সম্প্রতি চীনের সংবাদমাধ্যম নরেন্দ্র মোদী সরকারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে। চীনা সরকারের সেই প্রশংসাকে প্রচারে এনেছেন খোদ বিজেপির জাতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। অপরদিকে চীন নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে নরম নীতির অভিযোগ করে চলেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। সম্প্রতি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মালিকানাধীন কাগজ গ্লোবাল টাইমস মোদী সরকারের আর্থিক নীতি, বিদেশনীতির প্রশংসা করেছে। শুধু তাই নয়, তাদের মতে সামাজিক সুশাসনেও মোদী সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। গ্লোবাল টাইমসের এই মতকে উদ্ধৃত করে নাড্ডা বলেছেন, কমিউনিস্ট দেশও মোদীর প্রশংসা এবং সাফল্য স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসেই নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর পুরকায়স্থ সহ একাধিক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিস। তাঁদের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ – তাঁরা চীনের মদতপুষ্ট। চীন ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক বলে বিজেপি প্রচার করে আসছে। কমিউনিস্টদের চীনের দালাল বলাও বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের বহুকালের অভ্যাস। অথচ চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম বিজেপি সরকারের প্রশংসা করলে তারা তা নিয়ে প্রচার করতে এতটুকুও দ্বিধাগ্রস্ত নয়।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

মোদী সরকারের বিদেশনীতি চীনের পক্ষে আদৌ মঙ্গলজনক নয়। মোদী সরকারের আমলে ভারতের বিদেশনীতি অনেকখানি বদলে গেছে। মার্কিন দেশের সঙ্গে সখ্য বাড়াতে ভারত সরকার প্যালেস্তাইন নীতি পর্যন্ত বদলে ফেলেছে। ভারত এখন কূটনীতিতে ইজরায়েলের মিত্র। মার্কিন দেশের সঙ্গে ভারত সরকারের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে, যা চীনের পক্ষে আদৌ সুখকর নয়। অপরদিকে চীন ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল প্রভৃতি দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করছে। ভারত না চীন, কার সঙ্গে সখ্য রাখা হবে তা নেপালের রাজনীতির অন্যতম ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি মালদ্বীপকে কেন্দ্র করেও ভারত-চীন সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীন সফর সেরে দেশে ফিরেই মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুইজ্জু আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ভারতীয় সেনা সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ভারত ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির আশা অদূর ভবিষ্যতে নেই।

মোদী জমানায় ভারতের অর্থনীতির বেহাল দশা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করতে বাধ্য হচ্ছে। বেকারত্বের হার বেড়েছে। বাড়ছে আর্থিক অসাম্য। তারই সঙ্গে বাড়ছে সামাজিক বৈষম্য। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা তো বটেই, দলিতরাও আজ মোদীর ভারতে নিরাপদ নন। সারা বিশ্ব এইসব কথা জানে। এই অবস্থায় চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে মোদী সরকারের প্রশংসা কম বিস্ময়কর নয়। তেমনই বিস্ময়কর তা নিয়ে বিজেপির প্রচার। যদিও মোদী সরকারের আমলে চীন সম্পর্কে ভারতের নরম নীতি, দুই দেশের আর্থিক লেনদেন দেখলে অবাক হওয়ার কারণ থাকে না।

ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনার অনুপ্রবেশ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগ বিজেপি সরকার ধামাচাপা দিতেই ব্যস্ত। ২০২০ সালে লাদাখ অঞ্চলের ২,০০০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা চীনা সেনার দখলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি প্রত্যাশা মত তা নিয়ে হইচই তো করেইনি, উলটে প্রধানমন্ত্রী চীনকে একপ্রকার ক্লিন চিট দিয়েছিলেন। ভারত সীমান্তে চীনের সক্রিয়তা বৃদ্ধির অজুহাতে কেন্দ্র একের পর এক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মোদীজির স্বপ্নের চারধাম প্রকল্পের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা অন্যতম যুক্তি। চীনা দ্রব্য বয়কট নিয়ে সঙ্ঘ পরিবারের নানা শাখা সংগঠনের হম্বিতম্বির শেষ নেই। অথচ চীন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কিন্তু অনেকখানি নরম। এই বছরের শুরুতে সেনাপ্রধান মনোজ পাণ্ডে বলেছেন, ২০২০ সালের মাঝামাঝি যে স্থিতাবস্থা ছিল, চীনা সেনাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর চাপ বহাল আছে। সরাসরি না বললেও, চীনা সেনাবাহিনী যে এই দেশের ভূখণ্ড এখনো দখল করে আছে তা এই মন্তব্যে স্পষ্ট। কংগ্রেস এই সূত্র ধরেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চীনের সঙ্গে আপস করার অভিযোগ এনেছে। একদিকে উগ্র জাতীয়তাবাদী আবহ নির্মাণ, অপরদিকে চীন নিয়ে এই নরম মনোভাব বিজেপির দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। চীনা সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ নিয়ে জাতীয় সভাপতির প্রচার তারই অঙ্গ।

মোদীর আমলে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিন্তু আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ভারতে চীন থেকে পণ্যের আমদানি অনেক বেড়েছে। ২০১৪ সালে মোদীর নেতৃত্বধীন সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে। ২০১৫ সালে চীন থেকে ভারতে আমদানির আর্থিক পরিমাণ ছিল ৫,৮২৬ কোটি মার্কিন ডলার। ভারত চীনে রফতানি করেছিল ১,৩৪০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৪,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২২ সালে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন রেকর্ড সৃষ্টি করে। ভারতে চীনা পণ্য আমদানির আর্থিক পরিমাণ ছিল ১১, ৮৭৭ কোটি মার্কিন ডলার। ভারত থেকে চীনে রফতানি হয়েছিল ১,৭৪৯ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও ১০,০০০ কোটির সীমা ছাড়িয়ে হয় ১০,১২৮ কোটি মার্কিন ডলার। মোদী সরকারের আমলে চীনা পণ্যের আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি। সঙ্ঘ পরিবার চীনা পণ্য বয়কটের স্লোগান দিয়ে তাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে মাত্র।

অবশ্য ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন কিছুটা কমেছে। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের প্রথম ছমাসে (২০২৩ সালের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) চীন থেকে ভারতে পণ্য আমদানির আর্থিক পরিমাণ গতবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার কমেছে। পাশাপাশি চীনে ভারতের রফতানিও কমেছে প্রায় ৮ কোটি মার্কিন ডলার। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক লেনদেন বেড়েছে। এতদিন চীন থেকে ভারতে সবচেয়ে বেশি অর্থমূল্যের পণ্য আসত। এই আর্থিক বছরের প্রথম ছমাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে টপকে গেছে। চীন যে আবার ভারতে আমদানির নিরিখে প্রথম হবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব ভারতে যে ভালভাবেই পড়েছে তা বোঝা যাচ্ছে।

তবে কেবল ভারতে নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলোতেও চীনের রফতানি কমেছে। একমাত্র বেড়েছে রাশিয়ায়। বৃদ্ধির হারটাও চোখে পড়ার মতো – ৯০ শতাংশের বেশি। মোবাইল, ইস্পাত, পোশাকে চীনের রফতানি কমেছে; গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা এই রফতানি কমার অন্যতম কারণ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চীনের অবস্থানও এক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করে থাকতে পারে। ২০২৩ সালে জিডিপির বিচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্বে প্রথম, দ্বিতীয় চীন। যদিও ক্রয় ক্ষমতা সমতার (পিপিপি) বিচারে চীন প্রথম। কিন্তু দুটো দেশের কোনোটারই আর্থিক অবস্থা এই মুহূর্তে খুব ভাল নয়। আর্থিক মন্দা কাটাতে ভারতের মত জনবহুল দেশের বাজার দখলে দুটো দেশই সক্রিয় হবে – এমনটাই স্বাভাবিক। পুঁজিবাদের এটাই নিয়ম। তার জন্য চীন যেমন ভারতকে প্রচ্ছন্ন চোখরাঙানি দেবে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিজের দিকে টানতে চেষ্টা করবে, তেমন ক্ষেত্রবিশেষে প্রশংসাও করবে। এরসঙ্গে কমিউনিজম বা হিন্দুত্ববাদ – কোনোকিছুরই সম্পর্ক নেই।

চীন বাজার দখল করে পুঁজিবাদের নিয়ম মেনেই। মোদী সরকারও একই নিয়মে চলে। মোদীর ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং নগদবিহীন অর্থনীতির স্লোগানে ভারতে মোবাইল ফোন তৈরির কোম্পানিগুলোর বাজার বেড়েছে। চীনও তা থেকে লাভবান হয়েছে। মোদীজির নোট বাতিলের পরের দিনই দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে পেটিএম পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। আগে থেকে না জানা থাকলে কি পরের দিন সকালে সংবাদপত্রের জন্য এমন বিজ্ঞাপন পেটিএমের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হত? প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে মোদীর নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত কি কিছু কোম্পানি আগে থেকেই জানত? পেটিএম কোম্পানিতে সে সময়ে চীনা কোম্পানি আলিবাবারও শেয়ার ছিল। সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, বিরোধীদের শায়েস্তা করার জন্য দেশদ্রোহী বানাতে উগ্র জাতীয়তাবাদ বিজেপির অস্ত্র। কিন্তু পুঁজির সচলতা বাড়াতে তারা জাতীয়তাবাদের ধুয়ো তোলে না।

আরো পড়ুন চীনা ঋণের ফাঁদ কি সত্য, নাকি মায়া?

চীনকে নিয়ে ভারতীয় বামেদের একাংশের এখনো দুর্বলতা রয়েছে। বাস্তব এটাই, যে চীন আদৌ সমাজতান্ত্রিক দেশ নয়। মাও সে তুংয়ের নয়া গণতন্ত্রের তত্ত্বেই শ্রেণি সমঝোতার বীজ ছিল, নাকি বিচ্যুতিটা পরবর্তীকালে হয়েছিল তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। সে আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু ‘বাজার সমাজতন্ত্র’ শব্দবন্ধটাই যে সোনার পাথরবাটি তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। চীনের মার্কিন বিরোধিতা, রাশিয়া বা লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সাথে সখ্য বাড়ানোর সঙ্গে মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই। আছে বাজার অর্থনীতির যুক্তি। মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ আসলে বাজার দখলের যুদ্ধ। দুই দেশের কূটনীতি, অন্য দেশের উপর দাদাগিরিতে তারই প্রভাব পড়ে। ভারত সমেত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কেও তার ব্যতিক্রম ঘটে না। চীন সম্পর্কে মোহমুক্ত না হলে তার সঠিক মূল্যায়ন হবেও না। নয়া উদারনীতির উন্নয়ন পরিকল্পনায় চীন আজ এক আদর্শ দেশ। শ্রমের বাজার সস্তা। পরিবেশ ধ্বংস করে সেখানে একের পর এক প্রকল্প গড়ে উঠছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও (এসইজেড) চীনেই প্রথম গড়ে ওঠে। সেখানকার স্বৈরতন্ত্র নয়া উদারনীতির পক্ষে আদর্শ। বিজেপিও একই উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশ্বাসী। তারাও চায় পুঁজির অবাধ আগ্রাসন, সস্তা শ্রমের বাজার, নয়া উদারপন্থী অর্থনীতির জন্য স্বৈরতন্ত্র।

আবার চীনের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে মার্কিন নির্ভরতা বাড়ানোও ভারতের পক্ষে ভালো নয়। সাময়িকভাবে চীনের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক লেনদেন বেড়েছে। কিন্তু ভারতের আমদানি নির্ভরতা কমেনি। ভারতের রফতানি বাড়লে, আমদানি কমলে তাকে আর্থিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল বলা যেত। সঙ্ঘ পরিবার সেটাই গুলিয়ে দিতে চাইছে। চীনের প্রতি বিদ্বেষ তার জাতীয়তাবাদের অঙ্গ, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেলায় তাদের জাতীয়তাবাদ জাগ্রত হয় না। প্যালেস্তাইনের পক্ষে কথা বলা বা ইজরায়েলের বিরোধিতা সঙ্ঘ পরিবারের কাছে দেশদ্রোহিতা। তাদের দেশপ্রেম নির্ধারণের মাপকাঠি এখন আর দেশিয় সীমানায় আবদ্ধ নয়। কোন নাগরিক কোন দেশের সরকারের সমর্থক, তা দিয়েও তারা দেশপ্রেম নির্ধারণ করছে। একদিকে চীনের বিরোধিতা, আবার চীন প্রশংসা করলে তা নিয়ে প্রচারের নেপথ্যে আছে তাদের প্রবল কমিউনিস্ট বিদ্বেষ। চীন যেহেতু কমিউনিস্ট দেশ বলে পরিচিত, তাই চীনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার তাদের অন্যতম অস্ত্র। চীন প্রকৃত কমিউনিস্ট দেশ না হলেও তাদের কিছু যায় আসে না।

উদার গণতন্ত্রী আর কমিউনিস্টরা বিজেপির পথের কাঁটা। তাই চীন নীতি নিয়ে তারা নেহরুর সমালোচনা করবে, কমিউনিস্টদের চীনপন্থী বলে লোক খেপানোর চেষ্টা করবে, স্বাভাবিক মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবে বিদেশনীতি গ্রহণ করবে। আবার চীন প্রশংসা করলে তা নিয়ে প্রচারও করবে। কারণ তাহলে কমিউনিস্টদের সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে। চীনের মত দেশও যে সরকারের প্রশংসা করে, তার সমালোচনা একমাত্র দেশদ্রোহীরাই করতে পারে – এমন প্রচার চালানোর সুবিধা হবে। আবার চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতিও বিজেপি সরকার চাইবে না। সুতরাং এই দ্বিচারিতা ছাড়া তার উপায় নেই। কারণ পুঁজির সচলতা বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীভবনে সহায়তা করতে বিজেপি দায়বদ্ধ।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.