দীপক গিরি
বর্তমানে এ রাজ্যের শাসকদলসহ রাষ্ট্রের প্রায় সবকটি স্তম্ভ (পুলিশ প্রশাসন, বিচারবিভাগ ও সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যম) সর্বশক্তি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে যে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জন্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন, অনেক রোগী মারা যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর কথা সুপ্রিম কোর্টে বলেছেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী। পরে রাজ্য সরকার ২৯ জন মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলেও ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা গত ৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে তিলোত্তমা হত্যাকাণ্ড মামলায় সিবিআইকে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। অথচ মাননীয় প্রধান বিচারপতি সেদিন একেবারে অন্তিম সময়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া এই তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই ২৪ ঘন্টার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে দিলেন। এই ঘটনা যেমন বহু আইনজীবীকে বিস্মিত করেছে, তেমনি তিলোত্তমার বিচারের দাবিতে সামিল এই দেশসহ বিশ্বের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কোটি কোটি মানুষকে আশাহত করেছে।
জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে শাসক দলের এমন অভিযোগ এই প্রথম নয়। ১৯৮৩ সালে দীর্ঘ নমাস চলা ঐতিহাসিক জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের সময়ে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারও জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছিল এবং পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে ন্যায়সঙ্গত গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভাঙার চেষ্টা করেছিল। তাই শাসক দলের এই একপেশে অভিযোগের সত্যতা বিচার করার আগে তিলোত্তমার বিচারের দাবিতে চলমান গণজাগরণের চরিত্রটিকে সংক্ষেপে বুঝে নেওয়া দরকার।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এবারের জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন আগের সমস্ত আন্দোলনের থেকে চরিত্রগতভাবে পৃথক। ৮৩ সালের নমাস ধরে চলা আন্দোলন বা নয়ের দশকের ডাক্তারদের আন্দোলন কিম্বা ২০১৯ সালে এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলন রাজ্যের সীমানা অতিক্রম করলেও সেগুলো মূলত ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আর জি করের সেমিনার রুমের মধ্যে তিলোত্তমার পাশবিক হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। তাই জুনিয়র ডাক্তারদের নেতৃত্বে আজ এই রাজ্য সমেত সারা দেশের, এমনকি বিশ্বের আমজনতা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। তিলোত্তমার জন্যে বিচারের দাবিতে একমাসের বেশি সময় ধরে চলা জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন আজ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। শাসক সর্বদাই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে ভয় পায়, আর সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয় যখন এই আন্দোলনগুলিকে কেন্দ্র করে কোনো গণজাগরণ ঘটে। যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন তার ন্যায়সঙ্গত দাবিপূরণে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু গণজাগরণ মানুষকে সামাজিক সমস্যার প্রকৃত কারণটিকে চিহ্নিত করে নির্মূল করার আহ্বান নিয়ে আসে। আর জি করের হত্যাকাণ্ড মামলায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সমস্ত দোষীদের দ্রুত তদন্ত করে চরম শাস্তির দাবি যেমন তুলেছেন, তেমনি সমাজ থেকে ধর্ষণের সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সমেত সমস্ত প্রশাসনিক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে নির্মূল করার আহ্বানও জানিয়েছেন। এই উদ্দেশ্যে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকের ছাত্রাবস্থা থেকে সন্তানদের মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক রুচির মান উন্নত করার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। আবার বহু অভিভাবক ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও প্রতিবাদী চরিত্র অর্জন করার জন্য বিচারের দাবিতে রাস্তায় নিয়ে বেরিয়েছেন। স্বাধীনোত্তরকালে ১৯৬০-৭০ দশকের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের পর এমন সামাজিক আন্দোলন এই দেশ খুব বেশি দেখেনি।
এই রাজ্যের ২৪৫টি সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি হাসপাতাল বা বৃহৎ সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে মূলত ২৬টি মেডিকাল কলেজ ও হাসপাতালে এই জুনিয়ার ডাক্তাররা কাজ করে থাকেন। আবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সংখ্যা প্রায় ৯৩,০০০। তার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারের সংখ্যা ৭,৫০০। অর্থাৎ মোট ডাক্তারদের আট শতাংশের কিছু বেশি।
ফলে বর্তমান শোষণমূলক শাসনব্যবস্থার কর্ণধাররা এই ভেবে আতঙ্কিত, যে এই গণজাগরণকে কেন্দ্র করে যদি কোনো সামাজিক অভ্যুত্থান বা বিপ্লব ঘটে তাহলে তাদের এই দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও লুঠতরাজের রাজত্ব আর টিকবে না। এই গণজাগরণ আটকাতে পুলিশ প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম কার্যকরী ভূমিকা নিতে না পারায় রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছেই আন্দোলনকে লাগাম পরানোর আবেদন জানায়। সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদনে সাড়া দেয়। আমাদের সমাজের ময়না তদন্ত করলে দেখা যাবে, তিলোত্তমার উপরে যেমন এক পাশবিক শক্তি নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল, সমাজেও ঠিক তাই চলছে। অন্যদিকে এর বিরুদ্ধে মনুষ্যত্ব রক্ষাকারী শক্তি তার সীমিত ক্ষমতা নিয়ে লড়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের ঘাড়ে আজ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন রোগীর মৃত্যুর যে দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার সত্যতা বিচার করতে হবে।
প্রথমত জানা দরকার, এই রাজ্যের ২৪৫টি সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি হাসপাতাল বা বৃহৎ সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে মূলত ২৬টি মেডিকাল কলেজ ও হাসপাতালে এই জুনিয়ার ডাক্তাররা কাজ করে থাকেন। আবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সংখ্যা প্রায় ৯৩,০০০। তার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারের সংখ্যা ৭,৫০০। অর্থাৎ মোট ডাক্তারদের আট শতাংশের কিছু বেশি। উপরন্তু মেডিকেল কলেজগুলির নন-ক্লিনিকাল সাবজেক্টের সমস্ত ফ্যাকাল্টি মেম্বার সমেত প্রায় সমস্ত সিনিয়র ডাক্তার এই জুনিয়র ডাক্তারদের অভাব পূরণ করার জন্য দিনরাত আউটডোর ও ওয়ার্ড ডিউটি করছেন, যা স্বাভাবিক অবস্থায় তাঁদের এতখানি সময় ধরে করতে হয় না। তাই এই ৩৪ দিনে যদি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, তাহলে তার দায় জুনিয়র ডাক্তারদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই নয়।
দ্বিতীয়ত, জুনিয়র ডাক্তারদের অধিকাংশ হলেন শিক্ষানবিশ, অর্থাৎ ডাক্তারির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের প্রশিক্ষণ চলে। এই রাজ্যের পুরো সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভার কি এই শিক্ষানবিশ ডাক্তারদের উপর চাপানো উচিত? আসলে রাজ্য সরকারের এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে এই সত্যই প্রকাশ পেল, যে সরকারি হাসপাতালগুলিতে হাজার হাজার রেজিস্টার্ড ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও গ্রুপ ডি স্টাফের পদ শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মানলে ১,০০০ মানুষ পিছু একজন ডাক্তার থাকার কথা। বর্তমানে আমাদের দেশে ৯০০ মানুষ পিছু একজন ডাক্তার আছেন। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র ভয়ঙ্কর – সরকারি হাসপাতালগুলিতে প্রায় ১১,০০০ মানুষ পিছু একজন ডাক্তার আছেন। কেন সরকারি হাসপাতালে ১,০০০ মানুষ পিছু একজন ডাক্তার থাকবেন না?
অথচ দেশে কিন্তু ডাক্তারের অভাব নেই। অভাব কেবল সরকারি হাসপাতালে। কেন রাজ্য সরকার এই শূন্য পদগুলিতে নিয়োগ করছে না? কর্মী না বাড়িয়ে শুধুমাত্র ৭,০০০-৭,৫০০ জুনিয়র ডাক্তার দিয়ে আমাদের রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দশকের পর দশক ধরে চলে আসছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রক্রিয়া বহুবছর ধরেই চলছে। একমাস, দুমাস বা তিনমাসের ব্যাপার নয়।
তৃতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা গত একমাসে ২৩ জনের মৃত্যুসহ বেহাল রোগী পরিষেবার যে চিত্রটি রাজ্য সরকার তুলে ধরেছে তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। সিনিয়র ডাক্তার সহ বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, এই ২৩ জনের মৃত্যুর তালিকায় যেমন ৯ আগস্ট কর্মবিরতি শুরু হওয়ার আগের মৃত্যুকে যুক্ত করা হয়েছে, তেমনি ২৬টি মেডিকেল কলেজের বাইরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, যেখানে কোনো কর্মবিরতি চলছে না, সেখানকার মৃতদের নামও যুক্ত করা হয়েছে। তাই বহু সাংবাদিকসহ শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ দাবি তুলেছেন, যে তিলোত্তমার ঘটনার আগের মাসগুলির মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করা হোক। কিন্তু মিথ্যাচার ও দুর্নীতির উপর দাঁড়িয়ে থাকা সরকারি প্রশাসন সে পথে হাঁটছে না।
সরকারি হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়নি। আমাদের দেশে প্রতি ১,০০০ মানুষের জন্য ১.৩ খানা শয্যা আছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী থাকার কথা তিনটি। পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যা ০.৯। যত দিন যাচ্ছে সরকারি হাসপাতালের শয্যার তুলনায় বেসরকারি শয্যার সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
চতুর্থত, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই ভগ্নপ্রায় অবস্থা ও রোগী মৃত্যুর প্রকৃত কারণ হল উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অভাব। একমাস আগে কি বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু, শয্যা না পেয়ে রাস্তায় প্রসব, জীবনদায়ী ওষুধ না থাকায় এমার্জেন্সি বিভাগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি? কই স্বাস্থ্য দপ্তর তো সে হিসাব দিচ্ছে না? এক্ষেত্রে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়নি। আমাদের দেশে প্রতি ১,০০০ মানুষের জন্য ১.৩ খানা শয্যা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী থাকার কথা তিনটি। পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যা ০.৯। যত দিন যাচ্ছে সরকারি হাসপাতালের শয্যার তুলনায় বেসরকারি শয্যার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ রাজ্যের মত পুরো দেশের সার্বিক চিত্র মোটামুটি একইরকম। এই চূড়ান্ত পরিকাঠামোহীনতার দায় কি রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য দফতর সমেত শাসক দল এবং তাদের দ্বারা গৃহীত স্বাস্থ্যনীতির উপর বর্তায় না?
আরো পড়ুন ডাক্তার নিগ্রহ চলছে, এদিকে লুঠ হয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যের অধিকার
পঞ্চমত, আন্দোলনকারীরা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের (ডব্লিউবিজেডিএফ) পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, প্রত্যেকটি মৃত্যুই দুঃখজনক। তাঁরা যে পাঁচটি দাবি তুলেছেন, যা মূলত রাজ্য সরকারের হাতেই রয়েছে, সেই দাবিগুলি মেনে নিলেই এই অচলাবস্থা কেটে যাবে এবং তাঁরাও কাজে ফিরে যেতে পারবেন। একদিকে তাঁরা যেমন রাজ্যের প্রায় ২৯টি জায়গায় অভয়া ক্লিনিকের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ রোগীকে আউটডোর পরিষেবা দিচ্ছেন, তেমনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ওই পাঁচ দাবি পূরণ করার আহ্বানও জানাচ্ছেন।
তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর নবান্নের ঘটনা আমাদের চরম বিস্মিত করেছে। যেখানে দেশের বিচারবিভাগসহ লোকসভা, বিধানসভার কাজও আজকাল সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, সেখানে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে আহুত বৈঠক সরাসরি সম্প্রচার করতে চাইলেন না। প্রায় ৩০ জন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে, আলোচনায় ঢুকতে না দিয়ে নবান্নের ফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হল। এই রাজ্য সমেত সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিল, যে এবার একটা সমাধান সূত্র বেরোবে। অথচ সে পথে না গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করার অভিপ্রায় জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন এবং জুনিয়র ডাক্তাররা আসলে তাঁর চেয়ার চান – এরকম এক অবাস্তব অভিযোগ তুললেন। এইসব স্টান্ট সত্ত্বেও জনমত জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না বুঝে ন্যক্কারজনকভাবে মৃত রোগীদের পরিবারকে দু লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মৃত মানুষের পরিবারকে নিয়েও এমন কুৎসিত রাজনৈতিক খেলা!
এই কুরুচিকর রাজনৈতিক স্টান্টের সঙ্গে তিলোত্তমার বিচারের সম্পর্ক কী?
নিবন্ধকার পেশায় ডাক্তার। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








