দ্য গ্রেট ডিক্টেটর (১৯৪০) ছবিতে এক যুক্তির পৃথিবীর কথা বলেছিলেন চার্লস চ্যাপলিন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে, ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় যুক্তিবোধকে তিনি বড় হাতিয়ার মনে করেছিলেন। প্রতিষ্ঠান যখন যুক্তিবর্জিত এক উন্মাদনায় আমাদের মাতিয়ে রাখতে চায়, তখন প্রশ্ন করার অভ্যাস ও স্পর্ধার প্রয়োজন সবথেকে বেশি। তেমন অশান্ত সময়ে দাঁড়িয়ে আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন চ্যাপলিন।

বোধবুদ্ধিহীন উন্মাদনার হাত থেকে হিমাংশী নারওয়ালও মুক্তি পাননি। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা। পহলগামে নৃশংস গণহত্যার পর হিমাংশীর নামের সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত হয়ে গেছি। নৌসেনা আধিকারিক বিনয় নারওয়াল ও তাঁর স্ত্রী হিমাংশী বিয়ের কদিন পরেই মধুচন্দ্রিমা করতে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন। সেখানে জঙ্গিদের আক্রমণে শহিদ হন বিনয়। তাঁর মরদেহের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে থাকা শোকার্ত হিমাংশীর ছবি আমরা দেখেছি।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

হিমাংশী বলেছেন, এই ঘটনার জন্য পুরো মুসলিম সম্প্রদায় বা কাশ্মীরি জনগণকে দায়ী করা উচিত নয়। এটাই তাঁর অপরাধ। দেশপ্রেমকে যারা মুসলমানবিদ্বেষের সঙ্গে সমার্থক বলে মনে করেন, কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বললেও যারা কাশ্মীরের জনগণকে দেশের শত্রু মনে করেন, তাদের মতে মারাত্মক অপরাধ করে ফেলেছেন হিমাংশী। যতই তিনি সদ্য শহিদ হওয়া সেনা আধিকারিকের স্ত্রী হোন। দ্বেষপ্রেমে সহানুভূতি, সহমর্মিতার কোনো মূল্য নেই। তাই হিমাংশীর চরিত্র, দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুরু হয় কুৎসার বন্যা। উন্মাদনা এমনই ভয়ংকর, বোধহীন আপদ।

যে আপদকে আমরা সাদরে বারবার বরণ করি। হিমাংশী যদি দ্বেষপ্রেমীদের সুরে সুর মিলিয়ে সূক্ষ্মভাবেও মুসলিম ও কাশ্মীরিদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াতেন, তাহলেই তাঁকে বীরাঙ্গনা বলে বরণ করা হত। কিন্তু শোক তাঁকে বিচারবোধহীন করে দেয়নি। তাই তিনি সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। বিগত এক দশকে ‘দ্বেষপ্রেম’ শব্দটা আমাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছে। নির্মিত হয়েছে দেশপ্রেমের অন্য ভাষ্য।

অপরকে বিদ্বেষের মধ্যেই দেশপ্রেমের সার্থকতা খুঁজতে নেমেছে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান তত্ত্বের রাজনৈতিক কারবারীরা। সেই উন্মাদনায় অনেক মানুষকে মাতিয়ে রাখতেও তারা সক্ষম হয়েছে। মুসলমান আর কাশ্মীরিরাই শুধু নন। ধর্মনিরপেক্ষ, উদারমনা, মুক্তমনারাও এখন তাদের নিশানা। এভাবেই ফ্যাসিবাদের নিশানায় চলে আসে নানা পক্ষ। যত শত্রু বাড়বে, তত তার ভাল।

পহলগামের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তাই ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের বিরুদ্ধেও সংগঠিতভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ধর্মনিরপেক্ষদেরই দেশছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাংলার মাটিতে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। করছেন টিভি চ্যানেলের একজন অ্যাংকর। মৃদু প্রতিবাদ ছাড়া কিছুই হয়নি। এরপরেও আমরা সেই অ্যাংকরের চেল্লামিল্লি পয়সা দিয়ে গিলছি। উন্মাদনার গ্রহণযোগ্যতা এতটাই যে বাংলায় বসে নজরুলকে অপমান করেও খবর বেচার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া যায়।

প্রশ্ন করতে হয় আমরা ভয় পাচ্ছি, নয়ত ভুলে গেছি। মগজ জুড়ে জারি হয়েছে কারফিউ। যারা ধর্মনিরপেক্ষদের দেশছাড়ার হুমকি দিচ্ছে, মনে প্রাণে তারা কতটা ভারতীয়? দেশটা তো এখনো ধর্মনিরপেক্ষ রয়েছে। ধর্মীয় রাষ্ট্রের পরিণতি পাকিস্তানকে দেখেই বোঝা যায়। সম্পূর্ণ ব্যর্থ একটি রাষ্ট্র। জন্মের দুই দশক পার করেই ধর্মীয় রাষ্ট্রের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে দেশ ভেঙে বাংলাদেশের জন্ম হয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতার লড়াই আজও সে দেশে জারি আছে। ধর্ম আর রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন দিয়ে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রাখা যায়নি। নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ ফুরোবার আগেই পতন, রাষ্ট্রনেতাকে হত্যা, সামরিক অভ্যুত্থানে অভ্যস্ত এই দেশে গণতন্ত্র এখনো ভিত খুঁজে পায়নি।

বিদেশি ঋণে গলা অবধি ডুবে থাকা দেশটার অর্থনীতি একেবারেই বিধ্বস্ত। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের মত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থে চলছে পাকিস্তান। চীনের থেকেও তারা বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে। বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার একেবারে তলানিতে। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্য সংকট সাধারণ মানুষের দুর্দশা আরও বাড়িয়েছে। অথচ জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ, আশ্রয়, প্রশ্রয় দিতে এই দেশের সরকারের জুড়ি মেলা ভার। মৌলবাদ আর স্বৈরাচারের চরম পরিণতির নিদর্শন পাকিস্তান।

আজ যারা ধর্মনিরপেক্ষ, মুক্তমনা, বামপন্থী মানুষকে ভারত ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে তারা ভারতের এমন পরিণতিই কি চায়? পাকিস্তানের স্বৈরাচারী রাষ্ট্র আর তার দ্বারা নিপীড়িত সেদেশের নাগরিক সমার্থক নন। যেমন সমার্থক নন ভারতে বিদ্বেষের রাজনীতির কারবারীরা আর সাধারণ ভারতবাসী। যুদ্ধের উন্মাদনায় যেন ভুলে না যাই – যুদ্ধ মানেই দুই দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার সংকট বৃদ্ধি। যুদ্ধ মানে রুজিতে টান, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে পাকিস্তান, ভারত – কোনো দেশের অবস্থানই কিন্তু গৌরবজনক নয়।

ভারত সরকারের তরফ থেকে পরিমিত আক্রমণের কথা যখন বলা হচ্ছে, তখন ভুয়ো খবর, ভিডিও দেখিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কেন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে? সহজ কথা – ব্যবসা। দেশপ্রেম ওদের কাছে পণ্য। মূল স্রোতের অনেকগুলো সংবাদমাধ্যম একযোগে গত ৮ মে রাত থেকে যেভাবে ভুয়ো খবর দেখিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করল, তাতে অনেক তথাকথিত উদার বা মুক্তমনাও আবেগে ভেসে গেলেন। কেন্দ্র বিবৃতি দিতে বাধ্য হল। এই সময়ে ভুয়ো খবর ছড়ালে ভারতের লাভের থেকে ক্ষতিই বেশি। তবুও দেশপ্রেমের মুখোশ পরে নাগরিকদের আবেগে ভাসিয়ে ব্যবসা ভাল জমে উঠল।

বাংলার এক নিউজ চ্যানেলের অতিপরিচিতা অ্যাংকর সোশাল মিডিয়ায় যুদ্ধবিরোধী প্রচারকদের গণপিটুনির উস্কানি দিলেন। গণতন্ত্রের উপর এই আক্রমণ যুদ্ধোন্মাদনার অঙ্গ। স্রেফ ব্যবসার জন্য যারা ভুয়ো খবর পরিবেশন করে, উস্কানি দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে আসামী করে, সংবিধানের বিরোধিতা করে গৃহযুদ্ধ লাগাতে চায়, তাদের কোনো শাস্তি হচ্ছে না। তারা সরকারের প্রশ্রয় পাচ্ছে। উলটে স্রোতের বিপরীতে চলা বিকল্প সংবাদমাধ্যম, ইউটিউব চ্যানেলগুলোকে আক্রমণের নিশানা করা হচ্ছে। এক দশক ধরে সরকার আর দেশ, সরকারের প্রতি অন্ধ আনুগত্য আর দেশপ্রেম – সমার্থক হয়ে গেছে। এখন বোধহয় ভারতবাসীকে কর্পোরেট মালিকানাধীন মিডিয়া সাম্রাজ্যেরও অনুগত হতে হবে।

সম্প্রতি আদানি গোষ্ঠী অপ্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুজরাটে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ২৫,০০০ হেক্টর জমি সরকারের থেকে পেয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তের থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতিরক্ষা দফতরের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, দেশের নিরাপত্তার বিচারে এমন জায়গায় বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি কতখানি যুক্তিসম্মত? সীমান্তে গৌতম আদানি প্রকল্প গড়ছেন আর জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাক আক্রমণে সাধারণ ভারতবাসী শহিদ হচ্ছেন।

অপারেশন সিঁদুরের ট্রেডমার্ক ব্যবহার করার অধিকার পেতে কন্ট্রোলার জেনারেল অফ পেটেন্টস, ডিজাইন্স অ্যান্ড ট্রেডমার্কসের দফতরে ইতিমধ্যেই একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজও আবেদন করেছিল, হইচই বেধে যাওয়ায় প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এক জুনিয়র কর্মচারি অসাবধানতায় নাকি এই আবেদন করে ফেলেছিলেন – এমনই বয়ান দিতে বাধ্য হয়েছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী।

বলিউডে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হত্যাকাণ্ড, যুদ্ধ নিয়ে অতীতে একাধিক ছায়াছবি তৈরি হয়েছে। এইসব ছবি বাণিজ্যিকভাবে সফলও হয়েছে। পহলগাম নিয়েও হয়ত ভবিষ্যতে সিনেমা হবে। স্বাধীনতা ও সাধারণতন্ত্র দিবসে বিভিন্ন বিনোদনমূলক চ্যানেলে এইসব ছবি দেখানো হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত সিনেমা এসবের কাছে এখন অনেকটাই কোণঠাসা। আমরা দেশপ্রেমে উদ্বেল হই কেবল প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সংঘর্ষের উত্তেজনায়। যুদ্ধোন্মাদনা কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিরই নয়, কর্পোরেট ব্যবসারও বড় রসদ। রাষ্ট্রের সীমানা অনেকসময় বদলে যায়, বদলে যাওয়া সীমানা কূটনীতির সমীকরণ বদলায়, যুদ্ধোন্মাদনা থেকেই যায়।

আইএমএফের কাছে পাকিস্তানকে আর ঋণ না দেওয়ার দাবি তুলেছে ভারত। ভারতের অভিযোগ, ঋণের অর্থ পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে পুষ্ট করতে কাজে লাগায়। গত ৯ মে পাকিস্তানের ২৩০ কোটি ডলার ঋণের অনুমোদন নিয়ে আইএমএফের কার্যকরী পরিষদের বৈঠক ছিল। সেখানেও ভারত এই দাবি তোলে।

ঋণের অর্থ যে পাকিস্তানিদের ভালর জন্য ব্যবহার করা হয় না, বড় অংশই জঙ্গিদের কাজে লাগে – একথা কারোর অজানা নয়। ঋণ দেওয়াও হয় কোনো দেশকে আরও ঋণের জালে জড়াতে। সেই দেশে বিদেশি শক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণ বাড়ে। পাকিস্তান যত জঙ্গিদের মদত দেবে, তত অস্ত্রের ব্যবসা বাড়বে। আইএমএফের টাকা ঘুরপথে পাবে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা, আর ঋণগ্রহীতা দেশ আরও ঋণের জালে জড়াবে। ভূ-রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলের নাক গলানোর সুযোগ বাড়বে। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অনেকের লাভ। ১০ মে দুই দেশ সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা করেছে। যদিও তা লঙ্ঘনের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এই গোটা পর্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক নানা টানাপোড়েন, কূটনীতি, অর্থনীতি।

আরো পড়ুন ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে: রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ, একাধিপত্য, সান্ত্বনাবাক্য

আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিরুদ্ধে, আন্তর্জাতিক পুঁজির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বরাবর বামেরা সরব থেকেছে। ভক্তের দল যখন আমেরিকায় ‘অব কি বার ট্রাম্প সরকার’ স্লোগান দিয়েছে, বামেরা তখন মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকেছে। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বামই বড় বেশি সতর্ক। বেশ কয়েকটি বাম দলের বিবৃতিতে সেই সতর্কতা ফুটে উঠেছে। প্রকাশ্যে যুদ্ধের বিরোধিতা করতে, যুদ্ধের সঙ্গে পুঁজির সম্পর্ক নিয়ে বলতে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত। সরকারকে প্রশ্ন করতেও অনেকখানি হিসাবী। এই সংকটের মুহূর্তে তাদের বড় দায় রয়েছে।

জঙ্গি নেতা, সংগঠনকে নিকেশ করেও সন্ত্রাসবাদ দমন করা যায়নি। নতুন নতুন নেতা, নতুন সংগঠন গজিয়ে উঠেছে। বলা ভাল, তৈরি করা হয়েছে। প্যালেস্তাইনে একসময় হামাসকে মদত দেওয়া, আফগানিস্তানে বামেদের রুখতে তালিবানদের মদত দেওয়ার খলনায়ক আন্তর্জাতিক পুঁজির মাতব্বররাই। পুঁজির স্বার্থেই সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেওয়া হয়, তাকে লালনপালন করা হয়। যুদ্ধোন্মাদনায় সেই কথা আবার সোচ্চারে বলা দরকার।

আমাদের জাতীয় পতাকার মাঝে রয়েছে অশোক চক্র। অশোকের সিংহচতুর্মুখ স্তম্ভশীর্ষকে জাতীয় প্রতীক করা হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন ধুমধাম করে পালিত হবে। কিন্তু তাঁকে জানা বোঝা, আত্মস্থ করার কাজটা হবে না। আমরা নজরুলকে অপমান করা চ্যানেলও দেখব, আবার দুদিন পরে নজরুল জয়ন্তী পালন করে বাঙালিয়ানার ঢেঁকুরও তুলব। যেমন করে যুদ্ধ উন্মাদনায় নিজেদের সেঁকে এবার পঁচিশে বৈশাখ পালন করলাম। সবই যেন বিনোদনের রসদ।

জাতীয়তাবাদ কীভাবে মানবতা ধ্বংস করে সেই সাবধানবাণী শুনিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং সভ্যতার পক্ষে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ। তিনিই তো বলেছিলেন “দেশ মৃন্ময় নয়, সে চিন্ময়। মানুষ যদি প্রকাশমান হয় তবেই দেশ প্রকাশিত। সুজলা সুফলা মলয়জশীতলা ভূমির কথা যতই উচ্চকন্ঠে রটাব ততই জবাবদিহির দায় বাড়বে। প্রশ্ন উঠবে প্রাকৃতিক দান তো উপাদান মাত্র, তা নিয়ে মানবিক সম্পদ কতটা গড়ে তোলা হল। মানুষের হাতে দেশের জল যদি যায় শুকিয়ে, ফল যদি যায় মরে, মলয়জ যদি বিষিয়ে ওঠে মারীবীজে, শস্যের জমি যদি হয় বন্ধ্যা, তবে কাব্যকথায় দেশের লজ্জা চাপা পড়বে না। দেশ মাটিতে তৈরী নয়, দেশ মানুষে তৈরী।”

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.