খড়্গপুর আইআইটিকে দ্বিতীয় ময়না তদন্তের কপি দিতে নিষেধ

আজ (৬ জুন, শুক্রবার) আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্র ফয়জান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা এক বড়সড় মোড় নিল। গত অক্টোবরে হোস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া ফয়জনের মৃতদেহের ‘দ্বিতীয় অটোপ্সি রিপোর্ট’ পরীক্ষা করে আজ কলকাতা হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত নিল যে এই মৃত্যু ‘হোমিসাইড’। এই মামলার বিচারপতি রাজশেখর মান্থা আরও বলেছেন যে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোন তদন্তকারী সংস্থা এই খুনের তদন্ত করবে।

গত ১৪ অক্টোবর, ২০২২, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ফয়জানের আংশিকভাবে পচন ধরে যাওয়া দেহ আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসের একটা হোস্টেল থেকে উদ্ধার হয়। আসামের তিনসুকিয়ার বাসিন্দা ফয়জান ২০২০ সালের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সারা ভারতে একাদশ স্থান অধিকার করেছিলেন, তিনি আসাম সরকারের স্কলারশিপও পাচ্ছিলেন।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

 

আসামের তিনসুকিয়ার বাসিন্দা ফয়জান ২০২০ সালের জয়েন্ট এন্ট্রান্স
পরীক্ষায় সারা ভারতে একাদশ স্থান অধিকার করেছিলেন, তিনি
আসাম সরকারের স্কলারশিপও পাচ্ছিলেন।

 

ফয়জানের দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকে আইআইটি কর্তৃপক্ষ দাবি করছিলেন সে আত্মহত্যা করেছে। এই ২৩ বছর বয়সী ছাত্রের প্রথম ময়না তদন্তের রিপোর্ট মৃত্যুর কারণ নির্দিষ্ট করতে পারেনি। ফয়জানের শরীরে কোনোরকম বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়নি, কোনো ফাঁসের চিহ্নও ছিল না। বস্তুত, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ অজয় কুমার গুপ্ত, যাঁকে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল তাঁর নিজস্ব রিপোর্ট জমা দিতে, তিনি দাবি করেন যে ময়না তদন্তের ভিডিও ক্লিপিংয়ে হেমাটোমার লক্ষণ দেখা গেছে। তাঁর অনুরোধে হাইকোর্ট দ্বিতীয় ময়না তদন্তের নির্দেশ দেয়। ফয়জানের দেহ ডিব্রুগড়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল এবং সেখান থেকে উত্তোলন করে কলকাতা মেডিকাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। সেখানে গত ২৭ মে ফের ময়না তদন্ত হয়।

আজ বিচারপতি মান্থা আইআইটি খড়্গপুরকে এবারের ময়না তদন্তের কপিও নিতে দেননি, কারণ তারা এই মামলায় অভিযুক্ত হতে পারে। শুনানি চলাকালীন একবার তিনি বলেন “IIT Kharagpur has also tried to fudge the documents (আইআইটি খড়্গপুর কাগজপত্রে গরমিল করার চেষ্টাও করেছে)।”

ফয়জানের বাবা-মায়ের পক্ষের উকিল রণজিৎ চ্যাটার্জি, অতীশ বিশ্বাস, নীলাদ্রি সেনগুপ্ত ও অনিরুদ্ধ মিত্র ফয়জানের মৃত্যু যে আসলে হত্যা তা প্রতিষ্ঠা করার দিকে একে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেন। রণজিৎ ইনিউজরুমকে বলেন “দ্বিতীয় ময়না তদন্ত একে হোমিসাইড কেস হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে মৃত্যু হয়েছে মাথা এবং বুকের ক্ষত থেকে প্রচুর রক্তপাতের ফলে।”

 

“দ্বিতীয় ময়না তদন্ত একে হোমিসাইড কেস হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে মৃত্যু হয়েছে মাথা এবং বুকের ক্ষত থেকে প্রচুর রক্তপাতের ফলে।”

 

তিনি আরও বলেন “দ্বিতীয় ময়না তদন্তের রিপোর্ট তদন্তকারী অফিসারকে দেওয়া হবে কিন্তু অন্তত এই স্তরে আইআইটিকে দেওয়া হবে না। কারণ এই হত্যায় তাদের ভূমিকাও থাকতে পারে।”

ফয়জানের মা রেহানা এবং বাবা সেলিম আহমেদ, যাঁরা তাঁদের একমাত্র সন্তানের হত্যায় সুবিচার পাওয়ার জন্য ক্লান্তিহীন লড়াই করে চলেছেন, ইনিউজরুমকে বললেন “আজ আদালতের নির্দেশে প্রমাণ হয়ে গেল যে আমাদের ছেলে আত্মহত্যা করেনি। ও কোনো দুর্বল মানুষ ছিল না। ওকে খুন করা হয়েছে। আমরা যেদিন এই খবরটা পেয়েছি আই আইটি খড়্গপুর থেকে, সেদিন থেকেই এটাই বিশ্বাস করে এসেছি।”

ইনিউজরুম আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টর ভিকে তিওয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

আরো পড়ুন সবই ব্যাদে আছে ক্যালেন্ডার: একটি গর্বের মৃত্যু

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে ফয়জানকে খুন করল কে? আগামী ১৪ জুন, বুধবার, আদালত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একটি অনুসন্ধানকারী দল গঠন করবে।

ইনিউজরুম ওয়েবসাইটটির অনুমতিক্রমে ইংরেজি প্রতিবেদনের এই ভাষান্তর প্রকাশিত হল। তথ্য প্রতিবেদকের

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

1 মন্তব্য

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.