অনিন্দ্য হাজরা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে ভারতের বন্ধুদের হোয়াটস্যাপ গ্রুপে চোখ রাখতেই চমকে উঠেছিলাম ৮ মে। সেই গ্রুপে এবং বিদেশে বা কলকাতার বাইরে থাকা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের একটি গ্রুপে ড্রোন হানার মত আছড়ে পড়ছিল একের পর এক খবর। কোনো হোয়াটস্যাপ ফরওয়ার্ড নয় বা কোনো কনটেন্ট নির্মাতার তৈরি ভিডিও নয়, বরং দেশের মানুষ ভরসা করেন এমন একের পর এক সংবাদমাধ্যম প্রতিনিয়ত বলছিল – পাকিস্তান দখলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি – একের পর এক পাকিস্তানি শহর ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের হানায় কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। করাচি বন্দর আক্রমণ করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত। গোটা পাকিস্তান কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যেমন ঢেঁকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভানে, তেমনই এই খবরগুলো পেয়ে সাংবাদিকতার রিফ্লেক্স মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। এই ঘটনা যদি সত্যিই ঘটে, তাহলে তো তা ইতিহাসের পাতায় লেখা হতে চলেছে। নিদেনপক্ষে দর্শক হিসাবে তার অংশ হব না? সেই তাগিদ থেকেই যাচাই করার লোভ সামলাতে পারলাম না। কারণ লাহোর, করাচি যদি লণ্ডভণ্ড হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সে খবর এড়িয়ে যাওয়ার সাধ্য নেই। ‘ফল অফ করাচি’-র ফুটেজ সংগ্রহের লোভ কি বিবিসি বা সিএনএন সংবরণ করতে পারবে? আল জাজিরা কি পারবে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল ইত্যাদি খুলতেই ছিটকে যাওয়ার জোগাড়। কোথাও ঘটনাগুলোর বিন্দুমাত্র উল্লেখ নেই। মাথায় বিদ্যুদ্বেগে খেলে গেল দুটো সম্ভাবনার কথা।
প্রথমত, পশ্চিমি সংবাদমাধ্যম কি তাহলে ভারতের এত বড় সামরিক সাফল্যকে ব্ল্যাক আউট করল? ভূ-রাজনীতির জটিল আবর্তে কোনোকিছুই অসম্ভব নয়। মাথার ভিতর সেই খচখচানি নিয়েই আরও বেশ কয়েকটা চ্যানেলে ঢুঁ মারলাম। সেখানেও ধু ধু মরুভূমি। কোনো খবর নেই। একেবারে নেই বলা ভুল। কিছু রয়েছে, যেমন ভারত আর পাকিস্তান – উভয়েই দাবি করেছে একে অপরের দিকে বেশ কিছু ড্রোন ছুড়েছে। দুই তরফই সেগুলোকে গুলি করে নামানোর দাবি করেছে। এসব খবর ছোট্ট করে দেখা যাচ্ছিল। করাচি বন্দর ধুলোয় মিশে যাওয়ার মত বড় কিছু ছিল না।
ওদিকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভারতীয় মিডিয়ার আস্ফালন। একাধিক চ্যানেলে ফ্ল্যাশ হতে শুরু করেছে – ইসলামাবাদে বাংকারে ঢুকে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাক সরকার প্রায় পতনের মুখে। ফের বিবিসি, ডিডব্লিউ ইত্যাদি ঘেঁটে দেখা। কিন্তু না, এবারেও সেই একই ব্যাপার।
শেষ চেষ্টা হিসাবে ঢুকলাম এক রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলে। গোটা বিশ্বের সাংবাদিকরা সামরিক খবরের জন্য ওই টেলিগ্রাম চ্যানেলটায় চোখ রাখেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম যখন দাবি করছে যে রাশিয়া থেকে কেনা এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম পাকিস্তান থেকে উড়ে আসা ১০০% ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে নামিয়েছে, তার উল্লেখ ওই চ্যানেলে না থাকা অসম্ভব। যে চ্যানেলে আফ্রিকা থেকে শুরু করে বিশ্বের সমস্ত প্রান্তের সামরিক ঘটনার আপডেট থাকে, সেখানে এই খবর থাকবে না এমন হতে পারে না।
কিন্তু না, সেখানেও নেই। বরং সেখানে এমন এক আপডেট চোখে পড়ল, যা ভারতীয় হিসাবে লজ্জায় মাথা হেঁট করে দিল। চ্যানেলের অ্যাডমিন নিজে বলছেন, চ্যানেলের কমেন্টস সেকশনে জন্তুর মত কামড়াকামড়ি করছে ভারতীয় আর পাকিস্তানিরা। তা আটকাতে কমেন্টস সেকশন বন্ধ করা হচ্ছে।
এবার মনে হল দ্বিতীয় সম্ভাবনার কথা। তবে কি গোটা দেশের মানুষকে বেমালুম ঢপ দিচ্ছে ভারতের চ্যানেলগুলো? কিন্তু বিশ্বাস করতে বাধছিল। কঠিন সময়ে জেনে বুঝে দেশের মানুষকে এতখানি ঠকানো! তবে খানিকক্ষণের মধ্যেই বোঝা গেল, দ্বিতীয় সম্ভাবনাটাই সত্যি। ডেকান ক্রনিকল খবরের কাগজ এক্সে পোস্ট করে জানাল, করাচিতে ভারতীয় নৌবাহিনী কোনো অভিযান চালায়নি। তবে এই ‘ব্রেকিং’-এর পরেও বাংলার এক প্রথম সারির খবরের চ্যানেল, যারা নিজেদের প্রগতিশীল হিসাবেই বাজারে বেচে থাকে, করাচি আক্রমণের খবর চালিয়েই যাচ্ছিল।
এরপর ধাপে ধাপে সামনে আসতে শুরু করে, কীভাবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ায় বিমান ভেঙে পড়ার ভিডিওকে করাচি আক্রমণের ভিডিও বলে চালানো হয়েছে, বা মার্চ মাসে মুম্বইয়ের ধরভি বস্তিতে তেলের ট্যাংকারের বিস্ফোরণের ফুটেজকে পাকিস্তানের শিয়ালকোটে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের হানা বলে দেখানো হয়েছে। কোথাও আবার আর্মা-৩ নামের এক ভিডিও গেমের ফুটেজকে যুদ্ধের আসল ফুটেজ বলে চালানো হয়েছে, কোথাও ইজরায়েলের আগ্রাসনের ভিডিও পাকিস্তানের বলে চালানো হয়েছে। এই পাহাড়প্রমাণ মিথ্যার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গ্রেফতার করার খবর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, এটাও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বানানো সম্পূর্ণ ভুয়ো একটা তথ্য।
গোটা ঘটনা থেকে একটা প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক – ভারতের জাতীয় সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বিপদের নাম কি দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো? আন্তর্জাতিক মহলে দেশের নাম ডোবানোর সবথেকে বড় কারিগরও কি দেশের এইসব সংবাদমাধ্যম, সাধারণ মানুষ যাদের গোদি মিডিয়া নামে বা বিজেপির পোষ্য মিডিয়া হিসাবে চেনে?
ঘটনা হল, পাকিস্তান গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভুয়ো খবর যতটা উদ্যম নিয়ে দেখানো হয়েছে, জম্মু এবং কাশ্মীরে পাকিস্তানি সেনার হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি একই উদ্যমে চেপে যাওয়া হয়েছে। জম্মুতে পাক হামলায় প্রাণ হারানো মানুষের নামের তালিকা পর্যন্ত সঠিকভাবে দেশের সামনে তুলে ধরা হয়নি। নিহতদের একটা বড় অংশ মুসলমান বলে? নাকি আক্রান্ত হওয়ার খবর দেখালে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তৈরি করা ‘পরাক্রমশালী’ ইমেজের বেলুন ফুটো হয়ে যেতে পারে আশঙ্কায়?
সংবাদমাধ্যমের এই জঘন্য ভূমিকার সাফাই গাইতে প্রাথমিকভাবে ময়দানে নেমে পড়েছিল বিজেপির কুখ্যাত ট্রোলবাহিনী। তাদের যুক্তি – আধুনিক যুদ্ধে ‘ইনফরমেশন ওয়ার’ বলে একটা ব্যাপার আছে। সেটা হল শত্রুকে ঘোল খাওয়াতে এবং তাদের মনোবল ভাঙতে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করার কৌশল। যদিও বিজেপির সমর্থকরা ঠিক বোঝাতে পারেননি, পাকিস্তানের মানুষকে বিভ্রান্ত করার বদলে নিজের দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত এবং প্রতারিত করে ঠিক কোন স্তরের ‘ইনফরমেশন ওয়ার’ জিতেছে গোদি মিডিয়া।
একইসঙ্গে এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হল, তাও সহজে ঘোচার নয়। সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে সমীহ ও দাবি আদায়ের জন্য যে কোনো রাষ্ট্র ‘সফট পাওয়ার’-এর উপরেও নির্ভরশীল। সাংবাদিকতা, সিনেমা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রকেই ‘সফট পাওয়ার’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। সময় বিশেষে এগুলো দিয়ে প্রভাবিত করে বিশ্বের জনমত দেশের দিকে টেনে আনা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দায়িত্ব নিয়ে সেই সম্ভাবনা নষ্ট করেছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছয়, যে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রীকে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সংবাদমাধ্যমকে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করতে হয়। কেন্দ্রের তরফে গুজব আটকাতে একগুচ্ছ নির্দেশিকাও জারি করা হয়। মজার কথা, বুক ঠুকে যে চ্যানেলগুলো ভুয়ো খবর ছড়াল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, দ্য ওয়্যার ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। বেশকিছু ইন্টারনেট পরিষেবা দাতাকে বিজেপি সরকারের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসাবে পরিচিত দ্য ওয়্যার ওয়েবসাইট ব্লক করতে বলা হয়েছিল। এছাড়াও মকতুব মিডিয়ার এক্স হ্যান্ডেল বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে গুজবের কারখানা খুলে বসল কেন? একথা ঠিক যে ভারতীয় টিভি মিডিয়ার টিআরপি পড়তির দিকে। খবরের গুণগত মান পড়তির দিকে। বহু মানুষ এই চ্যানেলগুলোর বিকল্প হিসাবে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলকে বেছে নিচ্ছেন। তাই টিআরপি ধরে রাখার মরিয়া লড়াইয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ভুয়ো খবর চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও একটা দিক রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম যদি বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, তাহলে সুবিধা হয় গুজবের কারবারিদের। ৮ মে রাতের কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছে, উগ্র দক্ষিণপন্থী এবং ঘোষিত যুদ্ধবাজ কিছু হ্যান্ডেলের পোস্ট যাচাই না করেই দর্শকদের সামনে হাজির করানো হয়েছিল।
এটাকে একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ হিসাবে ধরা যেতে পারে। এক, প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা ধ্বংস করা, যাতে তাদের দেওয়া খবর সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস না করে। দুই, বিজেপি সমর্থিত গুজবের কারখানাগুলোর প্রভাব এমনভাবে বৃদ্ধি করা, যাতে তাদের ভাষ্য খবরের চ্যানেলগুলো চোখ বন্ধ করে চালিয়ে দেয়। তাই আগামীকাল করাচি আক্রমণের দাবি করার বদলে এই অ্যাকাউন্টগুলো যদি কোথাও দাঙ্গা হচ্ছে বলে ভুয়ো খবর ছড়ায়, টিভি চ্যানেলগুলো সে খবর যাচাই না করেই দেখিয়ে দেবে। পরবর্তীকালে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যাবে।
দেশের সংবাদমাধ্যম কেন জেনে বুঝে ভুয়ো খবর ছড়াল, তার কারণ খুঁজতে গেলে আরও একটা সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। এই যুদ্ধ জিগিরকে ঢাল করে রিলায়েন্সের মত সংস্থা নিজেদের মুনাফার কথা চিন্তা করেছে। যেমন ভারতের করা অপারেশন অপারেশন সিঁদুরের কপিরাইট নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়েছিল রিলায়েন্স। যদিও সেই খবর ফাঁস হওয়ার পরে সাধারণ মানুষের সমালোচনার মুখে পিছু হটে, ঘটনার দায় চাপানো হয় সংস্থার এক কর্মচারীর উপরে।
যাচাই না করে খবর চালানোর রোগ যে ৮ মে-র পরে পুরোপুরি কেটে গিয়েছে এমন নয়। ১০ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও জম্মুতে পাকিস্তানের তরফে হামলার অভিযোগ করেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। সেই হামলার প্রেক্ষিতে অদ্ভুত আচরণ করতে দেখা গেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে। ডিডি ন্যাশনাল জম্মুতে কোনো হামলা হয়নি বলে সোশাল মিডিয়া আপডেট দিয়েও তা ডিলিট করে দেয়। একই দশা হয় বাকি চ্যানেলগুলোরও। কার্যত ভারতীয় সেনার বক্তব্যের ১৮০ ডিগ্রি উল্টো বক্তব্য শোনা যায় খবরের চ্যানেলগুলোর গলায়।
আরো পড়ুন সরকারের কিছু দেশদ্রোহী দরকার, তাই নিউজক্লিক আক্রমণ
তাহলে কি মোদী সরকারের হাত থেকে রাশ বেরিয়ে গিয়েছে? বিজেপির ভিতরকার সবচেয়ে উগ্র এবং প্রতিক্রিয়াশীল অংশগুলো রাষ্ট্রব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে? এই আশঙ্কা অমূলক নয়। সরকারের তরফে অপারেশন সিঁদুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাবে কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংকে সামনে আনা হয়। পহলগাম কাণ্ডের পরে দেশজুড়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে সংঘ পরিবারের সদস্য, সমর্থকরা আক্রমণ করলেও সরকারিভাবে ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকেই তুলে ধরা হয়। কিন্তু সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে যুদ্ধবিরতি লাগু হওয়ার পরের ঘটনা।
এক্সে ব্যোমিকা আর সোফিয়ার ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করা হয় এবং সেখান থেকে সোফিয়ার নাম করে লেখা হয় যে তিনি যুদ্ধবিরতিতে খুশি হয়েছেন। তারপর ব্যোমিকার নামের ভুয়ো প্রোফাইল থেকে এসে তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলে জিজ্ঞেস করা হয় – তিনি কী করে এই যুদ্ধবিরতিতে খুশি হতে পারেন? এই কথোপকথন ইতিমধ্যেই ভাইরাল। দেশের কঠিন সময়ে এরকম কদর্যভাবে যারা সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করতে চাইছে, কেন্দ্রীয় সরকার কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে? নাকি এই ঘটনার দায়ও সরকারের সমালোচকদের উপরেই চাপানো হবে?
সরকারিভাবে মিশ্রীকে দিয়ে বলিয়ে রাখা হয়েছে যে ভারতীয় গণতন্ত্রের মাধুর্যই হচ্ছে যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার। কিন্তু বাস্তব অন্ধকার, স্যাঁতসেতে, দুর্গন্ধময় গারদের এক কোণায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে।
নিবন্ধকার সাংবাদিক, বর্তমানে ব্রিটেনে স্নাতকোত্তর স্তরে পাঠরত। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








