অনিন্দ্য হাজরা
দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে কূটনীতির পাশাপাশি জনমতেরও গুরুত্ব রয়েছে। দেশের মানুষ অন্য দেশটিকে কোন চোখে দেখছে, তার সম্পর্কে জনমানসে কী ধারণা রয়েছে – সেসবও গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকেই সিরিয়ায় বাশার-আল আসাদের পতনের পরে রাশিয়া সম্পর্কেও ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির, বিশেষ করে ভারতের মানুষের, দৃষ্টিভঙ্গির নতুন করে মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। রাশিয়া সম্পর্কে যে মিথগুলি আমাদের অবচেতনে রয়েছে, সেগুলিকে বাস্তবের আয়নার মুখোমুখি দাঁড় করানোর এ এক বড় সুযোগ।
রাশিয়া নিয়ে ভারতের রাজনীতির ডান, বাম সমস্ত অংশেই এক ধরনের গদগদ ভাব কাজ করে। ভাবখানা এমন, যে ভূরাজনীতির জটিল আবর্তে ভারতের একমাত্র প্রকৃত বন্ধু হচ্ছে মস্কো। স্বাধীনতার পরে ভিলাই, বোকারোর মত ইস্পাত কারখানা তৈরির ব্যাপারেই হোক কিম্বা ১৯৭১ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানকে ঘিরে অচলাবস্থার সময়ে আমেরিকার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ভারতের পক্ষ নেওয়াই হোক আর ১৯৯৮ সালে পোখরানে পরমাণু বোমা পরীক্ষার পরের সমর্থনই হোক, যেন একমাত্র রাশিয়াই সবসময় ভারতের পাশে থেকেছে। এই দুর্বলতা থেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরেও ভারতে তেমন কোনো প্রতিবাদ শোনা যায়নি।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
কমিউনিস্টবিরোধিতায় সক্রিয় হলেও ১৯৭১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা নিয়ে ভাইরাল রিল কিংবা মিম তৈরি করতে পিছপা হয়না দক্ষিণপন্থী (পড়ুন বিজেপি সমর্থক) সোশাল মিডিয়া পেজ বা চ্যানেলগুলোও। ভ্লাদিমির পুতিনের নয়া সাম্রাজ্যবাদী দর্শনের পিছনে আলেকজান্ডার ডুগিনের মস্তিষ্ক প্রবলভাবে সক্রিয় বলে মনে করা হয়। সেই ডুগিন ২০২৪ সালের নভেম্বরে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নির্বিবাদে বক্তৃতা করে গিয়েছেন। তাঁর উপস্থিতির বিরোধিতা করে কোনো ছাত্র সংগঠন সক্রিয় হয়েছে বলে শোনা কিংবা দেখা যায়নি। আসলে সোভিয়েত আমলে তৈরি সুনাম একবিংশ শতকে এসেও ভাঙিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করছেন পুতিন। সোভিয়েত রাশিয়া আর পুতিনের রাশিয়া যে দুটি মৌলিকভাবে আলাদা রাষ্ট্র, তাদের মধ্যে কোনো ধারাবাহিকতা নেই, এই বিষয়টি গুলিয়ে দিতে অনেকাংশেই সফল হয়েছে বর্তমান রাশিয়া। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আদর্শের খাতিরে সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া ভারতকে সোভিয়েত রাশিয়া সাহায্য করে থাকলেও, পুতিনের রাশিয়ার সেই দায় প্রথম থেকেই নেই। স্রেফ নিজেদের ব্যবহারিক রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখে মস্কো। রাশিয়া সম্পর্কে স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়ার আগে এই বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করে নেওয়া প্রয়োজন।
আসলে ‘গ্লোবাল সাউথ’ এলাকায় চালু ধারণা হল, আমেরিকা প্রয়োজন ফুরোলেই বন্ধু রাষ্ট্রগুলির হাত ছেড়ে দিলেও মস্কো তা করে না। এই মনোভাব যে কতবড় মিথ, সিরিয়ার সংকট তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। শুধুমাত্র সিরিয়াই নয়, আরও একাধিক ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থে বন্ধু রাষ্ট্রের বিপদে পাশে দাঁড়ায়নি পুতিনের রাশিয়া।
২০১৫ সাল থেকে মূলত রাশিয়ার জোগানো অক্সিজেনেই হঠাৎ করে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ জিততে শুরু করেন আসাদ। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসকে ঠেকানোর নামে সিরিয়ায় বিশাল বাহিনী পাঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পুতিন। আইএসের বিরুদ্ধে সেই বাহিনী যুদ্ধ করলেও তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার বিদ্রোহীরা, যারা ২০১১ সাল থেকে আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য লড়ছিলেন, প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে, তারপর হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে। তার ফল সিরিয়ায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ।
এই যুদ্ধে রাশিয়া ছাড়াও আসাদের হয়ে অস্ত্র ধরেছিল ইরান এবং হিজবুল্লার মত ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলি। সেই সম্মিলিত বাহিনীর জোরেই হেরে যাওয়া যুদ্ধ প্রায় জিতে গিয়েছিলেন আসাদ। একসময় দামাস্কাস ছাড়া দেশের সমস্ত বড় শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া বিদ্রোহীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন শুধুমাত্র ইদলিব প্রদেশে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব সিরিয়ায় আইএসের প্রভাব থাকা কিছু এলাকা ছাড়া গোটা সিরিয়া ফের চলে এসেছিল আসাদের কব্জায়। তারপর গত ডিসেম্বরের গোড়ায় বিদ্রোহীদের ঝটিকা আক্রমণ এবং ১১ দিনের মধ্যে আসাদের পাকাপাকি বিদায়।
বিবিসি, সিএনএন, টেলিগ্রাফ সহ পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পড়লে মনে হতে পারে, আসাদের পতন রাশিয়ার কাছে এক বিরাট বড় ধাক্কা। এই অংশের মতে, টার্টাস, হেইমিম সহ সিরিয়ায় একাধিক সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছিল রাশিয়া এবং এই সামরিক ও বিমান ঘাঁটিগুলিকে ব্যবহার করেই আফ্রিকায় রাশিয়ার ঘাঁটিগুলিকে সচল রাখা হত। আসাদের পতনের পরে সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, যা রাশিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি পুতিনের বিদেশনীতির জন্য খুব সুখকর নয়।
সহজভাবে ভাবলে এই যুক্তিতে কোনো ভুল থাকার কথা নয়। কিন্তু ভূরাজনীতি অত সহজ পথে চলে না। সেই জটিলতা মাথায় রেখে যদি বলা হয়, প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় আসাদকে ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলেছে মস্কো, তাহলে বোধহয় খুব ভুল বলা হবে না। বরং পারিপার্শ্বিক বেশকিছু ব্যাপার সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।
বিদ্রোহীদের এবারের আক্রমণ শুরু হওয়ার পরে রুশ সামরিক ব্লগারদের বক্তব্য ছিল, আসাদকে আর পোষার প্রয়োজন নেই। আসাদ বোঝায় পরিণত হয়েছেন। তাঁকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার দায় রাশিয়ার নয়। এই মনোভাব যে কেবল রুশ ডিপ স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা ব্লগারদেরই ছিল তা কিন্তু নয়। বরং সিরিয়ায় থাকা রুশ বাহিনীও বিদ্রোহীদের অভিযান শুরুর পর থেকেই আশ্চর্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিল।
কেবল রুশ বাহিনী নয়, হিজবুল্লা এবং ইরানের বাহিনীও আসাদকে রক্ষা করতে দারুণ সক্রিয় ছিল – এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। একদিকে যেমন আসাদের নিজের সেনাবাহিনী লড়তে চায়নি, তেমন আসাদের ‘বন্ধু’-রাও তাঁকে টিকিয়ে রাখতে কোনো উৎসাহ দেখায়নি। তার ফলেই কার্যত হাতেগোনা বিদ্রোহী যোদ্ধা ২৪ ঘন্টার মধ্যে আলেপ্পোর মত বড় শহরের দখল নিতে পেরেছে। আলেপ্পোর দরজা খুলে যাওয়ার পরে হামা, তারপর হোমস – এম-৫ হাইওয়ে ধরে দুরন্ত গতিতে সোজা দামাস্কাসের দ্বারপ্রান্তে এসে উপস্থিত হয় বিদ্রোহীরা।
কিন্তু আসাদকে কেন পরিত্যাগ করল রাশিয়া?
সিরিয়ার বিদ্রোহীদের প্রথম থেকে মদত দিয়ে এসেছে তুরস্ক। লুকিয়ে চুরিয়ে নয়, ঘোষিতভাবে। তুরস্কের উদ্দেশ্য মূলত দুটি। প্রথমত, কুর্দদের স্বাধীনতা আটকানো। তুরস্ক মনে করে সিরিয়ায় কুর্দরা স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করলে তার প্রভাব তুরস্কে পড়বে। ইতিমধ্যেই স্বাধীনচেতা কুর্দদের দেশের বৃহত্তম আভ্যন্তরীণ বিপদ হিসাবে ঘোষণা করেছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রচপ তাইয়িপ এরদোগান। দ্বিতীয়ত, আরব দুনিয়ার নিয়ন্ত্রক হিসাবে ইরানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা রয়েছে তুরস্কের। এরদোগান নিজেকে অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী মনে করেন। সেই অঙ্কে সিরিয়া থেকে ইরানের হস্তক্ষেপ মুছে ফেলাও তুরস্কের প্রয়োজন ছিল। অপরদিকে তুরস্ককে রাশিয়ারও প্রয়োজন। মার্কিন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হলেও বর্তমানে তুরস্কের সুর পেন্টাগনের কানে খুব মধুর শোনায় না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেনকে বায়রাক্তার ড্রোন দিয়ে সাহায্য করলেও পরবর্তীকালে আংকারার বক্তব্যে মস্কোর ছায়া দেখা যায়। ন্যাটো ছেড়ে ব্রিকস কিম্বা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের মত মঞ্চের অংশ হওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে এরদোগানকে।
এই অঙ্কে রাশিয়া চেয়েছিল আসাদের সঙ্গে এরদোগানের বৈঠক করাতে। রুশ বিদেশনীতির সবথেকে বড় সাফল্য হল – ইরান, ইজরায়েল হোক কিংবা সৌদি আরব বা তুরস্ক – মস্কোর সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া চেষ্টা করেছিল দামাস্কাসের সঙ্গে আংকারার বৈঠক করাতে। ২০২০ সালে চুক্তির ফলে সিরিয়ায় অঘোষিত যুদ্ধবিরতি চালু ছিল। মস্কো চেষ্টা করেছিল তাতে পাকাপাকি সিলমোহর দিতে। কিন্তু আসাদ রাজি হননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে বৈঠকের ব্যবস্থা হলেও আসাদ শেষ মুহূর্তে অংশ নিতে অস্বীকার করেন। তখন থেকেই নিজেকে মস্কোর খরচের খাতায় নথিভুক্ত কর ফেলেন আসাদ।
একটি অংশের মতে, ইদলিবে বিদ্রোহীরা যে অভিযানের জন্য জড়ো হচ্ছে – সে তথ্য রুশ ও ইরানি গোয়েন্দাদের কাছে ছিল। রাশিয়ার মত ইরানের কাছেও আসাদ বোঝায় পরিণত হওয়ায় দুপক্ষই নিজেদের বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করেনি সেই অভিযান ঠেকাতে। ইরাকে ইরানের মদতপুষ্ট পপুলার মোবিলাইজেশন ফ্রন্ট সক্রিয়। ইরাক-সিরিয়া সীমান্তের আল-কাইম-আল-বুকামাল সীমান্ত চৌকি এই বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করলেও আসাদকে রক্ষা করতে কাতারে কাতারে যোদ্ধা এই দফায় সিরিয়ায় ঢোকেনি। ইরানের ক্ষোভ, তাঁকে রক্ষা করতে ৬০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বিনিয়োগ করা হলেও তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন আসাদ। যদিও একটি অংশের মতে, ইজরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে ইরান এবং হিজবুল্লা – উভয়েই দুর্বল হয়েছে। ইজরায়েলের সঙ্গে লড়াই করতে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সিরিয়ায় মোতায়েন পুরো বাহিনী সরিয়ে নেয় হিজবুল্লা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বিদ্রোহীরা।
আরো পড়ুন সিরিয়ার ‘দানব’-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামের স্মৃতি
রাশিয়ার প্রভাবশালী সামরিক ব্লগারদের যুক্তি – নিজের রাজত্বের শেষদিকে ইরান-নির্ভরতা কমানোর বার্তা কাতার ও সৌদি আরবের মত দেশগুলিকে দিয়েছিলেন আসাদ। এই দেশগুলির উদ্যোগে আমেরিকার সঙ্গে দৌত্য চলছিল, যাতে সিরিয়ার উপর লাগু হওয়া পশ্চিমি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলি শিথিল করা যায়। স্বাভাবিকভাবে এর ফলে ইরানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় আসাদের। রাশিয়াকেও অন্ধকারে রেখে এই প্রচেষ্টায় নেমেছিলেন আসাদ। ফল যা হওয়ার হয়েছে।
রাশিয়া যা-ই যুক্তি দিক, সিরিয়ার আগে ২০২০ সালে আর্মেনিয়াকেও তারা একইভাবে পরিত্যাগ করেছিল। ১৯৯১ সালে নাগর্ন কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিবেশী আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় আর্মেনিয়া। আর্মেনিয়ার বাহিনী নাগর্ন কারাবাখের দখল নেয়। ২০২০ সালে আংশিকভাবে, এবং ২০২৩ সালে এসে তুরস্কের মদতপুষ্ট আজারবাইজান পাকাপাকিভাবে, বিতর্কিত অঞ্চলটির পুরো দখল নেয়। আর্মেনিয়ার ক্ষোভ – তারা রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত সিএসটিও জোটের অংশ হলেও আজারবাইজানকে ঠেকাতে কোনো ভূমিকা নেয়নি মস্কো। মূলত মস্কোর নিষ্ক্রিয়তার ফলেই আজারবাইজান জিততে পেরেছে। বলা ভাল, বন্ধুকে রক্ষা করার থেকে তুরস্ক এবং আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্ককে ফের মজবুত করার দিকেই বেশি নজর দিয়েছে মস্কো। ঠিক যা তারা করেছে সিরিয়ায়।
সিরিয়ায় এই কৌশলের ফলেই রুশ বিমান এবং সামরিক ঘাঁটিগুলির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে সুরক্ষিত বলে মনে করা হচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদন এবং টেলিগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এর একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সদ্য ক্ষমতা হাতে নেওয়া বিদ্রোহীরা সিরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় রুশ সামরিক কনভয়কে স্বচ্ছন্দে রাস্তা করে দিয়েছে। যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা কয়েকমাস আগেও ভুরি ভুরি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও হামলার অভিযোগ আনতেন, রাশিয়ার প্রতি তাঁদের মনোভাব এই মুহূর্তে যথেষ্ট উষ্ণ। এর নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে, মস্কোর নির্বাসন আবাসে বসে ডিসেম্বরের শীতে নিশ্চই সেকথা ভাবছেন আসাদ।
আসাদের কীভাবে হঠাৎ পতন হল, ইরান কিংবা রাশিয়ার ভূমিকা কী ছিল, কে কী করতে পারত বা পারলেও করল না – এই সমস্ত যদি, কিন্তুর গণ্ডি ছাপিয়ে যে বিষয়টি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তা হল – ভূরাজনীতিতে কোনো স্থায়ী বন্ধু হয় না। আমেরিকার মতো রাশিয়াও নিজের প্রয়োজনে বন্ধুদের পরিত্যাগ করে। এই বার্তাটি, গ্লোবাল সাউথের বাসিন্দারা, বিশেষ করে ভারতীয়রা, যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করবেন ততই মঙ্গল।
নিবন্ধকার সাংবাদিক, বর্তমানে ব্রিটেনে গবেষণারত। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








