বসিরহাট ও কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী। দলের প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলা, বৈঠক করা দলের একজন নেতার পক্ষে খুবই স্বাভাবিক। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবেই দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। যদিও এখন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সৌজন্যে শাসক দল আর সরকারের মধ্যে কোনো সীমারেখা থাকছে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই ফোনালাপ মিডিয়ার কাছে এখন বড় খবর। বড় খবর প্রার্থীদের কাছেও। গণতন্ত্রে যে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক রাজা-প্রজার নয় তা আমরা ভুলতে বসেছি। কেবল মানুষই নন, দলের প্রার্থীরাও মন্ত্রীমশাইদের সঙ্গে কথা বলে কৃতার্থ বোধ করেন। ক্ষমতার স্তরবিন্যাস কীভাবে গণতন্ত্র, সমতার ধারণাকে বিপন্ন করে – এসব তারই উদাহরণ। তাই প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ সংবাদমাধ্যমে এত গুরুত্ব পায়।

গোদি মিডিয়ার দৌলতে প্রার্থীদের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে কৌশলে বিজেপি নির্বাচনী প্রচারও সেরে ফেলে। এই প্রচারের কোনো খরচ দেখাতে হয় না, প্রচারের ফাঁকে প্রার্থী পরিচিতিও হয়ে যায়। বসিরহাট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র যদি আন্দোলনের মুখ হয়ে থাকেন, তাহলে কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায় রাজতন্ত্রের মুখ। বিজেপি রাজপরিবারের বধূ হিসাবেই তাঁকে তুলে ধরছে। অন্য রাজ্যে অবশ্য রাজপরিবারগুলির রাজনীতিতে বিশেষ দর রয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস বা বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলিতে পরিবারগুলির আলাদা মর্যাদা আছে। এই রীতি স্বাধীন ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে প্রথম থেকেই চলে আসছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে শ্রেণি রাজনীতির জন্য এই দর তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। ইদানীং পরিচয় সত্তার রাজনীতির গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রাজ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

জমি আন্দোলনের মুখ থেকে রাজপরিবারের মুখ – বিজেপি সবাইকে মিলিয়ে দিয়েছে। তেল আর জলের এই মেলবন্ধন সম্ভব হয়েছে সবকিছু গুলিয়ে দিয়ে। জীবন-জীবিকার সমস্যাগুলি থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক তাগিদে। বসিরহাট কেন্দ্রের প্রার্থীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সন্দেশখালির আন্দোলনকে অভিবাদন জানিয়েছেন। কিন্তু সন্দেশখালির আন্দোলনে যে প্রশ্নগুলি উঠে এসেছে তা এড়িয়ে গেছেন। তিনি প্রার্থীকে শক্তিস্বরূপা অভিধা দিয়ে বাংলার শক্তিপূজার ঐতিহ্যের কথা বলেছেন। ভুলেও বাংলার জমি আন্দোলনের ঐতিহ্যের কথা বলেননি। তিতুমীর, নীল বিদ্রোহ থেকে শুরু করে তেভাগা আন্দোলনের নায়িকা-নায়কদের কথা বলেননি, বলবেনও না। সন্দেশখালির আন্দোলনে জমির প্রশ্ন যে গুরুত্বপূর্ণ, আন্দোলনকারীরা তা বারবার বলেছেন। স্থানীয় গ্রামবাসীদের জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, জোর করে ভেড়ি করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দুর্বৃত্ত বাহিনীর হয়ে সাফাই গাইতে গিয়ে গ্রামবাসীদেরই বহিরাগত বলেছেন।

জমি ফেরত, ক্ষতিপূরণ দিয়ে এখন মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে চাইছে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই জমি কবে চাষযোগ্য হবে, সকলে ঠিকমত ফেরত পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আবার ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়েও সংশয় থেকে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, জমি লুঠ করেছে, টাকা তুলেছে তৃণমূলের দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিপূরণ সরকারি কোষাগার থেকে যাবে কেন? ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী এইসব প্রসঙ্গ তোলেননি।

সন্দেশখালির আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একশো দিনের কাজের টাকাও কেড়ে নেওয়া হত। মজুরি বকেয়া রয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী একশো দিনের কাজ রাজ্যে আবার কবে শুরু হবে তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তৃণমূলের আর্থিক অনিয়মেই একশো দিনের কাজ বন্ধ। কিন্তু তৃণমূলের দোষীদের শাস্তি না দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বঞ্চিত করছেন রাজ্যবাসীকে। আইন অনুসারে, এই কাজ বন্ধ বা মজুরি বকেয়া রাখা যায় না। সন্দেশখালির আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে প্রধানমন্ত্রী এইসব কথা তুলছেন না কেন? বরং একশো দিনের কাজ বন্ধ রেখে তৃণমূলকেই রাজনৈতিক ফায়দা তোলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের কথা বলেছেন। কিন্তু তা নিয়ে কিছু বলার নৈতিক অধিকার প্রধানমন্ত্রীর নেই। অতিমারীর জন্য লকডাউনের সময়ে এই শ্রমিকদের প্রতি সরকারের অমানবিক আচরণের পরিচয় পাওয়া গেছে। সেইসময় কতজন শ্রমিক বাড়ি ফিরতে গিয়ে প্রাণ হারালেন, কতজন আবার কাজ ফিরে পেয়েছেন সেই তথ্য স্পষ্টভাবে এখনো সরকার দিতে পারেনি। পুরনো শ্রম আইন বদলে নতুন শ্রম কোডের মাধ্যমে তাঁদের অধিকার অনেকটাই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তরাখণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর সাধের চারধাম প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে ৪১ জন শ্রমিক ১৭ দিন পাহাড়ের সুড়ঙ্গে আটক থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বিচলিত হন না। তাঁদের উদ্ধারকারী দলের অন্যতম সদস্য ওয়কীল হাসানের দিল্লির বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাঁকে জবরদখলকারী বলে দেগে দিয়ে। বিজেপি সরকার যে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের স্বার্থে কিছু করবে না, তা নতুন করে বলবার দরকার হয় না।

একশো দিনের কাজ, কৃষকের আয়, জমি, আবাস যোজনা নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী দিলেন না। প্রতিশ্রুতি দিলেন এই রাজ্যের দুর্নীতির জন্য ইডির বাজেয়াপ্ত করা অর্থ প্রতারিতদের ফেরত দেওয়ার। কৃষ্ণনগরের প্রার্থীকে ফোনে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে তা জানানোর কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে ইডির বাজেয়াপ্ত করা প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা কীভাবে প্রতারিত মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নাকি আইনি পরামর্শ নেবেন। সেটা অবশ্য ভোটের পরে। যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে একের পর এক আইন পাল্টান, আদালত সংশোধিত আইনকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করলেও যিনি বিচলিত হন না, প্রতারিত মানুষের অর্থ ফেরত দিতে তাঁর আইনি পরামর্শ দরকার হয়? বিশ্বাস করা যায় না। তিনি এই কথা বলে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনকে যিনি বশংবদ করতে চান, তিনি নির্বাচনী বিধি মানবেন এমনটা আশা করাই বোকামি।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেসব দুর্নীতিগ্রস্তের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি কবে প্রমাণিত হবে? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধীর গতিতে চলা নিয়ে একাধিক বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যিনি কিছুদিন আগে বিচারপতির পদ ত্যাগ করে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, তিনিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে তিরস্কার করেছিলেন। জানা নেই, বিজেপি নেতা হিসাবে তিনি এখনো ইডি, সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন কিনা। কিন্তু প্রশ্ন তো থেকেই যাবে। সিবিআই, ইডি দ্রুততা এবং দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করলেই অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব। তাই যদি না হয়, তবে বাজেয়াপ্ত অর্থ প্রতারিতদের ফিরিয়ে দেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। প্রধানমন্ত্রী এসব ভাল করেই জানেন।

কিন্তু কখন সর্বজ্ঞ সাজবেন আর কখন অজ্ঞ সাজবেন, সেসব হিসাব তাঁর করাই আছে। যেমন করেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সারদা, রোজ ভ্যালির বেআইনি কাজকারবার কিছুই নাকি জানতেন না। অথচ কী সুন্দর জেনে ফেলেন সন্দেশখালির প্রতিবাদীরা বহিরাগত বা কামদুনির প্রতিবাদীরা মাওবাদী। প্রধানমন্ত্রী অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু এখনো চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রতারিত মানুষ অর্থ ফেরত পেলেন না কেন? কেনই বা সেইসব কাণ্ডে অভিযুক্ত অনেকেই প্রমাণের অভাবে নির্দোষ বলে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেলেন? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কি কোনো দায় নেই?

এই রাজ্যের প্রতারিত মানুষের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত, উচিত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করা এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া। তার জন্য ইডির বাজেয়াপ্ত করা অর্থ ব্যবহার করতে নীতিগত আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু আইনের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি রাখবেন না, তা অভিজ্ঞতাই বলে দেয়। কালো টাকা বিদেশ থেকে ফেরত এনে প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার মতই এও এক ‘জুমলা’। কালো টাকা ফেরত আসেনি, বরং বিদেশে আরও বেশি করে গেছে। দেশবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা পড়েনি, বরং ব্যাঙ্কের টাকা লুঠ করে বা প্রতারণা করে বিজয় মালিয়া, নীরব মোদী, মেহুল চোকসিরা বিদেশে পালান। তাঁদের এবং তাঁদের লুঠ করা অর্থ ফিরিয়ে আনা নিয়ে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নীরব।

বিজেপি আমলে ব্যাঙ্ক থেকে ধার নিয়ে তা শোধ না করে কর্পোরেট সংস্থাগুলি দিব্যি ব্যবসা চালাচ্ছে। তাদের ঋণ মকুব করার জন্য ব্যাঙ্কগুলি অনাদায়ী ঋণ মুছে দিচ্ছে। গত বছর সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, ২০১৪-১৫ থেকে নয় বছরে ব্যাঙ্কগুলি এভাবে মোট ১৪,৫৬,২২৬ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ মুছে দিয়েছে। এর মধ্যে বড় বড় শিল্প ও পরিষেবা কোম্পানির প্রায় ৭,৪১,০০০ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ মুছে দেওয়া হয়েছে। মুছে দেওয়া অনাদায়ী ঋণের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ২,০৪,৬৬৮ কোটি টাকা। এভাবে ঘুরপথে বড় বড় কোম্পানিকে ঋণ মকুব করার আর্থিক পরিমাণ বেড়ে চলেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২১-২২ সালে মুছে দেওয়া অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ছিল ১,৭৪,৯৬৬ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২,০৯,১৪৪ কোটি টাকায়।

এইভাবে ঋণ মকুবের পাশাপাশি ব্যাঙ্কগুলি অনুৎপাদক সম্পদের (এনপিএ) পরিমাণও কম করে দেখাচ্ছে। আর সেই ক্ষতিপূরণ করতে আমানতকারীদের থেকেই নানারকম চার্জ, জরিমানা ইত্যাদি আদায় করা হচ্ছে। কালো টাকা উদ্ধার করে নাগরিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির এটাই পরিণাম। তাই প্রধানমন্ত্রী যখন রাজ্যের প্রতারিতদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, তখন আশ্বস্ত হওয়ার বদলে আশঙ্কাই জাগে।

নির্বাচনী বন্ডের তথ্য থেকে উঠে আসছে একের পর এক কেলেঙ্কারির চিত্র। বহু কোম্পানি লোকসান করেও এই বন্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছে। এদের মধ্যে ভারতী এয়ারটেলের মত অতিপরিচিত কোম্পানি থেকে শুরু করে অখ্যাত টেকনিক্যাল অ্যাসোসিয়েটস ইনফ্রাপাওয়ার লিমিটেড রয়েছে। লোকসানে চলে বলে ব্যাঙ্ক ঋণ মকুবসহ নানা সুযোগসুবিধা এরা পেয়ে থাকে। অথচ এরা কী করে নির্বাচনী বন্ড কিনে চাঁদা দিচ্ছে? অনেক কোম্পানিই তাদের মুনাফার থেকেও বেশি চাঁদা দেয় কীভাবে? ‘ক্রনোলজি’ বলে দিচ্ছে, চাঁদা দেওয়ার বিনিময়ে অনেক কোম্পানি ইডি, সিবিআই, আয়কর দপ্তরের তদন্ত থেকে রেহাই পেয়েছে। বিজেপি কি এইভাবে যাদের চাঁদা নিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, সেইসব চাঁদা ফেরত দেবে?

গতবছর ডিসেম্বরে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পেশ করা তথ্য জানাচ্ছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ইডি মোট ১,১৬,৭৯২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। এই টাকা কাদের কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এতদিন কিছুই বলেননি। নির্বাচনী বন্ড, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, তাদের বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের সাহস কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের নেই।

সুতরাং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দলের প্রার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ শুধুই চমক আর জুমলাবাজি। আসল প্রসঙ্গ আড়াল করে সব গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

আরো পড়ুন ক্যাম্পাসে শস্তা, বাধ্য শ্রমিক তৈরি করার কল রাজ্য শিক্ষানীতি

তৃণমূল কংগ্রেস এসবের মোকাবিলায় একই পথ নিচ্ছে। সন্দেশখালির বিজেপি প্রার্থী কোন কোন রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পান তা নিয়ে প্রচারে নেমেছে। বিজেপির মত তাদের কাছেও সরকার আর শাসক দল এক। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া মানে সরকার ও শাসকের বশংবদ হয়ে থাকতে হবে। তাই বিজেপি প্রার্থীদের সম্পর্কে এরকম প্রচার। ভোট না দিলে সরকারি প্রকল্পের অর্থ বন্ধের হুমকি তৃণমূল প্রায়ই দিয়ে থাকে। তৃণমূলের একজন সাংসদ আরামবাগে দলীয় কর্মিসভায় পঞ্চায়েত প্রধানদের পঞ্চায়েত অফিসে না গিয়ে এখন প্রচারের কাজে যেতে বলেছেন। মানুষের পরিষেবা এদের কাছে অপ্রাসঙ্গিক। সবই দয়ার দান। কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণেও সেই ঔদ্ধত্য প্রায়ই দেখা যায়। শাসক দল আর সরকার যখন এক হয়ে যায়, নির্বাচনী বিধির তোয়াক্কা না করে একের পর এক মিথ্যা প্রচার ও প্রতিশ্রুতি চলতে থাকে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে সুখবর নয়। এবারের নির্বাচনে এই গণতন্ত্র আর অধিকার রক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.