সংসদ ভবনে খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের একটি কাচের ঘরের খাঁচায় বন্দি করে রাখা নিয়ে বিস্তর হইচই হয়ে গেল কয়েকদিন আগেই। কোথায় সাংসদদের সঙ্গে কথা বলা যাবে, কোথায় কথা বলা যাবে না – তা নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু সাংবাদিকরা, তাঁদের সংগঠন ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিষয়টি নিয়ে হইচই করার পরে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। কাচের খাঁচাটি অবশ্য এখনও রয়েছে।

আসলে সাংবাদিকদের খাঁচায় পুরে দেওয়ার চেষ্টা সব সরকারই কমবেশি চালিয়েছে। তা সে বামফ্রন্ট আমলে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রেস কর্নার ভেঙে দেওয়া হোক বা হাল আমলের নবান্নে সাংবাদিকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ হোক বা নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে সরকারি অফিসারদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে অঘোষিত বিধিনিষেধই হোক। তবে এবার আশঙ্কা – সাংবাদিকদের সরকারি বিধিনিষেধ ও আইনি ঘেরাটোপে আনার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া নিয়ে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এতদিন পর্যন্ত ব্যাপারটি ক্ষেত্রবিশেষে থানায় অভিযোগ, আইনি নোটিস বা ধরপাকড়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার আর ক্ষেত্রবিশেষ নয়, পুরো ব্যাপারটিই আইনি জালে নিয়ে আসতে চলেছে নতুন নরেন্দ্র মোদী সরকার – এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যাপারটি হল স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের উপর আইনি খবরদারি। শুধু স্বাধীন সংবাদমাধ্যমই বা বলি কী করে? এই খবরদারি সমস্ত নাগরিকের উপরেই, যাঁরা সংবাদ সংক্রান্ত নানা টিকা টিপ্পনী করে থাকেন সোশাল মিডিয়ায় বা ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে।

গত বছরের নভেম্বরে দ্য ব্রডকাস্টিং সার্ভিসেস (রেগুলেশন) বিল ২০২৩-এর খসড়া প্রকাশ করেছিল সরকার। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, সেই বিলের উদ্দেশ্য ছিল মূলত দ্য কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস অ্যাক্ট ১৯৯৫-কে সরিয়ে বর্তমান টিভি, রেডিও এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে একটি আইনের ছাতার তলায় আনা। তাতে অবশ্যই স্যাটেলাইট ব্রডকাস্টিংয়ের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ককেও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।

সেই বিল সকলের পরামর্শের জন্য সর্বসমক্ষে বিলি করা হলেও, সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদন বলছে, এবার বিলটির নাকি একটি দ্বিতীয় খসড়া তৈরি হয়েছে এবং সেই খসড়ার প্রতিটি কপি বিশেষভাবে চিহ্নিত করে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের মধ্যে বিলি করা হয়েছে, যাতে কেউ বিলটি সংবাদমাধ্যম বা অন্য কারোর কাছে ফাঁস করে দিতে না পারেন। আগামী ১০ অগাস্টের মধ্যে তাঁদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকে।

দ্বিতীয় খসড়াটি প্রকাশ্যে আনেনি সরকার। যদিও প্রথম খসড়ার ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি খবর ও ঘটনা নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান করে অনলাইন সংবাদপত্র, ওয়েবসাইট বা সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করেন (ছাপা সংবাদপত্রের ই-পেপার বা প্রতিলিপি ছাড়া), তাহলে তিনিও এই আইনের আওতায় আসবেন এবং তাঁকে আইনে বলে দেওয়া অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন কোড মেনে চলতে হবে। এখন খবরে প্রকাশ, দ্বিতীয় খসড়ায় যেসব স্বাধীন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক প্রতিদিনের খবরের বিশ্লেষণ করেন তাঁদেরও এই বিলের আওতায় আনা হচ্ছে। আর এটি শুধুই ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে খবর বা বিশ্লেষণ নয়, ডিজিটাল মাধ্যমে লেখালিখির বেলাতেও প্রযোজ্য হবে।

এই নিয়ে সংসদে তৃণমূলের দুই সাংসদ নাদিমুল হক ও জহর সরকার আলাদা আলাদা ভাবে প্রশ্ন করলে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান শুধু বলেছেন যে বিলটি আলোচনার স্তরে রয়েছে। এই সরকারের আমলে কোনো বিলকে সংসদে পেশ করার পর বিভিন্ন দলের সাংসদদের নিয়ে তৈরি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর রীতি প্রায় উঠেই গেছে।

এখন কাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আলোচনা নাকি দরদাম, ভবিষ্যতে বিরোধী দলের সাংসদদের কথা শোনা হবে কিনা – তা বোঝা ভারি মুশকিল। কিন্তু রবীশ কুমার, ধ্রুব রাঠি, আকাশ ব্যানার্জি, ফে ডিসুজা, অভিসার শর্মা, পুণ্যপ্রসূন বাজপেয়ীদের যে সরকার বেজায় ভয় পেয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবারের নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে, যে তথাকথিত গোদি মিডিয়া বা কর্পোরেট মিডিয়ার মূলধারার সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের তৈরি করা আলেখ্যের বিপরীতে এই স্বাধীন সাংবাদিক বা সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের আলেখ্য ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলেছে। কর্পোরেট মিডিয়া, এমনকি রাজনৈতিক দলের সোশাল মিডিয়া সেলও এবার ফেল করে গেছে একতরফা মোদী বন্দনা প্রচার করার কাজে।

মূলধারার সংবাদমাধ্যমের থেকেও মোবাইল ইন্টারনেট ও সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারী জনতা এই ‘ইনফ্লুয়েন্সার’-দের কথা বেশি শুনেছে, ভিডিও ক্লিপ বেশি দেখেছে, আর সোশাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক খবর নিয়ে বেশি আলাপ আলোচনা করেছে। সুতরাং এই অবাধ্য জনতাকে বাগে আনার কোনো না কোনো উপায় সরকার খুঁজবেই। কারণ আগের আইন দিয়ে অসংগঠিত সোশাল মিডিয়ার রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের বাগে আনা কঠিন হচ্ছে। সুতরাং প্রথমে রেজিস্ট্রেশন, তারপর প্রোগ্রাম কোড বা বিভিন্ন পেপারওয়ার্কের নাম করে তাঁদের ঘিরে ফেলতে চাইবে সরকার। এটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

আরো পড়ুন নির্বাচনের ফলে হেরে গেছে দেশের অসাধু মিডিয়া

একেই ডিজিটাল মাধ্যমের সাংবাদিকদের সরকারি স্বীকৃতি দিতে টালবাহানা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারগুলি। গতবছরই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো ডিজিটাল মাধ্যমের সাংবাদিকদের অনুমোদন দেওয়ার নিয়মাবলী ধার্য করেছে। এখনো বহু রাজ্য সরকার তাও করে উঠতে পারেনি। তাঁদের কাছে এটাই ঠিক করা কঠিন হয়ে উঠেছে যে ডিজিটাল মাধ্যমে কে সাংবাদিক, কে বিশ্লেষক আর কে নানা জায়গা থেকে খবর সংগ্রহ করে ওয়েবসাইট বা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের মাধ্যমে সম্প্রচার করছে, বা কে কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হয়ে সংবাদ সরবরাহ ও বিশ্লেষণ করছে। কাজটি কঠিন, কিন্তু দুঃসাধ্য নয়। সদিচ্ছা থাকলে করা অসম্ভব নয়।

তাই কেউ ছোট ব্যবসার লাইসেন্স নিয়ে, তো কেউ কোনোরকম লাইসেন্স ছাড়াই খবর পরিবেশনের কাজ করে চলেছেন। তাঁরা অনেকেই বিজ্ঞাপন নিচ্ছেন বা সোশাল মিডিয়া থেকে দু-চার পয়সা পাচ্ছেনও। কর্পোরেট মিডিয়ার যুগে এই সমান্তরাল মিডিয়ার উত্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র বিকল্প রাজনৈতিক আলেখ্য তৈরি করার জন্য নয়, স্থানীয় ভাষায় নানা এলাকার স্থানীয় খবর দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই স্বাধীন মিডিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য। যে খবর কর্পোরেট মিডিয়ায় পাওয়া যায় না, তা এই সমস্ত সংবাদকর্মীরা সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। তাতে স্থানীয় মানুষ যেমন উপকৃত হন, তেমন স্থানীয় প্রশাসনও অনেকসময় উপকৃত হয়।

যথাযথ নিয়ম তৈরি করে এই সমস্ত স্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকদিন ধরেই তৈরি হচ্ছিল। যেমন এই রাজ্যেরই আরামবাগ টিভির সফিকুল ইসলামকে যখন পুলিসবিরোধী (আসলে রাজ্য সরকারবিরোধী) খবর করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল, তখন পুলিস স্বীকারই করতে চায়নি যে সফিকুল একজন সাংবাদিক।

যদিও ভারতীয় আইনের চোখে সাংবাদিকরা আলাদা কোনো প্রাণী নন। দোষ করলে তাঁদের শাস্তি দেওয়ার জন্য সাধারণ আইনে অনেক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কর্পোরেট মিডিয়ার সাংবাদিকরা একটি আপাত নিরাপত্তার বলয়ে থাকেন। রাজনৈতিক পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে গিয়েও সাংবাদিকতা করেন অনেক ডিজিটাল সাংবাদিক। কিন্তু তাঁরা আইনি স্বীকৃতির অভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন প্রতিনিয়ত।

এই নতুন বিলে সেই ‘স্বীকৃতি’-র বন্দোবস্ত থাকলেও তার উদ্দেশ্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া নয়। বরং তাঁদের আইনের ঘেরাটোপে বাঁধা। খবরে প্রকাশ, কেউ একার চেষ্টায় কোনো খবর পরিবেশন করুক বা দু-চার জনের দল নিয়েই খবর পরিবেশন করুক, নতুন বিল অনুযায়ী তাঁকে প্রচুর কাগজপত্র জমা দিয়ে অনুমতি নিতে হবে। তার পর তাঁর কনটেন্ট যাচাই করার জন্য নিজের খরচে একটি কমিটি তৈরি করতে হবে। সেই কমিটি যাচাই করার পরই কনটেন্ট ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে। এছাড়া কোনো কনটেন্ট সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলে তার জন্য অফিসারও রাখতে হবে, যিনি এই অভিযোগের উত্তর দেবেন। নয়ত ইউটিউব চ্যানেল হোক বা ওয়েবসাইট – ঘ্যাচাং ফু হয়ে যাবে।

যদিও নভেম্বর ২০২৩-এর বিলে নিজস্ব নজরদারি, মিডিয়া সংগঠনের নজরদারি ও তার পরে ব্রডকাস্টিং কর্তৃপক্ষের নজরদারির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আসলে যে পুরোটাই সরকারি নজরদারিতে চলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নিয়মাবলী দি ইনফরমেশন টেকনোলজি (ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স (কোড) রুলস ২০২১ (যা ২০২৩ সালে পরিমার্জন করা হয়)-এও যা বলা হয়েছিল এবং কার্যক্ষেত্রে যেভাবে ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিকদের সরকারি নির্দেশে হেনস্থা করা হয়েছিল, তা কারোর অজানা নয়। গত বছরের ২১ মার্চ সংসদে প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর একটি হিসাব দিয়েছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু ডিসেম্বর ২০২১-মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত তাঁর মন্ত্রক তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০-এর ৬৯(ক) ধারা অনুযায়ী (জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ইত্যাদি কারণে) ১১০টি ইউটিউব নির্ভর খবরের চ্যানেল, ২৪৮টি ইউআরএল (যার মধ্যে ওয়েব পেজ, ওয়েবসাইট, সোশাল মিডিয়া পোস্ট ও অ্যাকাউন্ট) বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। একই উত্তরে অনুরাগ জানিয়েছিলেন যে প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সকেও সরকার মানে না। কারণ এটি একটি বিদেশি বেসরকারি সংস্থার তৈরি করা তালিকা। তাদের নমুনার সংখ্যা কম, গণতান্ত্রিক মূল পরিকাঠামোকে তারা কোনো গুরুত্ব দেয় না এবং তাদের এই তালিকা তৈরির পদ্ধতিও সন্দেহজনক এবং অস্বচ্ছ।

এই নিয়মাবলীর প্রতিবাদে ডিজিটাল মিডিয়া সংস্থাগুলির সংগঠন ডিজিপাব আদালতে গেছে। কিন্তু এইসব আইনকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করা হলেও এগুলি স্বাধীন ডিজিটাল মাধ্যমের সাংবাদিকদের ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এখনো সরকারিভাবে জানা নেই যে এই নতুন ব্রডকাস্টিং আইন কীভাবে আমাদের সামনে আসবে, বা সেই আইনের উপর ভিত্তি করে কী নিয়মাবলী তৈরি হবে। কিন্তু এ যে মূলত স্বাধীন সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্যই তৈরি – সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

যাঁদের কলজের বা আইনের জোর নেই, তাঁদেরই পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলতে হবে। খাঁচার ভিতরে বসে থাকতে হবে। বাইরে গেলেই অন্য খাঁচা অপেক্ষা করবে তাঁদের জন্য।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.