ভাববেন না জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রান্তিক মানুষের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যহানির কথা?

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন – মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি আমাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে রোদে বা তীব্র গরমে বাইরে কাজ করতে বাধ্য হওয়া মানুষজনের হাইপোথ্যালামাস কাজ বন্ধ করে দেয়। তখনই বাড়ে ডিহাইড্রেশন ও সানস্ট্রোকের ঝুঁকি, যা মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মাথা ঝিমঝিম করা, বমি বমি ভাব, অত্যধিক ক্লান্তি, হাতে পায়ে টান, পেটের ব্যারাম এবং ভাইরাল ফিভারের বাড়বাড়ন্ত। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো ক্ষতিকারক জীবাণুর সংক্রমণও বেড়ে গেছে বহুল পরিমাণে, জীবাণুগুলি তাদের কোষকলায় পরিবর্তন ঘটিয়ে মানব শরীরে আরও সাংঘাতিক আক্রমণ হানছে।

 

বিশ্ব উষ্ণায়ন-অতিরিক্ত গরম-তাপপ্রবাহ-খরার কারণে প্রান্তিক মানুষের
কাজের সময় ও সুযোগ কমায় তাঁদের রোজগার কমছে, বাড়ছে স্বাস্থ্য
সংক্রান্ত সমস্যা। সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া মানুষ স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করতে পারছেন না।

 

অন্যদিকে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের অনেক উপরে থাকছে। ফলে রাতে ঠিকমত ঘুম না হওয়ার কারণে শ্রমিক কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন, বাড়ছে রোগভোগ। সকালে আর সুস্থ সবল শরীর নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছেন না।

বিশ্ব উষ্ণায়ন-অতিরিক্ত গরম-তাপপ্রবাহ-খরার কারণে প্রান্তিক মানুষের কাজের সময় ও সুযোগ কমায় তাঁদের রোজগার কমছে, বাড়ছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া মানুষ স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বা ঘটিবাটি বিক্রি করে ব্যয়বহুল বেসরকারি জায়গায় চিকিৎসা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য কাজের পরিবেশ তৈরি করার এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের মনোযোগ দেওয়ার দরকার ছিল অনেক বেশি করে।

দুর্ভাগ্যজনক হল, ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রণীত চারটি নয়া শ্রম কোড শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধিকে আগের তুলনায় অনেক শিথিল করেছে। বেড়েছে শ্রমিকদের সংকট। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কাজের যথাযথ পরিবেশ, কর্মক্ষমতা ও শ্রমের উৎপাদনশীলতা হ্রাস, চাকরি ও কাজের সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরিবর্তে হচ্ছে ঠিক উল্টোটা। কৃষক, শ্রমিক ও কর্মীদের তীব্র রোদে বাইরে না বেরোবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর পিছনে যুক্তি থাকলেও ভারতের মত দেশে খাদ্য, বস্ত্র চিকিৎসা ও শিক্ষাখাতের দৈনন্দিন খরচ যোগাতে শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলে না গিয়ে উপায় নেই। তাই সাবধানতার সুপরামর্শ কাগজে কলমেই থেকে যাচ্ছে।

কর্পোরেট চাষ ও কৃষকদের সর্বনাশ

পরিবেশজনিত কারণে কৃষকরা দ্বিবিধ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই যুদ্ধাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলিকে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক তৈরির মারণ কারখানায় আর গাড়ি শিল্পে পাল্টে ফেলা হল। অধিক ফলনের ভুবন ভোলানো বিজ্ঞাপনের মায়াজালে জড়িয়ে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত রাসায়নিক সহযোগে লক্ষ লক্ষ গ্যালন ভূগর্ভস্থ জলের অপচয়ে কর্পোরেটের হাইব্রিড চাষে কৃষকদের অভ্যস্ত করা হল। দেশীয় বীজ বৈচিত্র্য নষ্ট করে, বংশানুক্রমে প্রাপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতিকেন্দ্রিক পরম্পরা জলাঞ্জলি দিয়ে বহুজাতিক কোম্পানির বীজ, সার, কীটনাশক ও কৃষি প্রযুক্তির বাজারকে চাঙ্গা করা হল রাষ্ট্রের নিঃশর্ত মদতে। নদীমাতৃক কৃষিনির্ভর শস্যশ্যামলা দেশের কৃষি ব্যবস্থাকেই পাল্টে দেওয়া হল কর্পোরেটের স্বার্থে। কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের বড় অংশ পুকুর, জলাশয় সহ সাগরের গভীরে প্রবেশ করায় সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি খাদ্যশৃঙ্খলেও বিষ ঢুকে পড়েছে। ফলে নিত্যনতুন অসুখ, এমনকি কালান্তক ক্যান্সারের জ্বালায় জর্জরিত হচ্ছেন বহু মানুষ।

বিনিয়োগ-স্বল্প মূল্যে উৎপাদন-বাজার-মুনাফা – পুঁজির এই চক্র কোথাও ভাঙলেই পুঁজি লোপাট হবে নিজস্ব নিয়মে। তাই সরকারি বদান্যতায় সমস্ত পরিবেশ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পরিবেশ বিনষ্ট করে, মানুষের যাপন বিঘ্নিত করে নতুন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। মধ্যবিত্তের বড় অংশকে ভোগবাদী সংস্কৃতির মায়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়ে গাদাগাদা অপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য বাজারে এনে মুনাফার পাহাড় ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

এইসব কারণে প্রকৃতির তাল কেটে গেছে। এই ভয়ানক বিষচক্র থেকে মুক্তি পেতে কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষকদের একটি অংশ বিকল্প চাষের পথে হাঁটছেন। বিভিন্ন মহল থেকে স্পষ্টই বলা হচ্ছে – বহুজাতিক কোম্পানির রাসায়নিক চাষের পরিবর্তে সামগ্রিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বিকল্প চাষের পথ ধরলে মাটি, জল, বাতাস ও দৈনন্দিন খাবারে দূষণ এড়িয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের এক বড় দিককে আটকে দেওয়া সম্ভব হবে। বিষহীন টাটকা সতেজ খাদ্যদ্রব্য, শাকসবজি, শামুক, গুগলি, ছোট মাছ (যা আগের মতই পাওয়া সম্ভব চাষের জমিতে) এবং শুদ্ধ জল ও অক্সিজেনের প্রয়োজন মতো জোগানে অসুখের বাড়বাড়ন্ত কমবে। গ্রামীণ সমাজে কাজের সুযোগও বাড়বে।

একদিকে সার ও কীটনাশকের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির জন্য চাষের খরচ বেড়ে যাওয়া, অন্যদিকে দাবদাহ-খরা, কখনো বা অতিবৃষ্টি-বন্যা-প্লাবনে বারবার মাঠের শস্য মাঠেই নষ্ট হচ্ছে। কৃষকরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

উদাহরণস্বরূপ পাট চাষের সংকটের কথা বলা যাক। কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকদের কাছে পাট অর্থকরী ফসল হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিগত কয়েক বছরে পাটের উৎপাদন কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের নীতিতে পাটজাত বস্তা, ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়িয়েছে বহুগুণ। বন্ধ হয়ে গেছে বহু পাটকল। চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন এই সমস্যাকে আরও তীব্র করেছে। এই মরশুমের শুরু থেকেই তীব্র দাবদাহ ও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে পাট চাষ ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন। চাষের জমি শুকিয়ে ফুটিফাটা। বাড়তি খরচ করে বেশি সেচ দিয়ে গাছ কোনোরকমে বাঁচালেও বৃষ্টির জলের অভাবে শাকসবজি, ফল সহ সমস্ত শস্যের ফলন বিপুল পরিমাণে কমে যাচ্ছে বলেই কৃষিবিজ্ঞানীদের দাবি। গ্রীষ্মকালীন বোরো ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও ভয়াবহ।

 

ফসলের উৎপাদন অত্যন্ত কম হওয়ার কারণে বাজারে কৃষিপণ্যের দাম
প্রচুর বেড়ে গেলেও সেই টাকা চাষিদের কাছে যাচ্ছে না। রাসায়নিক সার, কীটনাশক, জলসেচ এবং বিদ্যুৎ বিল সহ চাষের মোট খরচ বৃদ্ধি,
অন্যদিকে বাড়তি পয়সা ফড়ে বা মজুতদারদের পকেটে চলে যাওয়ায় চাষি ও উপভোক্তাদের সংকট বাড়ছে ক্রমাগত।

 

ফসলের উৎপাদন অত্যন্ত কম হওয়ার কারণে বাজারে কৃষিপণ্যের দাম প্রচুর বেড়ে গেলেও সেই টাকা চাষিদের কাছে যাচ্ছে না। রাসায়নিক সার, কীটনাশক, জলসেচ এবং বিদ্যুৎ বিল সহ চাষের মোট খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাড়তি পয়সা ফড়ে বা মজুতদারদের পকেটে চলে যাওয়ায় চাষি ও উপভোক্তাদের সংকট বাড়ছে ক্রমাগত। দুমাস ধরে টানা অনাবৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গের চা বাগানে দুটি কুঁড়ি, একটি পাতার ফলনও ব্যাহত হল ব্যাপকভাবে। গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে এবং বাগানে বৃষ্টির ছোঁয়া না লাগায় পোকামাকড়ের আক্রমণও বেড়ে গেছে প্রচুর পরিমাণে।

এই দ্বিবিধ সংকট থেকে আপাত পরিত্রাণ পেতে ব্যাঙ্ক ঋণ ও মহাজনি ঋণের চক্করে মাথা কুটে মরছেন বড় অংশের কৃষক। কৃষি ঋণ শোধ করতে না পারায় কৃষকদের আত্মহত্যার মিছিল লম্বা হচ্ছে সারা দেশেই। ঋণখেলাপি ধনকুবেরদের ২০ লক্ষ কোটি টাকা মকুব করে দিলেও চাষিদের ক্ষেত্রে উল্টো পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে চরম তাপপ্রবাহের কারণে ২০১৩-২২ বিশ্বের ৪৭% কৃষিজমি খরা কবলিত হয়ে পড়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষকদের সংকট গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যসংকটের সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে বহুগুণ। বিশ্বজুড়েই খাদ্য নিরাপত্তা এই মুহূর্তে এক বড় চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট (২০২৩) বলছে, বিশ্বের ৭৯টি দেশের প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ বর্তমানে গভীর খাদ্য সংকটের কবলে। মালি, সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদানের কম করে দেড় লক্ষ মানুষ এই মুহূর্তে দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি। সকলেই জানেন, ২০২৩ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১২৫টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১১১তম। অর্থাৎ শেষদিক থেকে প্রথম হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে চলেছে ভারত। খাদ্য সংকটের পিছনে তীব্র আর্থিক বৈষম্য ও খাদ্যপণ্য বিলি বন্টনের গভীর সমস্যা অন্যতম কারণ। আমাদের দেশ ধান, গম, আখ, পাট, দুধ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম সারিতে। অথচ এই দেশের শিশু, মহিলাসহ সমাজের প্রান্তিক অংশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অপুষ্টির শিকার। দেশের ৭৪% মানুষ পুষ্টিকর খাবার পান না। একেই বলে পরিস্থিতির নির্মম পরিহাস। গবেষণালব্ধ তথ্য হল, ধরণীর গড় তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ধান গম, ভুট্টা, পাট, সয়াবিন ও টমেটোর মত ফসলের ফলন ৫%-৮% পর্যন্ত কমে যায়।

চরম আবহাওয়ার প্রবণতা যেদিকে চলেছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে খাদ্যের উৎপাদন ৪০% পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর ফলে বিশ্বের আরও সাড়ে ছয় কোটি মানুষ পেটে খিদে নিয়ে রাতে ঘুমোতে যেতে বাধ্য হবেন। একবিংশ শতাব্দীতে মানুষের অন্যতম দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট হল জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য সংকট।

ব্যাঙ্ক ঋণ (এমনকি লুঠ) এবং সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে ফুলে ফেঁপে ওঠা পুঁজি নতুন নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য পাহাড়, জঙ্গল, নদী গ্রাস করার সঙ্গে সঙ্গে কৃষিজমি ও কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যবস্থাটাকেও গিলে খেতে চায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলি। কর্পোরেট চাষে অপরিমিত জলের ব্যবহারের ফলে জলের সংকট ও দূষণ বেড়েছে। অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি কমার পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে পতঙ্গের মৃত্যু হচ্ছে। মাটির পক্ষে উপকারী লক্ষ কোটি ব্যাকটেরিয়া চিরকালের মত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সেঁকো বিষ জল, মাটি বিষাক্ত করার সাথে খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রবেশ করছে। বহুবিধ বিষ পান করে মানুষ আজ নীলকণ্ঠ।

অথচ শুধুমাত্র ব্যবসা ও মুনাফার স্বার্থে দেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বৃহৎ ফার্মা কোম্পানিগুলো এবং সরকার এ ব্যাপারে নীরব থেকে এই মন্থর বিষক্রিয়ায় সমর্থন জুগিয়ে চলেছে। দেশীয় কৃষি ব্যবস্থা ও বৈচিত্র্যময় বীজ ভাণ্ডারকে জাদুঘরে পাঠিয়ে কর্পোরেট চাষ এবং দেশের দশের সমস্ত প্রাকৃতিক উত্তরাধিকার দখল করে বর্তমান চাহিদা নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পুঁজির জগতের নিজস্ব সংকটের আপাত নিরসন হলেও শ্রমিক, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে ভয়ঙ্কর সংকটের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

আরো পড়ুন সিলিকোসিস: সভ্যতার স্বার্থে ঘটে চলা নীরব গণহত্যা

গ্রাম বাংলার নদনদী, জলাশয় দূষণ ও নানাবিধ উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ এবং বেআইনি দখলের চাপে জরাজীর্ণ। অথচ নদীমাতৃক সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা আমার দেশের লক্ষ লক্ষ মৎস্যজীবী ও কৃষক সম্প্রদায় ছোট বড় নদী, জলাশয়ের উপর নির্ভর করেই সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং কৃষিকার্যে জলসেচ করেন। আজ সেই পথও প্রায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। ফলে মৎস্যজীবীসহ প্রান্তিক কৃষক, ক্ষেতমজুর, ভাগচাষীরা ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন।

সমাধান কোন পথে?

  • যেসব কাজ বা কারখানা পরিবেশের ব্যাপক দূষণ ঘটায়, পাশাপাশি কর্মীদের শরীর স্বাস্থ্যকে ঝাঁঝরা করে দেয়, সেই সব কাজ বা কারখানাগুলি বন্ধ করার দাবি আমাদের অবশ্যই তুলতে হবে। একই কারণে কয়লা খনি, পাথর খাদান সমেত রাসায়নিক দূষণ সৃষ্টিকারী বহু কারখানা বন্ধের দাবি তুলতে হবে। এমনকি যন্ত্র দিয়েও প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাপনে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী প্রকল্প করা চলবে না। পরিবর্তে মেরামতির মধ্যে দিয়ে প্রকৃতিকে রক্ষা করার স্বার্থে বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবিকে ভাবনা ও আলোচনার বৃত্তে আনতে হবে। বিকল্প কাজের এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে প্রকৃতির মেরামতি সম্ভব। তাতে মানবসভ্যতা এই গ্রহে টিকে গেলেও যেতে পারে। কয়েকটি প্রকল্পের ভাবনা উদাহরণ হিসাবেই রাখছি:
  • প্রকৃতি ও মানুষের জন্য চরম ক্ষতিকারক রাসায়নিক চাষের পরিবর্তে সরকারি পরিকল্পনায় দেশজুড়ে সামগ্রিকভাবে জৈব তথা বিকল্প চাষের ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে জৈব সার, ওষুধ, দেশিয় প্রযুক্তি এবং কৃষকদের বংশানুক্রমে প্রাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। গ্রামের মধ্যেই উৎপাদিত ফসলের বড় অংশের বিনিময় করা সবদিক দিয়েই যথাযথ বলে মনে হয়। এ কাজে সমবায়কেও কাজে লাগানো সম্ভব।
  • গ্রামবাংলার সমস্ত নদনদীর যথাযথ সংস্কার এবং মজে যাওয়া পুকুর, জলাশয় কায়েমি স্বার্থে ভরাট করা বন্ধ করে তাদের সংস্কার এবং সেগুলিকে ঘিরে মাছ চাষ সহ অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
  • সেচের কাজে এবং পানীয় জলের ব্যবস্থার জন্য নতুন নতুন পুকুর, দিঘি খনন। প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করে জনস্বার্থে এই কাজ করতে হবে সরকারি দফতরগুলিকে। এক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
  • শহরের জৈব বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং জৈব সার তৈরি করে চাষের জমিতে ফেরত পাঠানো। এতে করে শহরগুলি জঞ্জাল সমস্যা থেকে মুক্ত হবে। পাশাপাশি শহর সংলগ্ন চাষের জমিতে জৈব সারের জোগান বাড়বে। গঙ্গার বুকে গজিয়ে ওঠা একের পর এক চড়ায় উর্বর পলিমাটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে চাষের জমিতে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এই কাজে গঙ্গার দুই পাড়ে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা জুটমিলের জমি ও পরিকাঠামোকে কাজে লাগানোর কথাও ভাবা যায়।
  • সরকারি অফিস আদালত স্কুল কলেজের ফাঁকা জমিতে জৈব শাকসবজি চাষ এবং ফলের গাছ লাগানো। উৎপন্ন সবজি ও ফল মিড ডে মিলে ছেলেমেয়েদের খাবারের জোগানের পাশাপাশি গুণগত মান ও পুষ্টি বজায় রাখবে।
  • হাইব্রিড চাষ এবং শহর, মফস্বলের বাবুদের আরামের বোতলবন্দি জল ও ঠান্ডা পানীয়ের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। তাতে ভৌম জলের সংকটের সমাধান অনেকাংশে সম্ভব হবে। স্কুল, কলেজ, অফিস ও সরকারি, বেসরকারি আবাসনে সঠিকভাবে ‘জল ধরো জল ভরো’ নীতি রূপায়ণ করতে হবে। মানুষের ব্যবহৃত জল পুনরায় কীভাবে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া যায় সে কথাও ভাবতে হবে গভীর মনোযোগ সহকারে। এতে করে জলের সংকট কমবে।
  • ফাঁকা জমিতে এবং প্রয়োজনে জনস্বার্থে জমি অধিগ্রহণ করে পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক বনসৃজন করতে হবে। অবশ্যই যথাযথ নিয়মনীতি মেনে। বনসৃজনের নামে পরিবেশ ধ্বংসকারী বিদেশি ইউক্যালিপটাস বা সোনাঝুরি গাছ লাগানো চলবে না। অতি অবশ্যই সব গিলে খাওয়া উন্নয়নের অজুহাতে বন ধ্বংস ও সবুজ বনানী ছেদন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
  • স্থানীয় অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী ছোট ছোট জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ। এইভাবে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের কথা ভাবা যায়। তবে এক্ষেত্রে সবার আগে বিবেচনায় আনতে হবে কোথায় কোন খাতে কত গিগাওয়াট বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে ভোগ্যপণ্যকে বাজারে আনার তাগিদে মোহময় বিজ্ঞাপনে ব্যাপক বিদ্যুৎশক্তির অপচয়।
  • ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে গণ পরিবহন বাড়ানোর ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। এর পাশাপাশি কম দূরত্বের কাজে সাইকেল চালানোয় উৎসাহিত করা ও তার জন্য শহরের রাস্তায় আলাদা লেন রাখার ব্যবস্থা।
  • কর্পোরেট দুনিয়ার মুনাফার স্বার্থে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং ভোগ্যপণ্য ব্যবহার বন্ধ করে জনগণের ন্যূনতম প্রয়োজনে সহজ, সরল জীবনযাপনের জন্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে।

এইসব কাজ পঞ্চায়েত, পৌরসভা, ব্লক ও জেলা স্তরে সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসাবে করার ব্যবস্থা করলে জল, বাতাস, খাদ্যের দূষণ কমবে। টাটকা, বিষবিহীন খাবার, শুদ্ধ জল ও বাতাস পেয়ে মানুষের নিরোগ জীবনযাপনের সম্ভাবনা অনেক বাড়বে, চিকিৎসার খরচ কমবে। পাশাপাশি প্রচুর দক্ষ অভিজ্ঞ ব্যক্তি, বিজ্ঞানী ও হাজার হাজার কর্মীর নতুন কর্মসংস্থান হবে।

শ্রমিক, কৃষকদের বাঁচাতে এবং মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে এগুলিই সময়ের দাবি। নিজেদের ও পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সুস্থ, নির্মল প্রকৃতি উপহার দিতে এই বিষয়গুলি নিয়ে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, বিজ্ঞান কর্মী, বিজ্ঞানী, ছাত্র যুব, অধিকার আন্দোলনে কর্মী আর বামপন্থী ঘরানার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দলগুলিকে গভীরভাবে ভাবতে হবে, মনোযোগ দিতে হবে। জনগণকে জড়িয়ে নিয়ে সরকারের কাছে সোচ্চার দাবি তুলতে হবে। এই কাজে মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা আমাদের পাথেয় হতে পারে। অবশ্যই এইসব কাজ দেশজুড়ে সামগ্রিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সঠিকভাবে রূপায়ণের ক্ষেত্রে যে বিপুল টাকার প্রয়োজন হবে তার ব্যবস্থা করতে হবে উচ্চবিত্ত ও কর্পোরেটদের উপর অধিক হারে কর বসিয়ে। নান্য পন্থা।

লেখক পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক, শিক্ষক। মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.