ইউসেফ ওয়াক্কাস

নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের কথা। দীর্ঘ সময় ধরে আধাসামরিক কার্যকলাপ তখন কার্যত থমকে আছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে অতর্কিতে আক্রমণ হানল সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়’আত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)। ৮ ডিসেম্বর রাজধানী দামাস্কাসে পৌঁছে গেল তাদের বাহিনী। চব্বিশ বছর ধরে সিরিয়ার মসনদে ছিলেন আসাদ, চালিয়েছেন চূড়ান্ত স্বৈরাচারী শাসন। অবশেষে সেই অত্যাচারী শাসনের অবসান হল, এতবছর ধরে যে দিনের অপেক্ষায় ছিলেন সিরিয়ার সাধারণ মানুষ।

প্রায় ৫৫ বছর ধরে আসাদ পরিবারের উদ্ধত শাসন সহ্য করতে বাধ্য হয়েছে সিরিয়াবাসী। জুটেছে অত্যাচার, জুটেছে লাঞ্ছনা। বেশিরভাগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে একরকম পারিবারিক সম্পত্তি বানিয়ে তুলেছিল আসাদ পরিবার। পরিচালনার ভার দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রীয় দালালদের হাতে, তাদের মূল কর্তব্যই ছিল প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ। শিশু, মহিলা থেকে বর্ষীয়ান নাগরিক – দমনপীড়নের হাত থেকে ছাড় পাননি কেউই।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সিরিয়াবাসীর জন্য না ছিল বসবাসের পর্যাপ্ত পরিসর, না ছিল সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার। ধুরন্ধর শাসকের কূটনীতির শিকার হয়ে মানুষ যখন জীবনসংগ্রামে জর্জরিত, সেই সুযোগে দেশীয় সম্পদজাত উদ্বৃত্ত অর্থ সটান চালান হয়ে গিয়েছে সুইটজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে। আর সবই ঘটেছে প্রতিরোধের ভান করে। তলে তলে দখলদার শত্রুর সঙ্গে গোপন আঁতাত কিন্তু দিব্যি চলেছে। আসলে অনিবার্য পতনের আগে অবধি যেনতেনপ্রকারেণ ক্ষমতা ধরে রাখাই ছিল শাসকের উদ্দেশ্য। প্রত্যেকটা নির্বোধ, ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ একনায়কেরই পতন হল অনিবার্য পরিণতি।

সিরিয়া আজ সার্বভৌমত্ব পেয়েছে, সুদূর ভবিষ্যতে সে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবেই কাজ করবে। সিরিয়া ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত ‘বৃহৎ আরব ঐক্যের প্রাণকেন্দ্র’ হিসাবে। এমন একটা দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে যখন সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢুকে যায় তার পরিণাম হয় ভয়ঙ্কর।

স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে সিরিয়া আরব ঐক্যের পক্ষে জোর সওয়াল করে এসেছে। ঘোষণা করেছে যে জাতীয় পতাকার উর্ধ্বে একমাত্র উড়তে পারে ঐক্যের পতাকা। বস্তুত, শুধু অঙ্গীকার করেই ক্ষান্ত থাকেনি, ১৯৫৮ সালে মিশরের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গামাল আব্দেল নাসেরকে নির্দ্বিধায় জাতীয় নেতা হিসাবে মেনে নিয়ে প্রমাণও দিয়েছে। আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল আলাউইত সম্প্রদায়ের মধ্যে। তারপর সেটা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বা’আথ পার্টির অন্দরে, এবং শেষ পর্যন্ত সেই সংঘাত পারিবারিক বৈরিতার স্তরে পৌঁছে যায়।

তামাম সিরিয়ায় ‘আসাদ’ নামে পরিচিত পরিবারটা আগে পরিচিত ছিল ‘আল-ওয়াহশ’ (তরজমা করলে দাঁড়ায় ‘দানব’) পরিবার নামে। আসাদ বংশের যিনি প্রতিষ্ঠাতা, অর্থাৎ বাশার আল-আসাদের ঠাকুরদা, সেই সুলেমান সম্পর্কে মনে করা হয়, তাঁর পূর্বপুরুষরা আসলে ইরাকের মানুষ। লাতাকিয়া গভর্নরেটের অধীনস্থ কারদাহা গ্রামের উপকণ্ঠে তাঁরা থিতু হয়েছিলেন। অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতো আলাউইত সম্প্রদায়ের মধ্যেও নানা গোষ্ঠী বিভাজন ছিল, প্রত্যেকের আর্থসামাজিক অবস্থানও ছিল আলাদা আলাদা। অন্যান্যদের তুলনায় সুলেমানদের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল কম।

১৯৪৬ সালে সিরিয়ার স্বাধীনতা অর্জনের আগে, ফরাসি সরকারের সঙ্গে জোট বেঁধে ঔপনিবেশিক সিরিয়ার অভ্যন্তরে আলাউইতরা বেশ কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী তৈরি করে, উত্তর সিরিয়া জুড়ে স্থাপিত হয় ‘আলাউইত রাজ্য’। মদত দেয় একাধিক গোষ্ঠী পরিবার। অন্যদিকে আলাউইত নেতা শেখ আল-আলি যোগ দেন সুলতান পাশা আল-আতরাশের বিপ্লবী দলে। আল-আতরাশ ছিলেন দক্ষিণ সিরিয়ার দ্রুজ জনগোষ্ঠীর প্রধান এবং সিরিয় মহাবিদ্রোহের নায়ক। ফরাসিবিরোধী সংগ্রামে তাঁরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন।

মিশরের সঙ্গে একত্রীকরণের সময়ে মৌলিক শর্ত হিসাবে বা’আথ পার্টি সহ সিরিয়ার সমস্ত রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়া হয়। অথচ এই বা’আথ পার্টি ছিল আরব ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবক্তা। পরিবর্তে তৈরি হয় এক মিশ্রসত্তার রাজনৈতিক দল, নাম হয় আরব সোশালিস্ট ইউনিয়ন। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিপদের মোকাবিলা করতে সিরিয়ার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের বদলি করা হয় মিশরে, যদিও মিশরে থেকেও দেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির দিকে কড়া নজর রাখছিলেন সিরিয় সেনানায়করা। তুলনায় মিশরীয় গোয়েন্দা দফতরের সেই উদ্যম চোখে পড়েনি। ফলে নির্বাসিত সিরিয়দের উদ্যোগে অচিরেই গড়ে ওঠে গোপন মিলিটারি কমিটি। সেই কমিটিতে ছিলেন আলাউইত সম্প্রদায়ের তিনজন অফিসার – সুলেমানের পুত্র হাফেজ আল-আসাদ, সঙ্গে তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহকারী সালাহ জাদিদ ও মুহম্মদ ইমরান, এবং দুজন ইসমাইলি অফিসার। তাঁদের নাম আব্দুল করিম আল-জুন্দি ও আহমেদ আল-মীর।

১৯৬১ সালে সিরিয়া যখন মিশর থেকে আলাদা হয়ে যায়, তারপরেও কিছুদিন এই গোপন সামরিক সংগঠন সক্রিয় ছিল। এমনকি ১৯৬৩ সালে বা’আথ পার্টির নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি নাজিম আল-কুদসির বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান হয়, সেখানেও তারা সক্রিয় ভূমিকা নেয়। যদিও এই সংগঠনের মূল হোতা ছিলেন সালাহ জাদিদ, দায়িত্বভাগের সময়ে হিসাবে তিনি একটু ভুল করে ফেলেন। সদ্যগঠিত সরকারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব তুলে দেন হাফেজ আল-আসাদের হাতে। সামরিক পদমর্যাদার দিক থেকে তিনি কিন্তু সেইসময় সবচেয়ে নিচে। এই আসাদই সাতবছর পরে, ১৯৭০ সালের ১৬ অক্টোবর, সংশোধনের নাম করে আরেকটা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে পূর্ণ ক্ষমতা দখল করেন। মিলিটারি কমিশনের অভ্যন্তরে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন তাঁর এককালের সহযোগীরা। একে একে সবকটা পথের কাঁটা সরালেন আসাদ, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রত্যেকের নিয়তিও নির্দিষ্ট হয়ে গেল। সালাহ জাদিদের শেষ বছরগুলো যেমন কেটেছিল কুখ্যাত আল-মেজে কারাগারে। গত ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর সেই কারাগার চত্বরের নানা জায়গায় মিলেছে হাজার হাজার বন্দির কবর। আবার ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি নূর আল-দিন-আল-আতাশী চিকিৎসার কারণে জীবনের শেষ কয়েকটা দিন বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

আসাদ জমানায় ২০ বছরেরও বেশি সময় নরকযন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন ওই দুই রাজনীতিবিদ। তার আগে ১৯৬৯ সালেই নানা টানাপোড়েনের মধ্যে ঘটে গিয়েছে আব্দুল করিম আল-জুন্দির মর্মান্তিক আত্মহত্যা। শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি চালিয়ে নিজেকে শেষ করে দেন তিনি। সাধারণত যেখানে একটা বুলেট ব্যবহার করেই আত্মহত্যা করে মানুষ, সেখানে আল-জুন্দির এহেন পদক্ষেপ থেকে একথা পরিষ্কার যে কী দুঃসহ শাসনশৃঙ্খলে বন্দি ছিল সিরিয়া। কী হাফেজ, কী তাঁর ছেলে বাশার – দুই শাসকের আমলেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আকছার ঘটেছে। নৃশংসতার দিক থেকে বাবাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র।

বাশার আল-আসাদের পতনের পর আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা নিয়ে। এই দুই আদর্শকে সামনে রেখেই ২০১১ সালে আরব বসন্তের সূচনা হয়। যদিও যা শুরু হয়েছিল নিছক বক্তৃতা দিয়ে, অচিরেই তা বাস্তব রূপ নিল। ফলে তার পরিণতিও হয়েছিল মারাত্মক। তিউনিশিয়া আর মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড শক্তিশালী হল, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পতন রুখতে কর্তৃত্ববাদ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ল। ওদিকে লিবিয়ায় তথাকথিত বিপ্লব থেকে শুরু হল রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ। সে মহাবিশৃঙ্খলা থেকে উদ্ধার এখনো পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন রমজান মাসে ইফতার নয়, দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গাজা

সিরিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও জটিল। বেশিরভাগ পর্যবেক্ষকের মতে, এদেশে কেবল আভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ হয়নি, বরং হয়েছে অভাবনীয় প্রতিরোধ। উল্টোদিকে তৈরি হয়েছে সামগ্রিক মানবিক সংকট, যার আন্তর্জাতিক তাৎপর্য রয়েছে। সিরিয়াতে যা ঘটল, তা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর দায়িত্বপালনের ব্যর্থতাও বটে। সমস্যার সমাধান করতে তো অনেকেই চেয়েছেন, কিন্তু সমস্যার সঠিক মূল্যায়ন করেননি কেউই। সিরিয়ার এই সংকটের শিকড় খুঁজতে গেলে আগে বুঝতে হবে এদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিকাঠামোকে, যা ২০১১ সালের আগে অবধি সিরিয়াকে মোটামুটি এক সূত্রে বেঁধে রেখেছিল। সুন্নি মুসলমান, আলাউইত, ক্রিশ্চান, দ্রুজ, কুর্দ – এমন নানা জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ সিরিয়া। কিন্তু এই জটিল বৈচিত্র্যের সঙ্গেই আছে প্রকট সামাজিক অসাম্য, বেড়েছে সাম্প্রদায়িক বিভাজন।

সিরিয়ায় এই অন্তর্কলহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ধাপে ধাপে। আরব বসন্তের পর প্রথম তিনবছর মানুষের মনে বিপ্লবী ভাবাবেগ ছিল টাটকা। তার ফলে হোমস, অ্যালেপ্পো আর ইদলিবের মত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ আসে বিরোধীদের হাতে। ২০১৪ সালেই অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয়। নেপথ্যে জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিসের উত্থান এবং ইরান, রাশিয়ার মত বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ। আইসিসের সীমাহীন বর্বরতায় ম্লান হয়ে গিয়েছিল বিপ্লবের উন্মাদনা, শুরু হয়েছিল এক নতুন যুদ্ধ। এই আইসিস আজ আর সিরিয়ার একার সমস্যা নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই বিপজ্জনক শক্তি। ২০১৫ সালে রাশিয়া আসরে নামলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও পাল্টে যায়। রুশ বিমানবাহিনীর সহায়তায় অ্যালেপ্পো সমেত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো ফের দখল করেন আসাদ। সিরিয় সেনাবাহিনীকে সাহায্য করে ইরান ও হেজবুল্লা। আসাদের পক্ষে পরিস্থিতি আরও অনুকূল হয়। পাশাপাশি আইসিসকে খতম করতে তখন আসরে নেমে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের (এসডিএফ) সঙ্গে জোট বেঁধে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার দখল নিতে চাইছে তারা। ওদিকে সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে কুর্দিশ আধিপত্য দেখে তুরস্কও নিজেদের মত করে সামরিক অভিযান শুরু করে দেয়, উত্তর সিরিয়ায় গজিয়ে ওঠে একটি বাফার জোন। অন্তর্দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে প্রক্সি ওয়ার হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে প্রভাব খাটাতে নেমে পড়ে একাধিক বিদেশি শক্তি, আর তার মাসুল গুনতে হয় সাধারণ সিরিয়াবাসীকে।

সিরিয়ার মানুষকে যে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তা অকল্পনীয়। নিহত ও বিকলাঙ্গ মিলিয়ে সংখ্যাটা দশ লক্ষেরও বেশি। প্রায় ১,৩০,০০,০০০ মানুষকে (যুদ্ধ-পূর্ববর্তী জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি) উদ্বাস্তু হতে হয়েছে। এই মুহূর্তে আলোচনাসাপেক্ষ রাজনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি প্রয়োজন গণতান্ত্রিক নির্বাচন। একমাত্র এই পথেই কিছুটা আশার আলো আছে, তবে বাস্তবে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সিরিয়ার বর্তমান সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরণার্থী সমস্যাও। পঞ্চান্ন লক্ষেরও বেশি সিরিয় শরণার্থী থাকেন বিদেশে। তাঁরা অনেকেই বেশ বিপন্ন অবস্থার মধ্যে বাস করছেন। আসাদের পতনের পর কেউ কেউ স্বদেশে ফিরতে চাইছেন বটে, তবে অনিচ্ছুক ও দ্বিধাগ্রস্তদের তালিকাটাই বেশি লম্বা। দেশে ফিরলে আদৌ কতটা নিরাপত্তা পাবেন, প্রয়োজনীয় পরিষেবাই বা কতখানি পাওয়া যাবে – সে বিষয়ে তাঁরা চিন্তিত। বিশেষত, ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়ে গিয়েছে সিরিয়ার বেশ কিছু এলাকা। ১৯৬৭ সালে দখল করা গোলান হাইটস অঞ্চলে জনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে ইজরায়েল সরকার। সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্ব বা আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের শরণার্থীদের ফেরানোর ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা যতই ইতিবাচক হোক না কেন, আগামী পথ খুব মসৃণ বলে মনে হয় না।

আউটলুক পত্রিকার অনুমতিক্রমে এই নিবন্ধের ভাষান্তর প্রকাশিত হল। নিবন্ধকার ইতালিনিবাসী সিরিয় লেখক। তিনি ১৯৮২ সালে হাফেজ আল-আসাদের সিরিয়া থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। মতামত ব্যক্তিগত

ভাষান্তর: সোহম দাস

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.