খড়্গপুর আইআইটির ছাত্র ফয়জান আহমেদের খুনের মামলায় বুধবার (১৪ জুন) কলকাতা হাইকোর্ট আইপিএস অফিসার কে জয়রমনের নেতৃত্বে এক তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে তার হাতে পরবর্তী তদন্তের ভার তুলে দিয়েছে। বিচারপতি রাজশেখর মান্থা বর্তমান তদন্তকারী অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন সিট সন্দেহভাজনদের ট্রুথ সিরাম বা নারকো অ্যানালিসিস টেস্টও করতে পারে।

শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে নিযুক্ত থাকার সময়ে মালদার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট জি কিরণ কুমারের বিরুদ্ধে যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তার জন্য ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস জয়রমন তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এই সিটে তাঁর সহযোগীদের মধ্যে থাকছেন কলকাতা পুলিসের হোমিসাইড ডিভিশনের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক সুশান্ত ধর, যিনি তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও করবেন। তাঁর অধীনে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির হোমিসাইডের অফিসার ইন চার্জ কৌশিক বসাককে নতুন তদন্তকারী অফিসার হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

বিচারপতি মান্থা তাঁর আদেশে আরও বলেছেন যে সিট চাইলে এই দলে নতুন সদস্যও যোগ করতে পারে। অর্ডারটিতে বলা হয়েছে “বর্তমান তদন্তকারী অফিসারের সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ কেস ডায়রি, প্রমাণাদি ও অন্যান্য জিনিসপত্র জয়রমন ও তাঁর দলের হাতে তুলে দিতে হবে। নবনিযুক্ত তদন্তকারী দল তাঁদের সাহায্য করার জন্য অন্য অফিসারদের নির্বাচন করতে পারেন এবং অভিযান চালানো ও দ্রুততার স্বার্থে উপদল তৈরি করতে পারেন (The entire case diary, evidence and material collected by the existing Investigating Officer be handed over to Jayaraman and his team. The newly appointed investigating team may select other officers to assist them and form sub-teams for the purpose of expedition and urgency.)।”

আরও বলা হয়েছে “প্রথম ময়না তদন্তের রিপোর্ট থেকে যেসব গুরুতর বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং এর আগের তদন্ত যেরকম বেপথু হয়েছিল তা মনে রেখে এই আদালত নবনিযুক্ত তদন্তকারী দলকে, এই ঘটনার উপর আলো ফেলতে, প্রয়োজন বোধ করলে যে কোনো সাক্ষীর অথবা যে কোনো লোকের ট্রুথ সিরাম ও নারকো অ্যানালিসিস টেস্ট করার অনুমতি দিচ্ছে (It further reads, “In view of the serious omissions in the first post mortem report and the misdirection of the earlier investigation, this Court permits the newly appointed investigating team to, if necessary, conduct a truth serum and narco analysis test on any of the witnesses or persons they deem necessary to throw light on the incident.)”

 

তাঁর আদেশে বিচারপতি মান্থা এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে ফয়জানের
দেহ কলকাতায় ২১ দিন ধরে আটকে রয়েছে। সেই দেহ তিনদিনের
মধ্যে ডিব্রুগড়ে ফেরত পাঠাতে হবে এবং রাজ্য সরকারকে তাঁর
মায়ের যাওয়ার খরচও বহন করতে হবে।

 

গত ১৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখে খড়্গপুর আইআইটির তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ফয়জানকে হোস্টেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনসুকিয়ার বাসিন্দা ২৩ বছরের ফয়জান সেলিম ও রেহানা আহমেদের একমাত্র সন্তান। আইআইটি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন যে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ফয়জান আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তাঁর পরিবার দাবি করে যে ফয়জানকে খুন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্দেশ করতে পারেনি। তারপর ফয়জানের মা-বাবা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত অবসরপ্রাপ্ত ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ডাঃ অজয় কুমার গুপ্তকে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করার জন্য নিযুক্ত করে।

প্রথম ময়না তদন্তের ভিডিও ক্লিপিং দেখার পর ডাঃ গুপ্ত হাইকোর্টকে দ্বিতীয়বার ময়না তদন্ত করার অনুরোধ জানান। তিনি কলকাতা মেডিকাল কলেজে করার অনুরোধ জানান এবং আদালত তাতে সায় দেয়। ফয়জানের দেহাবশেষ ডিব্রুগড়ের সমাধি থেকে উত্তোলন করে কলকাতায় নিয়ে এসে ফের ময়না তদন্ত করা হয়। এ মাসের ৬ তারিখে আদালত ফয়জানের মৃত্যুকে ‘হোমিসাইডাল মার্ডার’ আখ্যা দেয়।

আরো পড়ুন জীবিত আনিসের চেয়ে মৃত আনিসকে বেশি ভয় পাচ্ছে মমতা সরকার?

আদালতের বুধবারের আদেশের পর ফয়জানের মা রেহানা বলেন “কলকাতা হাইকোর্টের আজকের অর্ডার সঠিক দিকেই নিয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলে আমাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা উজ্জ্বল হল। আমার ছেলে খুন হওয়ার পর থেকে আমি জানতে চাইছি, ওকে কে মারল আর কেন মারল? আশা করি এবার সিট সত্যিটা খুঁজে বার করবে। আমার বিশ্বাস সিট একজন মায়ের ব্যথা বুঝবে, যে মায়ের উজ্জ্বল ছেলেটাকে খুন করা হয়েছে, আর আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ন্যায়বিচার পাইয়ে দেবে।”

ফয়জানের মা-বাবার অন্যতম কৌঁসুলি রণজিৎ চ্যাটার্জি ইনিউজরুমকে বললেন “এটা খুবই সন্তোষজনক যে মহামান্য হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে আইন যাতে আইনের পথে চলতে পারে তার ব্যবস্থা করা গেছে আইআইটি আর খড়্গপুর পুলিসের বাধা সত্ত্বেও।”

এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ জুলাই।

মূল প্রতিবেদন: ইনিউজরুম

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.