ইমাম গাজ্জালী
৩
পাকিস্তান আন্দোলনের মূল শক্তি দানা বেঁধেছিল তখনকার পূর্ব বাংলায়। মুসলিম লীগের সুরাবর্দি -আবুল হাসিম এবং মওলানা আকরম খা-খাজা নাজিমুদ্দিন প্রমুখের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান আন্দোলন অত্যধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এর মধ্যে মুসলিম লীগের সুরাবর্দি-আবুল হাসিম গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল প্রধান। পূর্ব বাংলার মুসলমান জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি হিন্দু তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষও সামিল হয়েছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনে। হিন্দু তফসিলি সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন বরিশালের যোগেন মণ্ডল। তিনি তফসিলি সম্প্রদায়ের স্বার্থে মুসলিম লীগের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে পাকিস্তান আন্দোলনে সামিল হন। নিপীড়িত হিন্দু-মুসলমানের যৌথ আন্দোলনে পাকিস্তান আন্দোলন জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বলা চলে, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় পাঞ্জাবিদের চেয়ে পূর্ব বাংলার বাঙালিদের অবদান বেশি।
কমিউনিস্ট পার্টিও পাকিস্তান দাবিকে সমর্থন করেছিল। কমিউনিস্টরা মনে করত, পূর্ব বাংলায় উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদারের নিপীড়নে পিষ্ট মুসলমানরা যদি আলাদা আবাসভূমি পায় তাহলে সেই নিপীড়ন থেকে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে নিপীড়িত বাঙালি রেহাই পাবে। নিপীড়িতদের জন্য পাকিস্তান অন্তত মন্দের ভালো বলে মনে করতেন কমিউনিস্টরা। কিন্তু কমিউনিস্টরা ধর্মভিত্তিক বিভক্ত ভারতের বিপরীতে ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্রসমূহের কনফেডারেশনের ঐক্যবদ্ধ ভারতের বিকল্প রাজনীতি হাজির করতে সক্ষম হননি। তর্কের খাতিরে বলা চলে, কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যদি পূর্ব বাংলার মানুষ থাকতেন, তাহলে উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদারদের নিপীড়ন বহাল থাকত। ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্তি সত্ত্বেও ওই ভূস্বামীদের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রত্যক্ষ করতে হত। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় পূর্ব বাংলার গরিব মুসলমান প্রজারা এবং নিম্নবর্ণের গরিব হিন্দু প্রজারা উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদারদের নিপীড়ন থেকে মুক্তির স্বাদ পায়।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ সরকার যাবতীয় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। তারা যোগেন মণ্ডলের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করে। হিন্দুদের উপর নিপীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ করে। তাদের নেতা কর্মীদের উপর নেমে আসে মুসলিম লীগের অকথ্য নির্যাতন। প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর, ১৯৫০ সালে রাজশাহীর জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্ট পার্টির সাতজন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নাজিমউদ্দিন-নুরুল আমিনদের দিয়ে পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান আন্দোলনের অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব সুরাবর্দি-আবুল হাসিম অংশকে কোণঠাসা করে রাখেন জিন্না, লিয়াকতরা। মুসলিম লীগ প্রতিপক্ষের সঙ্গে যে যে কাজ করেছে, আওয়ামী লীগও ভিন্ন বাস্তবতায় একই কাজ করেছে আরও নিষ্ঠুরভাবে।
শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মী, তাঁর ধ্যান জ্ঞান ছিল পাকিস্তান। তিনি মনেপ্রাণে পাকিস্তানের জন্য কাজ করেছেন সেই পাকিস্তানকে ভাঙার জন্য নয়। পাকিস্তান আন্দোলনের ঐতিহ্যে তিনিও বিমোহিত ছিলেন। শেখ মুজিব ছিলেন সুরাবর্দির কর্মী ও অনুসারী বা শিষ্য। সুরাবর্দি কখনোই পাকিস্তান ভাঙতে চাননি। তাঁর শিষ্য হয়ে শেখ মুজিবের পক্ষে পাকিস্তান ভাঙার রাজনীতি করা সহজ ছিল না। কিন্তু সেই কঠিন পথেই তাঁকে হাঁটতে হয়েছে। কারণ সুরাবর্দির মৃত্যুর পর এছাড়া তাঁর সামনে আর বিকল্প ছিল না। সুরাবর্দি বেঁচে থাকলে মুজিবের পক্ষে ছয় দফা দেওয়া সম্ভব হত কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে।
পাকিস্তানের মুসলিম লীগের শাসকদের বা সামরিক শাসক জে আয়ুবের অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের ইসলামের শত্রু, ভারতের দালাল, কমিউনিস্টদের চর বলা হত। অথচ সেই প্রতিবাদী মানুষগুলো কেউই ইসলামের শক্র ছিল না, ভারতের দালাল ছিল না, কমিউনিস্টদের চরও ছিল না। তারা শুধু বঞ্চনার কথাই বলত, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাইত আর মুসলিম লীগ সরকারের অনাচারের বিরুদ্ধে বলত। ঠিক শেখ হাসিনার আমলে যেমন আওয়ামী লীগের অনাচারের বিরুদ্ধে বললেই রাজাকার তকমা দেওয়া হচ্ছিল।
বিপরীতে মুসলিম লীগ সরকার ও আয়ুব খানের সরকার মুসলমান বাঙালিকে কুৎসিত ভাষায় গালাগাল করত। যে বাঙালি মুসলমানরা পাকিস্তান দাবি ছিনিয়ে আনল, তাদেরই এভাবে জাত তুলে কথা বলা ভালভাবে নেয়নি মানুষ। মুসলমান হিসাবে পাকিস্তান এনে, সেই মুসলমান পরিচয় নিয়ে শাসকদের কটাক্ষে আত্মপরিচয়ের সংকটে পড়ে পূর্ব বাংলার বাঙালি মুসলমানরা। ইতোমধ্যে ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন তাদের আত্মপরিচয়ের নিশানা দেয়। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে তারা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আত্মপরিচয়ের ভিত্তি হিসাবে খুঁজে পায়, জন্ম নেয় ভাষাভিত্তিক জাতীয় চেতনা। এর আগে গোপনে পাকিস্তানবিরোধী তৎপরতা শুরু করেছিল কমিউনিস্টরা। তাদের হাত ধরেই ভাষাভিত্তিক জাতীয় চেতনার ভিত্তি তৈরি হয়। হিন্দু তফসিলি সম্প্রদায় পাকিস্তানের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তারা বুঝতে পারে মুসলিম লীগ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, তাদের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে তফসিলি হিন্দুদের আর জায়গা নেই, উচ্চবর্ণের হিন্দুরা তো আগেই আউট। সুতরাং তারাও ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পক্ষে উঠে পড়ে লাগে।
ফল মিলল হাতেনাতে। ভাষা আন্দোলনের দুবছর পরে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগের কবর রচিত হয়। বিপরীতে আবুল কাসেম ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সুরাবর্দি ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট বিপুল জয় পায়। এইভাবে বাঙালিরা মুসলিম লীগের অনাচারের জবাব দেয় ব্যালটে। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ দ্বিজাতিতত্ত্বকে নাকচ করে হিন্দু-মুসলমানের মিলনের ভিত্তি তৈরি করে। কয়েক দশক ধরে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে যে বিভাজনরেখা তৈরি হয়েছিল, ছয়ের দশকের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সেই বৈরিতা দূর করে। এটা মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতির অন্যতম প্রধান অর্জন। পরবর্তী শাসকরা সেই অর্জনকে ধূলায় মিশিয়ে দেয়।
যাত্রা শুরু হয় শেখ মুজিবের হাত ধরে। এই পর্বে ভাষাভিত্তিক জাতীয় চেতনার উম্মেষ যে নতুন শক্তির উত্থান সূচিত করেছিল, পাকিস্তান আন্দোলনের মোহে আবিষ্ট কেউ যদি তা টের পেতে ব্যর্থ হন, তাঁর সামনে রাজাকার হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। সেই সময়ে যে নতুন শক্তির উত্থান হয়েছিল, সে ব্যাপারে আহমদ ছফার বয়ান ‘বাংলাদেশি রাজনীতি সংস্কৃতির যা কিছু উজ্জ্বল অংশ তার সিংহভাগই বামপন্থী রাজনীতির অবদান। ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে বামপন্থী রাজনীতির উত্তাপ থেকেই বাঙালী সংস্কৃতির নবজন্ম ঘটেছে। সামন্ত সংস্কৃতির প্রভাবমুক্ত একটি নতুনতর সংস্কৃতির উন্মেষ-বিকাশ-লালনে বামপন্থী সংস্কৃতিসেবীদের যে বিরাট সাফল্য এবং ত্যাগ; তিল তিল করে সংস্কৃতির আসল চেহারাটি ফুটিয়ে তোলার কাজে বামপন্থী সংস্কৃতিকর্মীরা যে শ্রম, মেধা এবং যত্ন ব্যয় করেছেন, সে কাহিনী এখন প্রায় বিস্মৃতিতে বিলীন হতে চলেছে। তাদের সাফল্যের পরিমাণ হয়ত আশানুরূপ ছিল না কিন্তু সূচনাটি করেছিলেন এবং অনেকদিন পর্যন্ত সংস্কৃতিকে লালন করেছেন। সংস্কৃতিতে উত্তাপ, লাবণ্য এবং গতি সঞ্চার করার ব্যাপারে বামপন্থী সংস্কৃতিকর্মীরা অনেক কিছু দিয়েছেন। সেই সব মহান অবদানের কথা শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করার প্রয়োজন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
‘বামপন্থী রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকেই বাংলাদেশের জাতীয়তার বোধটি প্রথম অঙ্কুরিত এবং মুকুলিত হয়। বাঙালী জাতীয়তার প্রাথমিক সোপানগুলো বামপন্থী রাজনীতির নেতাকর্মীরাই নির্মাণ করেছিলেন। সেজন্য তাদের জেল-জুলুম কম সহ্য করতে হয়নি। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ দলটির কাছ থেকেও তাদের কম নিগ্রহ ভোগ করতে হয়নি। পাকিস্তানের সংহতি বিনাশকারী, বিদেশি গুপ্তচর, ইসলামের শত্রু এই ধরণের অভিযোগ বামপন্থী রাজনীতির নেতা এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে হামেশাই উচ্চারিত হত। এসব লাঞ্ছনা সহ্য করেও বামপন্থী রাজনীতির নেতা এবং কর্মীরা রাষ্ট্রের ভ্রূণ রোপন করতে পেরেছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা যেটুকু সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করেন, তার পেছনে রয়েছে বামপন্থী রাজনীতির বিপুল অবদান। বামপন্থী রাজনীতিই শ্রমিক-কৃষক-নিম্নবিত্তসহ সমস্ত নির্যাতিত মানুষকে অধিকার আদায়ের স্বপ্ন দেখিয়েছে, সংগঠিত করেছে এবং আন্দোলনে টেনে এনেছে। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য বামপন্থী আন্দোলন এখন রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ উত্থানরহিত। বামপন্থী রাজনীতির মুমূর্ষু অবস্থা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্যকে তমসাচ্ছন্ন করে রেখেছে।’ (সাম্প্রতিক বিবেচনায় বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, আহমদ ছফা; খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি; পৃ. ৩৫-৩৬)
এদিকে ১৯৬৬ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সঠিক নাকি রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি সঠিক – এই অপ্রয়োজনীয় ও আত্মঘাতী বিতর্কে অন্যান্য দেশের মত পাকিস্তানের কমিউনিস্টরাও বিভক্ত হয়ে পড়ে। যাদের হাত ধরে ভাষাভিত্তিক আত্মপরিচয়ের নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়েছিল, তারাই তখন পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই ফাঁকে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের রাজনীতি চলে যেতে থাকে উঠতি বুর্জোয়া দল আওয়ামী লীগের হাতে।
ঠিক এই সময়ে আওয়ামী লীগ ঘোষণা করে ছয় দফা। সেই ঘোষণার পর রাষ্ট্রীয় রোষানল তাদের দিকে ধেয়ে আসে। শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হন, আওয়ামী লীগের নেতারা গর্তে লুকায়। হরতালের ডাক দেওয়া হয়। ধরতে গেলে একক উদ্যোগে সেই হরতাল সফল করেন সিরাজুল আলম খান। তিনি ছাত্রদের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও ওই হরতালে সামিল করেন। বলা যেতে পারে, এই হরতাল সফল করার একক কৃতিত্ব সিরাজুলের। অপরদিকে, ছয় দফা ঘোষণাকে সহজভাবে নিতে পারেনি কমিউনিস্টরা। নিজেদের তৈরি আন্দোলনের জমিনে আরেকজনের বিচরণ মেনে নিতে পারছিলেন না তাঁরা। তাই বললেন, ছয় দফা সিআইএ-র দলিল।
ছয় দফাতে রয়েছে মূলত লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের কথা। যেখানে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিমগরিষ্ঠ এলাকায় একাধিক রাষ্ট্রসমূহের কনফেডারেশন গঠনের কথা রয়েছে। কিন্তু নিউক্লিয়াসপন্থীদের তৎপরতা ছয় দফাকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ, জাতীয় সঙ্গীত নির্ধারণ, জাতীয় পতাকা তৈরি ইত্যাদি ঘটনা ছয় দফার স্বাধিকারের গণ্ডি অতিক্রম করে তাকে স্বাধীনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল সম্পর্কে ডাঃ আবু হেনা এক অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এক সিরাজুল আলম খান স্বাধীনতার জন্য যা করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতারা তা জানেই না। জানলে তো স্বীকৃতির প্রশ্ন।’ উল্লেখ্য, ডাঃ আবু হেনা হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁকে শেখ মুজিব ১৯৭০ সালে ভারতে পাঠিয়েছিলেন সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।
অন্যদিকে, শেখ মুজিবের এই কাছের লোকেদের সম্পর্কে সিরাজুল বলেছেন ‘বঙ্গবন্ধুর নামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধকালীন সময়ের নেতা হলেন তাজউদ্দীন। জামাতে ইসলামী হল পাকিস্তানী ফোর্স আর আওয়ামী লীগ ছিল এন্টি লিবারেশন ফোর্স। আওয়ামী লীগ তো ছয় দফা থেকে এক ইঞ্চিও আগে বাড়াতে চায়নি। এদের সত্যকার চেহার জানতে পারলে মানুষ এদের গায়ে থু থু দেবে। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তাজউদ্দীনের নাম আসা উচিত এক নাম্বারে। অথচ তিনিই হলেন প্রথম ক্যাজুয়ালিটি।’ – জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি, পৃষ্ঠা ৭১; মহিউদ্দিন আহমদ
পরবর্তী অংশ আগামীকাল
নিবন্ধকার বাংলাদেশের সাংবাদিক। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








