দশতলা বাড়িটার ছাদের নিচু প্রাচীরের উপর পা ঝুলিয়ে বসে আছে মেয়েটি। নিচের দিকে তাকালে গা শিরশির করে ওঠে। ছোট্ট ছোট্ট মানুষজন, দোকানপাট। রাস্তাটা বেল্টের মত সরু। গাড়িগুলো চ্যাপটা চ্যাপটা। কিন্তু মেয়েটির ভয় নেই। মেয়ে না বলে কিশোরীও বলা যায়। তার একটুও ভয় নেই জীবন আর মৃত্যুর আড়াই ফুট উঁচু সীমানাটায় দাঁড়িয়ে। জীবন নয়, আপাতত মৃত্যুর কক্ষে ঢুকে পড়তে যে কোনো মুহূর্তে পাতলা শরীরটাকে একটু পিছনে নিয়ে সামনের দিকে ঠেলে দিলেই…। দশতলা বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়তে গেলে সবসময় যে ঠান্ডা পানীয়ের বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় তা নয়। এক্ষেত্রে অন্তত তেমন কোনো নির্বুদ্ধিতার সংক্রমণ নেই। যা আছে তা জীবনের প্রতি আশ্চর্যরকম অভিমান। ফুটফুটে শরীরটিকে কাটাছেঁড়া করে তার হদিশ পাওয়া মুশকিল। তবে ঘাবড়াবার কিছু নেই। এটি আসলে একটি গল্পের গল্প। বেশ কয়েক বছর আগে আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় পাতায় এরকমই একটি গল্প বেরিয়েছিল। সেই গল্পের মেয়েটি গল্পের কথককে বলেছিল, সে এই সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে কারণ তার বাবা-মা-আত্মীয়স্বজন তাকে বুঝতে পারে না বা বুঝতে চায় না। গল্পটি যেমনই হোক, এইটিই হতে পারে তার ক্যাচলাইন।
আমরা সবাই মোটামুটি জানি যে প্রতিটি আত্মহত্যার পিছনে কোথাও তীব্র মনখারাপের চাপ থাকে। কিন্তু মনখারাপের মেঘ তৈরি হয় বেঁচে থাকার কোন জলকণার বাষ্পীভবনে? আমাদের গল্পের মেয়েটির ক্ষেত্রে সেই জলাভূমি আসলে তার বাবা-মা, বা আরও একটু বড় করে ভাবলে, আগের প্রজন্মের সঙ্গে তার দূরত্ব। স্কুলের পাটিগণিতে যারা তেমন পোক্ত নয়, তাদের হিসাবের ভুলে বাবার বয়স অনেকসময় ছেলের বয়সের থেকে কম হয়ে যায়, কিন্তু বিজ্ঞানের হিসাবে এমন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদিও অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি অনুসারে এমন কিছু অবাক করা ঘটনা অঙ্ক কষে প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবে বাস্তবে সঙ্গে তার যোগ খুঁজতে যাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু বাবা-মা আর ছেলেমেয়ের বয়সের স্বাভাবিক ব্যবধান আসলে কোনো কোনো জায়গায় অসুবিধা সৃষ্টি করে। সমস্যা হয় যখন ওই ব্যবধান জলাশয়ের মত এত চওড়া হয়ে যায় যে দুই প্রজন্মের মধ্যে খেয়া পারাপার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ঠিক তখনই একটি মেয়ে পা ঝুলিয়ে বসতে চায় দশতলা বাড়ির ছাদের প্রাচীরে। নিচের দিকে তাকালে গা শিরশির করে। ছোট্ট ছোট্ট মানুষজন, দোকানপাট। রাস্তাটা বেল্টের মত সরু। গাড়িগুলো চ্যাপটা। ওই মেয়েটির কাছে এসব সত্যি, দারুণ সত্যি।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
কে তাহলে ঠিক? কিশোর-কিশোরী নাকি তার বাবা-মা? আমাকে যদি এই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে কাউকে সমর্থন করতে বলা হয়, আমি সোচ্চার সমর্থন করব মেয়েটিকে। তার কারণ বাবা-মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েনের উত্তেজক টেস্ট ম্যাচে বাবা-মা খেলা শুরু করেছেন এগিয়ে থেকে। জীবন নামক ইডেন উদ্যানে মেয়েটি খেলতে এসেছে অনেক পরে। তাকে উৎসাহ জোগানোর জন্য মাঠের প্রত্যেক গ্যালারির অন্তত প্রস্তুত থাকা উচিত। যদি কেউ তর্ক জুড়ে দেয় – জীবনযাপন আসলে ক্রিকেট ম্যাচের মত নয় সুতরাং তুলনাটাও ঠিক নয়, তাহলে তাকে সবিনয় বলি, এই স্বনির্ধারিত আম্পায়ারের ভূমিকা থেকে সসম্মানে সরে যেতে। ক্রিকেট পিচের যুযুধান প্রতিপক্ষ না হলেও, আমাদের বড়রা চিরকাল সাদা টুপি পরা আম্পায়ারের মতই উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকেন। ইদানীং মাঠের আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত আলাদা করে বিবেচনা করার জন্য টিভি আম্পায়ার প্যাভিলিয়নে বসে থাকেন। কিন্তু আমাদের পরিবারের অভিভাবকসম আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত কোনো তৃতীয় আম্পায়ারের হাতে পুনর্বিবেচিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই তো ওই কিশোরী পা ঝুলিয়ে বসে আছে দশতলা ছাদের আলসেয়। যার নিচে মিথ্যে পৃথিবী, যার পিছনে বদ্ধ জলাভূমির গল্প।
২
ওই কিশোরীর হাত ধরতে আমার কোনো কুণ্ঠা নেই। তাকে আমি নিঃসংকোচে বলতে পারি – বলো, তোমার গল্পগুলো আমায় বলো। সে আমায় বলবে কিনা আমি জানি না, গল্পগুলো আসলে যে খুব নতুন এমন হয়ত নয়। তার কিছু কিছু গল্প আমাদের চেনা। কিন্তু তার অভিমানটুকু স্পর্শ করতে গেলে খেয়াল করা দরকার টুপি পরা আম্পায়ারের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকা আগের প্রজন্মের প্রতিনিধিদের। হুগলি জেলার এক দাপুটে জমিদার, পুত্রকে ত্যাগ করেছিলেন ছেলের দুঃসাহসিক স্পর্ধা দেখে। সেই তরুণ পিতৃধর্ম ছেড়ে সংস্কারমুক্ত নতুন ধর্মের কথা ভাবতে চেয়েছিলেন। কলকাতার আরেক প্রতিবাদদৃপ্ত তরুণ ভিন্ন ধর্ম গ্রহণ করায় একইভাবে বাবার রোষের শিকার হয়ে পরিবার থেকে বিতাড়িত হন। প্রথম জনের নাম রামমোহন রায়, দ্বিতীয় জন মধুসূদন দত্ত। ইতিহাস এঁদের নাম লিখে রেখেছে, কিন্তু সেই অভিভাবকদের কথা মনে রেখেছে কি?
মনে পড়বে, মাত্র কয়েক বছর আগে শিরোনামে আসা পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সেই কিশোরীর কথা, যে পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের বিয়ে বাতিল করে দেয়। বাড়ির লোকেরা ঠিক করেছিলেন, বিয়ের আইনি বয়সে না পৌঁছনো সত্ত্বেও তাঁরা মেয়ের বিয়ে দেবেন। মেয়েটি কেবল তা মানতে চায়নি তাই নয়, স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে প্রতিরোধ তৈরি করারও চেষ্টা করেছিল। ভারতের রাষ্ট্রপতি মেয়েটিকে ডেকে পুরস্কৃত করেছিলেন। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে নাবালিকা বিবাহ দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি। সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি উদ্যোগ বারবার চোখে পড়ে। এই অভিভাবকরা কি কখনো তাঁদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য উত্তর প্রজন্মের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন? কখনো কি বুঝতে চেয়েছেন, আগুন কিংবা স্বপ্ন লুকিয়ে থাকে এই নতুনদেরই মধ্যে? বেড়া ভাঙার দুঃসাহস দৃপ্ত হয়ে থাকে এই নতুনের মধ্যে, নতুন নির্মাণের পথযাত্রী আসলে তাদের সন্তানসন্ততিরা, তাঁরা নন।
আরো পড়ুন দিনমজুর, চাকুরে, শিক্ষার্থী: সবার আত্মহত্যা, সবার বিকাশ
এই না-বোঝা বা বুঝতে না চাওয়ার অস্বচ্ছতাটুকুই কুয়াশা হয়ে ঢেকে রাখে ওই জলাভূমিকে, যেখানে বন্ধ হয় পারাপার, আলোড়নহীন জলে জমা হয় বেহিসাবী শ্যাওলা। এই পিছল শ্যাওলাই কিশোরীটিকে নিয়ে আসে দশতলার ছাদের প্রাচীরের ধারে। তার বাবা-মা হাতড়ে বেড়ান অন্ধকারের চিঠি। কিশোরীটির দৃষ্টির নিচে ছোট্ট ছোট্ট দোকানপাট, শোরুম। বেল্টের মত রাস্তা। তার বাবা-মার সামনে অস্বচ্ছ এক দেওয়াল। যেন বা গভীর রাতে দূরপাল্লার কোনো ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা বাইরের পৃথিবী, ছুটন্ত অন্ধকার, যাতে কিছু ঠাহর হয় না। দশতলার কিশোরী আর একতলার অভিভাবকের মাঝখানের উচ্চতার তফাতটুকু মাপা যায় না কোনোমতেই। প্রজন্মের দূরত্বের মধ্যে এই জমে থাকা আঁধারটুকুই আসলে সঙ্কটের বীজ।
৩
কিন্তু যে কিশোরীটিকে আমরা দাঁড় করিয়ে রেখে এসেছি দশতলা ছাদের ধারে, তার কি বয়স বাড়ে না? বাড়তে বাড়তে একসময় সে নেমে আসে একতলায়, আর অন্য এক কিশোর বা কিশোরী দাঁড়িয়ে পড়ে বিপদসীমায়। তাহলে এখনকার কিশোরটির গল্প শুনে কী হবে, যদি না সে নিজেকে শিক্ষিত করে তুলতে পারে? আজকের প্রজন্ম যখন কাল অভিভাবক হয়ে আবার দাঁড়িয়ে পড়ে আম্পায়ার হয়ে, তখন কি আজকের সমর্থন নিরর্থক মনে হয় না? অথচ এই কাহিনির সাধারণ পরিণতি এমনটাই। প্রথম কৈশোরে যে আমি বাবা-মা, স্যারদের লুকিয়ে সিগারেট টানি, সেই আমিই ছেলেকে উপদেশ দিই ধূমপানের অপকারিতা সম্বন্ধে। যে তরুণী নিজের নির্বাচনে জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছে, সে-ই নিজের মেয়েকে পরামর্শ দেয় – ক্লাসের ছেলেদের সঙ্গে বেশি মিশো না। এই বিচিত্র রসায়নের কারণেই সম্ভবত হযবরল-র বুড়ো বলেছিল – আশি বছর বয়স হবে কেন? চল্লিশ হলেই আমরা বয়স কমিয়ে দিই। তখন আর ৪১, ৪২ হয় না। উনচল্লিশ, ৩৮, ৩৭ করে বয়স কমতে থাকে।
আমাদের সেই সুযোগ নেই ঠিকই, কিন্তু শরীরের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন আমাদের অবস্থান বদলে যায়, মনকেও আমরা অনায়াসে বুড়িয়ে যেতে দিই। হযবরল-র ভাষায় মনে মনে ‘হোঁৎকা’ হয়ে যাই। প্রজন্মের ব্যবধান ঘিরে যে সংকটের কল্পনা, তার বড় অংশ জুড়ে কিন্তু এই হোঁৎকামির ভাইরাসের দাপাদাপি। এই রোগের কিছু সাধারণ উপসর্গ হল – অভিভাবক হিসাবে নিজেদের সবজান্তা ভেবে নেওয়া, ছেলেমেয়েদের বুদ্ধি বিবেচনাকে উপযুক্ত গুরুত্ব ও সম্মান না দেওয়া, নিজেদের সিদ্ধান্ত আরোপ করা এবং পরের প্রজন্মকে তাদের অবস্থান থেকে দেখতে না চাওয়া। সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে গলা ফাটাই, নিজের পরিবারে ঠিকঠাক গণতন্ত্র প্রয়োগ করতে পারি কি? কখনো কখনো নিজেদের পরিবারের মধ্যেই এমন সব অসহিষ্ণু আচরণ অথবা হিংসার প্রকাশ করি, যা আমরা সচরাচর রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাজা পাওয়া অপরাধীদেরই ভোগ করতে দেখি। ওইটেই পূর্ব প্রজন্মের অতিরিক্ত সুবিধা – এসবের জন্য কোথাও কোনো কৈফিয়ত দিতে হয় না আমাদের। স্বৈরাচারের সঙ্গে কি এখানে কোনো তফাত আছে অগ্রপথিকদের কাজকর্মের? অথচ প্রজন্মের ব্যবধান যখন সামাজিক সংকটের চেহারা নেয়, তখন এই সমস্ত প্রবণতা অণু-পরমাণু সমেত সেই বিক্রিয়ায় অংশ নিতে থাকে। মানসিক স্থবিরতা দিয়ে আমরা সেই সংকটকে পুষ্টি জোগাই। যে কোনো অন্ধতা, যে কোনো স্থবিরতা শেষপর্যন্ত অন্ধকারকে ডাক দেয়। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়িয়ে যায় সেই অন্ধকার।
অথচ বিপরীত উদাহরণও যে নেই তা নয়। দুই শতাব্দী আগে ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় নামক এক শাণিত তলোয়ার যখন সামাজিক নিষেধের অনেক বেড়া ভাঙার ব্রত নিয়েছিলেন, গ্রামীণ পরিবারের বাবা-মা ছেলের কাজকর্মকে দুহাত তুলে সমর্থন করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মত মানুষ নিজের সাহিত্যকর্মে বরাবরই সবুজের অভিযানের পক্ষে থেকেছেন। কিন্তু আমরা যেন ভুলে না যাই সেই রবীন্দ্রনাথের কথা, যিনি পুত্রবধূ হিসাবে ঘরে এনেছেন এক বাল্যবিধবাকে।
একটু অন্যরকম দৃষ্টান্ত রয়েছে ৯৫ বছর আগের একটি ঘটনাতেও। চট্টগ্রামের দরিদ্র পরিবারের কিশোরী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার যখন বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন, তাঁর বাবা জানতেন এর পরিণতি কী হতে পারে। কিন্তু তিনি মেয়েকে আটকাননি। বলেছিলেন, আমরা না খেতে পেয়ে মরে গেলে যাব, কিন্তু সারা দেশের মানুষ যেন মনে রাখে তাঁর কিশোরী মেয়েকে। প্রীতিলতা আজ এক আগুনের ইতিকথা।
যে প্রজন্মের ভুল অভিভাবকত্বের বেয়াকুবিতে গল্পের কিশোরীটি দাঁড়িয়ে আছে দশতলা বাড়ির ছাদের ধারে, তার হয়ে আবারও কথা বলতে চাই। উইকেটের পিছনে দাঁড়ানো টুপি পরা অভিভাবকদের দিকে তর্জনী তুলে চিৎকার করতে চাই – হাউ’জ দ্যাট? তবে ওই নবীনা কিশোরীটিও শুনে রাখুক, বেশ কয়েক বছর পরে আবার আমরা উঠে আসব এই দশতলার ছাদে। সেদিন যদি আজকের কিশোরীটি থাকে একতলায় আর ছাদের আলসেতে পা ঝুলিয়ে বসে থাকে অন্য কোনো মুখ, তখন তর্জনী উঠবে সেই একতলার দিকেই। হাউ’জ দ্যাট?
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








