অনেকদিন পর রুটির সঙ্গে ডাল জুটেছে নন্দন সাউয়ের পরিবারের। ডাল খাওয়াও এখন বিলাসিতা। খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ছে, রোজগার কমছে নন্দন সাউদের। নেই জীবিকার নিশ্চয়তা। তিনি জুটমিলে কাজ করছেন নয় নয় করে কুড়ি বছরের বেশি। হুগলী জেলার রিষড়ার ওয়েলিংটন জুটমিল শ্রমিক নন্দন। এটা ভারতবর্ষের প্রথম জুটমিল। অতিমারির সময়ে মিল বন্ধ হয়। মাঝে খুলেছিল, এখন আবার বন্ধ। মিলে তাঁর দৈনিক মজুরি ছিল ৪৭০ টাকা। মিল বন্ধের পর কিছুদিন নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন। অনভ্যাস ও পরিশ্রমে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। পাশের হেস্টিংস জুট মিলে কাজ করে এখন রোজ মেলে ৩৬০ টাকা। মাসে ১২ থেকে ১৪ দিনের বেশি কাজ পান না। পাঁচ হাজার টাকারও কম মাসিক রোজগারে সংসার আর চলে না। রেশনে মাসে মেলে মাথাপিছু মাত্র তিন কেজি গম। বাজার থেকে আটাও কিনতে হয়।

মহানগরী কলকাতার কাছেই এভাবে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন জুট মিলের শ্রমিকরা। শ্রমিক আবাসন নামেই। অসহ্য গরমে ছোট্ট ঘরে লো ভোল্টেজে পাখা ঘোরে খুব আস্তে। জলও ঠিকমত মেলে না। মিল বন্ধ হলে শুধু রুজিতেই টান পড়ে না। বিদ্যুৎ, জলেরও আকাল হয়। ছেলেমেয়েদের অনলাইন ক্লাস যেন রূপকথা। এই জুট মিলের শ্রমিক আবাসনে বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতির জন্য একসময় লাল ঝান্ডা নিয়ে লড়েছিলেন মজদুররা। সকলের আলাদা শৌচাগারও নেই। জরুরি বিভাগে কাজ করা সাফাই কর্মীদেরও মজুরি ঠিকমত মিলছে না। কেউ কম মজুরিতে অন্য মিলে কাজ করছেন, কেউ বা হকারি বা নির্মাণকর্মীর কাজ করে কোনোক্রমে পেট চালাচ্ছেন।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

রেশন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের শেষ নেই। আর সেই ভাষণে ভুলে মধ্যবিত্তরা বিনা পয়সা বা কম দামে চাল, গম দেওয়া অর্থনীতির পক্ষে ক্ষতিকর কিনা তা নিয়ে তর্কে মাতেন। পণ্ডিতের দল পক্ষে বা বিপক্ষে নানা তত্ত্ব দিয়ে সেমিনার থেকে পত্রিকা আলোকিত করেন। প্রত্যেক নাগরিকের পেটভরা, পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা দেওয়া যে রাষ্ট্রের কাজ, অনেকেই সে কথা ভুলে যান। আর কে এস ওয়াই ওয়ান কার্ডে মাসে তিন কেজি গম আর দু কেজি চালে বন্ধ কারখানার শ্রমিকের চলে না। আর কে এস ওয়াই টু কার্ডে বরাদ্দ আরও কম। আবার এমন শ্রমিকও আছেন, যাঁর রেশন কার্ড নেই। এক বছর আগে আবেদন করেও পাননি। অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা বা পি এইচ এইচ কার্ড থাকলে চাল, গম বেশি পাওয়া যেত। কেন বন্ধ কারখানার শ্রমিক বেশি রেশন পাবেন না? কেন্দ্র বা রাজ্য — কোনো সরকারের থেকেই উত্তর মেলে না। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনেও বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের বেশি রেশন, তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়ার দাবি বিশেষ গুরুত্ব পায় না। জুটমিল মাঝে মাঝে বন্ধ হওয়াই যেন ভবিতব্য।

রিষড়ার পাশের শহর শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুট মিলেও একই অবস্থা। তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত বছর জুলাই মাসে খুলেছিল, কিছুদিন চলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এই মিলের হরি পাসোয়ান ভ্যানরিকশা চালিয়ে রোজগার করছিলেন। মিল খোলায় আশার আলো দেখেছিলেন, হতাশ হতে বেশি দেরি হয়নি। চন্দননগর গোন্দলপাড়া জুট মিলের অবস্থাও আলাদা নয়। বেশ কয়েকজন শ্রমিক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু হুগলি জেলা নয়, রাজ্যের প্রায় সব জুটমিলের এটাই এখন অবস্থা। মিল চালু রাখা, বন্ধ করা সবই চলে মালিকের মর্জি মাফিক। মাঝে মাঝে ঢাকঢোল পিটিয়ে কিছুদিনের জন্য মিল খোলে, আবার বন্ধ হয়। মিল খোলার সময় মন্ত্রী আর শাসক দলের নেতাদের ভাষণবাজি চলে, বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা মৌনব্রত পালন করেন। ভোট এলে হইচই হয় অনেক হিসেব কষে। কারখানা বন্ধ থাকায় ভিনরাজ্যের শ্রমিকরা অনেকে দেশে ফিরে যান। তাঁরা ফিরলে কাদের ভোট দেবেন, তা নিয়ে শাসক দলের মধ্যে ধন্দ থাকে। আবার বিরোধীরাও সবার ভোট পাওয়া নিয়ে নিশ্চিত হতে পারে না। তবু ভোটের আগে মিল খোলার আশা থাকে। সঙ্গে থাকে ভোট মিটলে আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

শ্রম নিবিড় চটশিল্প কর্মসংস্থানের বড় উৎস ছিল। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এই রাজ্যের জুটমিলগুলোতে কাজের জন্য আসতেন। জুটমিলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল নানা ভাষা, জাত, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনকেন্দ্র। এখন উল্টো। শ্রমিকের পরের প্রজন্ম মজুরের কাজ করতে পাড়ি দিচ্ছে অন্য রাজ্যে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর ‘লেবার ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নামে বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশিত হত। রাজ্যের কোন ক্ষেত্রে কতজন চাকরি করছেন, নথিভুক্ত বেকারের সংখ্যা কত – এসব তথ্য সেই রিপোর্ট থেকে জানা যেত। আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক চিত্রও মিলত। তৃণমূল সরকারের আমলে দীর্ঘকাল সেই রিপোর্ট আর প্রকাশিত হয় না। জুট মিলে শ্রমিকের সংখ্যা কত কমেছে সে তথ্য মানুষ জানতে পারেন না। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের ভাতা নিয়েও চলছে অনিয়ম ও মিথ্যা প্রচার। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই এই ভাতা চালু হয়, বর্তমান সরকার ভাতার পরিমাণ বাড়িয়েছে মাত্র। তবুও ভাতা না দেওয়ার জন্য মালিকপক্ষের সঙ্গে সরকারের বোঝাপড়ায় মিল খোলা-বন্ধের খেলা চলার অভিযোগ ওঠে।

জুটমিলগুলোতে শ্রমিকের সংখ্যা অনেক কমেছে। বেড়েছে শ্রমিকদের খাটুনি এবং দৈনিক কাজের সময়। স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে, বাড়ানো হয়েছে নানা নামের কম মজুরির অস্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা। জিরো নম্বরে, অর্ধেক মজুরিতে অনেকে কাজ করছেন। এদের নাম নথিভুক্ত হয় না। রয়েছেন ভাগাওয়ালা। মানে খাতায় একজন মজুরের নাম রয়েছে, তিনি কাজের বোঝা কমাতে অন্যকে দিয়ে কাজ করান। সেই শ্রমিক মজুরির একটা ভাগ পান। ভাউচার, ঠিকা, ট্রেনি ইত্যাদি রকমারি নামে শ্রমিকদের কম মজুরিতে খাটিয়ে নেওয়া হয়। এদের প্রতিবাদ করার সুযোগ কম। রয়েছে ছাঁটাই হওয়া বা কাজ না পাওয়ার আশঙ্কা। শ্রমের বাজারে চলে চূড়ান্ত অরাজকতা। শ্রম আইন এইসব শ্রমিকদের কাছে প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়।

শ্রম দপ্তর সবই জানে। বন্ধ কারখানার সংখ্যা যত বাড়ে, তত চালু কারখানায় কম মজুরিতে কাজ করা লোকের সংখ্যা বাড়ে, জুটমিলগুলো পালা করে বন্ধ হয়। কাজ দেওয়ার নামে গড়ে উঠেছে এক দালাল চক্র। শাসক দল, ট্রেড ইউনিয়নগুলোর অনেক নেতা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। মালিকের বিরুদ্ধে শ্রেণিসংগ্রাম দূরের কথা; মিল কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন, এলাকার বাহুবলীদের একাংশকে নিয়ে চলে কম মজুরিতে কাজ করানোর নিকৃষ্ট খেলা। এ-ও যেন এক সিন্ডিকেট।

শ্রমিকদের সঙ্কট যত বাড়ছে, তত বাড়ছে ধর্ম জাত ভাষার ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি। শ্রমিকদের মধ্যে মানসিক বিভাজন আগেই ছিল, এখন তাকে পরিপুষ্ট করা হচ্ছে। উত্তর চব্বিশ পরগণার ভাটপাড়া থেকে হুগলির তেলেনিপাড়া – একের পর এক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে। বিজেপি আর তৃণমুল দুই দলেরই মদত স্পষ্ট। ভোটকেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন বাড়াচ্ছে। তারই সঙ্গে চলছে ভাষাকে কেন্দ্র করে বিভাজনের চোরা স্রোত। এসবে লাভ হচ্ছে মালিকপক্ষের।

মালিকানা নিয়েও চূড়ান্ত অরাজকতা চলছে। অধিকাংশ মিলের নির্দিষ্ট মালিকানা নেই, লিজ বা সাব লিজে অনেক মিল চলছে। মালিক পাওনা না মেটালে অনেক ক্ষেত্রেই কাঁচাপাটের আড়তদার, মিলের পাওনাদারদের মিল লিজ দেওয়া হয়। এরা শিল্পপতি নয়, মিল স্থায়ীভাবে চালানোর বিশেষ ইচ্ছে থাকে না। বরং মিলের সম্পত্তি সরিয়ে নেওয়ার মতলব থাকে। এমন মালিকের অন্যতম উদ্দেশ্য কোনো না কোনো অজুহাতে মিল বন্ধ করে দেওয়া। মালিকানার ঘন ঘন পরিবর্তনে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির গুরুত্ব থাকে না, সরকারও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয় না। শাসক দল, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে মালিক একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে চলে। গ্র্যাচুইটি, পিএফ, পেনশনের টাকা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রমিকের অর্থ আত্মসাৎ করাই এখন স্বাভাবিক। রাজ্য সরকারের কাছে এসব ছোট ঘটনা। তাই মালিকের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। বড় ঘটনা শ্রমিকদের প্রতিবাদ। প্রতিবাদ হলেই পুলিশ থেকে শাসক দলের নেতা — সবাই তা দমনে ঝাঁপিয়ে পড়ে, মিলের ঝাঁপ বন্ধ করে মালিক থাকেন বহাল তবিয়তে। কেউ আবার শিল্পপতি হিসেবে মন্ত্রীমশাইদের বিদেশ সফরের সঙ্গী হন।

কাঁচা পাটের অভাব বা মূল্যবৃদ্ধি এখন জুটমিল বন্ধের অন্যতম অজুহাত। অথচ অনেক মালিক মিল চালানোর থেকে কাঁচা পাট মজুত করে রাখতেই বেশি উদ্যোগী। একদিকে পাটচাষিরা সঠিক দাম পান না, অপর দিকে মিল মালিক কাঁচা পাটের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেয়। চাষির থেকে কাঁচা পাট কেনা থেকে শুরু করে মিলে বিক্রি — সবেতেই সক্রিয় ফড়ে ও আড়তদাররা। এদের দাপটে পাটচাষিরাও বিপন্ন। ঘোষিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) অনেক কম দামে চাষি পাট বেচতে বাধ্য হন। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার ভূমিকাও নিন্দনীয়। ১৯৭১ সালে জুট কর্পোরেশন স্থাপনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল পাট চাষিদের ন্যায্য দাম পাওয়া সুনিশ্চিত করা। নয়া উদারনীতির সর্বনেশে খেলায় জুট কর্পোরেশন এখন অনেকখানি নিষ্ক্রিয়। কাঁচা পাটের বাজার ফড়ে ও আড়তদারদের দখলে চলে গেছে। সঠিক দাম না পাওয়ায় অনেকেই পাট চাষে আর উৎসাহ পান না। বাংলায় এখন পাট চাষ কমে যাচ্ছে। কোনো কোনো কৃষক পাট চাষ করছেন বহুদিনের অভ্যাসের বশে, কেউ বা জ্বালানির সংস্থানের জন্য। গত বছর সরকারি সহায়ক মূল্যে পাট বিক্রি করতে না পারলেও, পাট চাষ কম হওয়ায় অনেক কৃষক ভাল দাম পেয়েছিলেন। পাটের ফলন বেশি হলে দাম আবার কমে যাবে। সবটাই নিয়ন্ত্রণ করছে বাজার অর্থনীতি। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কার্যত কোনো ভূমিকাই নেই।

জুট কর্পোরেশন সঠিক ভূমিকা পালন করলে অবস্থা এত সঙ্গীন হত না। কৃষক সঠিক দাম পেতেন, আবার কাঁচা পাট নিয়ে কালোবাজারি, মজুতদারিও বন্ধ হত। জুটমিলগুলোরও সমস্যা অনেকখানি লাঘব হত। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ জুটমিল শ্রমিকের সঙ্গে পাট চাষিদের স্বার্থ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। চট শিল্প রুগ্ন হওয়ায়, একসময়ের লাভজনক পাট চাষেও এখন কৃষক লাভের আশা বিশেষ করেন না। কাঁচা পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জুটমিল পরিচালনায় অরাজকতা দূর করতে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আজকের এই অবস্থা হত না।

বাম রাজনীতির পরিসরে শ্রমিক-কৃষক ঐক্য গড়ে তোলার স্লোগান খুব পরিচিত। কিন্তু পাটচাষিদের সঙ্গে জুটমিল শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের উদ্যোগ বাম রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পায় না। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম তো দূরের কথা। পাটচাষিদের সঙ্গে জুটমিল শ্রমিকদের কোনো মানসিক মেলবন্ধন গড়ে ওঠেনি, তার চেষ্টাও বিশেষ হয় নি। আজ বহুল ব্যবহৃত শ্রমিক-কৃষক ঐক্যের স্লোগান বাস্তবায়নের সময় এসেছে। পাটচাষি ও জুটমিল শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইই পারবে এই শিল্পকে বাঁচাতে; কৃষকের ফসলের দাম, শ্রমিকের অধিকার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করতে। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে কৃষক সংগঠনগুলোর যৌথ সংগ্রাম কর্মসূচি আজ সময়ের দাবি। গতানুগতিক কর্মসূচির ঐক্য নয়, ধারাবাহিক আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে বামেদের এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

মতামত ব্যক্তিগত

আরো পড়ুন

ডানলপ শ্রমিকের অন্তহীন প্রতিক্ষা আজও শেষ হল না