আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আবার মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ। গতবছর হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টের পর এবার অভিযোগকারী খোদ মার্কিন ন্যায়বিচার দফতর। এবার শেয়ার বাজারে জালিয়াতি নয়, বরাত পেতে ঘুষের অভিযোগ, যার সঙ্গে অবশ্যই জড়িয়ে আছে শেয়ার ও ঋণের বাজার। মার্কিনি তদন্তের পরেই নানা দেশে আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগ বড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়েছে। দেশের রাজনীতিও সরগরম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার দফতর ও শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অভিযোগ – বেশি দামে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির বরাত পেতে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, ছত্তিসগড়, জম্মু-কাশ্মীর সরকারের আধিকারিকদের প্রায় ২,২০০ কোটি টাকা (২৬.৫ কোটি ডলার) ঘুষ দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। তাদের শাগরেদ ছিল অ্যাজিওর পাওয়ার।
আদানি গোষ্ঠীর আদানি গ্রিন পাওয়ার এবং অ্যাজিওর পাওয়ার, রাষ্টায়ত্ত সংস্থা সোলার এনার্জি কর্পোরেশন ইন্ডিয়াকে (এসইসিআই) সৌরবিদ্যুৎ বেচতে চাইলে তারা দামের জন্য রাজি হয়নি। চড়া দামের জন্য কোনো রাজ্য সরকার ওই বিদ্যুৎ কিনবে না বলেই তাদের আপত্তি ছিল। রাজ্য সরকারগুলিকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য রাজি করাতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদানি ও অ্যাজিওর পাওয়ারের হিসাব অনুযায়ী কুড়ি বছর ধরে তাদের এই প্রকল্প থেকে ২০০ কোটি ডলার (প্রায় ১৭,০০০ কোটি টাকা) লাভ হবে। আদানি গোষ্ঠীর চারটি কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২০২১ সালের ৫ মার্চ সিন্ডিকেট লোনের মাধ্যমে ১৩৫ কোটি ডলার তোলে। ৮ সেপ্টেম্বর বন্ড বিক্রি করে ৭৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করে। তার মধ্যে আমেরিকার লগ্নিকারীদের থেকে তোলা হয়েছিল ১৭.৫০ কোটি ডলার। এভাবে ঋণ ও বন্ডের মাধ্যমে ৩০০ কোটি ডলার অর্থ তুলে তার একাংশ ঘুষ দিতে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ দিয়ে তারা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ কেনার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, জম্মু-কাশ্মীর, তামিলনাড়ু, ছত্তিসগড় সরকারকে চুক্তির জন্য রাজি করাতে সফল হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের সরকারি আধিকারিকদের সবচেয়ে বেশি ঘুষ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ – ১,৭৫০ কোটি টাকা। মার্কিন দেশের এসইসির অভিযোগ, গৌতম আদানি ঘুষ দেওয়ার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করেছিলেন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
মার্কিন দেশের শেয়ার বাজারে নথিবদ্ধ সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে আদানি গোষ্ঠী আসল ঘটনা গোপন করে সে দেশের লগ্নিকারীদের থেকে অর্থ তুলে তা ঘুষের জন্য ব্যবহার করায় নিউইয়র্ক আদালতের বিচার বিভাগীয় দফতর এবং সে দেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি মামলা করে। সে দেশের আদালত গৌতম আদানি, ভাইপো সাগর, অ্যাজিওর পাওয়ারের একাধিক কর্তা সহ মোট নজনকে অভিযুক্ত করেছে। আদানিদের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। অভিযোগের জেরে আদানি গ্রিন এনার্জি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬০ কোটি ডলার ঋণপত্র বিক্রি করে লগ্নি আনার পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। কেনিয়া সরকার আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিবহন লাইনের জন্য ৭০ কোটি এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ১৮০ কোটি ডলারের চুক্তি বাতিল করেছে।
এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে আদানি গোষ্ঠীর ঋণপত্রের দাম পড়ে গেছে। ২১ নভেম্বর ভারতের শেয়ার বাজারে এই গোষ্ঠীর দশটি কোম্পানির শেয়ার দর ২,১৯,০০০ কোটি টাকা পড়েছে। ফলে ক্ষতি হয়েছে এলআইসি এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের। আদানি গ্রিন পাওয়ার সহ আদানি গোষ্ঠীর সাতটি কোম্পানিতে এলআইসির শেয়ার রয়েছে। শেয়ারের দাম পড়ে যাওয়ায় তাদের ৮,৭২০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব অনুসারে, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায় আদানি গোষ্ঠীর ঋণের পরিমাণ ৩৯,২০,০০০ কোটি টাকা। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, কানারা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকের মত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির কাছে রয়েছে প্রায় ১০,০০,০০০ কোটি টাকা করে ঋণ। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কৌশলে বারবার আদানি গোষ্ঠীর ঋণ মকুব করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ। কিন্তু বারবার আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলি বা এলআইসির মত লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা কোম্পানিও ঘোর সংকটে পড়বে।
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে লগ্নি সংক্রান্ত গবেষক সংস্থা হিন্ডেনবার্গ অভিযোগ করেছিল, কারচুপি, জালিয়াতি করে আদানি গোষ্ঠী কোটি কোটি ডলার উপার্জন করেছে। বিদেশে বিভিন্ন ভুয়ো কোম্পানি খুলে তারা কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম ৮৫% বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ। মরিশাস, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সহ কর দিতে হয় না বা অতি সামান্য কর দিতে হয় এমন দেশে ভুয়ো কোম্পানি খুলে তারা বেআইনি আর্থিক লেনদেন করেছে। সেই কোম্পানিগুলিই আবার আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার কিনে বাজারে সেগুলির দাম চড়িয়েছে। শেয়ার বাজারে চড়া দর দেখিয়ে তারা আবার ঋণও নিয়েছে। ফলে কেবল শেয়ার বাজারই নয়, বিভিন্ন ঋণ দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বিমা কোম্পানিও প্রতারিত হয়েছে। আবার অন্য দেশে ভুয়ো কোম্পানি খুলে সেখানে অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় ভারত সরকারের কর প্রাপ্তিও কমেছে। এত বড় বড় অভিযোগের পরেও কেন্দ্রীয় সরকার আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কম কর দেওয়া বা করহীন দেশে ভুয়ো কোম্পানি খোলা কালো টাকা বিদেশে পাচার করার বড় উপায়। নরেন্দ্র মোদী সরকার বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ধ্ক এই সরকারের নেই। ভারতের শেয়ার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়াও (সেবি) কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উলটে আদানিকে একপ্রকার ক্লিন চিট দেওয়া হয়েছে। মার্কিন দেশের শেয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেখানে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এত বড় পদক্ষেপ নিতে পারল, সেখানে সেবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে হিন্ডেনবার্গ অভিযোগ তোলে, সেবির প্রধান মাধবী পুরি বুচের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে। যে ভুয়ো কোম্পানিগুলিতে আদানির বিনিয়োগের অভিযোগ, তার মধ্যে কতকগুলিতে বুচ দম্পতির বিনিয়োগ রয়েছে। যদিও মাধবী বুচের দাবি – সেবিতে যোগ দেওয়ার আগে সেই বিনিয়োগ করা হয়েছিল। বুচ দম্পতিকে তদন্তে ক্লিন চিট দেওয়া হলেও, সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
এবার আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগের পরে ফের সেবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে এতে সবচেয়ে বড় দায় অবশ্যই কেন্দ্রীয় সরকারের। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাংবাদিক সম্মেলন করে গৌতম আদানিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আদানির কুকর্মের জন্য দায়ী করে তিনি ‘মোদানি’ বলে কটাক্ষও করেছেন। আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। আবার মোদী সরকারের সঙ্গে তাদের সখ্যের কথাও কারোর অজানা নয়। মোদীজি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই প্রায় অখ্যাত এই গোষ্ঠীর দ্রুত উত্থান ঘটে। এখন বিভিন্ন দেশে তারা নানা প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ যেমন বিনিয়োগ করছে, তেমন ঋণ ও ঋণপত্রের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পুঁজিও আনছে। বিদেশে আদানির নানা প্রকল্প নিয়ে বারবার বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় কয়লা খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশবিদ, স্থানীয় অধিবাসীরা বারবার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অভিযোগ, সে দেশের পরিবেশের বিপুল ক্ষতি করে তারা কয়লা খনি করছে। সে দেশের মূলবাসীরা আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগও এনেছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সে দেশে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল হলেও, শুরু থেকেই তা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সে দেশের সরকারের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠী চুক্তি করে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয় অধিবাসীরা সেই প্রকল্পেরও তীব্র বিরোধিতা করেন।
বাংলাদেশের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য কয়লা খনি খুঁড়তে গিয়ে ঝাড়খণ্ডে স্থানীয় অধিবাসীদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে আদানি গোষ্ঠী। একদিকে যেমন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি কোটি কোটি টাকা ঋণ মকুব করেছে, তেমনই জলের দরে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদসহ নানা সম্পদ বেচে দেওয়া হয়েছে আদানি গোষ্ঠীকে। বন্দর, বিমান বন্দর, খনি, বিদ্যুৎ প্রকল্পের বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। কেবল মোদী বা বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলিই নয়, বিরোধী দল পরিচালিত বিভিন্ন সরকারের বদান্যতা পেতেও এই গোষ্ঠীর অসুবিধা হয়নি। মার্কিন দফতরের আনা মারাত্মক এই অভিযোগের পর আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ সরকার আদৌ নেবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এতে বিদেশে যেমন ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তেমন দেশের অর্থনীতি, পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি সরকারি আধিকারিকরা ঘুষ নিয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার জন্য চুক্তি করতে সুবিধা করে দিয়ে থাকে, তাহলে আদানি সহ এর সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলি ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আদানিদের লাভ হবে আর ভারতবাসী বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনবেন, এর চেয়ে বড় দেশদ্রোহিতা আর কী হতে পারে?
আরো পড়ুন লাদাখ, অরুণাচল, হাসদেও, নিকোবর – পরিবেশ জাহান্নামে
অথচ মোদীর ভারত মানেই উলটপুরাণ। এখন সরকারের বিরোধিতা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আদানি বা কোনো শিল্পগোষ্ঠীর বিরোধিতা মানে দেশবিরোধিতা। সরকার, কর্পোরেট, রাষ্ট্র, দেশপ্রেম মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। তাই আদানি গোষ্ঠীকে পরিবেশ ধ্বংসের তোয়াক্কা না করে নানা প্রকল্পের বরাত দেওয়া হয়। যখন পরিবেশ রক্ষার জন্য কয়লার মত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে সারা বিশ্বে, তখন একের পর এক কয়লাখনি আদানিসহ নানা শিল্পগোষ্ঠীকে বেচে দেওয়া হচ্ছে। ছত্তিসগড়ের ১,৭০,০০০ হেক্টর বিস্তৃত হাসদেও বনাঞ্চলের বড় অংশ আদানি গোষ্ঠীকে খোলা মুখ কয়লাখনির জন্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সেই কয়লাখনির জন্য অবাধে জঙ্গল ধ্বংস করা হচ্ছে, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে দেশের নিরাপত্তার নামে আদিবাসীদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক শিল্পগোষ্ঠীগুলিকেই দেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা।
যে আদানি গোষ্ঠী পরিবেশ ধ্বংস করছে, তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প করে পরিবেশের ক্ষতি করছে, পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ব্যবসাও করবে তারাই! মোদীজি ইদানীং সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে অনেক কথা বলেন। এবারের বাজেটেও তার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু তা কি দেশ তথা পরিবেশের স্বার্থে, নাকি আদানির মতো শিল্পগোষ্ঠীগুলির স্বার্থে, যারা ঘুষ দিয়ে ২০ বছরে প্রায় আট গুণ মুনাফা করবে (মার্কিন অভিযোগ সঠিক হলে ২,২০০ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে তাদের কুড়ি বছরে লাভ হবে ১৭,০০০ কোটি টাকা)?
পরিবেশ ধ্বংসকারী থেকে পরিবেশবান্ধব – সবরকম প্রকল্পের বরাতই পাবে হাতে গোনা কিছু কোম্পানি। তাকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি, মিথ্যাচারের পথে শেয়ার, ঋণসহ নানা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। লগ্নি পুঁজি এভাবেই জুয়াচুরি, প্রতারণার মাধ্যমে ফুলে ফেঁপে উঠছে। দেশে দেশে শাসক দল, সরকারি আধিকারিক ও কর্পোরেট গোষ্ঠীর একাংশের আঁতাতে এভাবে স্যাঙাত পুঁজিবাদ বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তাদের নির্দেশক বা প্রভু কর্পোরেট মহলের এই চরম অমানবিক দুর্নীতি, লুঠের বিরুদ্ধে সচরাচর আন্দোলন হয় না। কারণ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং এনজিওর দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত। মূল স্রোতের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমও আজ হাতেগোনা কিছু কর্পোরেটের দখলে। স্যাঙাত পুঁজিবাদই আজ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারের নীতি, পরিবেশ ভাবনা, বিনিয়োগ থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া – সব। আজকের ভারতে তা ভালই টের পাওয়া যাচ্ছে। মোদীজির সঙ্গে আদানি-আম্বানির সখ্য এবং নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে আয় আজ নির্বাচনী প্রচারকে অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করে। সদ্য অনুষ্ঠিত মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ইলন মাস্কের মত ধনকুবের খোলাখুলি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে ময়দানে নেমে পড়েছিলেন। বিশ্বজুড়ে আসলে চলছে কর্পোরেটতন্ত্র। আদানি গোষ্ঠীর জালিয়াতি, সরকারের তাদের প্রতি মদতও তারই দৃষ্টান্ত।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।









খুব চমৎকার লেখা। ফ্যাসিবাদের প্রবক্তা মুসোলিনি তার নিজের লেখায় বলেছিলো রাষ্ট্র ও কর্পোরেশনের mergerকে কর্পোরেটবাদ (corporatism) অথবা ফ্যাসিবাদ বলা যায়। আন্তোনিও গ্রামশির লেখায় corporatismএর উল্লেখ পাওয়া যায়। ফোর্ড, রকফেলার ইত্যাদিদের মদতপুষ্ট বুদ্ধিজীবিরা corporatism শব্দটার বদলে fascism শব্দটাই জনপ্রিয় করে তুলেছে। আদানি ও মাস্ক সেই corporatismএরই প্রত্যক্ষ মূর্তি।