অজয় বিশ্বাস

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় বাম-কংগ্রেস জোটের উপর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যে বীভৎস আক্রমণ করতে পারে, তা সম্ভবত আগে থেকেই জানত প্রশাসন। কারণ দিন কয়েক আগেই সিপিএম এবং কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বকে অপহরণ করেছিল তৃণমূলের দুষ্কৃতকারীরা। তাঁদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়, বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রতিবাদে বাম-কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা পথে নামেন, রাস্তা অবরোধ করা হয়। জনমতের চাপে অবশেষে তাঁদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় অপহরণকারীরা। কাজেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন যে গোলমাল হবেই, তার আভাস ভালমতই ছিল। তা সত্ত্বেও পুলিস এবং প্রশাসন কোনো সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। বামফ্রন্টের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা পুলিসকর্তাদের কাছে হামলার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া মেলেনি। বস্তুত, পুলিস সচেতনভাবে বিরোধী প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকদের অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিবৃষ্টির সামনে ঠেলে দিয়েছে।

চোপড়া এলাকায় বাম-কংগ্রেস নির্বাচনী জোট হয়েছে। শাসক দলের লাগামছাড়া সন্ত্রাসের প্রেক্ষিতে স্থির করা হয়, একসঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়া হবে। আমরা জানতাম তৃণমূল কংগ্রেস মরিয়া হয়ে আছে। যে কোনো মূল্যে তারা আমাদের মনোনয়ন দেওয়া আটকাতে চায়। তার উপর সদ্যই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে শাসক দলের পক্ষ থেকে বড়সড় সংগঠিত হামলার আশঙ্কা ছিলই। এই অবস্থায় স্থানীয় দাসপাড়া পুলিস ফাঁড়িকে বলা হয় বিরোধী প্রার্থীদের নিয়ে যে মিছিল এগোবে, তাঁরা যেন সেই মিছিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। মিছিলকে যেন পুলিস এসকর্ট করে নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, পুলিস মুখ ফিরিয়ে নিল। কোনো পুলিসকর্মী মিছিলের সঙ্গে আসতে রাজি হলেন না।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

হামলার আশঙ্কা নিয়েই মিছিল শুরু হল। পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী এবং বাম-কংগ্রেস কর্মী সমর্থক মিলিয়ে প্রায় শ পাঁচেক মানুষ স্লোগান তুলে হাঁটা শুরু করলাম। পাঁচ-সাত কিলোমিটার যাওয়ার পর দেখা গেল, তৃণমূলের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে পথ আটকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু বিরোধীরাও মরিয়া। মনোনয়ন জমা দিতেই হবে। ফলে সেই ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগোল। স্বতঃস্ফূর্ত মিছিলকারীদের সামনে শাসক দলের লাঠিধারীরা পিছু হটলেন। কিন্তু এরপর যে মারাত্মক হিংস্র আক্রমণ হল, তার জন্য আমরা তৈরি ছিলাম না।

কাঁঠালবাড়ি যাওয়ার একটু আগে মুন্সীগঞ্জ এলাকায় আক্রমণটা হল। মিছিলের সামনে এবং দুপাশ থেকে শুরু হল মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ। পাশেই চা বাগান। সেখানে লুকিয়ে ছিল বন্দুকবাজরা। রাস্তার ধারের কিছু বাড়িতেও ছিল। ভয়াবহ অবস্থা, বর্ণনাতীত পরিস্থিতি। দুদিক থেকে গুলির পর গুলি চলেছে, মিছিল ছত্রভঙ্গ, গুলির পাশাপাশি বোমাও পড়েছে। তবে আসল আক্রমণ হয়েছিল গুলিবৃষ্টির মাধ্যমেই। পঞ্চাশ-ষাট মিটার দূর থেকে একটানা গুলি চলেছে। ঠিক যেন যুদ্ধ।

আরো পড়ুন পঞ্চায়েত: দুর্নীতি আর তরজায় ব্রাত্য ভোটারের অংশগ্রহণ

একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই, যেরকম একটানা গুলিবৃষ্টি হতে দেখলাম তা কিন্তু কোনো সাধারণ বন্দুক থেকে করা যায় বলে মনে হয় না। গ্রাম্য বিবাদে এতকাল যে ধরণের বন্দুক ব্যবহার হত বলে শুনেছি, তা থেকে এইরকম একটানা গুলি চালানো যায় না। অনেকে অভিযোগ করছেন, আমাদের মিছিল ভাঙতে একে ৪৭ ব্যবহার করা হয়েছিল। আমি বন্দুক বিশেষজ্ঞ নই, তবে নিশ্চিত করে বলতে পারি, অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতেই হামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতিরা।

লেখক স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক কর্মী। তথ্য তাঁর, মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.