শ্রীমু

ধন্য ধন্য টলি করি নমস্কার।
যত কিছু বিঘটন স্বরূপ তোমার।।
তোমার প্রতাপে শুটিংয়ের প্রজাগণ।
করিতেছে সবে বহুবিধ আচরণ।।
বাণিজ্যে লবডঙ্কা শিল্প সংহার।
এই রাজ্যে হয়েছে তা কী বর্ণিব আর।।

উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতার বটতলায় ছাপাই কেতাবে এ ধরনের ছড়ার বেশ প্রচলন ছিল। বাংলার নিম্নবর্গীয় চটুল রসিকতা বিগত কয়েক দশক যাবৎ উচ্চবর্গের গবেষণার বিষয় বস্তু হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাংলা সিনেমার সাবঅল্টার্ন অলিন্দে যে ঘুণপোকার বাস তার হিসাবনিকাশ হচ্ছে কই? বাংলা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলী ব্যতীত এ নিয়ে মাথাব্যথা জনসাধারণের নেই, থাকার কথাও নয়।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সিনেমা, আরও নির্দিষ্ট করে বললে বাংলা সিনেমার প্রাসঙ্গিকতা, মোটের উপর নেই বললেই চলে। পশ্চিমবঙ্গে সিনেমার দর্শক পয়সা খরচ করে টিকিট কেটে বাংলা সিনেমা দেখতে আর আগ্রহী নন। তাঁরা জওয়ান, পাঠান, অ্যানিমাল, কল্কি প্রভৃতি ভিনরাজ্যের ছবিতে অর্থ ও সময় ব্যয় করতে রাজি, কিন্তু বাংলা সিনেমা নৈব নৈব চ। প্রমাণস্বরূপ কিছু পরিসংখ্যানে চোখ বোলালেই ছবিটা এক্কেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়। বক্স অফিস ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট বলছে, ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জওয়ান ছবির মোট আয়ের পরিমাণ ৩৯ কোটি, পাঠানের আয় প্রায় ৩৫ কোটি ও অ্যানিমাল ছবির আয় প্রায় ২০ কোটি। অর্থাৎ এই তিনটে ছবির মোট আয় টাকার পরিমাণে প্রায় একশো কোটি ছুঁই ছুঁই। সেখানে ২০২৪ সালে এখনো পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত ৫৪ বাংলা ছবির মোট আয়ের পরিমাণ ১৬ কোটি টাকার কিঞ্চিৎ বেশি। অর্থাৎ হাতে রইল ভাঙা পেন্সিল।

সুধী পাঠক, এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে নিজেকে আর লজ্জিত করবেন না। কারণ তলিয়ে দেখলে ঠাহর হবে যে আসল আয়ের পরিমাণ ষোলর কম বই বেশি নয়। কারণ বাড়িয়ে বলাই আমাদের জাতিধর্ম এবং এক্ষেত্রেও আমরা সেটা যথাযথ পালন করছি। তার মানে বাকি পাঁচ মাসে যদি আমরা ধরে নিই যে দুর্গা-কালী-দিওয়ালি-বড়দিন এই বাম্পার সময়ে আরও খান পঞ্চাশ ছবি মুক্তি পাবে এবং তাদের গড়পড়তা রোজগার বিগত সাত মাসের দ্বিগুণ হবে, তাহলেও বছরের শেষে প্রায় একশোটা বাংলা ছবির মোট আয়ের পরিমাণ মেরে কেটে ৫০ কোটি ছাড়াবে না। এবার আপনি যদি বিনিয়োগের আতসকাচ দিয়ে পুরো হিসাবটা তলিয়ে দেখেন তাহলে ব্যাপারটা আরও ফরসা হবে। গড়ে একটা বাংলা ছবি বানাতে যদি একজন প্রযোজককে ৭৫ লক্ষ থেকে এক কোটি টাকা খরচ করতে হয়, তাহলে একশোটা ছবিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৫-১০০ কোটির মত। অর্থাৎ এই বিনিয়োগের ৫০ শতাংশও বাজার থেকে উঠছে না। মনে রাখতে হবে, প্রযোজকের আয় কিন্তু এই মোট আয়ের শতকরা ৪০-৪৫ শতাংশের বেশি নয়। কারণ মাঝখানে হল মালিক, ডিস্ট্রিবিউটার – সবাই যে যার মত এই আয়ে ভাগ বসাচ্ছেন।

উপরের এই চিত্রটি যাকে বলে ‘বেস্ট কেস সেনারিও’। আসল চেহারা কিন্তু এর চেয়ে ঢের বেশি হতাশাজনক। এই অবস্থায় কোনো ব্যবসাবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন বাংলা সিনেমায় বিনিয়োগ করবেন? আর যদি বদ অভ্যাসের বশে বা অন্যান্য পেশাগত জাড্যতায় করেও থাকেন, তাহলে তিনি সারাক্ষণই ব্যয় সংকোচনের দিকে নজর দেবেন। গত ২০-২৫ বছর বাংলা সিনেমায় সেটাই হয়ে এসেছে। শুটিং দিবস ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে একটা বাংলা ছবির শুটিং হয় সাকুল্যে ১৬-২০ দিন। উল্লেখ্য, টিমটিম করে ছবি চললেও একজন প্রযোজক নামী পরিচালক বা অভিনেতৃবর্গের পারিশ্রমিক শুটিং দিবসের অনুপাতে কমাতে পারেন না। ফলে হাত পড়ে সিনেমার নিম্নবর্গের কর্মচারীদের মজুরিতে, যাদের টালিগঞ্জের ভাষায় ‘টেকনিশিয়ান’ বলা হয়ে থাকে।

এখন বাম চেতনায় পরিপুষ্ট এই দিন আনি দিন খাই কলাকুশলীদের স্বার্থরক্ষায় গড়ে ওঠা ট্রেড ইউনিয়নস্বরূপ সংগঠন বা গিল্ডগুলো প্রধানত চেষ্টা করে, যেন প্রযোজক ও তাদের কতিপয় প্রসাদধন্য ব্যবস্থাপকরা এদের ঠকিয়ে নিতে না পারেন। এখন পর্যন্ত টালিগঞ্জে মোট গিল্ডের সংখ্যা ২৩। ডিরেক্টর, সিনেমাটোগ্রাফার, এডিটার – এই ধরনের উচ্চবর্গীয় সংগঠন থেকে শুরু করে প্রোডাকশন ম্যানেজার, জুনিয়র আর্টিস্ট, মেক আপ আর্টিস্ট, সিনে ইলেকট্রিশিয়ান, সেটিং, স্টান্ট ম্যান, প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট; অর্থাৎ যে নামের তালিকা সিনেমার শেষে পর্দায় দেখামাত্রই আমরা তড়িঘড়ি আসন ছেড়ে উবের বুক করতে শুরু করি – সেই মানুষজনের সংগঠন। এঁরা প্রধানত পর্দার পিছনের কর্মী। এঁদের কোনো পরিচালক চিত্রনাট্য পড়ে শোনান না, এঁরা কোনো পুরস্কার পান না, সিনেমার দর্শক এঁদের সঙ্গে সেলফি তোলেন না। এঁরা আর পাঁচটা পেশার মত সিনেমাশিল্পে গায়ে গতরে খেটে রোজগার করেন, সংসার চালান। ছবি সুপারহিট হলে এঁদের মন ভালো হয় বটে, কিন্তু মুনাফার বিন্দুমাত্র এঁদের কপালে নেই। সেক্ষেত্রে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল না ঘোলাটে – এ নিয়ে এঁদের বিশেষ চিন্তার কারণ বা অবকাশ – কোনোটাই নেই। তবে এঁরা এটুকু বুঝতে পারেন যে সেদিনের সোনাঝরা সন্ধ্যা আর নেই। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা না করে মাসের যে কটা দিন কাজে লেগে থাকা যায় তাতেই গেরস্থের মঙ্গল।

এই ২৩ খানা গিল্ডের মাথার উপরে রয়েছে ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ন অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া নামক সমন্বয় সমিতি। এই সমিতির উদ্দেশ্য হল সবকটা গিল্ডের সদস্যরা যাতে কিছু সাধারণ নিয়মাবলী মেনে কাজে যোগ দেয় তার ব্যবস্থা করা, সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা এবং সর্বোপরি একটা ন্যূনতম বাজার দর ঠিক করা, যার নিচে কোনো প্রযোজক ফেডারেশনের সদস্য কলাকুশলীদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করতে পারবেন না। সবদিক বিবেচনা করলে সিনেমা শ্রমে নিযুক্ত ব্যক্তিদের স্বার্থরক্ষায় ফেডারেশনের গুরুত্ব অপরিসীম। মুম্বই, চেন্নাই সর্বত্র এ ধরনের ফেডারেশন রয়েছে। কিন্তু মুশকিল ওই একটাই – দর্শকের বাংলা সিনেমা বিমুখতা। এর ফলে প্রযোজকেরা চাইছেন শ্রমিক, কলাকুশলীদের সংখ্যা কমিয়ে ছবির বাজেট আয়ত্তে রাখতে। আর ফেডারেশন চাইছে নানা শর্ত চাপিয়ে যত বেশি সম্ভব লোকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে। আসলে চাহিদার থেকে জোগান বেশি হলে যে বাজারগত বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয় – এক্ষেত্রে সেটাই ঘটছে।

পুরো ব্যাপারটা যদি বাজার, অর্থনীতি, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে আবদ্ধ থাকত তাহলে একরকম হত। কিন্তু বাদ সেধেছে রাজনীতি, যা সেই বাম আমল থেকে আমাদের হাড়, অস্থি, মজ্জা এবং মগজে কারফিউয়ের মত গেড়ে বসেছে। যাঁর অঙ্গুলিহেলনে টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশন বর্তমানে চালিত হয়, তিনি টালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের সহোদর স্বরূপ। বাংলা সিনেমার অলিগলিতে তাঁর গুণের বহর একটু কান পাতলেই শোনা যায়। নজরদারি, খবরদারি, দখলদারিতে তাঁর এবং তাঁর স্যাঙ্গাতদের জুড়ি মেলা ভার। আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধনে বিগত কয়েক দশক ধরে এত বেশিসংখ্যক লোককে বিভিন্ন গিল্ডের সদস্য করা হয়েছে যে এখন সবাইকে নিয়মিত কাজের জোগান দেওয়া ক্রমশ দুষ্কর হয়ে পড়ছে। তাই ধরে বেঁধে নিয়মের ঘেরাটোপ চাপিয়ে জোর করে লোক নেওয়া ছাড়া আর কোনো পন্থা ইনি খুঁজে বার করতে পারেননি। এদিকে প্রযুক্তির দিক থেকে একবিংশ শতাব্দীতে সিনেমার ভোল একেবারে পাল্টে গেছে। ফলে বেশ কিছু নেপথ্যের কলাকুশলী প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছেন। যেমন ধরুন, গত শতক পর্যন্ত শুটিং চলাকালীন শট কন্টিনিউয়িটির জন্য একজন স্থির চিত্রগ্রাহককে বহাল করা হত। কিন্তু স্মার্টফোনের জমানায় তার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। শুটিং চলাকালীন যে কোনো শটের স্টিল গ্র্যাব বা স্থিরচিত্র সহজেই তুলে নেওয়া যায়। তাহলে একটা কম বাজেটের সিনেমার শুটিংয়ে জোর করে একজন স্থির চিত্রগ্রাহককে চাপিয়ে দিলে প্রযোজকই বা তা মেনে নেবেন কেন? সিনেমার শ্রমিকদের স্বার্থের কথা যদি বাস্তবিকই ভাবা হত, তাহলে অনেকদিন আগে এই ধরনের প্রায় নিশ্চিত প্রাসঙ্গিকতা হারানো কলাকুশলীদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন কিছু ভাবা হত, অথবা অন্য কোনো দক্ষতায় তাঁদের পারদর্শী করে নেওয়া যেত। কিন্তু সেসব ভাবার ঝকমারির মধ্যে যাওয়ার মত বিদ্যে বা ইচ্ছে অরূপ, স্বরূপ কুলোদ্ভবদের না থাকাই স্বাভাবিক। দুঃখের বিষয়, এঁদের আশেপাশে ঘোরা বহু পণ্ডিত ফ্যাত ফ্যাত সাঁই সাঁইদেরও একবার মনে হল না – কথাটা পেড়ে দেখলে হয়।

আরো পড়ুন অনুরাগে বীতরাগ দিয়ে বাঙালির চৌচির গৃহ ঢাকা যাবে না

পরিশেষে আসি গত এক পক্ষকাল যাবৎ ঘটে চলা ফেডারেশন বনাম চিত্র পরিচালকদের সংগঠনের মধ্যে ঝাড়পিটের স্বরূপ সন্ধানে। পরিচালক রাহুল মুখার্জী ফেডারেশনকে না জানিয়ে, ফেডারেশনের সদস্য কলাকুশলীদের না নিয়ে বাংলাদেশে চোরাগোপ্তা (টালিগঞ্জের ভাষায় গুপি) শুটিং করতে গিয়ে ধরা পড়েন। এর পরে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের প্রযোজনায় পুজো রিলিজের একটি ছবি রাহুলের পরিচালনায় শুরু হবার ঠিক আগে ফেডারেশনের চাপে তাঁকে তিন মাসের জন্য শাস্তিস্বরূপ সিনেমা পরিচালনা থেকে কর্মবিরতি নিতে বাধ্য করা হয়। প্রযোজনা সংস্থা তাঁকে সৃজনশীল প্রযোজক অভিধায় পুনর্বহাল করলে ফেডারেশনের সমস্ত সদস্য অসহযোগ আন্দোলন, করেন যার ফলে শুটিং ভেস্তে যায়। এই সময় হঠাৎ শহরের গণ্যমান্য পরিচালকরা একত্রিত হয়ে বলেন, বেশ, তাহলে আমরাও আর শুটিং করব না, দেখি পরিচালকবিহীন সিনেমা বানাতে কিভাবে এই প্রজাকুল সক্ষম হয়। অতঃপর অচলাবস্থা এবং তার অবধারিত সমাধানে শ্রীচরণেষু দিদি।

এখন ব্যাপারটা যদি এত সহজেই মিটে যেত তাহলে এই আমরা ওরা যাত্রাপালার অবতারণা করারই বা কী প্রয়োজন ছিল। সুধী পাঠক, এখানে আপনাকে কতকগুলো বিষয়ে অবগত না করলে ঘটনাটার সঠিক সুলুক সমাধান করা হবে না। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের অন্যতম কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতাকে কয়েকবছর আগেও মমতা ব্যানার্জির হাতে হাতে নিশানের মত ঘুরতে দেখা যেত। এখন কিন্তু আর দেখা যায় না। কানাঘুষো শোনা যায়, শ্রীঘর ফেরতা তিনি নাকি সবুজ শার্ট গেরুয়া রঙে ডাই করিয়েছেন। তাই এই পুরো ঘটনাটির পিছনে শাসকের ধমকানি আর ক্ষমতার চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করা কি ঠিক? এই সন্দেহ আরও বাড়ে বই কমে না, যখন দেখা যায় বিবদমান দুই দলের খেলোয়াড়রা আসলে একই টিমের। অরূপ, স্বরূপ, রাজ, দেব – এমনকি রেফারি, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি – অর্থাৎ প্রসেনজিৎ ও গৌতম ঘোষ, সবার ম্যানেজার একজনই। তাই এই গট আপ আন্দোলনের চালচিত্রে মাথা না ঘামিয়ে আসুন আমরা বাঙালি দর্শকের বাংলা সিনেমা দেখার প্রতি প্রবল অনীহা থেকে মুক্তির পথ নিয়ে ভাবনা চিন্তা করি। তার জন্য অবশ্য প্রথমে এই অচলায়তনের উত্তরদিকের জানলা খুলে রুদ্ধ বাতাস বার করে দিয়ে বাইরে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। সেটি হবার যখন আপাতত কোনো জো নেই অগত্যা

গিল্ড গুপি স্বরূপ শ্রীকান্ত।
এই চার লয়ে টলি কাণ্ড।।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

মতামত জানান

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.